প্রথম নারী সার্জেন্ট মেমীর কথা
jugantor
প্রথম নারী সার্জেন্ট মেমীর কথা
দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের একজন হাফসানা মেমী । লিখেছেন-

  আকতার ফারুক শাহিন  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুপুর ১২টা। রোদের তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছিল তার মাথার ওপর। ঘেমে নেয়ে একাকার কর্মরত নারী সার্জেন্টটির অবশ্য সেদিকে খুব একটা খেয়াল নেই। তিনি ব্যস্ত সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায়। গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা আর সড়কে বেঁধে যাওয়া রিকশা গাড়ির জট ছাড়াচ্ছেন। তিনি হাফসানা মেমী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ছিলেন বরিশাল বিভাগের প্রথম ও একমাত্র নারী সার্জেন্ট। কাজ করছেন বরিশাল নগরীতে।

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম জেলখানার মোড় এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় হাফসানা মেমী বলেন, নারী ট্রাফিক সার্জেন্টদের নিয়ে যদি কখনো ইতিহাস লেখা হয় তাহলে সেখানে অবশ্যই থাকবে আমার নাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি কথা বলছিলেন। মাঝে মধ্যে ছুটে যাচ্ছিলেন রাস্তায়। বেঁধে যাওয়া যানবাহনের জট ছাড়িয়ে আবার ফিরছিলেন কথায়। ২০১৫ সালে যখন প্রথম দেশে নারী সার্জেন্ট নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয় পুলিশ বিভাগ তখনই চাকরির জন্য আবেদন করেন ঝালকাঠী জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার মেয়ে মেমী। সমাজকর্ম বিষয়ে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি নেয়া মেমী তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাস্টার্সে ভর্তির।

এত চাকরি থাকতে পুলিশে পথে ঘাটে ট্রাফিক সার্জেন্টের দায়িত্ব পালনে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তখন চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল আমার কাছে। আর ছোটবেলা থেকেই জীবনে চ্যালেঞ্জিং কিছু একটা করার টার্গেট ছিল আমার। সেই চ্যালেঞ্জটা জয় করার জন্যই আসলে পুলিশে আসা। তা ছাড়া দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের একজন হিসাবে কাজ করা মানে ইতিহাসের অংশ হওয়া, এরকম একটি রোমাঞ্চকর অনুভূতিও কাজ করেছে মনের ভেতর।

২০১৫ সালের ৩১ মে দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের প্রথম ব্যাচে আরও ২৮ জনের সঙ্গে চাকরিতে যোগ দেন মেমী। রাজশাহীর সারদায় ৬ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসাবে পোস্টিং পান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে।

স্মৃতিচারণে হাফসানা মেমী জানান, ওই বছরের ১২ জানুয়ারি তার প্রথম ডিউটি পড়ে খুলনা নগরীর জোড়া গেট ট্রাফিক অফিসের সামনের সড়কে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যখন ডিউটি করছিলেন তখন সবাই কেমন অদ্ভুতভাবে তাকাচ্ছিল তার দিকে। কোনো গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দিলে চালকরা প্রথমে বুঝতেই পারত না। আবার বুঝে গাড়ি থামালেও প্রথমেই জিজ্ঞেস করত অফিসার কোথায়? তিনিই যে অফিসার সেটা বুঝতে কষ্ট হতো সবার।

তিনি আরও বলেন, এরপর খুলনা থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ হয়ে এখন কাজ করছি বরিশাল নগরীতে। এরইমধ্যে প্রথম ব্যাচের ২৯ জনের পর আরও এক ব্যাচ মিলিয়ে বর্তমানে সারা দেশে কাজ করছে ৫৮ জন নারী সার্জেন্ট। প্রথম প্রথম জটিলতা হলেও যানবাহন চালকেরা এখন নারী সার্জেন্ট আর তাদের ডিউটি পালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ব্যস্ত সড়কে ডিউটি পালনেও খুব একটা অসুবিধা হয় না।

হাফসানা মেমী বলেন, আমরা যারা নারী সার্জেন্ট হিসাবে কাজ করি তাদের ব্যাপারে সবসময়ই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখান আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় বেয়ারা চরিত্রের লোকজনকে ট্যাকেল করতে হয় আমাদের। কোনো কোনো যানবাহন চালকের ভূমিকা হয়ে ওঠে মারমুখী। বিশেষ করে সমাজের একটু প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাবানরা চেষ্টা করেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সবকিছু নিজেদের মতো করে চালাতে। এ রকম ক্ষেত্রে একদিকে যেমন আমরা শক্ত ভূমিকা নেই তেমনি শক্ত অবস্থান নিতে গিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিলে আমাদের সিনিয়ররাও পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেন পাশাপাশি সাহস জোগান।

ব্যক্তি জীবনে বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। দেড় বছরের একটু বেশি মেয়ে মাহিরা নিধি। স্বামী শহিদুল ইসলামও চাকরি করেন পুলিশ বিভাগে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক পদে আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ি বরগুনা জেলার সদর উপজেলায়।

চাকরি-সংসার দুটোই সমানভাবে চালালেও হাফসানা মেমীর একটাই কষ্ট ডিউটি করার সময়ে মেয়ে অনেকটাই অভুক্ত থাকে। তিনি বলেন, আমার বাচ্চাটি এখনো বুকের দুধ খায়। কিন্তু বরিশাল নগরীতে যে ৬টি ট্রাফিক বক্স আছে তার কোনোটিতেই ব্রেস্ট ফিডিং-এর কোনো কক্ষ বা আলাদা ব্যবস্থা নেই। থাকলে হয়তো আমার স্বামী কিংবা গৃহকর্মী বাচ্চাটাকে আমার কাছে নিয়ে এসে খাইয়ে নিয়ে যেতে পারত। এ ছাড়া বরিশাল নগরে ১২-১৫টি ট্রাফিক ডিউটি পয়েন্ট থাকলেও ট্রাফিক বক্স রয়েছে মাত্র ৬টি। এরমধ্যে আবার ২টিতে কোনো ওয়াশরুম নেই। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকায় নারী হিসাবে বিপাকে পড়তে হয়।

নিজের ডিপার্টমেন্টের কিছু সমস্যার কথাও জানালেন মেমী। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল খুব কম। তা ছাড়া যানবাহনের অতিরিক্ত গতি পরিমাণের স্পিডোমিটার এবং ওজন স্কেলসহ অনেক লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব রয়েছে আমাদের। বরিশালে একটিমাত্র রেকার থাকলেও সেটি অনেক সময় বিকল থাকে। ফলে নানারকম জটিলতায় পড়তে হয় আমাদের। এসব সমস্যার সমাধান হলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও অনেক সুবিধা হতো। সারা দেশে নারী সার্জেন্টের সংখ্যা ৫৮ জন। বরিশালে মাত্র ২ জন আছি আমরা। তারমধ্যে একজন কাজ করেন অফিসে। আমি মনে করি গত ৬ বছর কাজের ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা আর যোগ্যতার বিষয়টি প্রমাণ করেছে দেশের নারী সার্জেন্টরা। এরকম একটি অবস্থায় দেশে যদি আরও নারী সার্জেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে এই যে একটা মেট্রোপলিটন সিটিতে রাজপথের দায়িত্ব পালনে আমি যে একটা কাজ করছি এটা আর থাকত না। এখন অনেকটাই একাকিত্ব অনুভব করি। এ শহরে যদি আরও ২-৩ জন নারী সার্জেন্ট থাকত তাহলে কাজের ক্ষেত্রে আরও সহজ একটা পরিবেশ হতো আমাদের। শেয়ারনেসের বিষয়টিও থাকত। নারী হিসাবে আমি তো সবকিছু সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পারি না। আশা করব সরকার এবং আমার ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি সংখ্যক নারী সার্জেন্ট নিয়োগ দিয়ে মেয়েদের এ চ্যালেঞ্জিং পেশায় আরও বেশি বেশি করে আসার সুযোগ দেবে।’

প্রথম নারী সার্জেন্ট মেমীর কথা

দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের একজন হাফসানা মেমী । লিখেছেন-
 আকতার ফারুক শাহিন 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুপুর ১২টা। রোদের তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছিল তার মাথার ওপর। ঘেমে নেয়ে একাকার কর্মরত নারী সার্জেন্টটির অবশ্য সেদিকে খুব একটা খেয়াল নেই। তিনি ব্যস্ত সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায়। গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা আর সড়কে বেঁধে যাওয়া রিকশা গাড়ির জট ছাড়াচ্ছেন। তিনি হাফসানা মেমী। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ছিলেন বরিশাল বিভাগের প্রথম ও একমাত্র নারী সার্জেন্ট। কাজ করছেন বরিশাল নগরীতে।

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম জেলখানার মোড় এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় হাফসানা মেমী বলেন, নারী ট্রাফিক সার্জেন্টদের নিয়ে যদি কখনো ইতিহাস লেখা হয় তাহলে সেখানে অবশ্যই থাকবে আমার নাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি কথা বলছিলেন। মাঝে মধ্যে ছুটে যাচ্ছিলেন রাস্তায়। বেঁধে যাওয়া যানবাহনের জট ছাড়িয়ে আবার ফিরছিলেন কথায়। ২০১৫ সালে যখন প্রথম দেশে নারী সার্জেন্ট নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয় পুলিশ বিভাগ তখনই চাকরির জন্য আবেদন করেন ঝালকাঠী জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার মেয়ে মেমী। সমাজকর্ম বিষয়ে সদ্য স্নাতক ডিগ্রি নেয়া মেমী তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাস্টার্সে ভর্তির।

এত চাকরি থাকতে পুলিশে পথে ঘাটে ট্রাফিক সার্জেন্টের দায়িত্ব পালনে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তখন চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল আমার কাছে। আর ছোটবেলা থেকেই জীবনে চ্যালেঞ্জিং কিছু একটা করার টার্গেট ছিল আমার। সেই চ্যালেঞ্জটা জয় করার জন্যই আসলে পুলিশে আসা। তা ছাড়া দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের একজন হিসাবে কাজ করা মানে ইতিহাসের অংশ হওয়া, এরকম একটি রোমাঞ্চকর অনুভূতিও কাজ করেছে মনের ভেতর।

২০১৫ সালের ৩১ মে দেশের প্রথম নারী সার্জেন্টদের প্রথম ব্যাচে আরও ২৮ জনের সঙ্গে চাকরিতে যোগ দেন মেমী। রাজশাহীর সারদায় ৬ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসাবে পোস্টিং পান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে।

স্মৃতিচারণে হাফসানা মেমী জানান, ওই বছরের ১২ জানুয়ারি তার প্রথম ডিউটি পড়ে খুলনা নগরীর জোড়া গেট ট্রাফিক অফিসের সামনের সড়কে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যখন ডিউটি করছিলেন তখন সবাই কেমন অদ্ভুতভাবে তাকাচ্ছিল তার দিকে। কোনো গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দিলে চালকরা প্রথমে বুঝতেই পারত না। আবার বুঝে গাড়ি থামালেও প্রথমেই জিজ্ঞেস করত অফিসার কোথায়? তিনিই যে অফিসার সেটা বুঝতে কষ্ট হতো সবার।

তিনি আরও বলেন, এরপর খুলনা থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ হয়ে এখন কাজ করছি বরিশাল নগরীতে। এরইমধ্যে প্রথম ব্যাচের ২৯ জনের পর আরও এক ব্যাচ মিলিয়ে বর্তমানে সারা দেশে কাজ করছে ৫৮ জন নারী সার্জেন্ট। প্রথম প্রথম জটিলতা হলেও যানবাহন চালকেরা এখন নারী সার্জেন্ট আর তাদের ডিউটি পালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ব্যস্ত সড়কে ডিউটি পালনেও খুব একটা অসুবিধা হয় না।

হাফসানা মেমী বলেন, আমরা যারা নারী সার্জেন্ট হিসাবে কাজ করি তাদের ব্যাপারে সবসময়ই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখান আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় বেয়ারা চরিত্রের লোকজনকে ট্যাকেল করতে হয় আমাদের। কোনো কোনো যানবাহন চালকের ভূমিকা হয়ে ওঠে মারমুখী। বিশেষ করে সমাজের একটু প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাবানরা চেষ্টা করেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সবকিছু নিজেদের মতো করে চালাতে। এ রকম ক্ষেত্রে একদিকে যেমন আমরা শক্ত ভূমিকা নেই তেমনি শক্ত অবস্থান নিতে গিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিলে আমাদের সিনিয়ররাও পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেন পাশাপাশি সাহস জোগান।

ব্যক্তি জীবনে বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। দেড় বছরের একটু বেশি মেয়ে মাহিরা নিধি। স্বামী শহিদুল ইসলামও চাকরি করেন পুলিশ বিভাগে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক পদে আছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ি বরগুনা জেলার সদর উপজেলায়।

চাকরি-সংসার দুটোই সমানভাবে চালালেও হাফসানা মেমীর একটাই কষ্ট ডিউটি করার সময়ে মেয়ে অনেকটাই অভুক্ত থাকে। তিনি বলেন, আমার বাচ্চাটি এখনো বুকের দুধ খায়। কিন্তু বরিশাল নগরীতে যে ৬টি ট্রাফিক বক্স আছে তার কোনোটিতেই ব্রেস্ট ফিডিং-এর কোনো কক্ষ বা আলাদা ব্যবস্থা নেই। থাকলে হয়তো আমার স্বামী কিংবা গৃহকর্মী বাচ্চাটাকে আমার কাছে নিয়ে এসে খাইয়ে নিয়ে যেতে পারত। এ ছাড়া বরিশাল নগরে ১২-১৫টি ট্রাফিক ডিউটি পয়েন্ট থাকলেও ট্রাফিক বক্স রয়েছে মাত্র ৬টি। এরমধ্যে আবার ২টিতে কোনো ওয়াশরুম নেই। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকায় নারী হিসাবে বিপাকে পড়তে হয়।

নিজের ডিপার্টমেন্টের কিছু সমস্যার কথাও জানালেন মেমী। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল খুব কম। তা ছাড়া যানবাহনের অতিরিক্ত গতি পরিমাণের স্পিডোমিটার এবং ওজন স্কেলসহ অনেক লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব রয়েছে আমাদের। বরিশালে একটিমাত্র রেকার থাকলেও সেটি অনেক সময় বিকল থাকে। ফলে নানারকম জটিলতায় পড়তে হয় আমাদের। এসব সমস্যার সমাধান হলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও অনেক সুবিধা হতো। সারা দেশে নারী সার্জেন্টের সংখ্যা ৫৮ জন। বরিশালে মাত্র ২ জন আছি আমরা। তারমধ্যে একজন কাজ করেন অফিসে। আমি মনে করি গত ৬ বছর কাজের ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা আর যোগ্যতার বিষয়টি প্রমাণ করেছে দেশের নারী সার্জেন্টরা। এরকম একটি অবস্থায় দেশে যদি আরও নারী সার্জেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে এই যে একটা মেট্রোপলিটন সিটিতে রাজপথের দায়িত্ব পালনে আমি যে একটা কাজ করছি এটা আর থাকত না। এখন অনেকটাই একাকিত্ব অনুভব করি। এ শহরে যদি আরও ২-৩ জন নারী সার্জেন্ট থাকত তাহলে কাজের ক্ষেত্রে আরও সহজ একটা পরিবেশ হতো আমাদের। শেয়ারনেসের বিষয়টিও থাকত। নারী হিসাবে আমি তো সবকিছু সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পারি না। আশা করব সরকার এবং আমার ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি সংখ্যক নারী সার্জেন্ট নিয়োগ দিয়ে মেয়েদের এ চ্যালেঞ্জিং পেশায় আরও বেশি বেশি করে আসার সুযোগ দেবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন