‘পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র দুটিই জীবনে গুরুত্বপূর্ণ’
jugantor
‘পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র দুটিই জীবনে গুরুত্বপূর্ণ’
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন। লিখেছেন-

  বিপ্লব রহমান  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবার এবং পেশাগত দায়িত্ব দুটিই আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে আমি যে দায়িত্ব পালন করছি তাতে সময় ধরে কাজ করা যায় না। দিন বা রাত যে কোনো সময় দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে ডিউটিতে যেতে হতে পারে। একজন নারী বলে পিছিয়ে যাব বা করতে পারছি না এ রকম মন্তব্য কখনো করি না। একজন পুরুষ কর্মকর্তা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন আমিও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া সম্পন্ন করে বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারের একজন সদস্য হব। সমাজের মানুষের জন্য কাজ করব। যে কারণে প্রশাসনে আসার প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল। পারিবারিকভাবেও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। জীবনের শতভাগ ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে বললেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন।

বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে লোহাগড়া উপজেলার জনগণের সচেতনতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন রোসলিনা পারভীন। গণশুনানি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়, এমনকি ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়েও বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতনের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যাতে কেউ কোনোভাবে জড়িত না হয়, জড়িত হলে কী ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে তা অবগত করেন।

রোসলিনা পারভীনের মতে, একজন মেয়ে বা নারীই পারেন তার পরিবারকে সামনে এগিয়ে নিতে। যদি তাকে সঠিক শিক্ষা, খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তাকে সুস্থ মানসিকতা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব। এভাবেই তাদের উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি কেউ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোসলিনা পারভীনের জন্ম ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায়। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা তোয়াজ উদ্দিন, মা আম্বিয়া খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যোগদান করেন। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। তিন বছরের মেয়ে ৃরাদি˜কা হাসান আর স্বামীকে নিয়ে তার সংসার। স্বামী রাকিব হাসান পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামীর কর্মক্ষেত্র ঢাকায় হওয়ায় মেয়ে তার সঙ্গেই রয়েছে। মেয়ের দেখাশোনার ক্ষেত্রে তিনি একাই বাবা-মায়ের ভূমিকা পালন করছেন।

কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে রোসলিনা পারভীন জানান, এখানে নারী-পুরুষের কোনো বৈষম্য নেই। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই মিলেমিশে কাজ করেন। করোনাকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাক্স এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। সচেতনতামূলক সভা করেছেন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার ঘটনায় ১২৪টি মোবাইল কোর্ট করেছেন।

রোসলিনা পারভীন বলেন, দেশের সব নারী যেন তার লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়। দেশের মানুষের জন্য সেবামূলক কাজ করে। আমি কর্মক্ষেত্রে যেমন আমার সহকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছি। পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছি। তারাও যেন এভাবেই সহযোগিতা পান।

‘পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র দুটিই জীবনে গুরুত্বপূর্ণ’

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন। লিখেছেন-
 বিপ্লব রহমান 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবার এবং পেশাগত দায়িত্ব দুটিই আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে আমি যে দায়িত্ব পালন করছি তাতে সময় ধরে কাজ করা যায় না। দিন বা রাত যে কোনো সময় দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে ডিউটিতে যেতে হতে পারে। একজন নারী বলে পিছিয়ে যাব বা করতে পারছি না এ রকম মন্তব্য কখনো করি না। একজন পুরুষ কর্মকর্তা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন আমিও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছি। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া সম্পন্ন করে বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারের একজন সদস্য হব। সমাজের মানুষের জন্য কাজ করব। যে কারণে প্রশাসনে আসার প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল। পারিবারিকভাবেও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। জীবনের শতভাগ ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে বললেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোসলিনা পারভীন।

বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে লোহাগড়া উপজেলার জনগণের সচেতনতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন রোসলিনা পারভীন। গণশুনানি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়, এমনকি ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়েও বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতনের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যাতে কেউ কোনোভাবে জড়িত না হয়, জড়িত হলে কী ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে তা অবগত করেন।

রোসলিনা পারভীনের মতে, একজন মেয়ে বা নারীই পারেন তার পরিবারকে সামনে এগিয়ে নিতে। যদি তাকে সঠিক শিক্ষা, খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে তাকে সুস্থ মানসিকতা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব। এভাবেই তাদের উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি কেউ অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোসলিনা পারভীনের জন্ম ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায়। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা তোয়াজ উদ্দিন, মা আম্বিয়া খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যোগদান করেন। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। তিন বছরের মেয়ে ৃরাদি˜কা হাসান আর স্বামীকে নিয়ে তার সংসার। স্বামী রাকিব হাসান পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামীর কর্মক্ষেত্র ঢাকায় হওয়ায় মেয়ে তার সঙ্গেই রয়েছে। মেয়ের দেখাশোনার ক্ষেত্রে তিনি একাই বাবা-মায়ের ভূমিকা পালন করছেন।

কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে রোসলিনা পারভীন জানান, এখানে নারী-পুরুষের কোনো বৈষম্য নেই। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই মিলেমিশে কাজ করেন। করোনাকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাক্স এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। সচেতনতামূলক সভা করেছেন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার ঘটনায় ১২৪টি মোবাইল কোর্ট করেছেন।

রোসলিনা পারভীন বলেন, দেশের সব নারী যেন তার লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়। দেশের মানুষের জন্য সেবামূলক কাজ করে। আমি কর্মক্ষেত্রে যেমন আমার সহকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছি। পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছি। তারাও যেন এভাবেই সহযোগিতা পান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন