সময়ের সাহসী নারী নাসিমা খান মন্টি
jugantor
সময়ের সাহসী নারী নাসিমা খান মন্টি
নাসিমা খান মন্টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘আমাদের অর্থনীতি’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। স্বামী, সন্তান, সংসার সামলানোর পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে পত্রিকাও সামলাছেন। লিখেছেন আসিফজ্জামান পৃথিল

   

১৪ মে ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সময় পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতেই বেশ কিছু পেশাকে পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক পেশা হিসেবে দেখা হতো। সেনাবাহিনীর সদস্য, শ্রমিক ইত্যাদির মতো সাংবাদিকতাও অন্তর্গত ছিল এসব পুরুষতান্ত্রিক পেশার। তবে দিন বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। পরিস্থিতি বদলেছে বাংলাদেশেও। নূরজাহান বেগমের পদাঙ্ক অনুসরণ করা জয়িতারা সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতাই করছেন তা নয়। নেতৃত্ব স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সামনে থেকে নেতৃত্বও দিচ্ছেন। সংখ্যাটি একজন বা দু’জন নয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেতৃত্ব দান করছেন বেশ কয়েকজন নারী। তারা যে শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাই নয়, একই সঙ্গে চিরায়ত বাঙালি ঐতিহ্য মেনে সংসার সামলাচ্ছেন, সময় দিচ্ছেন সন্তানদের। তাদেরই একজন নাসিমা খান মন্টি।

তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে হাতেখড়ি নাসিমা খান মন্টির। দৈনিক আজকের কাগজের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন তিনি। কিছুটা শখের বশেই সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশুনাও চালিয়ে যান। শখটাই একসময় তার স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। পড়াশুনা শেষ হতেই যোগ দেন আজকের কাগজের সহ-সম্পাদক হিসেবে। এখানে পুরোপুরি সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। এক বছর কাজ করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এ। এরপর দৈনিক আমাদের সময়, আওয়ার টাইম, এটিএন নিউজ এবং ২০১৫ সালে যোগ দেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন বছরের একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে নিজ কর্মদক্ষতা আর পরিশ্রম দিয়ে একটু একটু করে নিরলসভাবে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে নিজের পরিবার আর প্রতিষ্ঠান উভয়কেই সময় দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য নজির।

নাসিমা খান মন্টি রুটিনমাফিক জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠেন। সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে সন্তানদের তৈরি করে স্কুলে পাঠান। নিজে তৈরি হয়ে সকাল দশটার মধ্যে অফিসে আসেন। এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলো সারেন বিজ্ঞাপন বিভাগ, হিসাব বিভাগ, বার্তা বিভাগ, রিপোর্টার, সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে। এরপর শুরু করেন নিজের লেখালেখি। পছন্দের কোনো বিষয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেন। সন্তানদের স্কুল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও পালন করেন। বেলা একটার দিকে অফিস থেকে বেরিয়ে সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে বাড়ি ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। একটু বিশ্রাম নিয়েই বিকাল চারটার মধ্যে অফিসে ফেরেন। কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষে বসে সারাদিনের সংবাদের খবর নেন। বিজ্ঞাপন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে পরিবারকে কিছুটা সময় দেন। প্রায়ই কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত থাকে। যেতে হয় সেখানেও।

চ্যালেঞ্জিং পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি পেশাই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ সব সময় একটু আলাদা একটু ভিন্ন মাত্রার। একজন সাংবাদিকের নিজের জন্য সময় বরাদ্দ থাকে অনেক কম। আমি স্বামী, সন্তান, সংসার সামলিয়ে পত্রিকার দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করছি। সমস্যা থাকবেই। তা কাটিয়ে ওঠাটাই একজন সম্পাদকের মূল কাজ।

সময়ের সাহসী নারী নাসিমা খান মন্টি

নাসিমা খান মন্টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘আমাদের অর্থনীতি’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। স্বামী, সন্তান, সংসার সামলানোর পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে পত্রিকাও সামলাছেন। লিখেছেন আসিফজ্জামান পৃথিল
  
১৪ মে ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সময় পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতেই বেশ কিছু পেশাকে পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক পেশা হিসেবে দেখা হতো। সেনাবাহিনীর সদস্য, শ্রমিক ইত্যাদির মতো সাংবাদিকতাও অন্তর্গত ছিল এসব পুরুষতান্ত্রিক পেশার। তবে দিন বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। পরিস্থিতি বদলেছে বাংলাদেশেও। নূরজাহান বেগমের পদাঙ্ক অনুসরণ করা জয়িতারা সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতাই করছেন তা নয়। নেতৃত্ব স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সামনে থেকে নেতৃত্বও দিচ্ছেন। সংখ্যাটি একজন বা দু’জন নয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেতৃত্ব দান করছেন বেশ কয়েকজন নারী। তারা যে শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাই নয়, একই সঙ্গে চিরায়ত বাঙালি ঐতিহ্য মেনে সংসার সামলাচ্ছেন, সময় দিচ্ছেন সন্তানদের। তাদেরই একজন নাসিমা খান মন্টি।

তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে হাতেখড়ি নাসিমা খান মন্টির। দৈনিক আজকের কাগজের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন তিনি। কিছুটা শখের বশেই সাংবাদিকতা পেশা বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি পড়াশুনাও চালিয়ে যান। শখটাই একসময় তার স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। পড়াশুনা শেষ হতেই যোগ দেন আজকের কাগজের সহ-সম্পাদক হিসেবে। এখানে পুরোপুরি সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। এক বছর কাজ করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ এ। এরপর দৈনিক আমাদের সময়, আওয়ার টাইম, এটিএন নিউজ এবং ২০১৫ সালে যোগ দেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন বছরের একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে নিজ কর্মদক্ষতা আর পরিশ্রম দিয়ে একটু একটু করে নিরলসভাবে মেলে ধরার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে নিজের পরিবার আর প্রতিষ্ঠান উভয়কেই সময় দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য নজির।

নাসিমা খান মন্টি রুটিনমাফিক জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠেন। সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে সন্তানদের তৈরি করে স্কুলে পাঠান। নিজে তৈরি হয়ে সকাল দশটার মধ্যে অফিসে আসেন। এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সভাগুলো সারেন বিজ্ঞাপন বিভাগ, হিসাব বিভাগ, বার্তা বিভাগ, রিপোর্টার, সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে। এরপর শুরু করেন নিজের লেখালেখি। পছন্দের কোনো বিষয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেন। সন্তানদের স্কুল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও পালন করেন। বেলা একটার দিকে অফিস থেকে বেরিয়ে সন্তানদের স্কুল থেকে তুলে বাড়ি ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। একটু বিশ্রাম নিয়েই বিকাল চারটার মধ্যে অফিসে ফেরেন। কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষে বসে সারাদিনের সংবাদের খবর নেন। বিজ্ঞাপন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে পরিবারকে কিছুটা সময় দেন। প্রায়ই কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত থাকে। যেতে হয় সেখানেও।

চ্যালেঞ্জিং পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি পেশাই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ সব সময় একটু আলাদা একটু ভিন্ন মাত্রার। একজন সাংবাদিকের নিজের জন্য সময় বরাদ্দ থাকে অনেক কম। আমি স্বামী, সন্তান, সংসার সামলিয়ে পত্রিকার দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করছি। সমস্যা থাকবেই। তা কাটিয়ে ওঠাটাই একজন সম্পাদকের মূল কাজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন