বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগ নিই
jugantor
বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগ নিই
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন। লিখেছেন-

  আনোয়ার হোসেন মনোয়ার  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নারীসমাজের উন্নয়নেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এলাকার নারীদের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া উপকূলীয় এ নারীর নাম ফাতিমা পারভীন। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। কাজ করেন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য। কর্মদক্ষতা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জন্ম ১৯৮৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন এ প্রসঙ্গে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা আমার জীবন শুরু হয়েছিল বাল্যবিয়ের মধ্য দিয়েই। পরিবারের নানারকম কুসংস্কার আর চ্যালেঞ্জের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছি। লেখাপড়া শুরু করি। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে প্রাইভেট পড়াই। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং এলএলএম সম্পন্ন করি। চাকরি নিই স্থানীয় এনজিও সংকল্প ট্রাস্টে, সেখানে আন্তর্জাতিক নারীপক্ষের সঙ্গে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হই। মানুষের সমস্যা নিরসনে কাজ করি। এলাকার বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিই। সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, মল্লিক মোহাম্মদ আজাদ, শফিকুল ইসলাম খোকন, ফেরদৌস খান ইমনকে নিয়ে সাত সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক কমিটি গঠন করি। কোথায় বাল্যবিয়ের খবর পেলে কমিটির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হতাম। এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও থেমে থাকিনি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করি। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন করি। এভাবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, যৌতুক বন্ধে উপজেলায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলি। আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সুশীল সমাজ।

ফাতিমা পারভীন একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি দর্জি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আঁচল টেইলর্স নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করেন। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা চালু করেন। সেখানে তিনি ২৪২ জনকে দর্জি সেলাই প্রশিক্ষণ দেন। ২০১২ সালে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় নারীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৯টি সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।

তিনি অসংখ্য বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্থানীয় বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। এলাকার ৮ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। জেলা নারী ও শিশু আদালত থেকে নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত ভার অর্পণ করা হলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অসংখ্য মামলার নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অসাধারণ উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করেন। বিভিন্ন সালিশ সমাধানের জন্য অত্র উপজেলার ন্যায়-বিচারে তার সুনাম রয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে পাথরঘাটা উপজেলায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাজনীতিতে রয়েছে তার ব্যাপক অবদান। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্য। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে তার জীবনের গল্প প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মালয়েশিয়ায় সফল নারী হিসাবে ২০১৮ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন। জাতীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ২০১৫ সালে উপন্যাসে পদক পেয়েছেন তিনি। জেলায় উন্নয়ন মেলায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৫ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সমাজে অসাধারণ অবদানের জন্য উপজেলা ও জেলায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদক এবং বরিশাল বিভাগীয় শুভেচ্ছা স্মারক পান। মাদক নিয়ন্ত্রণে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছেন।

বাল্যবিয়ে বন্ধে উদ্যোগ নিই

প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন। লিখেছেন-
 আনোয়ার হোসেন মনোয়ার 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নারীসমাজের উন্নয়নেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এলাকার নারীদের নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। শত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া উপকূলীয় এ নারীর নাম ফাতিমা পারভীন। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। কাজ করেন সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য। কর্মদক্ষতা ও নিরলস কর্মপ্রচেষ্টায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জন্ম ১৯৮৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন এ প্রসঙ্গে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জন্ম নেওয়া, বেড়ে ওঠা আমার জীবন শুরু হয়েছিল বাল্যবিয়ের মধ্য দিয়েই। পরিবারের নানারকম কুসংস্কার আর চ্যালেঞ্জের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেছি। লেখাপড়া শুরু করি। লেখাপড়ার খরচ জোগাতে প্রাইভেট পড়াই। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং এলএলএম সম্পন্ন করি। চাকরি নিই স্থানীয় এনজিও সংকল্প ট্রাস্টে, সেখানে আন্তর্জাতিক নারীপক্ষের সঙ্গে নারীর প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হই। মানুষের সমস্যা নিরসনে কাজ করি। এলাকার বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিই। সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, মল্লিক মোহাম্মদ আজাদ, শফিকুল ইসলাম খোকন, ফেরদৌস খান ইমনকে নিয়ে সাত সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক কমিটি গঠন করি। কোথায় বাল্যবিয়ের খবর পেলে কমিটির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হতাম। এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও থেমে থাকিনি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করি। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন করি। এভাবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, যৌতুক বন্ধে উপজেলায় একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলি। আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সুশীল সমাজ।

ফাতিমা পারভীন একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি দর্জি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আঁচল টেইলর্স নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করেন। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা চালু করেন। সেখানে তিনি ২৪২ জনকে দর্জি সেলাই প্রশিক্ষণ দেন। ২০১২ সালে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় নারীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৯টি সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।

তিনি অসংখ্য বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্থানীয় বেরিবাঁধ নির্মাণের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। এলাকার ৮ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। জেলা নারী ও শিশু আদালত থেকে নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত ভার অর্পণ করা হলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে অসংখ্য মামলার নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অসাধারণ উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করেন। বিভিন্ন সালিশ সমাধানের জন্য অত্র উপজেলার ন্যায়-বিচারে তার সুনাম রয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে পাথরঘাটা উপজেলায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাজনীতিতে রয়েছে তার ব্যাপক অবদান। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্য। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে তার জীবনের গল্প প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মালয়েশিয়ায় সফল নারী হিসাবে ২০১৮ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন। জাতীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ২০১৫ সালে উপন্যাসে পদক পেয়েছেন তিনি। জেলায় উন্নয়ন মেলায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৫ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সমাজে অসাধারণ অবদানের জন্য উপজেলা ও জেলায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদক এবং বরিশাল বিভাগীয় শুভেচ্ছা স্মারক পান। মাদক নিয়ন্ত্রণে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। খেলাধুলা, বিনোদন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন