দু’মুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াই
jugantor
দু’মুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াই

  এইচ এম মিলন  

১৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেই দু’বেলা দু’মুঠো আহারের বন্দোবস্ত। নেই থাকার মতো কোনো আশ্রয়। একটি পলিথিন বিছিয়ে দুই শিশু সন্তান পাঁচ বছরের মুছা আর এক বছরের রায়হানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বারান্দায়। অফিস চলাকালীন তাদের থাকতে হয় রাস্তায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে সারা শরীর পুড়ে যাওয়ায় বাঁকা হয়ে গেছে দুটি হাত। এ হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেন না। সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচাপায় মারা গেছেন স্বামী। দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাঁচার লড়াই করছেন রিজিয়া।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ঠাকুরবাড়ি গ্রামের মেয়ে রিজিয়া। ছোটবেলায় মাকে হারান তিনি। বাবা খালেক মিয়া বিয়ে করে সহায় সম্বল পৈতৃক ভিটাটুকুও লিখে দেয় দ্বিতীয় স্ত্রীকে। বাবাও মারা যান। আব্দুল মালেক নামে এক অটোচালকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে ভালোই চলছিল দিনগুলো তার।

এ প্রসঙ্গে রিজিয়া বলেন, স্বামীর সুখও কপালে সইল না। ট্রাক আমার স্বামীর অটোরিকশাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিজের ঘরবাড়ি নেই। দুই সন্তান নিয়ে রাস্তার পাশে খুপরি ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করি। বিপদ আমার পিছু ছাড়ে না। চুলা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে আগুন লেগে যায়। দুই সন্তান রক্ষা পেলেও আমার পুরো শরীর পুড়ে যায়। হাত দুটি বাঁকা হয়ে যায়। জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দু’মুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াই। বিধবা ভাতার কার্ডও করতে পারিনি। আমি বিধবা ভাতা পাই না এ কথা সরকারের কাছে কে বলবে। আমার তো বলার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, তিনি মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় এখানে কিছু করা যাচ্ছে না। মুকসুদপুরে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলে সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

দু’মুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াই

 এইচ এম মিলন 
১৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেই দু’বেলা দু’মুঠো আহারের বন্দোবস্ত। নেই থাকার মতো কোনো আশ্রয়। একটি পলিথিন বিছিয়ে দুই শিশু সন্তান পাঁচ বছরের মুছা আর এক বছরের রায়হানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বারান্দায়। অফিস চলাকালীন তাদের থাকতে হয় রাস্তায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে সারা শরীর পুড়ে যাওয়ায় বাঁকা হয়ে গেছে দুটি হাত। এ হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারেন না। সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচাপায় মারা গেছেন স্বামী। দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাঁচার লড়াই করছেন রিজিয়া।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ঠাকুরবাড়ি গ্রামের মেয়ে রিজিয়া। ছোটবেলায় মাকে হারান তিনি। বাবা খালেক মিয়া বিয়ে করে সহায় সম্বল পৈতৃক ভিটাটুকুও লিখে দেয় দ্বিতীয় স্ত্রীকে। বাবাও মারা যান। আব্দুল মালেক নামে এক অটোচালকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে ভালোই চলছিল দিনগুলো তার।

এ প্রসঙ্গে রিজিয়া বলেন, স্বামীর সুখও কপালে সইল না। ট্রাক আমার স্বামীর অটোরিকশাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিজের ঘরবাড়ি নেই। দুই সন্তান নিয়ে রাস্তার পাশে খুপরি ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করি। বিপদ আমার পিছু ছাড়ে না। চুলা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে আগুন লেগে যায়। দুই সন্তান রক্ষা পেলেও আমার পুরো শরীর পুড়ে যায়। হাত দুটি বাঁকা হয়ে যায়। জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দু’মুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াই। বিধবা ভাতার কার্ডও করতে পারিনি। আমি বিধবা ভাতা পাই না এ কথা সরকারের কাছে কে বলবে। আমার তো বলার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, তিনি মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় এখানে কিছু করা যাচ্ছে না। মুকসুদপুরে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলে সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন