হলুদের গহনায় জীবন বদলেছে সুমির
jugantor
হলুদের গহনায় জীবন বদলেছে সুমির
সুমি স্বপ্ন দেখেন, একদিন তিনি একজন বড় মাপের নারী উদ্যোক্তা হবেন

  রায়হান রাশেদ  

১১ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হলুদের গহনায় জীবন বদলেছে সুমির

রিবন, পাথর, চুমকি, পুঁতি দিয়ে প্রথমে কাপড়ের ফুল তৈরি করেন। আর এ ফুল দিয়ে হলুদের গহনা তৈরি করছিলেন সুমি আক্তার। কানের দুল, টিকলি, গলার নেকলেস, হাতের বালা ইত্যাদি।

সুমির মতে, একদিন সন্ধ্যায় ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে একজন নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, কাল বিকালের মধ্যে গহনা বানিয়ে দিতে হবে। না করতে পারলাম না। সারা রাত জেগে গহনা বানিয়ে দিলাম। যখন কাজের অর্ডার পাই খাওয়া-দাওয়ার সময় পাই না। কারণ সময়মতো কাজ করে গ্রাহকের কাছে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি গহনা তৈরি করেছি। এ রকম অনেক গল্পই জমা হয়েছে আমার ঝুড়িতে।

সুমি আক্তারের জন্ম নরসিংদী জেলার রায়পুরার গোবিন্দপুরে। ছোটবেলায় থাকতেন নানাবাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছলিমগঞ্জে। সেখানে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। ছলিমগঞ্জ গার্লসস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি পরীক্ষার পরই গোবিন্দপুরে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন নরসিংদী ভেলানগরের একটি ভাড়া বাড়িতে। স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে যান। নরসিংদী সরকারি কলেজে ভর্তি হন। এ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।

তার স্বামী মুহাম্মদ সুমনও একজন তরুণ উদ্যোক্তা। ফেলনা জিনিস দিয়ে নানা জাতের শো পিস, ব্যবহারিক সামগ্রী তৈরি করেন তিনি। ২০১৫ সাল। তার স্বামী মাথার রাউন বেনের ওপর বাহারি ডিজাইনের ফুল বসিয়ে বাজারজাত করতেন। সুমি রাউন বেনে ফুল বসানো, রেপিং ইত্যাদি কাজে স্বামীকে সাহায্য করেন। একদিন তার স্বামীকে এক দোকানি বললেন, ‘ভাইয়া, আপনি তো সুন্দর ফুল বানান, এ ফুলগুলো দিয়ে হলুদের গহনা বানিয়ে দেন।’ দোকানির প্রস্তাবটি তিনি স্ত্রীকে বলেন। সুমি স্বামীর কথাটাকে গুরুত্ব দিয়ে গহনা তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু স্বামী, সন্তান, সংসার সব সামলিয়ে গহনা তৈরির সময়টা বের করতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে ভেলানগরের এক ভদ্রমহিলা তাদের বাড়িতে এসে বললেন, ‘আমার বোনের গায়ে হলুদের গহনাটা আপনি বানাবেন? তার স্বামী না করলেন না বরং স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলেন। এর আগে ওরা কোনোদিন হলুদের গহনা বানাননি। কেবল নাটক-সিনেমায় দেখেছেন। সংসারের সব কাজ সেরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে রাতে গহনা তৈরির কাজ শুরু করেন। একটা ফুল তৈরি করেন, পছন্দ হলো না আরেকটি ফুল তৈরি করলেন। এভাবে নানা ডিজাইনের ফুল তৈরি করলেন। এভাবে অনেকটা সময় চলে গেল। কারণ তাদের ফুলের আকারের মাপ জানা নেই। এরপরও গলার হার, মাথার টিকলি, চেইন, চুড়ি ইত্যাদি কয়েক সেট বানিয়ে প্রথমে সুমি নিজে পরে দেখলেন। এরপর স্বামীকে দেখালেন। ছবি তুললেন। এভাবে রাত পেরিয়ে ভোর হলো। ভোরের আলোয় হেসে ওঠে হলুদের গহনা। গহনা পেয়ে ওই ভদ্রমহিলা ভীষণ খুশি হলেন। স্বেচ্ছায় তাকে ৮০০ টাকা দিলেন।

এ প্রসঙ্গে সুমি আক্তার বলেন, আমাদের তৈরি গহনা তার পছন্দ হওয়ায় সাহস পেলাম। স্বামীর অল্প বেতনের চাকরির পাশাপাশি এ টাকাটা বিরাট ব্যাপার। সেই থেকে শুরু। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আমাকে। তার মাধ্যমে আরও গ্রাহক পেলাম। স্বামী আমাকে এ কাজের দায়িত্ব দেন। আমি একাই কাজ করতে থাকি। এভাবে আমার পরিচিতি বাড়ে। পরিচিত গ্রাহক ছাড়িয়ে বাজারজাত করার জন্য মার্কেটে দেওয়ার কথা ভাবি। দোকানিরা আমার তৈরি গহনা বেশ পছন্দ করেন। নরসিংদী ছাড়িয়ে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লায় গহনা সরবরাহ করি। কুমিল্লার পাপ্পু ভাই আমাদের ফেসুবক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন। সেখানে গহনার বিজ্ঞাপন দিতে বলেন। ফেসবুকে লাইক পেজ খুলি। নাম দিই ‘কুটিবাড়ি’।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে প্রথম দিকে কোনো অর্ডার পাইনি। লাইক, কমেন্টস আসেনি। ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ভেঙে পড়ি। কিন্তু থেমে যাইনি। পুরো উদ্যমে কাজ চালিয়ে যাই। এখন তিন লাখের বেশি মানুষ ‘কুটিবাড়ি’ পেজকে ফলো করছে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম অনলাইনে গহনা বিক্রি শুরু করি। কুটিবাড়ি পেজ শুরুতে আমার স্বামী সুমন চালাতেন। বাসায় তখন একটি মাত্র স্মার্ট ফোন ছিল। সেটা থাকত স্বামীর হাতে। তারও কাজ আছে অনলাইনে। স্বামী অনলাইনে গহনার অর্ডার নিয়ে আমাকে ফোনে কাজ বুঝিয়ে দিতেন। ফোনে ফোনে চলত কাজের কথা। এভাবে কাজ এগোতে পারত না। গ্রাহকের সেবাও নিশ্চিত করা কষ্ট হয়ে পড়ত। এদিকে হাতে টাকাও নেই মোবাইল কেনার। পরে আমি টাকা জমিয়ে ফোন কিনি। এখন আমি সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলি। অর্ডার নিই। গহনা পাঠাই। এখন কাজের চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিনই অর্ডার আসে। নানা জায়গার অর্ডার নিয়ে গহনা বানিয়ে পাঠাই। এখন দিনে পাঁচটার বেশি অর্ডার নেই না। অবশ্য শুরুতে ১০-১২টাও অর্ডার নিতাম। কাজের পরিধি বাড়াতে ২০১৯ সালে তিনজন মেয়ে ও একজন ছেলেকে সহযোগী হিসাবে নিই। মেয়েরা আমার সঙ্গে কাজ করত। ছেলেটা গহনা ডেলিভারি দিত। করোনায় সব বদলে গেছে। কাজের গতি কমে যায়। ওদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। ভাবছি আবার ওদের ডাকব। আমি চাই নারীরা স্বাবলম্বী হোক। নিজের পায়ে দাঁড়াক। নিজে কিছু করুক। পরিবার তাকে বোঝা মনে না করুক।

নাটোর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার গহনার চাহিদা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুমি জানান, কল্পনাও করতে পারেননি তার গহনা এতদূর যাবে। মানুষ তার মতো এক গ্রামীণ মেয়ের হাতে বানানো গহনা পরবে। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় এতদূর এসেছেন। এ পেশায় অন্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান। এখন তার সংসারে সুদিন ফিরেছে। কষ্ট দূর হয়েছে। ছেলেমেয়েরা ভালো স্কুলে পড়ে। শহরের অভিজাত এলাকায় থাকেন। ভালো খায়। ভালো পরে। সেসঙ্গে সুমি স্বপ্ন দেখেন, একদিন তিনি একজন বড় মাপের নারী উদ্যোক্তা হবেন। তার কাজের মূল্যায়ন হবে।

হলুদের গহনায় জীবন বদলেছে সুমির

সুমি স্বপ্ন দেখেন, একদিন তিনি একজন বড় মাপের নারী উদ্যোক্তা হবেন
 রায়হান রাশেদ 
১১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
হলুদের গহনায় জীবন বদলেছে সুমির
ছবি: যুগান্তর

রিবন, পাথর, চুমকি, পুঁতি দিয়ে প্রথমে কাপড়ের ফুল তৈরি করেন। আর এ ফুল দিয়ে হলুদের গহনা তৈরি করছিলেন সুমি আক্তার। কানের দুল, টিকলি, গলার নেকলেস, হাতের বালা ইত্যাদি।

সুমির মতে, একদিন সন্ধ্যায় ফোনটা বেজে উঠল। ওপাশ থেকে একজন নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, কাল বিকালের মধ্যে গহনা বানিয়ে দিতে হবে। না করতে পারলাম না। সারা রাত জেগে গহনা বানিয়ে দিলাম। যখন কাজের অর্ডার পাই খাওয়া-দাওয়ার সময় পাই না। কারণ সময়মতো কাজ করে গ্রাহকের কাছে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি গহনা তৈরি করেছি। এ রকম অনেক গল্পই জমা হয়েছে আমার ঝুড়িতে।

সুমি আক্তারের জন্ম নরসিংদী জেলার রায়পুরার গোবিন্দপুরে। ছোটবেলায় থাকতেন নানাবাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছলিমগঞ্জে। সেখানে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। ছলিমগঞ্জ গার্লসস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি পরীক্ষার পরই গোবিন্দপুরে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন নরসিংদী ভেলানগরের একটি ভাড়া বাড়িতে। স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে যান। নরসিংদী সরকারি কলেজে ভর্তি হন। এ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।

তার স্বামী মুহাম্মদ সুমনও একজন তরুণ উদ্যোক্তা। ফেলনা জিনিস দিয়ে নানা জাতের শো পিস, ব্যবহারিক সামগ্রী তৈরি করেন তিনি। ২০১৫ সাল। তার স্বামী মাথার রাউন বেনের ওপর বাহারি ডিজাইনের ফুল বসিয়ে বাজারজাত করতেন। সুমি রাউন বেনে ফুল বসানো, রেপিং ইত্যাদি কাজে স্বামীকে সাহায্য করেন। একদিন তার স্বামীকে এক দোকানি বললেন, ‘ভাইয়া, আপনি তো সুন্দর ফুল বানান, এ ফুলগুলো দিয়ে হলুদের গহনা বানিয়ে দেন।’ দোকানির প্রস্তাবটি তিনি স্ত্রীকে বলেন। সুমি স্বামীর কথাটাকে গুরুত্ব দিয়ে গহনা তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু স্বামী, সন্তান, সংসার সব সামলিয়ে গহনা তৈরির সময়টা বের করতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে ভেলানগরের এক ভদ্রমহিলা তাদের বাড়িতে এসে বললেন, ‘আমার বোনের গায়ে হলুদের গহনাটা আপনি বানাবেন? তার স্বামী না করলেন না বরং স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলেন। এর আগে ওরা কোনোদিন হলুদের গহনা বানাননি। কেবল নাটক-সিনেমায় দেখেছেন। সংসারের সব কাজ সেরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে রাতে গহনা তৈরির কাজ শুরু করেন। একটা ফুল তৈরি করেন, পছন্দ হলো না আরেকটি ফুল তৈরি করলেন। এভাবে নানা ডিজাইনের ফুল তৈরি করলেন। এভাবে অনেকটা সময় চলে গেল। কারণ তাদের ফুলের আকারের মাপ জানা নেই। এরপরও গলার হার, মাথার টিকলি, চেইন, চুড়ি ইত্যাদি কয়েক সেট বানিয়ে প্রথমে সুমি নিজে পরে দেখলেন। এরপর স্বামীকে দেখালেন। ছবি তুললেন। এভাবে রাত পেরিয়ে ভোর হলো। ভোরের আলোয় হেসে ওঠে হলুদের গহনা। গহনা পেয়ে ওই ভদ্রমহিলা ভীষণ খুশি হলেন। স্বেচ্ছায় তাকে ৮০০ টাকা দিলেন।

এ প্রসঙ্গে সুমি আক্তার বলেন, আমাদের তৈরি গহনা তার পছন্দ হওয়ায় সাহস পেলাম। স্বামীর অল্প বেতনের চাকরির পাশাপাশি এ টাকাটা বিরাট ব্যাপার। সেই থেকে শুরু। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আমাকে। তার মাধ্যমে আরও গ্রাহক পেলাম। স্বামী আমাকে এ কাজের দায়িত্ব দেন। আমি একাই কাজ করতে থাকি। এভাবে আমার পরিচিতি বাড়ে। পরিচিত গ্রাহক ছাড়িয়ে বাজারজাত করার জন্য মার্কেটে দেওয়ার কথা ভাবি। দোকানিরা আমার তৈরি গহনা বেশ পছন্দ করেন। নরসিংদী ছাড়িয়ে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লায় গহনা সরবরাহ করি। কুমিল্লার পাপ্পু ভাই আমাদের ফেসুবক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেন। সেখানে গহনার বিজ্ঞাপন দিতে বলেন। ফেসবুকে লাইক পেজ খুলি। নাম দিই ‘কুটিবাড়ি’।

তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে প্রথম দিকে কোনো অর্ডার পাইনি। লাইক, কমেন্টস আসেনি। ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ভেঙে পড়ি। কিন্তু থেমে যাইনি। পুরো উদ্যমে কাজ চালিয়ে যাই। এখন তিন লাখের বেশি মানুষ ‘কুটিবাড়ি’ পেজকে ফলো করছে। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম অনলাইনে গহনা বিক্রি শুরু করি। কুটিবাড়ি পেজ শুরুতে আমার স্বামী সুমন চালাতেন। বাসায় তখন একটি মাত্র স্মার্ট ফোন ছিল। সেটা থাকত স্বামীর হাতে। তারও কাজ আছে অনলাইনে। স্বামী অনলাইনে গহনার অর্ডার নিয়ে আমাকে ফোনে কাজ বুঝিয়ে দিতেন। ফোনে ফোনে চলত কাজের কথা। এভাবে কাজ এগোতে পারত না। গ্রাহকের সেবাও নিশ্চিত করা কষ্ট হয়ে পড়ত। এদিকে হাতে টাকাও নেই মোবাইল কেনার। পরে আমি টাকা জমিয়ে ফোন কিনি। এখন আমি সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলি। অর্ডার নিই। গহনা পাঠাই। এখন কাজের চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিনই অর্ডার আসে। নানা জায়গার অর্ডার নিয়ে গহনা বানিয়ে পাঠাই। এখন দিনে পাঁচটার বেশি অর্ডার নেই না। অবশ্য শুরুতে ১০-১২টাও অর্ডার নিতাম। কাজের পরিধি বাড়াতে ২০১৯ সালে তিনজন মেয়ে ও একজন ছেলেকে সহযোগী হিসাবে নিই। মেয়েরা আমার সঙ্গে কাজ করত। ছেলেটা গহনা ডেলিভারি দিত। করোনায় সব বদলে গেছে। কাজের গতি কমে যায়। ওদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। ভাবছি আবার ওদের ডাকব। আমি চাই নারীরা স্বাবলম্বী হোক। নিজের পায়ে দাঁড়াক। নিজে কিছু করুক। পরিবার তাকে বোঝা মনে না করুক।

নাটোর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার গহনার চাহিদা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুমি জানান, কল্পনাও করতে পারেননি তার গহনা এতদূর যাবে। মানুষ তার মতো এক গ্রামীণ মেয়ের হাতে বানানো গহনা পরবে। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় এতদূর এসেছেন। এ পেশায় অন্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান। এখন তার সংসারে সুদিন ফিরেছে। কষ্ট দূর হয়েছে। ছেলেমেয়েরা ভালো স্কুলে পড়ে। শহরের অভিজাত এলাকায় থাকেন। ভালো খায়। ভালো পরে। সেসঙ্গে সুমি স্বপ্ন দেখেন, একদিন তিনি একজন বড় মাপের নারী উদ্যোক্তা হবেন। তার কাজের মূল্যায়ন হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন