আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা
jugantor
আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা
মারজীয়া মেহজাবীন। ভ্রমণপিপাসু নারীদের নিরাপদে, স্বাচ্ছন্দ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। লিখেছেন-

  জ্যোতির্ময় মন্ডল  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু জামা-কাপড় সঙ্গে হাতে পর্যাপ্ত অর্থ। এ দুটি জিনিস থাকলেই তো পশ্চিমা দেশের একজন নারী হয়ে যেতে পারেন ‘রানী’। দুচোখ যেদিকে যায় সেদিকেই যেতে তার বাধা নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো সঙ্গীর, দরকার নেই কোনো ভ্রমণ নির্দেশকেরও। আমাদের দেশে এমন পরিকল্পনা আসলেই গা শিউরে দেওয়ার মতোই মনে হতে পারে। মারজীয়া মেহজাবীন ভ্রমণপিপাসু মেয়েদের এ সমস্যা দূর করতে লেডি ট্রাভেলার্স বাংলাদেশ নামে একটি সংস্থা চালু করেন। তিনি এ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

লেডি ট্রাভেলার্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারজীয়া মেহজাবীন এ প্রসঙ্গে বলেন, নিজের জীবনের উপলব্ধি থেকেই এই গ্রুপ তৈরি করেছি। ইউরোপের অনেক দেশের অনেক জায়গায় ঘোরার সুযোগ হয়েছে আমার। কিন্তু নিজের দেশে এসেই আটকা পড়ে যাই। নিজেকে দিয়েই সারা বাংলাদেশের নারীদের কথাও ভাবতে শুরু করি। পরিকল্পনা করি কিছু করার। মেয়েদের সহজ ভ্রমণের কথা ভেবেই প্রথম দল বেঁধে ঘোরা-ঘুরি শুরু করি। এরপর বাণিজ্যিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। নাম দিই এলটিবি। যেখানে সব কর্মকাণ্ডেই নারী যুক্ত রয়েছেন। এরপর দেশে এ রকম বেশ কয়েকটা ট্রাভেলার্স গড়ে উঠেছে। শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে ঘোরানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমার। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এলটিবি ৪ বছরে ১৭৫টি ট্যুর পরিচালনা করেছি। করোনাকালে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরায় ভ্রমণপিপাসু নারীদের নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়েছি। দেশের ভেতর সিলেট, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, রাঙামাটি-বান্দরবানসহ নানা পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ পরিচালনা করছেন মারজীয়া মেহজাবীনের দল। বিদেশে ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশেও ভ্রমণ করেছেন ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে। যেসব নারীরা একবার তার দলের সঙ্গে ঘুরেছেন তাদের অধিকাংশই আরও একাধিকবার ভ্রমণে গেছেন। ব্যবসায়িক দিকই শুধু নয়, এ ভ্রমণের মাধ্যমে ভ্রমণকারীদের সঙ্গে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

মারজীয়া মাহজাবীনের মতে, এটা এখন আমার দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু সময় খুবই কষ্ট হলেও হাসি মুখে মেনেই সামনে এগিয়ে চলেছি। সদস্যরা ভ্রমণের ছবি পোস্ট করেন, পোস্ট করেন নিজেদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। ফেসবুকে লিংক https://www.facebook.com/Lady-Travelers-Bangladesh-LTB-867763450070070/। এরই মধ্যে এই পেজে ৮২ হাজারেরও বেশি লাইক পড়েছে। অনুসরণ করেন প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ। ভ্রমণকারীদের চাহিদার কারণে পরিকল্পনা আরও বড় হচ্ছে। ভ্রমণে ভিন্নতা আনারও প্রয়াস চলছে। আমার ভ্রমণের উপলব্ধি থেকেই বুঝতে পারি, দেশের নারীরাও ঘুরতে চান। শুধু ভালো সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার ভয়ে ঘুরতে পারেন না। আমি মেয়েদের নিরাপত্তা সহকারে ঘুরিয়ে দেখাব তার স্বপ্নের জায়গাগুলো। বিশ্বাস, নিরাপত্তা-বিনোদন দানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের সঙ্গে সব বয়সের নারীরাই ভ্রমণে যেতে পারবেন। কারণ আয়োজন, পরিচালনা, পরিকল্পনা, সঙ্গী সবাই এখানে নারী। ঠিক পশ্চিমা দেশের মতো প্রয়োজনীয় কিছু অর্থ ও কাপড় হলেই চলবে।বাকিটা সব করে দেবে আমাদের ‘লেডি ট্রাভেলারস বাংলাদেশ (এলটিবি)’ গ্রুপটি। অনেকে এ গ্রুপের সঙ্গে একবার পরীক্ষামূলক ঘুরে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তারা এখন বারবার বেড়াতে যেতে চান।

আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা

মারজীয়া মেহজাবীন। ভ্রমণপিপাসু নারীদের নিরাপদে, স্বাচ্ছন্দ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। লিখেছেন-
 জ্যোতির্ময় মন্ডল 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু জামা-কাপড় সঙ্গে হাতে পর্যাপ্ত অর্থ। এ দুটি জিনিস থাকলেই তো পশ্চিমা দেশের একজন নারী হয়ে যেতে পারেন ‘রানী’। দুচোখ যেদিকে যায় সেদিকেই যেতে তার বাধা নেই। প্রয়োজন হয় না কোনো সঙ্গীর, দরকার নেই কোনো ভ্রমণ নির্দেশকেরও। আমাদের দেশে এমন পরিকল্পনা আসলেই গা শিউরে দেওয়ার মতোই মনে হতে পারে। মারজীয়া মেহজাবীন ভ্রমণপিপাসু মেয়েদের এ সমস্যা দূর করতে লেডি ট্রাভেলার্স বাংলাদেশ নামে একটি সংস্থা চালু করেন। তিনি এ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

লেডি ট্রাভেলার্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারজীয়া মেহজাবীন এ প্রসঙ্গে বলেন, নিজের জীবনের উপলব্ধি থেকেই এই গ্রুপ তৈরি করেছি। ইউরোপের অনেক দেশের অনেক জায়গায় ঘোরার সুযোগ হয়েছে আমার। কিন্তু নিজের দেশে এসেই আটকা পড়ে যাই। নিজেকে দিয়েই সারা বাংলাদেশের নারীদের কথাও ভাবতে শুরু করি। পরিকল্পনা করি কিছু করার। মেয়েদের সহজ ভ্রমণের কথা ভেবেই প্রথম দল বেঁধে ঘোরা-ঘুরি শুরু করি। এরপর বাণিজ্যিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। নাম দিই এলটিবি। যেখানে সব কর্মকাণ্ডেই নারী যুক্ত রয়েছেন। এরপর দেশে এ রকম বেশ কয়েকটা ট্রাভেলার্স গড়ে উঠেছে। শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বে ঘোরানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমার। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এলটিবি ৪ বছরে ১৭৫টি ট্যুর পরিচালনা করেছি। করোনাকালে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরায় ভ্রমণপিপাসু নারীদের নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়েছি। দেশের ভেতর সিলেট, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, রাঙামাটি-বান্দরবানসহ নানা পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ পরিচালনা করছেন মারজীয়া মেহজাবীনের দল। বিদেশে ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশেও ভ্রমণ করেছেন ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে। যেসব নারীরা একবার তার দলের সঙ্গে ঘুরেছেন তাদের অধিকাংশই আরও একাধিকবার ভ্রমণে গেছেন। ব্যবসায়িক দিকই শুধু নয়, এ ভ্রমণের মাধ্যমে ভ্রমণকারীদের সঙ্গে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

মারজীয়া মাহজাবীনের মতে, এটা এখন আমার দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু সময় খুবই কষ্ট হলেও হাসি মুখে মেনেই সামনে এগিয়ে চলেছি। সদস্যরা ভ্রমণের ছবি পোস্ট করেন, পোস্ট করেন নিজেদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। ফেসবুকে লিংক https://www.facebook.com/Lady-Travelers-Bangladesh-LTB-867763450070070/। এরই মধ্যে এই পেজে ৮২ হাজারেরও বেশি লাইক পড়েছে। অনুসরণ করেন প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ। ভ্রমণকারীদের চাহিদার কারণে পরিকল্পনা আরও বড় হচ্ছে। ভ্রমণে ভিন্নতা আনারও প্রয়াস চলছে। আমার ভ্রমণের উপলব্ধি থেকেই বুঝতে পারি, দেশের নারীরাও ঘুরতে চান। শুধু ভালো সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার ভয়ে ঘুরতে পারেন না। আমি মেয়েদের নিরাপত্তা সহকারে ঘুরিয়ে দেখাব তার স্বপ্নের জায়গাগুলো। বিশ্বাস, নিরাপত্তা-বিনোদন দানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের সঙ্গে সব বয়সের নারীরাই ভ্রমণে যেতে পারবেন। কারণ আয়োজন, পরিচালনা, পরিকল্পনা, সঙ্গী সবাই এখানে নারী। ঠিক পশ্চিমা দেশের মতো প্রয়োজনীয় কিছু অর্থ ও কাপড় হলেই চলবে।বাকিটা সব করে দেবে আমাদের ‘লেডি ট্রাভেলারস বাংলাদেশ (এলটিবি)’ গ্রুপটি। অনেকে এ গ্রুপের সঙ্গে একবার পরীক্ষামূলক ঘুরে হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তারা এখন বারবার বেড়াতে যেতে চান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন