বেদে শিশুদের সবুজ বিদ্যাবাড়ি
jugantor
বেদে শিশুদের সবুজ বিদ্যাবাড়ি
সিলেটের গোলাপগঞ্জের কদমতলী। বেদেপল্লি শিশুদের বিদ্যাপীঠ সবুজ বিদ্যাবাড়ি। তাসমিনা খান সোমার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। লিখেছেন-

  রায়হান রাশেদ  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেদে শিশুদের সবুজ বিদ্যাবাড়ি

তাসমিনা খান সোমা ওসমানী মেডিকেল কলেজে থেকে বিএসসি (নার্সিং) সম্পন্ন করে ইন্টার্নি করছেন। পাশাপাশি চাকরিও করছেন। বাবা জয়নাল আবেদিন একজন কাঠমিস্ত্রি। মা হাজেরা বেগম গৃহিণী। মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজে বিএসসি (নার্সিং) ভর্তি হন। ২০১৭ সাল। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি দেখেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের নানা রকম সমস্যা। কারও ওষুধ কেনার পয়সা নেই, কেউবা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না ইত্যাদি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীই নারী। স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের সচেতনতা নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে তাসমিনা খান সোমা বলেন, এ ঘটনাগুলো আমার মনে দাগ কাটে। তাদের জন্য কিছু করার কথা ভাবি। কারণ মায়ের কাছে মানবতার পাঠ নিয়েছি। আগস্ট মাসের এক বিকালে বন্ধুদের নিয়ে আলোচনায় বসি। কুলসুম আক্তার, নাহিদা বেগম, তানভীর আহমদসহ ছয় বন্ধু এ আলোচনায় অংশ নেয়। নিজের ভাবনা বন্ধুদের জানাই। বন্ধুরা খুশি হলেন, উৎসাহ দিলেন। সবাই মিলে নাম ঠিক করি মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলো। সদস্য ফি নির্ধারিত হয় ৫০ টাকা।

কর্মকাণ্ডের প্রথমে ব্লাড ক্যাম্প করেন। বিনামূল্যে কয়েক হাজার মানুষের রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ব্লাড ডোনারদের একত্র করেন। এরপর দুই ঈদে কাপড়, সেমাই, নারিকেল বিতরণ করা হয় গরিবদের। বস্ত্রহীনদের শীতবস্ত্র দিলেন। এরপর নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান করা হয়।

সংগঠনের এক বছর পার হয়ে যায়। একদিন সকাল ১০টায় আদালতের সামনের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন তিনি। এক বেদে নারী তার পথ আগলে দাঁড়ান। তারপর একরকম জোর করেই সোমার হাত দেখলেন। বললেন বেশ কিছু কথা। তাদের জীবন সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে উঠলেন সোমা। জানতে পারলেন, তাদের বসবাসের নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। ঘুরতি-ফিরতি পেশা। শহরের অলিগলি আর পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে ছোটখাটো ব্যবসা করে। বাসন-কোসন বেচে। শিঙা লাগায়। কেউ কেউ ঝাড়ফুঁকও করে। বলতে গেলে সবাই অক্ষরজ্ঞানহীন।

তাদের বর্ষা কাটে নদীতে ভেসে ভেসে। গ্রীষ্মে উঠে আসে ডাঙায়। ডেরা বাঁধে কোনো চর বা পতিত কোনো মাঠে। এক জায়গায় কিছুদিন থেকে আবার অন্য কোথাও চলে যায়। এভাবেই এক রকম যায় জীবন। বেদেপল্লির শিশুরা স্কুলে যায় না। স্কুল তাদের বসতি থেকে বেশ দূরে। কোনো বিদ্যালয়ে দিনকয় গেলেও মা-বাবার সঙ্গে অল্প কিছুদিন পরই চলে যেতে হয় অন্য কোথাও। দেখা গেল সেখানে স্কুল নেই। এসব শিশুর জন্য খুব মায়া হয় সোমার। এ শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছিলেন না। খোঁজ করে বেদেপল্লি ঘুরতে লাগলেন। গেলেন ছাতক, ফেঞ্চুগঞ্জ আর গোলাপগঞ্জে। সব জায়গার বেদেদের চিত্র একই রকম।

তিনি বন্ধুদের বললেন, বেদেপল্লির শিশুদের পড়াব

বন্ধুরা দারুণভাবে সাড়া দিলেন। কলেজ হোস্টেল থেকে গোলাপগঞ্জ ২৫ কিলোমিটার। এক বিকালে গেলেন। কিছু চকোলেট ভরলেন ব্যাগে। প্রথমে দূর থেকে বাচ্চাদের দেখলেন যে খেলায় খুব ব্যস্ত। মার্বেল, ঘুটি, ক্রিকেট আর তাস বেশি খেলে তারা। বাচ্চাদের ডেকে চকোলেট দিলেন। এভাবে কয়েক দিন গেল। নিয়ম করেই চকোলেট দিতেন। বেদেপল্লিতে তার নাম হয়ে গেল ‘চকোলেট আপা।’ বাচ্চারা দেখলেই বলত ‘চকোলেট আপা আসছে।’ বাচ্চাদের পড়াশোনার কথা বললেন। অভিভাবকদেরও বোঝালেন। একসময় তারা তার কথায় কান দিল। তারপর খোলা আকাশের নিচে বেদেদের তাঁবুর সামনেই ক্লাস শুরু করলেন। বাচ্চাদের বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম ও ব্যাগ দিলেন। শওকত আমিন তৌহিদ সাহায্য করেছিলেন সেবার।

এ প্রসঙ্গে সোমা বললেন, প্রথমে শিক্ষার্থীরা আসতে চাইত না। ছয় অথবা সাতজন আসত। আমরাই ডেকে ডেকে নিয়ে আসতাম। খেলা থেকে ধরে নিয়ে আসতাম। প্রতি ক্লাসে খাবার দিতাম। চকোলেট, সমুচা, সিঙ্গাড়া ইত্যাদি। এভাবে তারা জড়ো হতে শুরু করে। সবুজ বিদ্যাবাড়ি জমে ওঠে।

শুরুতে সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস হতো। আমি ও আমার বন্ধুরা ক্লাস নিতাম। এভাবে এক বছর গেল। নিয়মিত শিক্ষার্থী ২৮ জন। মাঝেমধ্যে বেশিও হয়। সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হয়। দু’জন বেতনধারী শিক্ষক আছেন। বেদেপল্লিরই একজন আছেন হুমায়রা নামে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কখনো কখনো তিনিও পড়ান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা রকম খেলা হয়। অনুষ্ঠান হয়। পুরস্কার বিতরণ চলে। ওদের নিয়ে ঘুরতেও যাই।

সবুজ বিদ্যাবাড়ির শিক্ষার্থীদের কড়া রোদ বা বৃষ্টিতে খোলা মাঠে ক্লাস করতে অসুবিধা হয়। প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। তাই আবার সভায় বসলেন বন্ধুদের নিয়ে। সাড়া পেলেন। জায়গা ভাড়া নিলেন। ঘর করার জন্য টাকা দিল জিবি অনলাইন টেলিভিশন ও রোটারি ক্লাব অব সিলেট। একচালা টিনের ঘর তৈরি করলেন। বেড়ায় লাগালেন কিছু টিন আর ফেস্টুন। বাচ্চাদের স্কুল হলো। ওরা এখন স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করে।

কিন্তু সোমার মনে একটা ভয় কাজ করছে, কখন জানি বাচ্চাদের মা-বাবারা এ জায়গা ছেড়ে চলে যায়। তাদের তো আর নির্ধারিত ঘর নেই।

তাসমিনা খান সোমার অঙ্গীকার, তিনি সব সময় বেদেদের জন্য কাজ করবেন। সেটা দেশের যেখানেই হোক।

২০১৯-এর শেষের দিকে ‘ঊষা’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। এ প্রকল্পের আওতায় বেদে ও নিুবিত্ত নারীদের সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ ও ব্লক বাটিক শেখানো হয়। ৩০ জন নারী কাজ শিখেছেন। তারা এখন বিভিন্ন কারখানার অধীনে কাজ করছে। ‘ঊষা’য় কাজ শেখা রুবি (২৩) বলেন, দুই সন্তানসহ বাপের বাড়ি থাকি। স্বামী ছেড়ে দিয়েছে। বাপের বাড়িতে নিজেরে বড় বেমানান ঠিকে। বোঝা মনে হয়। এখানে কাজ শিখে ভালো আছি। রোজগার করছি।

কোভিডের কারণে তাসমিনার সবুজ বিদ্যাবাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। ভাড়াঘরটা ছেড়ে দিলেন। তবে বাচ্চাদের ছেড়ে যাননি। তাদের মধ্যে করোনা সচেতনতা শিক্ষা দিলেন। মাস্ক পরালেন। খাবার দিলেন। এরপরও বিদ্যাবাড়ির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারলেন না। তাদের মা-বাবার সঙ্গে দূরে চলে গেছে। নতুন শিক্ষার্থী এসেছে। ছোট ভাই তানভীর আহমদ বোনের সঙ্গে কাজ করছেন।

বেদে শিশুদের সবুজ বিদ্যাবাড়ি

সিলেটের গোলাপগঞ্জের কদমতলী। বেদেপল্লি শিশুদের বিদ্যাপীঠ সবুজ বিদ্যাবাড়ি। তাসমিনা খান সোমার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। লিখেছেন-
 রায়হান রাশেদ 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বেদে শিশুদের সবুজ বিদ্যাবাড়ি
ফাইল ছবি

তাসমিনা খান সোমা ওসমানী মেডিকেল কলেজে থেকে বিএসসি (নার্সিং) সম্পন্ন করে ইন্টার্নি করছেন। পাশাপাশি চাকরিও করছেন। বাবা জয়নাল আবেদিন একজন কাঠমিস্ত্রি। মা হাজেরা বেগম গৃহিণী। মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজে বিএসসি (নার্সিং) ভর্তি হন। ২০১৭ সাল। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় তিনি দেখেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের নানা রকম সমস্যা। কারও ওষুধ কেনার পয়সা নেই, কেউবা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না ইত্যাদি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীই নারী। স্বাস্থ্য সম্পর্কে তাদের সচেতনতা নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে তাসমিনা খান সোমা বলেন, এ ঘটনাগুলো আমার মনে দাগ কাটে। তাদের জন্য কিছু করার কথা ভাবি। কারণ মায়ের কাছে মানবতার পাঠ নিয়েছি। আগস্ট মাসের এক বিকালে বন্ধুদের নিয়ে আলোচনায় বসি। কুলসুম আক্তার, নাহিদা বেগম, তানভীর আহমদসহ ছয় বন্ধু এ আলোচনায় অংশ নেয়। নিজের ভাবনা বন্ধুদের জানাই। বন্ধুরা খুশি হলেন, উৎসাহ দিলেন। সবাই মিলে নাম ঠিক করি মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলো। সদস্য ফি নির্ধারিত হয় ৫০ টাকা।

কর্মকাণ্ডের প্রথমে ব্লাড ক্যাম্প করেন। বিনামূল্যে কয়েক হাজার মানুষের রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ব্লাড ডোনারদের একত্র করেন। এরপর দুই ঈদে কাপড়, সেমাই, নারিকেল বিতরণ করা হয় গরিবদের। বস্ত্রহীনদের শীতবস্ত্র দিলেন। এরপর নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান করা হয়।

সংগঠনের এক বছর পার হয়ে যায়। একদিন সকাল ১০টায় আদালতের সামনের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন তিনি। এক বেদে নারী তার পথ আগলে দাঁড়ান। তারপর একরকম জোর করেই সোমার হাত দেখলেন। বললেন বেশ কিছু কথা। তাদের জীবন সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে উঠলেন সোমা। জানতে পারলেন, তাদের বসবাসের নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। ঘুরতি-ফিরতি পেশা। শহরের অলিগলি আর পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে ছোটখাটো ব্যবসা করে। বাসন-কোসন বেচে। শিঙা লাগায়। কেউ কেউ ঝাড়ফুঁকও করে। বলতে গেলে সবাই অক্ষরজ্ঞানহীন।

তাদের বর্ষা কাটে নদীতে ভেসে ভেসে। গ্রীষ্মে উঠে আসে ডাঙায়। ডেরা বাঁধে কোনো চর বা পতিত কোনো মাঠে। এক জায়গায় কিছুদিন থেকে আবার অন্য কোথাও চলে যায়। এভাবেই এক রকম যায় জীবন। বেদেপল্লির শিশুরা স্কুলে যায় না। স্কুল তাদের বসতি থেকে বেশ দূরে। কোনো বিদ্যালয়ে দিনকয় গেলেও মা-বাবার সঙ্গে অল্প কিছুদিন পরই চলে যেতে হয় অন্য কোথাও। দেখা গেল সেখানে স্কুল নেই। এসব শিশুর জন্য খুব মায়া হয় সোমার। এ শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছিলেন না। খোঁজ করে বেদেপল্লি ঘুরতে লাগলেন। গেলেন ছাতক, ফেঞ্চুগঞ্জ আর গোলাপগঞ্জে। সব জায়গার বেদেদের চিত্র একই রকম।

তিনি বন্ধুদের বললেন, বেদেপল্লির শিশুদের পড়াব

বন্ধুরা দারুণভাবে সাড়া দিলেন। কলেজ হোস্টেল থেকে গোলাপগঞ্জ ২৫ কিলোমিটার। এক বিকালে গেলেন। কিছু চকোলেট ভরলেন ব্যাগে। প্রথমে দূর থেকে বাচ্চাদের দেখলেন যে খেলায় খুব ব্যস্ত। মার্বেল, ঘুটি, ক্রিকেট আর তাস বেশি খেলে তারা। বাচ্চাদের ডেকে চকোলেট দিলেন। এভাবে কয়েক দিন গেল। নিয়ম করেই চকোলেট দিতেন। বেদেপল্লিতে তার নাম হয়ে গেল ‘চকোলেট আপা।’ বাচ্চারা দেখলেই বলত ‘চকোলেট আপা আসছে।’ বাচ্চাদের পড়াশোনার কথা বললেন। অভিভাবকদেরও বোঝালেন। একসময় তারা তার কথায় কান দিল। তারপর খোলা আকাশের নিচে বেদেদের তাঁবুর সামনেই ক্লাস শুরু করলেন। বাচ্চাদের বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম ও ব্যাগ দিলেন। শওকত আমিন তৌহিদ সাহায্য করেছিলেন সেবার।

এ প্রসঙ্গে সোমা বললেন, প্রথমে শিক্ষার্থীরা আসতে চাইত না। ছয় অথবা সাতজন আসত। আমরাই ডেকে ডেকে নিয়ে আসতাম। খেলা থেকে ধরে নিয়ে আসতাম। প্রতি ক্লাসে খাবার দিতাম। চকোলেট, সমুচা, সিঙ্গাড়া ইত্যাদি। এভাবে তারা জড়ো হতে শুরু করে। সবুজ বিদ্যাবাড়ি জমে ওঠে।

শুরুতে সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস হতো। আমি ও আমার বন্ধুরা ক্লাস নিতাম। এভাবে এক বছর গেল। নিয়মিত শিক্ষার্থী ২৮ জন। মাঝেমধ্যে বেশিও হয়। সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হয়। দু’জন বেতনধারী শিক্ষক আছেন। বেদেপল্লিরই একজন আছেন হুমায়রা নামে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কখনো কখনো তিনিও পড়ান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা রকম খেলা হয়। অনুষ্ঠান হয়। পুরস্কার বিতরণ চলে। ওদের নিয়ে ঘুরতেও যাই।

সবুজ বিদ্যাবাড়ির শিক্ষার্থীদের কড়া রোদ বা বৃষ্টিতে খোলা মাঠে ক্লাস করতে অসুবিধা হয়। প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হয়। তাই আবার সভায় বসলেন বন্ধুদের নিয়ে। সাড়া পেলেন। জায়গা ভাড়া নিলেন। ঘর করার জন্য টাকা দিল জিবি অনলাইন টেলিভিশন ও রোটারি ক্লাব অব সিলেট। একচালা টিনের ঘর তৈরি করলেন। বেড়ায় লাগালেন কিছু টিন আর ফেস্টুন। বাচ্চাদের স্কুল হলো। ওরা এখন স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করে।

কিন্তু সোমার মনে একটা ভয় কাজ করছে, কখন জানি বাচ্চাদের মা-বাবারা এ জায়গা ছেড়ে চলে যায়। তাদের তো আর নির্ধারিত ঘর নেই।

তাসমিনা খান সোমার অঙ্গীকার, তিনি সব সময় বেদেদের জন্য কাজ করবেন। সেটা দেশের যেখানেই হোক।

২০১৯-এর শেষের দিকে ‘ঊষা’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে মিজারেবল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। এ প্রকল্পের আওতায় বেদে ও নিুবিত্ত নারীদের সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ ও ব্লক বাটিক শেখানো হয়। ৩০ জন নারী কাজ শিখেছেন। তারা এখন বিভিন্ন কারখানার অধীনে কাজ করছে। ‘ঊষা’য় কাজ শেখা রুবি (২৩) বলেন, দুই সন্তানসহ বাপের বাড়ি থাকি। স্বামী ছেড়ে দিয়েছে। বাপের বাড়িতে নিজেরে বড় বেমানান ঠিকে। বোঝা মনে হয়। এখানে কাজ শিখে ভালো আছি। রোজগার করছি।

কোভিডের কারণে তাসমিনার সবুজ বিদ্যাবাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। ভাড়াঘরটা ছেড়ে দিলেন। তবে বাচ্চাদের ছেড়ে যাননি। তাদের মধ্যে করোনা সচেতনতা শিক্ষা দিলেন। মাস্ক পরালেন। খাবার দিলেন। এরপরও বিদ্যাবাড়ির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে পারলেন না। তাদের মা-বাবার সঙ্গে দূরে চলে গেছে। নতুন শিক্ষার্থী এসেছে। ছোট ভাই তানভীর আহমদ বোনের সঙ্গে কাজ করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন