ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় টাঙ্গাইলের নারী উদ্যোক্তারা
jugantor
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় টাঙ্গাইলের নারী উদ্যোক্তারা

  জাফর আহমেদ  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের পাথরাইলের নারী উদ্যোক্তা বাসন্তী সূত্রধর, প্রতিমা বসাক, আলো বসাক, গীতা বসাক, দিপালী বসাক, কালিহাতী উপজেলার রামপুরের ফরিদা আক্তার, খালেদা বেগম, বল্লা গ্রামের আয়েশা আক্তার, নাসরিন আক্তার, নাছিমা খাতুন, বীরপাকুটিয়া গ্রামের জমেলা বেগম, বেহেলাবাড়ির ফারজানা ইয়াসমিন, মমিন নগরের আল্পনা আক্তার প্রমুখ। কোভিড-এর এ সময়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন তারা। লিখেছেন- জাফর আহমেদ

তাত শ্রমিকদের ঘরে ঘরে হাহাকার। নারী শ্রমিকদের হাতে কাজ নেই, ঘরে খাবার নেই, পরনে পুরোনো কাপড়। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাবে সে অবস্থাও নেই। তাঁত মালিকরা টাকার আভাবে তাঁতে তেনা দিতে (সুতা উঠানো) পারছে না। বৈশ্বিক মহামারি করোনা তাঁতিদের পথে বসিয়েছে। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললেন টাঙ্গাইলের পাথরাইলের তাঁত মালিক লাবনী বসাক।

তিনি জানান, তার বাবা স্বর্গীয় মোহন বসাক কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুরের বাসিন্দা। তিনি পৈতৃকসূত্রে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৫ সালে পাথরাইলের নকুল বসাকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার স্বামীও তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের কিছুদিন পর অসুস্থতার জন্য তার স্বামী নকুল বসাকের শরীরে অপারেশন করায় তিনি এখন কিছুই করতে পারেন না। পুরো পরিবারকে চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। দৃঢ় হাতে তিনি স্বামীর তাঁত ফ্যাক্টরির হাল ধরেন। সুতা আনা, চরকায় সুতা কাটা, কারিগর (তাঁত শ্রমিক) ঠিক করা, শাড়ি কেনার বাড়িতে আসা মহাজনদের সঙ্গে দরদাম করা এক কথায় সবই তাকেই সামলাতে হয়। তার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত জামদানি কিনতে পাইকাররা সাধারণত বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। প্রতি পিস জামদানি তিনি ২৫০০-২৭০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।

বাতাঁবো’র স্থানীয় তাঁতি সমিতির সদস্য তিনি। করোনাকালে ঋণ তো দূরের কথা তাকে কেউ জিজ্ঞেসও করতে আসেনি। তার ফ্যাক্টরিতে ১০টি তাঁতের শাড়ি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্তত ৩০টি পরিবার দীর্ঘ সময় কর্মহীন ছিল। এনজিও থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে ১০টি তাঁতের মধ্যে ৮টিতে শাড়ি উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছেন।

তার চার মেয়ের মধ্যে বীথি বসাক ও যুথি বসাককে উচ্চশিক্ষিত করে বিয়ে দিয়েছেন। অপর মেয়ে পূজা বসাক সরকারি সা’দৎ কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা নিয়ে পড়ালেখা করছে। ছোট মেয়ে মুক্তা বসাক চলতি বছর পাথরাইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রায় একই কথা বললেন, কালিহাতী উপজেলার রামপুরের ফরিদা আক্তার। তার মতে, অত্যাধুনিকতা বাঙালির ঘর থেকে শাড়িকে বের করে দিয়েছে। জায়গা দখল করেছে সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিসসহ অত্যাধুনিক পোশাক। শাড়ির বাজার ওইসব পোশাকের দখলে যাওয়ায় এমনিতেই তাঁতশিল্পের বারোটা বেজেছিল। একই সঙ্গে বাজারজাত সংকট, ঋণ পাওয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সুতা আমদানিতে শুল্ক, রপ্তানি সমস্যা তো ছিলই। তারপরও পৈতৃক ঐতিহ্য রক্ষায় এবং অন্য কাজে অভিজ্ঞ না হওয়ায় অনেকে তাঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মহামারি করোনা তাঁতশিল্পকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। করোনাকালে বৃহত্তর স্বার্থে লকডাউনে দীর্ঘ ৮ মাস তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল।

বীরপাকুটিয়া গ্রামের জমেলা বেগম জানান, প্রথম দফা করোনায় লকডাউনের পরই বন্যার থাবা। আবার দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ধস নামে। তেমনই তাঁতিদেরও কপাল পুড়ে। ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখায় তাঁতে থাকা ভিমের তানায় (শাড়ি তৈরির সুতার কুণ্ডলী) পোকার আক্রমণ মারাত্মক ক্ষতি করে। এরপরই বন্যার পানিতে তাঁত সরঞ্জামাদিগুলো বিনষ্ট হয়ে যায়।

পাথরাইলের আরেক নারী উদ্যোক্তা বাসন্তী সূত্রধরের বয়স ৩৮ বছর। তার বাবা সুনীল সূত্রধর নাগরপুরের বেকরা গ্রামের বাসিন্দা। ২০০১ সালে পাথরাইলের গোবিন্দ সূত্রধরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী গোবিন্দ সূত্রধর টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানীতে বসবাসের কারণে ছোটবেলা থেকেই একজন তাঁত শ্রমিক। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মা।

তিনি জানান, স্বামীর পেশাকে ভালোবেসে তিনি তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে চরকার সুতা কাটতেন, পরে শাড়ির ড্রপ (বাড়তি সুতা) কেটেছেন। এতে সংসারে কিছুটা হলেও সহযোগিতা হতো। কিন্তু আয়টা পর্যাপ্ত ছিল না। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁত কিনেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ির একটি ঘরে ৬টি তাঁত বসিয়ে ফ্যাক্টরি করেন। তিনি মূলত চায়না রেশম সুতায় সিল্ক শাড়ি তৈরি করেন। প্রতি পিস শাড়ি ১৮০০-২২০০ টাকায় বিক্রি করেন। তার ফ্যাক্টরিতে কারিগর (তাঁত শ্রমিক)সহ ১৮টি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার থাবায় অন্যদের মতো তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত। করোনাভাইরাসের করাল থাবা তাঁতশিল্পকে পঙ্গু করে দিয়েছে। অবশ্য বাতাঁবো’র প্রাথমিক সমিতির মাধ্যমে তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছেন। তা দিয়েই করোনাপরবর্তী সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বড় মেয়ে প্রীতি সূত্রধর টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজে এইচএসসিতে পড়ালেখা করছে। মেজো মেয়ে স্মৃতি সূত্রধর পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে তনুশ্রী সূত্রধর পাথরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাজারো সমস্যা। আর নারী হলে তো কথাই নেই। নারীকে কর্মক্ষম দেখতে আমাদের সমাজ এখনো অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হলেও তিনি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য নন। করোনার প্রথম ধাপের পর তার স্বামী সমিতির সদস্য হিসাবে তাঁতঋণ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের এক তথ্যে জানা যায়, জেলায় দেড় শতাধিক নারী উদ্যোক্তাসহ টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদনে ১০ হাজার নারী শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় টাঙ্গাইলের নারী উদ্যোক্তারা

 জাফর আহমেদ 
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের পাথরাইলের নারী উদ্যোক্তা বাসন্তী সূত্রধর, প্রতিমা বসাক, আলো বসাক, গীতা বসাক, দিপালী বসাক, কালিহাতী উপজেলার রামপুরের ফরিদা আক্তার, খালেদা বেগম, বল্লা গ্রামের আয়েশা আক্তার, নাসরিন আক্তার, নাছিমা খাতুন, বীরপাকুটিয়া গ্রামের জমেলা বেগম, বেহেলাবাড়ির ফারজানা ইয়াসমিন, মমিন নগরের আল্পনা আক্তার প্রমুখ। কোভিড-এর এ সময়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন তারা। লিখেছেন- জাফর আহমেদ

তাত শ্রমিকদের ঘরে ঘরে হাহাকার। নারী শ্রমিকদের হাতে কাজ নেই, ঘরে খাবার নেই, পরনে পুরোনো কাপড়। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাবে সে অবস্থাও নেই। তাঁত মালিকরা টাকার আভাবে তাঁতে তেনা দিতে (সুতা উঠানো) পারছে না। বৈশ্বিক মহামারি করোনা তাঁতিদের পথে বসিয়েছে। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললেন টাঙ্গাইলের পাথরাইলের তাঁত মালিক লাবনী বসাক।

তিনি জানান, তার বাবা স্বর্গীয় মোহন বসাক কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুরের বাসিন্দা। তিনি পৈতৃকসূত্রে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৫ সালে পাথরাইলের নকুল বসাকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার স্বামীও তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের কিছুদিন পর অসুস্থতার জন্য তার স্বামী নকুল বসাকের শরীরে অপারেশন করায় তিনি এখন কিছুই করতে পারেন না। পুরো পরিবারকে চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। দৃঢ় হাতে তিনি স্বামীর তাঁত ফ্যাক্টরির হাল ধরেন। সুতা আনা, চরকায় সুতা কাটা, কারিগর (তাঁত শ্রমিক) ঠিক করা, শাড়ি কেনার বাড়িতে আসা মহাজনদের সঙ্গে দরদাম করা এক কথায় সবই তাকেই সামলাতে হয়। তার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত জামদানি কিনতে পাইকাররা সাধারণত বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। প্রতি পিস জামদানি তিনি ২৫০০-২৭০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।

বাতাঁবো’র স্থানীয় তাঁতি সমিতির সদস্য তিনি। করোনাকালে ঋণ তো দূরের কথা তাকে কেউ জিজ্ঞেসও করতে আসেনি। তার ফ্যাক্টরিতে ১০টি তাঁতের শাড়ি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্তত ৩০টি পরিবার দীর্ঘ সময় কর্মহীন ছিল। এনজিও থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে ১০টি তাঁতের মধ্যে ৮টিতে শাড়ি উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছেন।

তার চার মেয়ের মধ্যে বীথি বসাক ও যুথি বসাককে উচ্চশিক্ষিত করে বিয়ে দিয়েছেন। অপর মেয়ে পূজা বসাক সরকারি সা’দৎ কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা নিয়ে পড়ালেখা করছে। ছোট মেয়ে মুক্তা বসাক চলতি বছর পাথরাইল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রায় একই কথা বললেন, কালিহাতী উপজেলার রামপুরের ফরিদা আক্তার। তার মতে, অত্যাধুনিকতা বাঙালির ঘর থেকে শাড়িকে বের করে দিয়েছে। জায়গা দখল করেছে সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিসসহ অত্যাধুনিক পোশাক। শাড়ির বাজার ওইসব পোশাকের দখলে যাওয়ায় এমনিতেই তাঁতশিল্পের বারোটা বেজেছিল। একই সঙ্গে বাজারজাত সংকট, ঋণ পাওয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সুতা আমদানিতে শুল্ক, রপ্তানি সমস্যা তো ছিলই। তারপরও পৈতৃক ঐতিহ্য রক্ষায় এবং অন্য কাজে অভিজ্ঞ না হওয়ায় অনেকে তাঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মহামারি করোনা তাঁতশিল্পকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। করোনাকালে বৃহত্তর স্বার্থে লকডাউনে দীর্ঘ ৮ মাস তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল।

বীরপাকুটিয়া গ্রামের জমেলা বেগম জানান, প্রথম দফা করোনায় লকডাউনের পরই বন্যার থাবা। আবার দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ধস নামে। তেমনই তাঁতিদেরও কপাল পুড়ে। ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখায় তাঁতে থাকা ভিমের তানায় (শাড়ি তৈরির সুতার কুণ্ডলী) পোকার আক্রমণ মারাত্মক ক্ষতি করে। এরপরই বন্যার পানিতে তাঁত সরঞ্জামাদিগুলো বিনষ্ট হয়ে যায়।

পাথরাইলের আরেক নারী উদ্যোক্তা বাসন্তী সূত্রধরের বয়স ৩৮ বছর। তার বাবা সুনীল সূত্রধর নাগরপুরের বেকরা গ্রামের বাসিন্দা। ২০০১ সালে পাথরাইলের গোবিন্দ সূত্রধরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী গোবিন্দ সূত্রধর টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানীতে বসবাসের কারণে ছোটবেলা থেকেই একজন তাঁত শ্রমিক। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মা।

তিনি জানান, স্বামীর পেশাকে ভালোবেসে তিনি তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে চরকার সুতা কাটতেন, পরে শাড়ির ড্রপ (বাড়তি সুতা) কেটেছেন। এতে সংসারে কিছুটা হলেও সহযোগিতা হতো। কিন্তু আয়টা পর্যাপ্ত ছিল না। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁত কিনেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ির একটি ঘরে ৬টি তাঁত বসিয়ে ফ্যাক্টরি করেন। তিনি মূলত চায়না রেশম সুতায় সিল্ক শাড়ি তৈরি করেন। প্রতি পিস শাড়ি ১৮০০-২২০০ টাকায় বিক্রি করেন। তার ফ্যাক্টরিতে কারিগর (তাঁত শ্রমিক)সহ ১৮টি পরিবারের কর্মসংস্থান হয়। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার থাবায় অন্যদের মতো তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত। করোনাভাইরাসের করাল থাবা তাঁতশিল্পকে পঙ্গু করে দিয়েছে। অবশ্য বাতাঁবো’র প্রাথমিক সমিতির মাধ্যমে তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছেন। তা দিয়েই করোনাপরবর্তী সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বড় মেয়ে প্রীতি সূত্রধর টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজে এইচএসসিতে পড়ালেখা করছে। মেজো মেয়ে স্মৃতি সূত্রধর পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে তনুশ্রী সূত্রধর পাথরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাজারো সমস্যা। আর নারী হলে তো কথাই নেই। নারীকে কর্মক্ষম দেখতে আমাদের সমাজ এখনো অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হলেও তিনি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সদস্য নন। করোনার প্রথম ধাপের পর তার স্বামী সমিতির সদস্য হিসাবে তাঁতঋণ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের এক তথ্যে জানা যায়, জেলায় দেড় শতাধিক নারী উদ্যোক্তাসহ টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদনে ১০ হাজার নারী শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন