হোগল পাতায় জীবন চলে তাদের
jugantor
হোগল পাতায় জীবন চলে তাদের
দৈনন্দিন প্রয়োজনে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হোগল পাতার তৈরি পাটির ব্যবহার রয়েছে। হোগল পাতার কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভর করে গ্রামীণ নারীরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। লিখেছেন-

  এম. মজিবুল হক কিসলু  

২৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে হোগল পাতা দেখা যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি খাবারেও এ হোগল পাতা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এর ফুল সংগ্রহ করে তা দিয়ে পাউডার তৈরি করা হয়। এ পাউডার খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। হোগলের গুঁড়া দিয়ে জনপ্রিয় কেক তৈরি করা হয়। হোগল ফুলের পাউডার প্রতি কেজি প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এর রং চকচকে হলুদ বর্ণের। এর সংরক্ষণে উদ্যোগ না নেওয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হোগল শিল্প। সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে সারা দেশে হোগল পাতা ও এর গুঁড়া বাজারজাত করা সম্ভব হতো। হোগল শিল্পের তৈরি নানা পণ্য বিদেশে রপ্তানি করেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা যেতে পারে। বললেন বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়বুনিয়া ইউনিয়নের ঘটবাড়িয়া গ্রামের শিল্পী রানী।

বাড়ির উঠানে হোগলা পাটি বুনছিলেন একই গ্রামের মালতী রানী ও শোভা সরকার। মালতী রানী বলেন, একদিনে দুটি হোগলা বোনা যায়। দলবেঁধে তিনজন নারী হোগলা বুনলে দৈনিক ছয়টা হোগলা বুনতে পারি। সপ্তাহে একজন নারী ১৩-১৪টি হোগলা বুনতে পারেন। এ হোগলা বরগুনা বাজারে প্রতিটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে সপ্তাহে একজন নারী ২১০০ টাকা বিক্রি করতে পারেন। দুই আঁটি হোগল পাতা কিনতে খরচ হয় ৯০০ বা ১ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয় ১১০০ টাকা। মাসে একজন নারী হোগলা বুনে ৪ হাজার ৪০০ টাকা আয় করতে পারেন। এ টাকা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলে আমাদের।

ঢলুয়া ইউনিয়নের বান্দরগাছিয়া গ্রামে হোগলা মাদুর বুনছিলেন ফরিদা বেগম। তার মতে (৪৫), তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় প্রতিদিন তিনটি হোগলা চাটাই বুনতে পারেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টাকা রোজগার হয়। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে অনেক বেশি হোগলা পণ্য তৈরি করতে পারতাম।

সদরের ০৭ ঢলুয়া ইউনিয়নের বান্দরগাছিয়া গ্রামের হোগলা ব্যবসায়ী মোঃ আলম মিয়া বলেন, এক আঁটি হোগল পাতা ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন না থাকায় চাহিদা মাফিক সরবরাহ করতে পারি না। আগের মতো চাহিদাও নেই হোগলার। আগে বিভিন্ন কাজে হোগলার ব্যবহার হতো। দিন দিন হোগলার ব্যবহার কমছে। প্লাস্টিকের পণ্যের ওপর মানুষ নির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে আয় আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। তার ওপর মহামারি করোনার প্রভাবে বেচাকেনা বন্ধ ছিল। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

হোগল পাতায় জীবন চলে তাদের

দৈনন্দিন প্রয়োজনে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হোগল পাতার তৈরি পাটির ব্যবহার রয়েছে। হোগল পাতার কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভর করে গ্রামীণ নারীরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। লিখেছেন-
 এম. মজিবুল হক কিসলু 
২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে হোগল পাতা দেখা যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি খাবারেও এ হোগল পাতা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এর ফুল সংগ্রহ করে তা দিয়ে পাউডার তৈরি করা হয়। এ পাউডার খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। হোগলের গুঁড়া দিয়ে জনপ্রিয় কেক তৈরি করা হয়। হোগল ফুলের পাউডার প্রতি কেজি প্রায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এর রং চকচকে হলুদ বর্ণের। এর সংরক্ষণে উদ্যোগ না নেওয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে হোগল শিল্প। সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে সারা দেশে হোগল পাতা ও এর গুঁড়া বাজারজাত করা সম্ভব হতো। হোগল শিল্পের তৈরি নানা পণ্য বিদেশে রপ্তানি করেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা যেতে পারে। বললেন বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়বুনিয়া ইউনিয়নের ঘটবাড়িয়া গ্রামের শিল্পী রানী।

বাড়ির উঠানে হোগলা পাটি বুনছিলেন একই গ্রামের মালতী রানী ও শোভা সরকার। মালতী রানী বলেন, একদিনে দুটি হোগলা বোনা যায়। দলবেঁধে তিনজন নারী হোগলা বুনলে দৈনিক ছয়টা হোগলা বুনতে পারি। সপ্তাহে একজন নারী ১৩-১৪টি হোগলা বুনতে পারেন। এ হোগলা বরগুনা বাজারে প্রতিটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে সপ্তাহে একজন নারী ২১০০ টাকা বিক্রি করতে পারেন। দুই আঁটি হোগল পাতা কিনতে খরচ হয় ৯০০ বা ১ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয় ১১০০ টাকা। মাসে একজন নারী হোগলা বুনে ৪ হাজার ৪০০ টাকা আয় করতে পারেন। এ টাকা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলে আমাদের।

ঢলুয়া ইউনিয়নের বান্দরগাছিয়া গ্রামে হোগলা মাদুর বুনছিলেন ফরিদা বেগম। তার মতে (৪৫), তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় প্রতিদিন তিনটি হোগলা চাটাই বুনতে পারেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ টাকা রোজগার হয়। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে অনেক বেশি হোগলা পণ্য তৈরি করতে পারতাম।

সদরের ০৭ ঢলুয়া ইউনিয়নের বান্দরগাছিয়া গ্রামের হোগলা ব্যবসায়ী মোঃ আলম মিয়া বলেন, এক আঁটি হোগল পাতা ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন না থাকায় চাহিদা মাফিক সরবরাহ করতে পারি না। আগের মতো চাহিদাও নেই হোগলার। আগে বিভিন্ন কাজে হোগলার ব্যবহার হতো। দিন দিন হোগলার ব্যবহার কমছে। প্লাস্টিকের পণ্যের ওপর মানুষ নির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে আয় আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। তার ওপর মহামারি করোনার প্রভাবে বেচাকেনা বন্ধ ছিল। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন