লোকজ ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য তাদের ভাগ্য বদলেছে
jugantor
লোকজ ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য তাদের ভাগ্য বদলেছে
বাঁশ দিয়ে কুলা, খাঁচা, পাতি ইত্যাদি পণ্য তৈরি করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন সোনারগাঁয়ের গুলনগরের নারীরা। লিখেছেন-

  হাসান মাহমুদ রিপন  

১১ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লোকজ ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য তাদের ভাগ্য বদলেছে

উঠোনে বাঁশ দিয়ে পাইছা, পাতি, কুলা, খাঁচা, বড় টুকরি, ছোট টুকরি ইত্যাদি পণ্য তৈরি করছিলেন রোকেয়া বেগম।

সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসব পণ্য তৈরি করে স্বামীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গুলনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৫৪) বলেন, স্বামী আসন আলীর হাত ধরে এ পেশায় আসি। আর পেছন ফিরে তাকাইনি। স্বামী মুক্তিযুদ্ধের আগে এ গ্রামে প্রথম বাঁশের পণ্য তৈরি শুরু করেন। একটানা ৩৭ বছর তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে এ পণ্য তৈরি করতাম। আমাদের দেখে এ গ্রামের অনেক মানুষ এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। সংসারের পুরো ভার আমার উপর এসে পড়েছে। একা হাতেই পণ্য তৈরি করি এখন। বাঁশের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য বিক্রি করলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হাতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বাঁশ দিয়ে পাইছা, পাতি, কুলা, খাঁচা, বড় টুকরি, ছোট টুকরি, মুরগির খাঁচা, মাছ রাখার খাঁচি, চালনি, বুকসেলফ, কলমদানি, ফুলদানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই গ্রামের শতকরা ৩০ ভাগ নারী। ওই গ্রামের ৩০ ভাগ নারী এ পেশায় জড়িত।

মনোয়ারা বেগমের মতে, নিজে বাঁশের হরেকরকম পণ্য তৈরির পাশাপাশি স্বামী-সন্তানদেরও সহযোগিতা করি। আমাদের পণ্য কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার মহাজনরা আসেন। এ গ্রামের নারী কারিগরদের কাছ থেকে বাঁশের তৈরি পণ্য কিনে নিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন।

মেহরুন নাহার জানান, এক সময়ে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। বাঁশ দিয়ে পণ্য তৈরি করে তা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। একজন নারী পরিশ্রম করলে যে কোনো পেশায় স্বাবলম্বী হওয়া যায় তা প্রমাণ মিলেছে।

মোমেনা আক্তার, সুরাইয়া, সুর্বনা, আনোয়ারা বেগমসহ গুলনগর গ্রামের একাধিক নারীর মতে, আমরা বাঁশের পাইছা, পাতি, খাঁচা, বড় টুকরি, মুরগির খাঁচা, মাছ রাখার খাঁচি, কুলা, চালনি, কলমদানি, ফুলদানি তৈরি করি। এসব পণ্য তৈরি করে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। বংশ পরম্পরায় আমরা এ কাজ করছি। এ কাজ শিখতে লেখাপড়া জানতে হয় না। আমরা তেমন লেখাপড়া না জানলেও ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাই।

বাঁশের বিভিন্ন পণ্যের কারিগর গুলনগর গ্রামের জমিলা খাতুন জানান, এ পণ্য তৈরি করে একজন দক্ষ নারী কারিগর মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। নারী কারিগররা সবাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, বাঁশের পণ্য গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য। গুলনগর গ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ পেশায় যুক্ত। এ পেশায় এসে অনেকেরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ছেলেমেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বেশ ভালো আছেন।

লোকজ ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য তাদের ভাগ্য বদলেছে

বাঁশ দিয়ে কুলা, খাঁচা, পাতি ইত্যাদি পণ্য তৈরি করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন সোনারগাঁয়ের গুলনগরের নারীরা। লিখেছেন-
 হাসান মাহমুদ রিপন 
১১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লোকজ ঐতিহ্য বাঁশের তৈরি পণ্য তাদের ভাগ্য বদলেছে
ছবি: যুগান্তর

উঠোনে বাঁশ দিয়ে পাইছা, পাতি, কুলা, খাঁচা, বড় টুকরি, ছোট টুকরি ইত্যাদি পণ্য তৈরি করছিলেন রোকেয়া বেগম।

সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসব পণ্য তৈরি করে স্বামীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গুলনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৫৪) বলেন, স্বামী আসন আলীর হাত ধরে এ পেশায় আসি। আর পেছন ফিরে তাকাইনি। স্বামী মুক্তিযুদ্ধের আগে এ গ্রামে প্রথম বাঁশের পণ্য তৈরি শুরু করেন। একটানা ৩৭ বছর তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে এ পণ্য তৈরি করতাম। আমাদের দেখে এ গ্রামের অনেক মানুষ এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। সংসারের পুরো ভার আমার উপর এসে পড়েছে। একা হাতেই পণ্য তৈরি করি এখন। বাঁশের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য বিক্রি করলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হাতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বাঁশ দিয়ে পাইছা, পাতি, কুলা, খাঁচা, বড় টুকরি, ছোট টুকরি, মুরগির খাঁচা, মাছ রাখার খাঁচি, চালনি, বুকসেলফ, কলমদানি, ফুলদানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই গ্রামের শতকরা ৩০ ভাগ নারী। ওই গ্রামের ৩০ ভাগ নারী এ পেশায় জড়িত।

মনোয়ারা বেগমের মতে, নিজে বাঁশের হরেকরকম পণ্য তৈরির পাশাপাশি স্বামী-সন্তানদেরও সহযোগিতা করি। আমাদের পণ্য কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার মহাজনরা আসেন। এ গ্রামের নারী কারিগরদের কাছ থেকে বাঁশের তৈরি পণ্য কিনে নিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন।

মেহরুন নাহার জানান, এক সময়ে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। বাঁশ দিয়ে পণ্য তৈরি করে তা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। একজন নারী পরিশ্রম করলে যে কোনো পেশায় স্বাবলম্বী হওয়া যায় তা প্রমাণ মিলেছে।

মোমেনা আক্তার, সুরাইয়া, সুর্বনা, আনোয়ারা বেগমসহ গুলনগর গ্রামের একাধিক নারীর মতে, আমরা বাঁশের পাইছা, পাতি, খাঁচা, বড় টুকরি, মুরগির খাঁচা, মাছ রাখার খাঁচি, কুলা, চালনি, কলমদানি, ফুলদানি তৈরি করি। এসব পণ্য তৈরি করে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। বংশ পরম্পরায় আমরা এ কাজ করছি। এ কাজ শিখতে লেখাপড়া জানতে হয় না। আমরা তেমন লেখাপড়া না জানলেও ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাই।

বাঁশের বিভিন্ন পণ্যের কারিগর গুলনগর গ্রামের জমিলা খাতুন জানান, এ পণ্য তৈরি করে একজন দক্ষ নারী কারিগর মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। নারী কারিগররা সবাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, বাঁশের পণ্য গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য। গুলনগর গ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ পেশায় যুক্ত। এ পেশায় এসে অনেকেরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ছেলেমেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বেশ ভালো আছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন