‘নারীরা থেমে থাকেনি, এখনো নেই’
jugantor
‘নারীরা থেমে থাকেনি, এখনো নেই’
হামলা, আত্মহত্যা, খুন, জখম, হানাহানি নিত্যদিন লেগেই আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। সেই জনপদের নাম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা। শৈলকুপার প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা লিজা। যিনি ঠান্ডা মাথায় প্রশাসন সামলাচ্ছেন। লিখেছেন-

  মিজানুর রহমান  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কানিজ ফাতেমা লিজা শৈলকুপা উপজেলায় যোগ দেন ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর। এর পরপরই পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দুদিন আগে সহিংসতায় খুন হন একজন প্রার্থীসহ দুই ব্যক্তি। এদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কোভিড ১৯-এর ভয়াবহতা। প্রতিদিন মৃত্যুর খবর। লকডাউন কার্যকর করতে সকাল ৬টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটবাজার, মাঠ, ময়দান, রাস্তা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি কাজের তদারকি করেন তিনি। অফিসের পাশাপাশি ঘরও সামলিয়েছেন। নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরেছেন।

এ প্রসঙ্গে কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সব সহকর্মী আমার পাশে ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেছেন। আমরা কোনো কাজে থেমে নেই। আগামীতেও থাকব না। বাল্যবিয়ে নারীর প্রতিভা বিকাশে বড় বাধা। সেই সঙ্গে রয়েছে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি। সেদিক বিবেচনা করে স্কুল-কলেজগুলোতে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য হাইজিন কর্নার (ঝুঁকিমুক্ত টয়লেট) নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। আত্মহত্যা প্রতিরোধে উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার, মাদক সেবন বন্ধে মায়ের ভূমিকা তুলে ধরে সচেতনতামূলক নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।। সমাজিক বিরোধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা হানাহানি বন্ধে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক বিরোধ, হানাহানি ইত্যাদি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজটি করা কঠিন! তবে সমন্বিতভাবে কাজ করলে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।

কানিজ ফাতেমা লিজা ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেছেন বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে।

কানিজ ফাতেমা লিজার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দের ধুপাকান্দি গ্রামে। বাবা মোঃ হুমায়ুন কবীর ও মা মোছাঃ ফরিদা খাতুন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি গ্রামেই ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে চলে আসেন পাবনা জেলার চাটমহর উপজেলা সদরে। সেখানে সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি এবং বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হন। ডাক্তার-কবিরাজের চিকিৎসায় কাজ হয় না। ক্লিনিক্যাল ডেথ ঘোষণা করা হয় তাকে। মা-বাবা হাল ছাড়েন না। উন্নততর চিকিৎসার জন্য মৃতপ্রায় লিজাকে নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তার। দীর্ঘ এক মাস জীবনযুদ্ধের পর সেরে ওঠেন তিনি। আবার লেখাপড়া শুরু করেন। রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

কানিজ ফাতেমা লিজার মতে, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডার। স্নাতক পরীক্ষা দিয়েই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। ২০১২ সালে ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিই। এর মাধ্যমে স্বপ্নপূরণ হলো আমার। নড়াইল জেলার ইঞ্জিনিয়ার তানিমুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী সড়ক ও জনপদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই সন্তান তালহা (৬) ও আহনাফ (৪)।

‘নারীরা থেমে থাকেনি, এখনো নেই’

হামলা, আত্মহত্যা, খুন, জখম, হানাহানি নিত্যদিন লেগেই আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। সেই জনপদের নাম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা। শৈলকুপার প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা লিজা। যিনি ঠান্ডা মাথায় প্রশাসন সামলাচ্ছেন। লিখেছেন-
 মিজানুর রহমান 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কানিজ ফাতেমা লিজা শৈলকুপা উপজেলায় যোগ দেন ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর। এর পরপরই পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দুদিন আগে সহিংসতায় খুন হন একজন প্রার্থীসহ দুই ব্যক্তি। এদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কোভিড ১৯-এর ভয়াবহতা। প্রতিদিন মৃত্যুর খবর। লকডাউন কার্যকর করতে সকাল ৬টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাটবাজার, মাঠ, ময়দান, রাস্তা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া ইত্যাদি কাজের তদারকি করেন তিনি। অফিসের পাশাপাশি ঘরও সামলিয়েছেন। নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরেছেন।

এ প্রসঙ্গে কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সব সহকর্মী আমার পাশে ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেছেন। আমরা কোনো কাজে থেমে নেই। আগামীতেও থাকব না। বাল্যবিয়ে নারীর প্রতিভা বিকাশে বড় বাধা। সেই সঙ্গে রয়েছে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি। সেদিক বিবেচনা করে স্কুল-কলেজগুলোতে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য হাইজিন কর্নার (ঝুঁকিমুক্ত টয়লেট) নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। আত্মহত্যা প্রতিরোধে উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার, মাদক সেবন বন্ধে মায়ের ভূমিকা তুলে ধরে সচেতনতামূলক নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।। সমাজিক বিরোধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা হানাহানি বন্ধে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক বিরোধ, হানাহানি ইত্যাদি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজটি করা কঠিন! তবে সমন্বিতভাবে কাজ করলে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।

কানিজ ফাতেমা লিজা ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেছেন বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে।

কানিজ ফাতেমা লিজার জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দের ধুপাকান্দি গ্রামে। বাবা মোঃ হুমায়ুন কবীর ও মা মোছাঃ ফরিদা খাতুন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি গ্রামেই ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে চলে আসেন পাবনা জেলার চাটমহর উপজেলা সদরে। সেখানে সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি এবং বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হন। ডাক্তার-কবিরাজের চিকিৎসায় কাজ হয় না। ক্লিনিক্যাল ডেথ ঘোষণা করা হয় তাকে। মা-বাবা হাল ছাড়েন না। উন্নততর চিকিৎসার জন্য মৃতপ্রায় লিজাকে নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তার। দীর্ঘ এক মাস জীবনযুদ্ধের পর সেরে ওঠেন তিনি। আবার লেখাপড়া শুরু করেন। রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।

কানিজ ফাতেমা লিজার মতে, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডার। স্নাতক পরীক্ষা দিয়েই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। ২০১২ সালে ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিই। এর মাধ্যমে স্বপ্নপূরণ হলো আমার। নড়াইল জেলার ইঞ্জিনিয়ার তানিমুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী সড়ক ও জনপদ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই সন্তান তালহা (৬) ও আহনাফ (৪)।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন