টেপরি রানীর দুঃখের দিনগুলো
jugantor
টেপরি রানীর দুঃখের দিনগুলো
একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা দিনের পর দিন শুধু ধর্ষণই হননি ঠাকুরগাঁওয়ের টেপরী রানী। তিনি জেনোসাইডাল রেপড-এরও শিকার হয়েছিলেন। লিখেছেন-

  এটিএম সামসুজ্জোহা  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেপরী রানী। জন্ম ১৯৫৫ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী নন্দুয়া ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে।

বাবা মুদিরাম বর্মণ ও মা ফুলো বালা। দুই বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। দিনমজুর বাবা মেয়ের বিয়ে দেন একই উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বাঁশরাইল গ্রামের শ্রী বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাংয়ের সঙ্গে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা বাবার বাড়ি থেকে টেপরি রানীকে তুলে নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে টেপরি রানী জানায়, চৈত্র-বৈশাখ মাস হবে। পাট খেতে কাজ করছিলেন ওর স্বামী। বাবাও বাড়িতে নেই। ভাইবোনদের নিয়ে বাড়িতে ছিলেন তিনি। এমন সময় পাকিস্তানি সেনারা ওদের বাড়িতে ঢুকে ওকে তুলে রানীশংকৈলের বন্দরে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ওর ওপর কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা পাশবিক নির্যাতন চালায়। দুই-তিন দিন পর গরুর গাড়িতে করে ওরা ওকে বাড়িতে দিয়ে যায়। তার ওই দুঃসময়ে বাবা-মা ওকে ফেলে দেননি। বরং বুকে টেনে নেন। পাকিস্তানি সেনারা তাকে তুলে নেওয়ার সংবাদ পাওয়ার পরই ওর স্বামী ওকে ফেলে রেখে ভারতে চলে যান। ওর বাবা-মা বুঝতে পারেননি পাকিস্তানি সেনারা টেপরিকে আবার পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। দুই-তিন দিন পর পরই পাকিস্তানি সেনারা তাকে বাড়ি থেকে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে যেত। বাবা-মা, ভাইবোনদের জীবনের কথা ভেবে তিনি ওদের পাশবিক নির্যাতন মাসের পর মাস সহ্য করেন। এভাবে কয়েক মাস কেটে যায়। ভারত থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করলে পাকিস্তানি সেনারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাদের উচিত জবাব দিতে থাকেন। এর পর পাকিস্তানি সেনারা টেপরিকে আর ওদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়নি। কিন্তু ততদিনে তার গর্ভে পাকিস্তানি সেনাদের সন্তান এসেছে। পাড়া প্রতিবেশীরা টেপরির গর্ভের এ সন্তানকে নষ্ট করে ফেলতে বলে। কিন্তু টেপরির বাবা বলেছিলেন, ‘রেখে দেয়; তোর তো কেউ থাকবে না। এ সন্তানই তোকে দেখবে।’ বাবা বললেন তাই বলেই নয়, নিজের সন্তানকে কীভাবে নষ্ট করবেন। মা হয়ে পারেননি গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে। একাত্তরে টেপরির সম্ভ্রমের বিনিময়ে রক্ষা পেয়েছিল তার পরিবার। পাড়া প্রতিবেশীর জীবন। তাই তার পরিবার তাকে ফেলে দেয়নি। দেশ স্বাধীন হলো। ভারত থেকে ফিরে এলো তার স্বামী বৈশাকু ওরফে মাটাং। পাকিস্তানি সেনারা টেপরির সভ্রমহানি করেছে। তাই তাকে পরিত্যাগ করল তার স্বামী। ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ জন্ম হয় মামার বাড়িতে সুধীরের। ছেলের মুখ তাকিয়ে আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন টেপরি। তবে বেঁচে আছেন যেন পুরোনা স্মৃতি ভুলে। চোখ মুছে টেপরি রানী বলেন, কী হবে আগের কথা মনে রেখে! তারপরও ভোলা যায় কি একাত্তরের সেই দুঃসহ যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা। এখনো তাকে যেন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

তবে টেপরির স্বামী বৈশাকু ওরফে মাটাং নিরলা বালা নামে এক নারীকে নিয়ে সংসার শুরু করলেও টেপরির জীবনে আর ফুল ফোটেনি। বাবার ভিটেই আছেন তিনি যুদ্ধ শিশু সুধীর, ছেলের বউ ও দুই নাতনিকে নিয়ে। শরীর তেমন ভালো যাচ্ছে না । শরীরের বাসা বেঁধেছে নানা অসুখ।

হানাদার বাহিনীর এ রদশীয় রানীশংকৈল বন্দর এলাকার দোসর-রাজাকারদের কয়েকজন একটি খবর পৌঁছে দেয় গোগর, তালদিঘি, সোহেলগাজীসহ কয়েকটি ক্যাম্পে যে, বলিদ্বারা গ্রামের টেপরিসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে বেশ কয়েকজন অপরূপ সুন্দরী নারী বাস করে। তাতেই কপাল পোড়ে টেপরির। এলাকার কুখ্যাত রাজাকার মকবুল ও আদলু বিশ্বাস টেপরি তুলে দেয় রানীশংকৈল বন্দর পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে। এমন অভিযোগ জানান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে। তবে এ দু’জন রাজাকারের মধ্যে এখন একজনও বেঁচে নেই।

টেপরি রানীর স্বামী বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাংয়ের ক্ষোভ সে হামার সঙ্গে ভারতে গেলে বিষাদময় জীবন নেমে আসত না আমাদের। আর এ রকম বেদনাদায়ক গল্পও হতো ছন্দময় দুটি জীবনে। এখনো মনে পড়ে তার কথা, কিন্তু কী হবে পুরোনো কথা তুলে। আমার স্ত্রীর যারা সর্বনাশ করেছে তাদের কী বিচার হবে? এই বলে চোখ মুছেন তিনি।

টেপরি রানীসহ এ উপজেলায় ২০ নারী এলাকার ক্যাম্পে থাকা হানাদার বাহিনীর হাতে গণধর্ষণের শিকার হন। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে বুধি ও মালেকাসহ চারজন মারা গেছেন।

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যুদ্ধ শেষ হলেও টেপরির জীবনে শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। শ্বশুরবাড়িতে নষ্টা, ভ্রষ্টা, অসতী হিসাবে আখ্যায়িত হন টেপরি ।

টেপরি রানীকে বর্তমানে দেখাশোনা করেন তার গর্ভজাত যুদ্ধশিশু সুধীর। সুধীর জানান, দেশ স্বাধীন হলে আমার মা টেপরিকে তাড়িয়ে দেন পাকিস্তাানি আর্মির হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে। পরে মা ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষা করতে শুরু করেন। দিনমজুরের কাজও করেন। তার নাগরিকত্ব সনদপত্রে বাবার নাম বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাং লিখেন। তবে তিনি তো সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি দেন না। জন্ম যেন আমার আ-জন্ম পাপ। আজও জানলাম না কে আমার বাবা!

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁও জেলার ২১ নারীকে ২০১৫ সালে ‘বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে। তাদের প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করছে সরকার। তবে টেপরি রানীকে আধা পাকা একটি ঘর ও তার ছেলে সুধীরকে একটি অটোরিকশা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। টেপরি রানীর বাড়ি ঘুরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীসহ অনেকে। আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রবীণ সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারি গেজেটে তালিকভুক্ত হতে টেপরিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা ।

টেপরি রানীর দুঃখের দিনগুলো

একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা দিনের পর দিন শুধু ধর্ষণই হননি ঠাকুরগাঁওয়ের টেপরী রানী। তিনি জেনোসাইডাল রেপড-এরও শিকার হয়েছিলেন। লিখেছেন-
 এটিএম সামসুজ্জোহা 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেপরী রানী। জন্ম ১৯৫৫ সালে ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী নন্দুয়া ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে।

বাবা মুদিরাম বর্মণ ও মা ফুলো বালা। দুই বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। দিনমজুর বাবা মেয়ের বিয়ে দেন একই উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বাঁশরাইল গ্রামের শ্রী বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাংয়ের সঙ্গে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা বাবার বাড়ি থেকে টেপরি রানীকে তুলে নিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে টেপরি রানী জানায়, চৈত্র-বৈশাখ মাস হবে। পাট খেতে কাজ করছিলেন ওর স্বামী। বাবাও বাড়িতে নেই। ভাইবোনদের নিয়ে বাড়িতে ছিলেন তিনি। এমন সময় পাকিস্তানি সেনারা ওদের বাড়িতে ঢুকে ওকে তুলে রানীশংকৈলের বন্দরে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ওর ওপর কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা পাশবিক নির্যাতন চালায়। দুই-তিন দিন পর গরুর গাড়িতে করে ওরা ওকে বাড়িতে দিয়ে যায়। তার ওই দুঃসময়ে বাবা-মা ওকে ফেলে দেননি। বরং বুকে টেনে নেন। পাকিস্তানি সেনারা তাকে তুলে নেওয়ার সংবাদ পাওয়ার পরই ওর স্বামী ওকে ফেলে রেখে ভারতে চলে যান। ওর বাবা-মা বুঝতে পারেননি পাকিস্তানি সেনারা টেপরিকে আবার পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। দুই-তিন দিন পর পরই পাকিস্তানি সেনারা তাকে বাড়ি থেকে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে যেত। বাবা-মা, ভাইবোনদের জীবনের কথা ভেবে তিনি ওদের পাশবিক নির্যাতন মাসের পর মাস সহ্য করেন। এভাবে কয়েক মাস কেটে যায়। ভারত থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করলে পাকিস্তানি সেনারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাদের উচিত জবাব দিতে থাকেন। এর পর পাকিস্তানি সেনারা টেপরিকে আর ওদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়নি। কিন্তু ততদিনে তার গর্ভে পাকিস্তানি সেনাদের সন্তান এসেছে। পাড়া প্রতিবেশীরা টেপরির গর্ভের এ সন্তানকে নষ্ট করে ফেলতে বলে। কিন্তু টেপরির বাবা বলেছিলেন, ‘রেখে দেয়; তোর তো কেউ থাকবে না। এ সন্তানই তোকে দেখবে।’ বাবা বললেন তাই বলেই নয়, নিজের সন্তানকে কীভাবে নষ্ট করবেন। মা হয়ে পারেননি গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে। একাত্তরে টেপরির সম্ভ্রমের বিনিময়ে রক্ষা পেয়েছিল তার পরিবার। পাড়া প্রতিবেশীর জীবন। তাই তার পরিবার তাকে ফেলে দেয়নি। দেশ স্বাধীন হলো। ভারত থেকে ফিরে এলো তার স্বামী বৈশাকু ওরফে মাটাং। পাকিস্তানি সেনারা টেপরির সভ্রমহানি করেছে। তাই তাকে পরিত্যাগ করল তার স্বামী। ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ জন্ম হয় মামার বাড়িতে সুধীরের। ছেলের মুখ তাকিয়ে আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন টেপরি। তবে বেঁচে আছেন যেন পুরোনা স্মৃতি ভুলে। চোখ মুছে টেপরি রানী বলেন, কী হবে আগের কথা মনে রেখে! তারপরও ভোলা যায় কি একাত্তরের সেই দুঃসহ যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা। এখনো তাকে যেন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

তবে টেপরির স্বামী বৈশাকু ওরফে মাটাং নিরলা বালা নামে এক নারীকে নিয়ে সংসার শুরু করলেও টেপরির জীবনে আর ফুল ফোটেনি। বাবার ভিটেই আছেন তিনি যুদ্ধ শিশু সুধীর, ছেলের বউ ও দুই নাতনিকে নিয়ে। শরীর তেমন ভালো যাচ্ছে না । শরীরের বাসা বেঁধেছে নানা অসুখ।

হানাদার বাহিনীর এ রদশীয় রানীশংকৈল বন্দর এলাকার দোসর-রাজাকারদের কয়েকজন একটি খবর পৌঁছে দেয় গোগর, তালদিঘি, সোহেলগাজীসহ কয়েকটি ক্যাম্পে যে, বলিদ্বারা গ্রামের টেপরিসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে বেশ কয়েকজন অপরূপ সুন্দরী নারী বাস করে। তাতেই কপাল পোড়ে টেপরির। এলাকার কুখ্যাত রাজাকার মকবুল ও আদলু বিশ্বাস টেপরি তুলে দেয় রানীশংকৈল বন্দর পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে। এমন অভিযোগ জানান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে। তবে এ দু’জন রাজাকারের মধ্যে এখন একজনও বেঁচে নেই।

টেপরি রানীর স্বামী বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাংয়ের ক্ষোভ সে হামার সঙ্গে ভারতে গেলে বিষাদময় জীবন নেমে আসত না আমাদের। আর এ রকম বেদনাদায়ক গল্পও হতো ছন্দময় দুটি জীবনে। এখনো মনে পড়ে তার কথা, কিন্তু কী হবে পুরোনো কথা তুলে। আমার স্ত্রীর যারা সর্বনাশ করেছে তাদের কী বিচার হবে? এই বলে চোখ মুছেন তিনি।

টেপরি রানীসহ এ উপজেলায় ২০ নারী এলাকার ক্যাম্পে থাকা হানাদার বাহিনীর হাতে গণধর্ষণের শিকার হন। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে বুধি ও মালেকাসহ চারজন মারা গেছেন।

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যুদ্ধ শেষ হলেও টেপরির জীবনে শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। শ্বশুরবাড়িতে নষ্টা, ভ্রষ্টা, অসতী হিসাবে আখ্যায়িত হন টেপরি ।

টেপরি রানীকে বর্তমানে দেখাশোনা করেন তার গর্ভজাত যুদ্ধশিশু সুধীর। সুধীর জানান, দেশ স্বাধীন হলে আমার মা টেপরিকে তাড়িয়ে দেন পাকিস্তাানি আর্মির হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে। পরে মা ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষা করতে শুরু করেন। দিনমজুরের কাজও করেন। তার নাগরিকত্ব সনদপত্রে বাবার নাম বৈশাকু বর্মণ ওরফে মাটাং লিখেন। তবে তিনি তো সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি দেন না। জন্ম যেন আমার আ-জন্ম পাপ। আজও জানলাম না কে আমার বাবা!

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁও জেলার ২১ নারীকে ২০১৫ সালে ‘বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে। তাদের প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করছে সরকার। তবে টেপরি রানীকে আধা পাকা একটি ঘর ও তার ছেলে সুধীরকে একটি অটোরিকশা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। টেপরি রানীর বাড়ি ঘুরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীসহ অনেকে। আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রবীণ সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারি গেজেটে তালিকভুক্ত হতে টেপরিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন