বাল্যবিয়ের খবর কখনো কখনো দেরিতে পাই
jugantor
বাল্যবিয়ের খবর কখনো কখনো দেরিতে পাই
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীনা রহমান। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক  

০৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড ১৯-এর শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সবাইকে মাস্ক পরানো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা। লকডাউনের সময় লোকজন যাতে অকারণে ঘরের বাইরে বের না হন, বাজারে ভিড় না করেন, রাস্তায় চলাফেরা না করেন ইত্যাদি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা-বললেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীনা রহমান।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরি করছেন সাবরীনা রহমান। উঠান বৈঠক, কিশোরী সমাবেশ, বিদ্যালয়গুলোতে প্যারেন্টস মিটিংয়ের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সাবরীনা রহমান বলেন, প্যারেন্টস মিটিংয়ে অভিভাবকদের বোঝানো হয় অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া। দুইয়ের বেশি সন্তান সংখ্যা না বাড়ানো। সন্তান জন্ম দেওয়াই বিষয় নয়, তাদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। ছেলেমেয়ে উভয়কেই সমান সুযোগ দেওয়া। মা-বাবা যেন ছেলেমেয়ের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব না করেন। মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া। এ ছাড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয় অল্প বয়সে বিয়ে হলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে, মা হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা বাড়বে। কোথাও বাল্যবিয়ে হচ্ছে এ সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিয়ের খবর কখনো কখনো দেরিতে পাই। সে ক্ষেত্রে সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকদের বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

তার মতে, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সরকার। একেকটি এনজিও একেকটি বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। কোনোটি অ্যাডভোকেসি, কোনোটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা, কোনোটি ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করে থাকে বিনা পয়সায়।

মৌলভীবাজারে চা বাগানের শ্রমিকরা বাংলা মদ সেবন করে। গুণগত মান ভালো না হওয়ায় তাদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। এগুলো প্রতিহত করারও চেষ্টা করেন। না মানলে তাদের জেল ও জরিমানাও করেন।

সাবরীনা রহমানের জন্ম নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ঠাকুরলক্ষ্মীকুল গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে বগুড়ায় তার শৈশব-কৈশোর কাটে। বাবা মো. বজলুর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে অবসর নেন। মা সোহেলী রহমান। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাশ করেন। কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) থেকে ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৮ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ৩৩তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসাবে যোগদান করেন। এ বছরের জুনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। স্বামী মো. জিয়া উদ্দিন মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই ছেলে। বড় ছেলে আহমেদ সায়হান ও ছোট ছেলে আহমেদ জায়ান।

সাবরীনা রহমান বহুবিধ গুণের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীতচর্চা করেন। ২০০৬ সালে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে নিজের জায়গা করে নেন।

বাল্যবিয়ের খবর কখনো কখনো দেরিতে পাই

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীনা রহমান। লিখেছেন-
 রীতা ভৌমিক 
০৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড ১৯-এর শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সবাইকে মাস্ক পরানো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা। লকডাউনের সময় লোকজন যাতে অকারণে ঘরের বাইরে বের না হন, বাজারে ভিড় না করেন, রাস্তায় চলাফেরা না করেন ইত্যাদি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা-বললেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীনা রহমান।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরি করছেন সাবরীনা রহমান। উঠান বৈঠক, কিশোরী সমাবেশ, বিদ্যালয়গুলোতে প্যারেন্টস মিটিংয়ের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সাবরীনা রহমান বলেন, প্যারেন্টস মিটিংয়ে অভিভাবকদের বোঝানো হয় অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়া। দুইয়ের বেশি সন্তান সংখ্যা না বাড়ানো। সন্তান জন্ম দেওয়াই বিষয় নয়, তাদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। ছেলেমেয়ে উভয়কেই সমান সুযোগ দেওয়া। মা-বাবা যেন ছেলেমেয়ের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব না করেন। মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া। এ ছাড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয় অল্প বয়সে বিয়ে হলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে, মা হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা বাড়বে। কোথাও বাল্যবিয়ে হচ্ছে এ সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এক্ষেত্রে মূল সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিয়ের খবর কখনো কখনো দেরিতে পাই। সে ক্ষেত্রে সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকদের বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

তার মতে, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে এনজিওগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সরকার। একেকটি এনজিও একেকটি বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। কোনোটি অ্যাডভোকেসি, কোনোটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা, কোনোটি ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করে থাকে বিনা পয়সায়।

মৌলভীবাজারে চা বাগানের শ্রমিকরা বাংলা মদ সেবন করে। গুণগত মান ভালো না হওয়ায় তাদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। এগুলো প্রতিহত করারও চেষ্টা করেন। না মানলে তাদের জেল ও জরিমানাও করেন।

সাবরীনা রহমানের জন্ম নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ঠাকুরলক্ষ্মীকুল গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে বগুড়ায় তার শৈশব-কৈশোর কাটে। বাবা মো. বজলুর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে অবসর নেন। মা সোহেলী রহমান। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাশ করেন। কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) থেকে ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৮ সালে বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ৩৩তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসাবে যোগদান করেন। এ বছরের জুনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। স্বামী মো. জিয়া উদ্দিন মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই ছেলে। বড় ছেলে আহমেদ সায়হান ও ছোট ছেলে আহমেদ জায়ান।

সাবরীনা রহমান বহুবিধ গুণের অধিকারী। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীতচর্চা করেন। ২০০৬ সালে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশে নিজের জায়গা করে নেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন