কাজের স্বীকৃতি পাওয়া চাকরি জীবনের সেরা অনুভূতি : পান্না আক্তার
jugantor
কাজের স্বীকৃতি পাওয়া চাকরি জীবনের সেরা অনুভূতি : পান্না আক্তার
বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে প্রথম ব্যাচের ২৯ নারী সার্জেন্টের মধ্যে একজন পান্না আক্তার। ঢাকার তেজগাঁও ডিভিশনের তেজগাঁও জোনে সার্জেন্ট হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ পুলিশ সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস মাঠ রাজারবাগে প্যারেড পরিদর্শনকারী প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী জিপটি চালিয়েছিলেন সার্জেন্ট পান্না আক্তার। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর প্যারেড পরিদর্শনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে পান্না আক্তার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিপে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করেছিলেন। জিপ স্টার্ট দেওয়ার আগে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কেমন আছ?’ পুরো প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আমার মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘সুন্দর গাড়ি চালিয়েছ।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কাজের স্বীকৃতি পাওয়া এটা আমার চাকরি জীবনের সেরা অনুভূতি।

সার্জেন্ট পান্না আক্তার ঢাকার তেজগাঁও ডিভিশনের তেজগাঁও জোনে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশ সার্জেন্টরা দুই শিফটে কাজ করেন। প্রথম শিফট সকাল ৬টা থেকে বেলা আড়াইটা। দ্বিতীয় শিফট বেলা আড়াইটা থেকে রাত এগারোটা। পান্না আক্তার দু’ধরনের ডিউটি করেন। একটি ইন্টার সেকশনভিত্তিক অন্যটি সিয়েরা টেংগু। ইন্টার সেকশন মানে একই জায়গায় ডিউটি। সিয়েরা টেংগু মানে পুরো জোন ঘুরে কিংবা যে এলাকায় ডিউটি পড়েছে সেই এলাকা ঘুরে দেখা। অর্থাৎ সেখানে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা।

এ প্রসঙ্গে পান্না আক্তার বলেন, দুটো ডিউটি আমাদের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নিয়ে। যে সিগন্যালে ডিউটি পড়ে সেই সিগন্যালে যে গাড়িগুলো চলাচল করে সেই গাড়ি সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা, কেউ সিগন্যাল অমান্য করলে তার গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা। সে ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করার জন্য চালকের কাছে গাড়ি সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। একজন সুনাগরিক হিসাবে তার দায়িত্ব হবে আমাকে সহায়তা করা। অনেক সময় কারও গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না থাকলে কেউ কেউ তা মানতে চান না। আমি তাদের কাউকে বোঝাতে ব্যর্থ হলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। কাগজপত্র সঠিক না করে রাস্তায় গাড়ি বের করা মানে আইন ভঙ্গ করা একটি অপরাধ। এক্ষেত্রে গাড়ি সংক্রান্ত যে কাগজটি নেই আইনের সেই ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়। এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন বেশি হই। আবার হঠাৎ কেউ জরিমানা দিতে রাজি না হলে তার গাড়ি আটক রেখে থানায় অথবা ডাম্পিংয়ে দেওয়া হয়। কাগজপত্র ঠিক করে এনে মালিক গাড়ি নিয়ে যান। এ ছাড়া আমরা টিমওয়ার্ক কাজ করি। ইন্টারসেকশনে সার্জেন্ট হিসাবে আমি কাজ করছি। সেখানে কোথাও ৪টি রাস্তা অথবা ৫টি রাস্তা রয়েছে। রাস্তার সংখ্যা অনুযায়ী আমার সঙ্গে ৫ জন বা ৬ জন কনস্টেবল থাকেন। রাস্তার সংখ্যা থেকে ডিউটিতে একজন কনস্টেবল বেশি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিটি ইন্টারসেকশনে নিজস্ব ওয়াশরুম না থাকায় নারী পুলিশ সার্জেন্টদের ওয়াশরুমের সমস্যাটা রয়েই গেছে। পান্না আক্তারের মতে, লেডি সার্জেন্টদের ডিউটি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র স্যাররা খেয়াল রাখেন যাতে ইন্টারসেকশনের আশপাশে সরকারি স্থাপনা থাকে। যাতে আমরা সেখানকার ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারি। এলাকা ঘুরে ডিউটি করার সময় নিজেদের সুবিধামতো আশপাশের ওয়াশরুম ব্যবহার করি। আমাদের প্রতিটি ইন্টারসেকশনে যদি নিজস্ব ওয়াশরুম থাকত তাহলে খুব সুবিধা হতো। রাস্তায় ডিউটি করা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। স্বামী, বাবা-মা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় সহজভাবে নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারছি। হঠাৎ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলেও তা উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

সার্জেন্ট পান্না আক্তারের জন্ম নেত্রকোনার আটপাড়া থানার খিলা গ্রামে। বাবা খোরশেদ ফকির পেশায় কৃষিকাজ করতেন। মা কুলসোমা আক্তার গৃহিণী। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে পান্না পঞ্চম। ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৫ সালের ৩১ মে দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের প্রথম ব্যাচে সার্জেন্ট হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন তিনি।

কাজের স্বীকৃতি পাওয়া চাকরি জীবনের সেরা অনুভূতি : পান্না আক্তার

বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে প্রথম ব্যাচের ২৯ নারী সার্জেন্টের মধ্যে একজন পান্না আক্তার। ঢাকার তেজগাঁও ডিভিশনের তেজগাঁও জোনে সার্জেন্ট হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। লিখেছেন-
 রীতা ভৌমিক 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘পুলিশ সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ পুলিশ সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস মাঠ রাজারবাগে প্যারেড পরিদর্শনকারী প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী জিপটি চালিয়েছিলেন সার্জেন্ট পান্না আক্তার। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর প্যারেড পরিদর্শনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে পান্না আক্তার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিপে ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করেছিলেন। জিপ স্টার্ট দেওয়ার আগে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কেমন আছ?’ পুরো প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আমার মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘সুন্দর গাড়ি চালিয়েছ।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কাজের স্বীকৃতি পাওয়া এটা আমার চাকরি জীবনের সেরা অনুভূতি।

সার্জেন্ট পান্না আক্তার ঢাকার তেজগাঁও ডিভিশনের তেজগাঁও জোনে কর্মরত রয়েছেন। পুলিশ সার্জেন্টরা দুই শিফটে কাজ করেন। প্রথম শিফট সকাল ৬টা থেকে বেলা আড়াইটা। দ্বিতীয় শিফট বেলা আড়াইটা থেকে রাত এগারোটা। পান্না আক্তার দু’ধরনের ডিউটি করেন। একটি ইন্টার সেকশনভিত্তিক অন্যটি সিয়েরা টেংগু। ইন্টার সেকশন মানে একই জায়গায় ডিউটি। সিয়েরা টেংগু মানে পুরো জোন ঘুরে কিংবা যে এলাকায় ডিউটি পড়েছে সেই এলাকা ঘুরে দেখা। অর্থাৎ সেখানে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা।

এ প্রসঙ্গে পান্না আক্তার বলেন, দুটো ডিউটি আমাদের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নিয়ে। যে সিগন্যালে ডিউটি পড়ে সেই সিগন্যালে যে গাড়িগুলো চলাচল করে সেই গাড়ি সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা, কেউ সিগন্যাল অমান্য করলে তার গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা। সে ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করার জন্য চালকের কাছে গাড়ি সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। একজন সুনাগরিক হিসাবে তার দায়িত্ব হবে আমাকে সহায়তা করা। অনেক সময় কারও গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না থাকলে কেউ কেউ তা মানতে চান না। আমি তাদের কাউকে বোঝাতে ব্যর্থ হলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। কাগজপত্র সঠিক না করে রাস্তায় গাড়ি বের করা মানে আইন ভঙ্গ করা একটি অপরাধ। এক্ষেত্রে গাড়ি সংক্রান্ত যে কাগজটি নেই আইনের সেই ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়। এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন বেশি হই। আবার হঠাৎ কেউ জরিমানা দিতে রাজি না হলে তার গাড়ি আটক রেখে থানায় অথবা ডাম্পিংয়ে দেওয়া হয়। কাগজপত্র ঠিক করে এনে মালিক গাড়ি নিয়ে যান। এ ছাড়া আমরা টিমওয়ার্ক কাজ করি। ইন্টারসেকশনে সার্জেন্ট হিসাবে আমি কাজ করছি। সেখানে কোথাও ৪টি রাস্তা অথবা ৫টি রাস্তা রয়েছে। রাস্তার সংখ্যা অনুযায়ী আমার সঙ্গে ৫ জন বা ৬ জন কনস্টেবল থাকেন। রাস্তার সংখ্যা থেকে ডিউটিতে একজন কনস্টেবল বেশি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিটি ইন্টারসেকশনে নিজস্ব ওয়াশরুম না থাকায় নারী পুলিশ সার্জেন্টদের ওয়াশরুমের সমস্যাটা রয়েই গেছে। পান্না আক্তারের মতে, লেডি সার্জেন্টদের ডিউটি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র স্যাররা খেয়াল রাখেন যাতে ইন্টারসেকশনের আশপাশে সরকারি স্থাপনা থাকে। যাতে আমরা সেখানকার ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারি। এলাকা ঘুরে ডিউটি করার সময় নিজেদের সুবিধামতো আশপাশের ওয়াশরুম ব্যবহার করি। আমাদের প্রতিটি ইন্টারসেকশনে যদি নিজস্ব ওয়াশরুম থাকত তাহলে খুব সুবিধা হতো। রাস্তায় ডিউটি করা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। স্বামী, বাবা-মা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় সহজভাবে নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারছি। হঠাৎ কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলেও তা উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

সার্জেন্ট পান্না আক্তারের জন্ম নেত্রকোনার আটপাড়া থানার খিলা গ্রামে। বাবা খোরশেদ ফকির পেশায় কৃষিকাজ করতেন। মা কুলসোমা আক্তার গৃহিণী। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে পান্না পঞ্চম। ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৫ সালের ৩১ মে দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের প্রথম ব্যাচে সার্জেন্ট হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন