চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি : শামীমা
jugantor
চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি : শামীমা
সিএমপিতে যে দু’জন নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট কর্মরত আছেন তাদের একজন শামীমা আক্তার। করোনা পরবর্তী সময়ে দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্টেরই সড়কে দায়িত্ব পালন বন্ধ রয়েছে। তারা এখন অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন। লিখেছেন-

  আহমেদ মুসা  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছোটবেলা থেকেই শামীমা আক্তারের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তার। তিনি এখন ট্রাফিক সার্জেন্ট। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (দক্ষিণ) এ দায়িত্ব পালন করছেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোভিড ১৯-এর এ সময় পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্টের পাশাপাশি তিনিও রাস্তায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

করোনাকালে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীমা আক্তার বলেন, কোভিড ১৯-এর লকডাউনের সময় চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম ছিল। যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক ছিল। কাজের চাপ কম থাকায় মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। মানুষকে করোনা থেকে কীভাবে বাঁচানো যায়-এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করেছি। রাস্তায় লোকজনের মুখে মাস্ক না থাকলে, মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করেছি। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাইরে ডিউটি করতাম। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন থাকতেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাস্তায় কারও তীর্যক দৃষ্টি আবার কারও কারও অবাক দৃষ্টির মুখোমুখি হয়েছি। সবকিছুকেই মানিয়ে নিয়েছিলাম। পুরুষের পাশপাশি নারীরাও যে সবকিছু করতে পারে তা আমরা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, সিএমপিতে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নারী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়। কোভিড ১৯-এর এ সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত নারী ট্রাফিক সার্জেন্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ার মেয়ে শামীমা আক্তার। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসাবে যোগদান করেন।

শামীমা আক্তারের মতে, প্রতিটি পেশাতেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে নারী ট্রাফিক পুলিশদের চ্যালেঞ্জটি একটু অন্যরকম। রাতেও আমরা ডিউটি করি। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারী পুলিশরা কর্মক্ষেত্রেও সফল। তবে নারী পুলিশদের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই চলছে। সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ পুলিশকে যেভাবে নিচ্ছেন, একজন নারী পুলিশকে সেভাবে নেন না। কারণ সিনিয়র স্যাররা সব সময় সহযোগিতা করেন। ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে যত মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি হয় এসব কাজ করে থাকি। গাড়ির মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি করাতে এ সমাজে সব ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। অনেকে আছেন যারা একেবারে গরিব তারা মামলাসংক্রান্ত সরকারি ফি বা জরিমানা দিতে কষ্টবোধ করেন। আবার অনেকে নানা কথা বলেন। তারপরও সরকারি কাজ নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করি। আবার অনেকে নারী বলে সম্মানও বেশি করেন। তবে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না আমাকে। এক কথায় বলতে গেলে মামলা দায়ের থেকে মামলা নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যত ধরনের কাগজ প্রস্তুত করা প্রয়োজন হয় সব কাজই করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আবার গুটিকয়েক লোকজন নারী সার্জেন্ট হওয়াকে একটু অন্যভাবে দেখে। এ ধরনের মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য। অনেকে নানাভাবে কম্প্রমাইজ করার চেষ্টা করেন। মামলা নিষ্পত্তিতে যার ১৫ হাজার টাকা সরকারি জরিমানা তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে চায়। কিন্ত আমরা আইনের বাইরে যেতে পারি না। আমাদের সবকিছু আইনের মধ্যে থেকে করতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই নারী পুলিশরা এগিয়ে যাচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব পালন করছি : শামীমা

সিএমপিতে যে দু’জন নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট কর্মরত আছেন তাদের একজন শামীমা আক্তার। করোনা পরবর্তী সময়ে দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্টেরই সড়কে দায়িত্ব পালন বন্ধ রয়েছে। তারা এখন অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন। লিখেছেন-
 আহমেদ মুসা 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছোটবেলা থেকেই শামীমা আক্তারের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তার। তিনি এখন ট্রাফিক সার্জেন্ট। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (দক্ষিণ) এ দায়িত্ব পালন করছেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোভিড ১৯-এর এ সময় পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্টের পাশাপাশি তিনিও রাস্তায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

করোনাকালে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীমা আক্তার বলেন, কোভিড ১৯-এর লকডাউনের সময় চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম ছিল। যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক ছিল। কাজের চাপ কম থাকায় মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। মানুষকে করোনা থেকে কীভাবে বাঁচানো যায়-এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করেছি। রাস্তায় লোকজনের মুখে মাস্ক না থাকলে, মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করেছি। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাইরে ডিউটি করতাম। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন থাকতেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাস্তায় কারও তীর্যক দৃষ্টি আবার কারও কারও অবাক দৃষ্টির মুখোমুখি হয়েছি। সবকিছুকেই মানিয়ে নিয়েছিলাম। পুরুষের পাশপাশি নারীরাও যে সবকিছু করতে পারে তা আমরা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, সিএমপিতে চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নারী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়। কোভিড ১৯-এর এ সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত নারী ট্রাফিক সার্জেন্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ার মেয়ে শামীমা আক্তার। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসাবে যোগদান করেন।

শামীমা আক্তারের মতে, প্রতিটি পেশাতেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে নারী ট্রাফিক পুলিশদের চ্যালেঞ্জটি একটু অন্যরকম। রাতেও আমরা ডিউটি করি। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নারী পুলিশরা কর্মক্ষেত্রেও সফল। তবে নারী পুলিশদের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই চলছে। সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ পুলিশকে যেভাবে নিচ্ছেন, একজন নারী পুলিশকে সেভাবে নেন না। কারণ সিনিয়র স্যাররা সব সময় সহযোগিতা করেন। ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে যত মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি হয় এসব কাজ করে থাকি। গাড়ির মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি করাতে এ সমাজে সব ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। অনেকে আছেন যারা একেবারে গরিব তারা মামলাসংক্রান্ত সরকারি ফি বা জরিমানা দিতে কষ্টবোধ করেন। আবার অনেকে নানা কথা বলেন। তারপরও সরকারি কাজ নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করি। আবার অনেকে নারী বলে সম্মানও বেশি করেন। তবে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না আমাকে। এক কথায় বলতে গেলে মামলা দায়ের থেকে মামলা নিষ্পত্তি করা পর্যন্ত যত ধরনের কাগজ প্রস্তুত করা প্রয়োজন হয় সব কাজই করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আবার গুটিকয়েক লোকজন নারী সার্জেন্ট হওয়াকে একটু অন্যভাবে দেখে। এ ধরনের মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য। অনেকে নানাভাবে কম্প্রমাইজ করার চেষ্টা করেন। মামলা নিষ্পত্তিতে যার ১৫ হাজার টাকা সরকারি জরিমানা তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে চায়। কিন্ত আমরা আইনের বাইরে যেতে পারি না। আমাদের সবকিছু আইনের মধ্যে থেকে করতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই নারী পুলিশরা এগিয়ে যাচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন