লেখাপড়ার পাশাপাশি ইচ্ছা পূরণে ঊর্মি
jugantor
লেখাপড়ার পাশাপাশি ইচ্ছা পূরণে ঊর্মি

  আয়শা সিদ্দিকা আকাশী  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি এবং এইচএসসি কমার্স নিয়ে পড়ায় উদ্যোক্তা শব্দটার সঙ্গে পরিচয় হয়। খুব ইচ্ছা ছিল নিজ প্রচেষ্টায় কিছু করার। কিন্তু পড়াশোনার চাপে কখনো সুযোগ হয়ে ওঠেনি। করোনাকালীন সেই সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করলাম। অনেক দিনের ইচ্ছা পূরণ হলো। সংসারের বড় মেয়ে হওয়ায় ইচ্ছা ছিল পরিবারের জন্য কিছু করার। আর তার সম্ভব হয়েছে ই-কর্মাসের মাধ্যমে। এভাবেই বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ থার্ড ইয়ারের ছাত্রী নুসরাত জাহান ঊর্মি।

নুসরাত জাহান ঊর্মির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজীর হাওলা ২নং ব্রিজ এলাকায়। কয়েকটি ই-কমার্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তার মধ্যে প্ল্যাটফরম উই গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, নারীরা কত ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। এসব দেখে নিজের মধ্যেও তার আত্মবিশ্বাস জন্মায়। ভাবেন তিনিও তো কিছু করতে পারেন। কিন্তু কী করবেন, কোনটা ভালো হবে, এসবের ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক নিয়ে ভাবেন। এর মধ্যেই খুঁজে পেয়ে যান মাদারীপুরের অনেক উদ্যোক্তাকে। কিন্তু তাদের কোনো প্ল্যাটফরম নেই। চাচাতো বোনদের সহায়তায় মাদারীপুর ই-কমার্স ফোরাম খোলেন। এতে তার আগ্রহ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে নুসরাত জাহান ঊর্মি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা চান গতানুগতিকভাবে পড়াশোনা করে চাকরি করি। তারা আমাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে না। এর মাঝে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটা কোচিং সেন্টার দিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেশকিছু টাকা পেয়েছি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে কোচিং শেষ হওয়াতে ওই টাকাগুলো থেকে নিজের খরচে কিছু রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ডিসেম্বরে মার্কেট যাচাই করে মাঝামাঝি সময়ে শুরু করি কিছু হোমমেইড প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস। ব্যবসার পেজের নাম দেই ইচ্ছেতরী। করোনার এ মহামারি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়িতে ছিলাম। তাই ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দিতে পারি। অল্প দিনের মধ্যেই অনলাইনে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করায় ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকি। প্রথমে হোমমেইড আনসল্টেড বাটার, শ্রীমঙ্গলের চা পাতা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এরপর হোমমেইড মোজারেলা চিজ, এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, খাঁটি গাওয়া ঘি, গুঁড়াদুধ, ট্যাং, প্রাকৃতিক চাকের মধু, সরাসরি সৌদি থেকে আমদানিকৃত খেজুর ইত্যাদি। ব্যবসা জমে ওঠায় পরিকল্পনা নিই ৬৪ জেলার বিখ্যাত পণ্য নিয়ে কাজ করব। সে অনুসারেই শ্রীমঙ্গলের চা পাতা, নঁওগার প্যারা সন্দেশ, অষ্টগ্রামের পনির আর রাজশাহীর আমও যোগ হয় ব্যবসায়।

মাদারীপুর জেলাসহ প্রায় ৬৪ জেলায় তার পণ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকরা কিনছেন। প্রথমদিকে একা কাজ করলেও এখন মা লিটু বেগম, বোন কানিজ ফাতেমা, প্রতিবেশী আমেনা বেগম, শিউলি বেগম, ফাতেমা আক্তারসহ প্রায় ১০ জন নারী কাজ করছেন। কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মচারীদের সংখ্যা বাড়ে-কমে। সেই সঙ্গে মাদারীপুরে হোম ডেলিভারি ও কুরিয়ার করার জন্য মো. আল-আমিন নামে একজন কাজ করছেন। প্রতিমাসে তার বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এর থেকে লাভ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো।

নুসরাত জাহান ঊর্মি আরও বলেন, প্রথমদিকে পারিবারিক সহযোগিতা না পেলেও এখন পাচ্ছি। মেয়েরা ঘরে বসেই রোজগার করতে পারেন। তাই অন্যের ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা উচিত।

মাদারীপুরের উন্নয়নকর্মী ফারজানা আক্তার মুন্নি বলেন, ই-কর্মাসের ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলে উদ্যোক্তারা আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে। তারা জানে কীভাবে ঘরে বসে আয় করতে পারবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে মেয়েরা অনেক এগিয়েছেন। মাদারীপুরের ঊর্মি আমাদের উদাহরণ। হ

লেখাপড়ার পাশাপাশি ইচ্ছা পূরণে ঊর্মি

 আয়শা সিদ্দিকা আকাশী 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি এবং এইচএসসি কমার্স নিয়ে পড়ায় উদ্যোক্তা শব্দটার সঙ্গে পরিচয় হয়। খুব ইচ্ছা ছিল নিজ প্রচেষ্টায় কিছু করার। কিন্তু পড়াশোনার চাপে কখনো সুযোগ হয়ে ওঠেনি। করোনাকালীন সেই সুযোগটাকে কাজে লাগালাম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করলাম। অনেক দিনের ইচ্ছা পূরণ হলো। সংসারের বড় মেয়ে হওয়ায় ইচ্ছা ছিল পরিবারের জন্য কিছু করার। আর তার সম্ভব হয়েছে ই-কর্মাসের মাধ্যমে। এভাবেই বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ থার্ড ইয়ারের ছাত্রী নুসরাত জাহান ঊর্মি।

নুসরাত জাহান ঊর্মির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজীর হাওলা ২নং ব্রিজ এলাকায়। কয়েকটি ই-কমার্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তার মধ্যে প্ল্যাটফরম উই গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, নারীরা কত ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। এসব দেখে নিজের মধ্যেও তার আত্মবিশ্বাস জন্মায়। ভাবেন তিনিও তো কিছু করতে পারেন। কিন্তু কী করবেন, কোনটা ভালো হবে, এসবের ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক নিয়ে ভাবেন। এর মধ্যেই খুঁজে পেয়ে যান মাদারীপুরের অনেক উদ্যোক্তাকে। কিন্তু তাদের কোনো প্ল্যাটফরম নেই। চাচাতো বোনদের সহায়তায় মাদারীপুর ই-কমার্স ফোরাম খোলেন। এতে তার আগ্রহ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে নুসরাত জাহান ঊর্মি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা চান গতানুগতিকভাবে পড়াশোনা করে চাকরি করি। তারা আমাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে না। এর মাঝে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটা কোচিং সেন্টার দিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেশকিছু টাকা পেয়েছি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে কোচিং শেষ হওয়াতে ওই টাকাগুলো থেকে নিজের খরচে কিছু রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ডিসেম্বরে মার্কেট যাচাই করে মাঝামাঝি সময়ে শুরু করি কিছু হোমমেইড প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস। ব্যবসার পেজের নাম দেই ইচ্ছেতরী। করোনার এ মহামারি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাড়িতে ছিলাম। তাই ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দিতে পারি। অল্প দিনের মধ্যেই অনলাইনে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করায় ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকি। প্রথমে হোমমেইড আনসল্টেড বাটার, শ্রীমঙ্গলের চা পাতা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এরপর হোমমেইড মোজারেলা চিজ, এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, খাঁটি গাওয়া ঘি, গুঁড়াদুধ, ট্যাং, প্রাকৃতিক চাকের মধু, সরাসরি সৌদি থেকে আমদানিকৃত খেজুর ইত্যাদি। ব্যবসা জমে ওঠায় পরিকল্পনা নিই ৬৪ জেলার বিখ্যাত পণ্য নিয়ে কাজ করব। সে অনুসারেই শ্রীমঙ্গলের চা পাতা, নঁওগার প্যারা সন্দেশ, অষ্টগ্রামের পনির আর রাজশাহীর আমও যোগ হয় ব্যবসায়।

মাদারীপুর জেলাসহ প্রায় ৬৪ জেলায় তার পণ্য কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকরা কিনছেন। প্রথমদিকে একা কাজ করলেও এখন মা লিটু বেগম, বোন কানিজ ফাতেমা, প্রতিবেশী আমেনা বেগম, শিউলি বেগম, ফাতেমা আক্তারসহ প্রায় ১০ জন নারী কাজ করছেন। কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মচারীদের সংখ্যা বাড়ে-কমে। সেই সঙ্গে মাদারীপুরে হোম ডেলিভারি ও কুরিয়ার করার জন্য মো. আল-আমিন নামে একজন কাজ করছেন। প্রতিমাসে তার বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এর থেকে লাভ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো।

নুসরাত জাহান ঊর্মি আরও বলেন, প্রথমদিকে পারিবারিক সহযোগিতা না পেলেও এখন পাচ্ছি। মেয়েরা ঘরে বসেই রোজগার করতে পারেন। তাই অন্যের ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা উচিত।

মাদারীপুরের উন্নয়নকর্মী ফারজানা আক্তার মুন্নি বলেন, ই-কর্মাসের ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলে উদ্যোক্তারা আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, মেয়েরা এখন অনেক এগিয়ে। তারা জানে কীভাবে ঘরে বসে আয় করতে পারবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে মেয়েরা অনেক এগিয়েছেন। মাদারীপুরের ঊর্মি আমাদের উদাহরণ। হ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন