জলকন্যাদের গল্প
jugantor
জলকন্যাদের গল্প

  এম জুবায়েদ রিপন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ আনসারের হয়ে সুইমিংপুল কাঁপানো সাঁতারু সুমি, জ্যামি ও মুক্তারা নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা অর্জন করেছেন ১০-১৫টি জাতীয় পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এনেছেন সাফল্য। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ জলকন্যদের দিন কাটছে গ্রামের বাড়িতে। কবে জলে ফিরতে পারবেন এ আশায় দিন কাটছে জলকন্যাদের। লিখেছেন- এ এম জুবায়েদ রিপন

ঘরে বসে ফিটনেস হারিয়ে যাচ্ছে : সুমি খাতুন

নওদা আজিমপুর টেকনিক্যাল বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমি খাতুন। বাবা রবিউল সর্দার একজন চা বিক্রেতা। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মেজো সুমি খাতুন। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠলেও সাঁতারের প্রতি সুমির টান ছোটবেলা থেকেই। মাত্র ৯ বছর বয়সে সাঁতারে প্রশিক্ষণ নেন।

সুমি খাতুন বলেন, দুই বছর কোনো প্রশিক্ষণ নেই। দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে ফিটনেস হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ঘরে বসে থাকলে শরীর ভারী হয়ে যাবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে সুইমিংপুলে নিজেকে মেলে ধরতে পারব কিনা জানি না। তবে নিজের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি ফিটনেস ধরে রাখার। গ্রামের সরকারি একটি খালে মাঝে মধ্যে অনুশীলন করতে গেলেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। এ কারণে অনুশীলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া একদিকে খোলা জায়গা, অন্যদিকে ভেজা কাপড় পাল্টানোর সুযোগ নেই। এতে সমস্যায় পড়তে হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফিটনেস ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্ট করে যাচ্ছি।

সুইমিংপুলের অভাবে অনুশীলন করতে পারছি না : জ্যামি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া গ্রামের জামিরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার জ্যামি। বাবা পেশায় একজন অটোচালক। বাবার একার উপার্জনে সংসার চলে তাদের। এক ভাই এক বোনের মধ্যে জ্যামি বড়। উপজেলার আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

সুমাইয়া আক্তার জ্যামি বলেন, দেশসেরা সাঁতারুদের গ্রামে কোনো সুইমিংপুল নেই, এ কথা বলতেও কষ্ট লাগে। দুই বছর বাড়িতে বসে আছি, কিন্তু সুইমিংপুলের অভাবে অনুশীলন করতে পারছি না। বডি ফিটনেস ধরে রাখতে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বারো কপাট নামে একটি খালে কোনোরকমে অনুশীলন করছি। সরকারি ওই খালে অনুশীলন করতে গেলে স্থানীয় মৎস্য চাষিরা আমাদের বাধা দেয়। এভাবে অনুশীলন করা খুবই কষ্টকর।

দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে যেতে চাই : মুক্তা খাতুন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আমলা খামারপাড়া এলাকার মুক্তা খাতুন। আমলা জাহানারা বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রণির ছাত্রী। বাবা মেজরউদ্দিন পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। বড় বোন মীম শ্বশুরবাড়ি থাকেন। ওর বাবা রং মিস্ত্রির কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠলেও লেখাপড়া, খেলাধুলা দুটিই চালিয়ে যাচ্ছেন মুক্তা খাতুন। মুক্তা খাতুনের মতে, বাড়িতে থেকে নিজেদের পারফরমেন্স ধরে রাখা যায় না। এখানে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে না গেলে আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিত জুনিয়র জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না। কারণ শরীরের যে অবস্থা তাতে বডি তুলতে ৬ মাস লেগে যাবে। তাই আমরা অতিদ্রুত ক্যাম্পে ফিরে যেতে চাই।

জলকন্যাদের গল্প

 এম জুবায়েদ রিপন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ আনসারের হয়ে সুইমিংপুল কাঁপানো সাঁতারু সুমি, জ্যামি ও মুক্তারা নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা অর্জন করেছেন ১০-১৫টি জাতীয় পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এনেছেন সাফল্য। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ জলকন্যদের দিন কাটছে গ্রামের বাড়িতে। কবে জলে ফিরতে পারবেন এ আশায় দিন কাটছে জলকন্যাদের। লিখেছেন- এ এম জুবায়েদ রিপন

ঘরে বসে ফিটনেস হারিয়ে যাচ্ছে : সুমি খাতুন

নওদা আজিমপুর টেকনিক্যাল বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমি খাতুন। বাবা রবিউল সর্দার একজন চা বিক্রেতা। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মেজো সুমি খাতুন। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠলেও সাঁতারের প্রতি সুমির টান ছোটবেলা থেকেই। মাত্র ৯ বছর বয়সে সাঁতারে প্রশিক্ষণ নেন।

সুমি খাতুন বলেন, দুই বছর কোনো প্রশিক্ষণ নেই। দীর্ঘদিন ঘরে বসে থেকে ফিটনেস হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ঘরে বসে থাকলে শরীর ভারী হয়ে যাবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে সুইমিংপুলে নিজেকে মেলে ধরতে পারব কিনা জানি না। তবে নিজের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি ফিটনেস ধরে রাখার। গ্রামের সরকারি একটি খালে মাঝে মধ্যে অনুশীলন করতে গেলেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। এ কারণে অনুশীলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া একদিকে খোলা জায়গা, অন্যদিকে ভেজা কাপড় পাল্টানোর সুযোগ নেই। এতে সমস্যায় পড়তে হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ফিটনেস ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্ট করে যাচ্ছি।

সুইমিংপুলের অভাবে অনুশীলন করতে পারছি না : জ্যামি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া গ্রামের জামিরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার জ্যামি। বাবা পেশায় একজন অটোচালক। বাবার একার উপার্জনে সংসার চলে তাদের। এক ভাই এক বোনের মধ্যে জ্যামি বড়। উপজেলার আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

সুমাইয়া আক্তার জ্যামি বলেন, দেশসেরা সাঁতারুদের গ্রামে কোনো সুইমিংপুল নেই, এ কথা বলতেও কষ্ট লাগে। দুই বছর বাড়িতে বসে আছি, কিন্তু সুইমিংপুলের অভাবে অনুশীলন করতে পারছি না। বডি ফিটনেস ধরে রাখতে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বারো কপাট নামে একটি খালে কোনোরকমে অনুশীলন করছি। সরকারি ওই খালে অনুশীলন করতে গেলে স্থানীয় মৎস্য চাষিরা আমাদের বাধা দেয়। এভাবে অনুশীলন করা খুবই কষ্টকর।

দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে যেতে চাই : মুক্তা খাতুন

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আমলা খামারপাড়া এলাকার মুক্তা খাতুন। আমলা জাহানারা বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রণির ছাত্রী। বাবা মেজরউদ্দিন পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। বড় বোন মীম শ্বশুরবাড়ি থাকেন। ওর বাবা রং মিস্ত্রির কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠলেও লেখাপড়া, খেলাধুলা দুটিই চালিয়ে যাচ্ছেন মুক্তা খাতুন। মুক্তা খাতুনের মতে, বাড়িতে থেকে নিজেদের পারফরমেন্স ধরে রাখা যায় না। এখানে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। দ্রুত ক্যাম্পে ফিরে না গেলে আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিত জুনিয়র জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না। কারণ শরীরের যে অবস্থা তাতে বডি তুলতে ৬ মাস লেগে যাবে। তাই আমরা অতিদ্রুত ক্যাম্পে ফিরে যেতে চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন