গণপরিবহণে নারীরা কতটুকু নিরাপদ
jugantor
গণপরিবহণে নারীরা কতটুকু নিরাপদ
২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। গণপরিবহণে চলাফেরায় নারীরা কতটুকু নিরাপদ! ৯৯৯ কল করে জানাতে পারবেন তাদের সমস্যার কথা। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক  

২২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিউলী বেগম নামের এক পোশাক কর্মী (২৮)। ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় কর্মস্থল গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কমফিট কম্পোজিট গার্মেন্টে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন। কুমারজানী নামক স্থানে পৌঁছা মাত্রই যাত্রীবেশী কয়েকজন তার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। নিজের সম্ভ্রম রক্ষার্থে তিনি বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে চিৎকার করতে থাকেন। কেউ এগিয়ে না এলে একপর্যায়ে তিনি শ্লীলতাহানি থেকে বাঁচার জন্য চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনার দু’দিন পরও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এভাবে মাঝে মাঝেই গণপরিবহণে ছাত্রী, শ্রমিক, কর্মজীবী নারী প্রায়শই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেককে ধর্ষণের পর হত্যাও করা হয়েছে। ৪৪তম দশম জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপরিবহণে নারী নিগ্রহের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হয়। এসব ঘটনা প্রতিরোধে গণপরিবহণ ও যাত্রীছাউনিতে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ও স্টিকার লাগানোসহ প্রস্তাবনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে।

গণপরিবহণ এবং কোম্পানির গাড়িতে নারী যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে দরকার গণপরিবহণ মালিক, শ্রমিক, চালক, চালকের সহকারী, কন্ডাক্টরদের সুষ্ঠু আচার-আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও দক্ষ কর্ম ব্যবস্থাপনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বীপ্ত ফাউন্ডেশনের কর্মীরা আইসিটির ওপর ভিত্তি করে মনিটরিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া হাসান বলেন, ‘গণপরিবহণে নারীর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ এ কর্মপরিকল্পনা নারীর যাতায়াত ব্যবস্থায় শোভন গণপরিবহণ সৃষ্টি ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির বাস্তবায়নে, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা সহযোগিতা করব। দক্ষ, কৌশলী টিম দিয়ে কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করব। এর আগে বাংলাদেশে এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এখানে কয়েক স্তরের স্টেকহোল্ডার বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি তাদের চিন্তাচেতনা-ভাবনা, যাত্রী-নারী-পুরুষ, মেয়েশিশু, কিশোরী, তরুণী সবাই যাত্রী। তাদের মধ্যে চালকের সহযোগী মেয়ে অথবা নারী দেখলেই হাত ধরে বাসে তোলে। এ দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। গণপরিবহণে যুব শ্রেণির ভাইদের কাছ থেকে নেতিবাচক আচরণ খুব একটা দেখা যায় না। বাবার বয়সি প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ মেয়েদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়। বাস চালক এবং চালকের সহযোগীদের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, গণপরিবহণে ২০১৭-১৮ সালে ১৩ মাসে ২১ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, গণমাধ্যমে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এসব ঘটনার চালক হেলপারসহ অপরাপর সহযোগীরা মিলে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। শতকরা ৯৪ ভাগ নারী গণপরিবহণে যাতায়াতের সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কখনো মৌখিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং অন্যভাবে। এ ছাড়াও যেসব কারণে গণপরিবহণে ঘটনাগুলো ঘটে তার মধ্যে অন্যতম আইনের বাস্তবায়ন না হওয়া, পরিবহণে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো, দুর্বল মনিটরিং এবং তদারকি। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন খান বলেন, ঢাকার চারটা রুটে-ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে গাজীপুর, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সাভার, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে গাবতলী, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে টঙ্গী পর্যন্ত চলাচলের ৫০টি বাসে আপাতত সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সিসি ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করবে। লজিস্টিকের লোকজনও এটা মনিটর করবে। দ্বিতীয় ধাপে কিছু সাফল্য এলে আরও কয়েকটি বাসে সি সি ক্যামেরা লাগানো হবে। আলপিন অ্যাপস নামে একটি অ্যাপস থাকবে। অ্যাপসে সংযোগ থাকবে ৯৯৯। যদি কোনো নারী শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তখন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় যাদের কাছে আলপিন অ্যাপস আছে, ওই মাধ্যমে তারা ৯৯৯ কল করে জানাতে পারবে তাদের সমস্যার কথা। সেভাবেই তাদের সহযোগিতা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। বাসে সিসি ক্যামেরার বক্সের গায়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম, কর্মসূচির নাম, ৯৯৯ নম্বর লেখা থাকবে। বাসে যাত্রী উঠে ভাববে এখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি করা যাবে না। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেবে। পরিবহণ সেক্টরের মালিক, বাস চালক, হেলপার, কন্ডাক্টর, শ্রমিক তাদের পর্যায়ক্রমে বিফ্রিং দেওয়া হবে। তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। নারী যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। সিসি ক্যামেরার প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে নারী-পুরুষ উভয় যাত্রী দ্রুত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবগত করবেন। দ্রুত লোক পাঠিয়ে ক্যামেরাগুলো সারিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নারী প্রগতি সংঘ নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের মতে, যানবাহনের ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা করা হয়। তাদের বলা হয় যানবাহনের শ্রমিক, চালক, চালকের সহকারী, কন্ডাক্টরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রতিটি যানবাহনের মালিককে এ দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া নারী নির্যাতন একটি আইনগত অপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এর শাস্তি কি তা প্রতিটি বাসে ক্যাসেটের মাধ্যমে বাজিয়ে যাত্রী এবং চালক, চালকের হেলপার ও কন্ডাক্টরের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।

গণপরিবহণে নারীরা কতটুকু নিরাপদ

২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। গণপরিবহণে চলাফেরায় নারীরা কতটুকু নিরাপদ! ৯৯৯ কল করে জানাতে পারবেন তাদের সমস্যার কথা। লিখেছেন-
 রীতা ভৌমিক 
২২ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিউলী বেগম নামের এক পোশাক কর্মী (২৮)। ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় কর্মস্থল গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কমফিট কম্পোজিট গার্মেন্টে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন। কুমারজানী নামক স্থানে পৌঁছা মাত্রই যাত্রীবেশী কয়েকজন তার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। নিজের সম্ভ্রম রক্ষার্থে তিনি বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে চিৎকার করতে থাকেন। কেউ এগিয়ে না এলে একপর্যায়ে তিনি শ্লীলতাহানি থেকে বাঁচার জন্য চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনার দু’দিন পরও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এভাবে মাঝে মাঝেই গণপরিবহণে ছাত্রী, শ্রমিক, কর্মজীবী নারী প্রায়শই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেককে ধর্ষণের পর হত্যাও করা হয়েছে। ৪৪তম দশম জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণপরিবহণে নারী নিগ্রহের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হয়। এসব ঘটনা প্রতিরোধে গণপরিবহণ ও যাত্রীছাউনিতে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ও স্টিকার লাগানোসহ প্রস্তাবনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে।

গণপরিবহণ এবং কোম্পানির গাড়িতে নারী যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে দরকার গণপরিবহণ মালিক, শ্রমিক, চালক, চালকের সহকারী, কন্ডাক্টরদের সুষ্ঠু আচার-আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও দক্ষ কর্ম ব্যবস্থাপনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বীপ্ত ফাউন্ডেশনের কর্মীরা আইসিটির ওপর ভিত্তি করে মনিটরিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া হাসান বলেন, ‘গণপরিবহণে নারীর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ এ কর্মপরিকল্পনা নারীর যাতায়াত ব্যবস্থায় শোভন গণপরিবহণ সৃষ্টি ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির বাস্তবায়নে, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে আমরা সহযোগিতা করব। দক্ষ, কৌশলী টিম দিয়ে কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করব। এর আগে বাংলাদেশে এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এখানে কয়েক স্তরের স্টেকহোল্ডার বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি তাদের চিন্তাচেতনা-ভাবনা, যাত্রী-নারী-পুরুষ, মেয়েশিশু, কিশোরী, তরুণী সবাই যাত্রী। তাদের মধ্যে চালকের সহযোগী মেয়ে অথবা নারী দেখলেই হাত ধরে বাসে তোলে। এ দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। গণপরিবহণে যুব শ্রেণির ভাইদের কাছ থেকে নেতিবাচক আচরণ খুব একটা দেখা যায় না। বাবার বয়সি প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ মেয়েদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়। বাস চালক এবং চালকের সহযোগীদের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, গণপরিবহণে ২০১৭-১৮ সালে ১৩ মাসে ২১ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি, গণমাধ্যমে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এসব ঘটনার চালক হেলপারসহ অপরাপর সহযোগীরা মিলে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। শতকরা ৯৪ ভাগ নারী গণপরিবহণে যাতায়াতের সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কখনো মৌখিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং অন্যভাবে। এ ছাড়াও যেসব কারণে গণপরিবহণে ঘটনাগুলো ঘটে তার মধ্যে অন্যতম আইনের বাস্তবায়ন না হওয়া, পরিবহণে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো, দুর্বল মনিটরিং এবং তদারকি। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন খান বলেন, ঢাকার চারটা রুটে-ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে গাজীপুর, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সাভার, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে গাবতলী, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে টঙ্গী পর্যন্ত চলাচলের ৫০টি বাসে আপাতত সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সিসি ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করবে। লজিস্টিকের লোকজনও এটা মনিটর করবে। দ্বিতীয় ধাপে কিছু সাফল্য এলে আরও কয়েকটি বাসে সি সি ক্যামেরা লাগানো হবে। আলপিন অ্যাপস নামে একটি অ্যাপস থাকবে। অ্যাপসে সংযোগ থাকবে ৯৯৯। যদি কোনো নারী শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তখন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় যাদের কাছে আলপিন অ্যাপস আছে, ওই মাধ্যমে তারা ৯৯৯ কল করে জানাতে পারবে তাদের সমস্যার কথা। সেভাবেই তাদের সহযোগিতা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। বাসে সিসি ক্যামেরার বক্সের গায়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম, কর্মসূচির নাম, ৯৯৯ নম্বর লেখা থাকবে। বাসে যাত্রী উঠে ভাববে এখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বাসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি করা যাবে না। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেবে। পরিবহণ সেক্টরের মালিক, বাস চালক, হেলপার, কন্ডাক্টর, শ্রমিক তাদের পর্যায়ক্রমে বিফ্রিং দেওয়া হবে। তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। নারী যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। সিসি ক্যামেরার প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে নারী-পুরুষ উভয় যাত্রী দ্রুত মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবগত করবেন। দ্রুত লোক পাঠিয়ে ক্যামেরাগুলো সারিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নারী প্রগতি সংঘ নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের মতে, যানবাহনের ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা করা হয়। তাদের বলা হয় যানবাহনের শ্রমিক, চালক, চালকের সহকারী, কন্ডাক্টরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রতিটি যানবাহনের মালিককে এ দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া নারী নির্যাতন একটি আইনগত অপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এর শাস্তি কি তা প্রতিটি বাসে ক্যাসেটের মাধ্যমে বাজিয়ে যাত্রী এবং চালক, চালকের হেলপার ও কন্ডাক্টরের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন