নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন ফাতেমা ও রেকসোনা
jugantor
নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন ফাতেমা ও রেকসোনা
রোদ-বৃষ্টি নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেন নারী সার্জেন্টরা। খুলনা নগরীর দুই নারী সার্জেন্টকে নিয়ে লিখেছেন-

  নূর ইসলাম রকি  

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সমস্যা কাটিয়ে উঠি : ফাতেমা আক্তার ডলি

খুলনার নারী সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার ডলি। বাড়ি বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার পশ্চিম রহমতপুরে। বাবা শহীদুল ইসলাম নড়াইল জেলায় পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। মূলত বাবার ইচ্ছা পূরণে ২০১৭ সালে তিনি নারী সার্জেন্ট হিসাবে যোগদান করেন। খুলনা নগরীর বয়রা মোড়ে ডিউটি দিচ্ছিলেন সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার ডলি। তার মতে, দিনে ৮ ঘণ্টা ডিউটি করি। দায়িত্ব পালনকালে কখনো কখনো বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় আমাকে। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হই। খুলনায় পাবলিক টয়লেট রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। সেগুলোর অবস্থা খুবই করুণ।

বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিই হয় ডিউটি স্থানের আশপাশের অফিসগুলোতে। নারী সার্জেন্টদের কথা বিবেচনা করে একটি ওয়াশরুমের সুব্যবস্থা করলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। ফাতেমা আক্তার ডলির স্বামীও একজন সার্জেন্ট। দেড় বছরের মেয়ে তাসনিম তারেক তোয়াকে নিয়ে তাদের সুখী পরিবার। তিনি মাগুরা পুলিশ লাইন হাইস্কুল থেকে এসএসসি, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বরিশাল বিএম কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন।

চাকরি-সংসার সামলানো প্রসঙ্গে ফাতেমা আক্তার ডলি বলেন, স্বামী সার্জেন্ট হওয়ায় আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। মা শাশুড়ি দু’জনেই আমার সন্তানকে বেড়ে তুলতে সহযোগিতা করেন। মা-শাশুড়ি-স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া চাকরি-সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনার করা সহজ হতো না।

টয়লেটের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার : রেকসোনা

খুলনা নগরীর বয়রা কলেজ মোড়ে পূর্ব পাশে ডিউটি দিচ্ছিলেন সার্জেন্ট রেকসোনা। মেধাবী এ নারী সার্জেন্টের প্রথম চাকরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে। এরপর পুলিশের এসআই পদে। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখতেন বিএসএস ক্যাডার হয়ে পুলিশে যোগ দেবেন। যার কারণে ডিউটির পর বাকি সময়টুকু লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করেন। এ মাসে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দেবেন। রেকসোনা মাগুরা জেলার রাঘরদাইড় গ্রামের মেয়ে। বাবা হাবিবুর রহমান পেশায় একজন কৃষক।

রাঘবদাইড় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। স্নাতক পড়ার সময়ই তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি হয়। কিন্তু তার মা আখলিমা বেগম চাইতেন মেয়ে পুলিশে চাকরি করবে। মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি পুলিশের চাকরিতে আসেন। ২০১৭ সালে নারী সার্জেন্ট হিসাবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে যোগ দেন। তার ইচ্ছা বিসিএস দিয়ে পুলিশের উচ্চপদে যোগদান করবেন। এ প্রসঙ্গে রেকসোনা বলেন, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও আমাকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য উৎসাহ দেন। বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি সার্জেন্টের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। ডিউটিরত অবস্থায় অনেক সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির স্বীকার হই। অনেকেই গাড়ির কাগজপত্র ঠিকমতো দেখাতে আগ্রহ দেখায় না। সে ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী মোবাইল টিম এবং ট্রাফিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেন। ঢাকায় মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। এমন ব্যবস্থা খুলনা করা গেলে নারী সার্জেন্টদের ওয়াশরুমের সমস্যা দূর হতো। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। টয়লেট সমস্যা খুলনায় প্রকট। খুলনায় নারী সার্জেন্টদের পেশাগত কাজে আরও গতি বাড়ানোর জন্য টয়লেটের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পারতপক্ষে একটি মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করা দরকার। এ প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি তাজুল ইসলাম বলেন, নারী সার্জেন্টদের টয়লেটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন ফাতেমা ও রেকসোনা

রোদ-বৃষ্টি নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেন নারী সার্জেন্টরা। খুলনা নগরীর দুই নারী সার্জেন্টকে নিয়ে লিখেছেন-
 নূর ইসলাম রকি 
০৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সমস্যা কাটিয়ে উঠি : ফাতেমা আক্তার ডলি

খুলনার নারী সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার ডলি। বাড়ি বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার পশ্চিম রহমতপুরে। বাবা শহীদুল ইসলাম নড়াইল জেলায় পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। মূলত বাবার ইচ্ছা পূরণে ২০১৭ সালে তিনি নারী সার্জেন্ট হিসাবে যোগদান করেন। খুলনা নগরীর বয়রা মোড়ে ডিউটি দিচ্ছিলেন সার্জেন্ট ফাতেমা আক্তার ডলি। তার মতে, দিনে ৮ ঘণ্টা ডিউটি করি। দায়িত্ব পালনকালে কখনো কখনো বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় আমাকে। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হই। খুলনায় পাবলিক টয়লেট রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। সেগুলোর অবস্থা খুবই করুণ।

বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিই হয় ডিউটি স্থানের আশপাশের অফিসগুলোতে। নারী সার্জেন্টদের কথা বিবেচনা করে একটি ওয়াশরুমের সুব্যবস্থা করলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। ফাতেমা আক্তার ডলির স্বামীও একজন সার্জেন্ট। দেড় বছরের মেয়ে তাসনিম তারেক তোয়াকে নিয়ে তাদের সুখী পরিবার। তিনি মাগুরা পুলিশ লাইন হাইস্কুল থেকে এসএসসি, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বরিশাল বিএম কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন।

চাকরি-সংসার সামলানো প্রসঙ্গে ফাতেমা আক্তার ডলি বলেন, স্বামী সার্জেন্ট হওয়ায় আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। মা শাশুড়ি দু’জনেই আমার সন্তানকে বেড়ে তুলতে সহযোগিতা করেন। মা-শাশুড়ি-স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া চাকরি-সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনার করা সহজ হতো না।

টয়লেটের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার : রেকসোনা

খুলনা নগরীর বয়রা কলেজ মোড়ে পূর্ব পাশে ডিউটি দিচ্ছিলেন সার্জেন্ট রেকসোনা। মেধাবী এ নারী সার্জেন্টের প্রথম চাকরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে। এরপর পুলিশের এসআই পদে। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখতেন বিএসএস ক্যাডার হয়ে পুলিশে যোগ দেবেন। যার কারণে ডিউটির পর বাকি সময়টুকু লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করেন। এ মাসে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দেবেন। রেকসোনা মাগুরা জেলার রাঘরদাইড় গ্রামের মেয়ে। বাবা হাবিবুর রহমান পেশায় একজন কৃষক।