মাগুরার দুই ইউপি মেম্বার
jugantor
মাগুরার দুই ইউপি মেম্বার
মাগুরায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত চাউলিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা বেগম। মঘি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাথী আকতার। লিখেছেন-

  আবু বাসার আখন্দ  

২২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি : হাসিনা বেগম

মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়ন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো হাসিনা বেগম সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রথম সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাসিনা বেগম বলেন, রাজনীতি কখনোই করিনি। মানুষের বিপদে সব সময়ই পাশে দাঁড়িয়েছি। নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করার চেষ্টা করেছি। যে কারণে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আমার কাজকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনিই আমাকে ইউপি মেম্বার পদে নির্বাচনে দাঁড় করান। জয়ী হয়ে মানুষের সেবা করে আমি তার সম্মান রাখার চেষ্টা করেছি। আমি গরিব মানুষ। তারপরও এলাকার লোকজন আমাকে সম্মান করেন। ভালোবাসেন। আমিও তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। চাউলিয়া ইউনিয়ন পৌরসভার সীমানা সংলগ্ন হলেও এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষা সচেতনতার অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা বাল্যবিয়ে। নারী শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহতা। এর শিকার আমি নিজেও। লেখাপড়া শেখার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারিনি। অল্প বয়সেই শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার জীবনে যা পাইনি, তা এলাকার মেয়েদের জীবনে যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কিন্তু দুঃখের কথা, একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করায় গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আমার বিপক্ষে চলে গেছে। তারা আমাকে ভোট দেয়নি। কিন্তু তাই বলে থেমে থাকিনি। মনে করি, ভালো কাজে বাধা আসবেই। তা মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। মেয়েদের অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষা। গ্রামের মেয়েরা লেখাপড়া শিখলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। নিজেদের ভালো-মন্দ বোধ জাগবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। প্রথমবার ইউপি মেম্বার হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী পেতাম মাত্র ৯০০ টাকা। এ টাকা জনগণের স্বার্থে খরচ করেছি। স্বামী ওসমান গণি বেঁচে থাকতে চায়ের দোকানের আয়েই আমার সংসার চলত। এখন ছেলে চায়ের দোকান সামলাচ্ছে। হাসিনা বেগমের বাড়ি পারলা পূর্বপাড়ায়। বসতঘরের টিনে জং ধরেছে। স্যাঁতসেঁতে মাটির মেঝে। গ্রামে গ্রামে হেঁটে খোঁজ রাখেন মানুষের। বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ান। এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে চলছে দাঙ্গা হাঙ্গামা; সেখানেও হাজির হাসিনা বেগম।

পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে কাজ করা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন : সাথী আকতার

সাথী আকতার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। গতবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে হেরে যান সাথী আকতার। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। থেমেও যাননি। উপরোন্তু গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্কুল বিমুখ শিশুদের বাবা-মাকে বলে স্কুলে পাঠিয়েছেন। অনেক শিশুর লেখাপড়ার খরচও জোগান নিয়মিত। যার স্বীকৃতি পেলেন এবারের নির্বাচনে। তার স্বামী সদর উপজেলার মঘি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন। অল্প বয়সেই সংসার জীবনে ঢুকে যান। কিন্তু বিয়ের পর লেখাপড়া চালিয়ে যান। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। সংসারের প্রয়োজনে স্থানীয় একটি এনজিওতে চাকরি নেন। এখানে তিনি ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসেন। এ থেকেই জনসেবার প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নির্বাচনে ভোটারদের সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে সাথী আকতার বলেন, গ্রামবাসীর পাশে থাকার সুযোগ চেয়েছি মাত্র। রাজনীতির সঙ্গে কখনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু স্বামী ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির একজন কর্মী। মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। যা আমাকে রাজনীতিতে টানে। তবে প্রথাগত রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই আমার। মাগুরার অবহেলিত একটি ইউনিয়ন মঘি। শিক্ষার হারে অন্য এলাকার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নেওয়া আমার অনেকদিনের স্বপ্ন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেটি সম্ভব না হলেও নিজ প্রচেষ্টায় পূরণ করার প্রত্যাশা রাখি। আত্মোন্নয়নে স্বপ্ন দেখে মানুষ। আর হাসিনা-সাথী স্বপ্ন দেখেন সমাজ উন্নয়নে। গ্রামের প্রতিটি ঘর হোক আলোকিত, মানুষের স্বপ্ন পূরণ হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।

মাগুরার দুই ইউপি মেম্বার

মাগুরায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত চাউলিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা বেগম। মঘি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাথী আকতার। লিখেছেন-
 আবু বাসার আখন্দ 
২২ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় অনেকে আমাকে ভোট দেয়নি : হাসিনা বেগম

মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়ন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো হাসিনা বেগম সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রথম সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাসিনা বেগম বলেন, রাজনীতি কখনোই করিনি। মানুষের বিপদে সব সময়ই পাশে দাঁড়িয়েছি। নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করার চেষ্টা করেছি। যে কারণে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আমার কাজকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনিই আমাকে ইউপি মেম্বার পদে নির্বাচনে দাঁড় করান। জয়ী হয়ে মানুষের সেবা করে আমি তার সম্মান রাখার চেষ্টা করেছি। আমি গরিব মানুষ। তারপরও এলাকার লোকজন আমাকে সম্মান করেন। ভালোবাসেন। আমিও তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। চাউলিয়া ইউনিয়ন পৌরসভার সীমানা সংলগ্ন হলেও এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষা সচেতনতার অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা বাল্যবিয়ে। নারী শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহতা। এর শিকার আমি নিজেও। লেখাপড়া শেখার অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারিনি। অল্প বয়সেই শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার জীবনে যা পাইনি, তা এলাকার মেয়েদের জীবনে যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। কিন্তু দুঃখের কথা, একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করায় গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আমার বিপক্ষে চলে গেছে। তারা আমাকে ভোট দেয়নি। কিন্তু তাই বলে থেমে থাকিনি। মনে করি, ভালো কাজে বাধা আসবেই। তা মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। মেয়েদের অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষা। গ্রামের মেয়েরা লেখাপড়া শিখলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। নিজেদের ভালো-মন্দ বোধ জাগবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। প্রথমবার ইউপি মেম্বার হিসাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী পেতাম মাত্র ৯০০ টাকা। এ টাকা জনগণের স্বার্থে খরচ করেছি। স্বামী ওসমান গণি বেঁচে থাকতে চায়ের দোকানের আয়েই আমার সংসার চলত। এখন ছেলে চায়ের দোকান সামলাচ্ছে। হাসিনা বেগমের বাড়ি পারলা পূর্বপাড়ায়। বসতঘরের টিনে জং ধরেছে। স্যাঁতসেঁতে মাটির মেঝে। গ্রামে গ্রামে হেঁটে খোঁজ রাখেন মানুষের। বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ান। এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে চলছে দাঙ্গা হাঙ্গামা; সেখানেও হাজির হাসিনা বেগম।

পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে কাজ করা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন : সাথী আকতার

সাথী আকতার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। গতবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটে হেরে যান সাথী আকতার। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। থেমেও যাননি। উপরোন্তু গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্কুল বিমুখ শিশুদের বাবা-মাকে বলে স্কুলে পাঠিয়েছেন। অনেক শিশুর লেখাপড়ার খরচও জোগান নিয়মিত। যার স্বীকৃতি পেলেন এবারের নির্বাচনে। তার স্বামী সদর উপজেলার মঘি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন। অল্প বয়সেই সংসার জীবনে ঢুকে যান। কিন্তু বিয়ের পর লেখাপড়া চালিয়ে যান। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। সংসারের প্রয়োজনে স্থানীয় একটি এনজিওতে চাকরি নেন। এখানে তিনি ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসেন। এ থেকেই জনসেবার প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নির্বাচনে ভোটারদের সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে সাথী আকতার বলেন, গ্রামবাসীর পাশে থাকার সুযোগ চেয়েছি মাত্র। রাজনীতির সঙ্গে কখনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু স্বামী ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির একজন কর্মী। মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেন। যা আমাকে রাজনীতিতে টানে। তবে প্রথাগত রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই আমার। মাগুরার অবহেলিত একটি ইউনিয়ন মঘি। শিক্ষার হারে অন্য এলাকার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নেওয়া আমার অনেকদিনের স্বপ্ন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেটি সম্ভব না হলেও নিজ প্রচেষ্টায় পূরণ করার প্রত্যাশা রাখি। আত্মোন্নয়নে স্বপ্ন দেখে মানুষ। আর হাসিনা-সাথী স্বপ্ন দেখেন সমাজ উন্নয়নে। গ্রামের প্রতিটি ঘর হোক আলোকিত, মানুষের স্বপ্ন পূরণ হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন