‘কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু দমে যাইনি’
jugantor
‘কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু দমে যাইনি’
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা। ইভটিজিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি কাউন্সিলিংও করছেন। লিখেছেন-

  এম এম সালাহউদ্দিন  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য আলোচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা।

এ ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধ, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে প্রত্যন্ত এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বিশেষ করে ছাত্রীদের লেখাপড়া শিখে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ২২টি স্কুলে ‘অ্যাডোলেসেন্স কাউন্সেলিং সেন্টার’ স্থাপন করেছেন।

এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের কৈশোরকালীন সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ইভটিজিং বন্ধে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। এর ফলে ছাত্রীরা এখন নির্বিঘ্নে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারছে।

এ প্রসঙ্গে আরিফা জহুরা বলেন, এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। অনেক সময়ই এসব কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছি, কিন্তু দমে যাইনি, দায়িত্ব পালনেও পিছপা হইনি।

অসংখ্য বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। করোনা মহামারির শুরু থেকেই রাত দিন মানুষের জন্য কাজ করেছি। সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, লকডাউন বাস্তবায়ন, অসহায় মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া, কোভিড-১৯ আক্রান্তের খোঁজখবর রাখা, করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেছি।

এ সময় নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সুস্থ হয়েই আবার কাজে ফিরেছি। সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। এসব কাজ করা সহজ হয়েছে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার কারণে।

আরিফা জহুরা বেড়ে ওঠেন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়া করতেন।

পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। শিক্ষক বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছোট কন্যাটি ম্যাজিস্ট্রেট হবে। বাবার স্বপ্নপূরণ আর মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদে ২০১২ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন তিনি।

যদিও মেয়ের এ সাফল্য বাবা দেখে যেতে পারেননি। তিনি ২০১৯ সালের নভেম্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যোগ দেন। বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আসেন ২০২১ সালের এপ্রিলে।

করোনাকালে ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লা দু’বছরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ নিম্ন আয়ের মানুষদের ত্রাণ হিসাবে দেন। নারায়ণগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জনহিতৈষীকর কাজে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লাকে সংবর্ধনা দেন।

পরে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে সস্তাপুরের টিটুর বস্তির অর্ধশতাধিক কর্মহীন মানুষকে ত্রাণ দেন। ছাত্রীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে দফায় দফায় উঠান বৈঠক করেন।

শুধু তাই নয়, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত কাউন্সিলিং করছেন তিনি।

অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা কাদের সঙ্গে মিশছে, কী করছে বন্ধুর মতো জানা। মন্দ সঙ্গ থেকে তাদের বের করে আনা।

‘কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু দমে যাইনি’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা। ইভটিজিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি কাউন্সিলিংও করছেন। লিখেছেন-
 এম এম সালাহউদ্দিন 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য আলোচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা।

এ ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধ, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে প্রত্যন্ত এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বিশেষ করে ছাত্রীদের লেখাপড়া শিখে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ২২টি স্কুলে ‘অ্যাডোলেসেন্স কাউন্সেলিং সেন্টার’ স্থাপন করেছেন।

এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের কৈশোরকালীন সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ইভটিজিং বন্ধে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। এর ফলে ছাত্রীরা এখন নির্বিঘ্নে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারছে।

এ প্রসঙ্গে আরিফা জহুরা বলেন, এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। অনেক সময়ই এসব কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছি, কিন্তু দমে যাইনি, দায়িত্ব পালনেও পিছপা হইনি।

অসংখ্য বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। করোনা মহামারির শুরু থেকেই রাত দিন মানুষের জন্য কাজ করেছি। সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, লকডাউন বাস্তবায়ন, অসহায় মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া, কোভিড-১৯ আক্রান্তের খোঁজখবর রাখা, করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করেছি।

এ সময় নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সুস্থ হয়েই আবার কাজে ফিরেছি। সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। এসব কাজ করা সহজ হয়েছে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার কারণে।

আরিফা জহুরা বেড়ে ওঠেন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়া করতেন।

পাঁচ ভাই, দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। শিক্ষক বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছোট কন্যাটি ম্যাজিস্ট্রেট হবে। বাবার স্বপ্নপূরণ আর মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদে ২০১২ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন তিনি।

যদিও মেয়ের এ সাফল্য বাবা দেখে যেতে পারেননি। তিনি ২০১৯ সালের নভেম্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যোগ দেন। বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আসেন ২০২১ সালের এপ্রিলে।

করোনাকালে ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লা দু’বছরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার অর্থ নিম্ন আয়ের মানুষদের ত্রাণ হিসাবে দেন। নারায়ণগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জনহিতৈষীকর কাজে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লাকে সংবর্ধনা দেন।

পরে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে সস্তাপুরের টিটুর বস্তির অর্ধশতাধিক কর্মহীন মানুষকে ত্রাণ দেন। ছাত্রীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে দফায় দফায় উঠান বৈঠক করেন।

শুধু তাই নয়, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত কাউন্সিলিং করছেন তিনি।