অবিরত চেষ্টা ব্যর্থ হয় না
jugantor
অবিরত চেষ্টা ব্যর্থ হয় না
ইয়োহানি দিলোকা ডি সিলভা শ্রীলংকান গায়িকা, গীতিকার, র‌্যাপার আর সংগীত প্রযোজক। লিখেছেন-

  সাব্বিন হাসান  

২২ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ‘ইয়োহানি’ নামেই ছড়িয়েছেন বিশ্ব খ্যাতি। পুরো নাম ইয়োহানি দিলোকা ডি সিলভা। সিংহলি বংশোদ্ভূত। জন্ম ১৯৯৩ সালের ৩০ জুলাই। জন্মস্থান শ্রীলংকার কলম্বো শহরে। ইয়োহানি একজন শ্রীলংকান গায়িকা, গীতিকার, র‌্যাপার আর সংগীত প্রযোজক। আরেকটা নতুন পরিচয় তিনি ব্যবসাও করছেন। সংগীত জীবনের সুখ্যাতি ছড়িয়েছেন ইউটিউবার হয়ে। নিজের ‘দেবিয়াঙ্গে বারে’ গানের জন্য র‌্যাপার হিসাবে স্বীকৃতি পান। ইয়োহানির গাওয়া ‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটি শ্রীলংকা, ভারত ও বাংলাদেশে দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসে।

বাবা প্রসন্ন ডি সিলভা। শ্রীলংকার সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল। মা দিনীথি ডি সিলভা। যিনি শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের সাবেক এয়ার হোস্টেস। বিশাখা বিদ্যালয়ের নামকরা সাঁতারু। তা ছাড়া ওয়াটার পোলো খেলোয়াড় হিসাবে খেলাধুলায়ও বেশ পারদর্শী। সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠায় এসবে তিসি সহজাত ছিলেন। শিল্পী হিসাবে সংগীত জীবন শুরুর আগে লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট ও প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে ইয়োহানি তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। মাত্র ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলংকায় আগে কোনো গানের ভিউ এতটা রেকর্ড স্পর্শ করেনি। শ্রীলংকার কোনো একক গান নিয়ে আগে দেশটির বাইরে এত হইচই পড়েনি। বিশ্বের গানের দরবারে শ্রীলংকার কোনো গানকে কখনো সেভাবে টেক্কা দিতে দেখা যায়নি।

‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটি ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, থাই, নেপালি, বাংলাসহ বিশ্বের বহু ভাষায় গাওয়া হয়েছে। সব ভাষাতেই গানটির ভিউ ১০ লাখের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গানের মূল উপজীব্য কথা প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো।

শ্রীলংকান গায়িকার মিউজিক ভিডিও যেখানে মিলিয়ন ভিউ ছুঁতে ব্যর্থ হয়, ইয়োহানির গান সেখানে সব রেকর্ড ভেঙেছে। টানা তিন দিন গানটি প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মানুষ শুনেছেন। ইতোমধ্যে গানটি নিয়ে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইট করে লিখেছেন, শ্রীলংকার ‘মানিকে মাগে হিতে’ গানটি এক কথায় দুর্দান্ত। আমার জিনিয়াস নাতনি কালিয়া ছবির গানের সঙ্গে গানটি এডিট করেছেন। উত্তরে ইয়োহানি ফেসবুকে শুধুই লিখেছেন, ওএমজি। তা ছাড়া গানটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রিয়েলিটি শোতে জায়গা করে নিচ্ছে। তাবৎ বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মন জয় করা গানটির গায়িকা ইয়োহানি সংগীত বিশ্বের এখন আর কারও কাছেই অচেনা নয়।

শ্রীলংকান সেনা পরিবারে জন্ম নেওয়া গায়িকা ইয়োহানি ডি সিলভা। শৈশব থেকেই গানের প্রতি দুর্বল। বাবা সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ মেজর জেনারেল। আর ঠিক সেই সুবাদে শ্রীলংকার বিভিন্ন অঞ্চল, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশেও তার সময় কেটেছে। শৈশব থেকেই বহু ভাষায় সঙ্গে পরিচিত ঘটে তার। তবে পরিবারে মায়ের উৎসাহেই গানের চর্চা শুরু। কিন্তু পুরোপুরি পেশাদার গায়িকা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না কখনোই। লজিস্টিক ম্যানেজমেন্টে পড়ার সময়ই গানের প্রতি অদম্য ভালোবাসার সৃষ্টি। অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স করতে চলে যান অস্ট্রেলিয়া। বিদেশে নিয়মিত গান কাভার করতে থাকেন। সেগুলো নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করতেন। আর হঠাৎ করেই তার গাওয়া ‘ডেভিয়াঙ্গে বারে’ শিরোনামের গানটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটা শুনলে কেউই সঠিক অর্থ বুঝতে পারবেন না। সিংহলি ভাষা তো জানার কথা নয়। আর তামিল বা মালয়ালামের মতো সিংহলি ভাষাও বাঙালিদের কাছে খুব চেনা নয়। তারপরও কী এক বিশুদ্ধ জাদুতে যেন পুরো গান শুনতে চায় মন। গানটি মূলত প্রেমকেন্দ্রিক। গানের মধ্যে প্রেমিকার রূপের গুণকীর্তন করে তার মান ভাঙানোর অব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রেমিক। সব মিলিয়ে ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের গানটি যেন ঘুরেফিরে বারবার শুনতেই ইচ্ছা করবে। সংগীতের কোনো ভাষা নেই, সীমানা নেই, দেশ নেই। তা যেন তাবৎ বিশ্বকে আরও একবার প্রমাণ করলেন ২৮ বছরের ইয়োহানি।

তিনি এখন তরুণ প্রজন্মের স্টার। শ্রীলংকান ইউটিউব স্টার। আগে অবশ্য র‌্যাপার হিসাবে জনপ্রিয় হন। বর্তমানে দেশে-বিদেশে নিয়মিত স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তিনি এখন শ্রীলংকার ‘র‌্যাপ প্রিন্সেস’ হিসাবে সুপরিচিত।

ইতোমধ্যে ‘মানিকে মাগে হিতে’ গানটি দিয়ে দেশের বাইরে থেকেও গানের প্রস্তাব পেয়েছেন। ইয়োহানির সঙ্গে ‘মানিকে’ গানে ছিলেন শ্রীলংকার আরেক জনপ্রিয় র‌্যাপার সতীসন রত্নায়ক। গানের কথা লিখেছেন দুলান এআরএক্স। গানটি ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনার সময় রেকর্ড হলেও আপলোড হয় ২০২১ সালের ২২ মে।

ইতোমধ্যে ‘মানিকে’ গানটি ভারতের ৫০ ভাইরাল গানের তালিকায় ৬ নম্বরে। ইয়োহানি ফেসবুকে লিখেছেন, ভারতে ‘মানিকে’ ভাইরাল জেনে আমি অভিভূত। সমর্থন আর ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।

জনপ্রিয়তার পেছনে নয়, নতুন কিছু সৃষ্টি যা নিজেকে আনন্দ দেবে, মনের প্রশান্তি এনে দেবে এমন কাজে নিবেদিত থাকলে সাফল্য নিয়তির কাছে এসে ধরা দেবেই। কতটা গভীর চেষ্টা নিয়ে স্বপ্নের পেছনে ছুটছি সেটাই আসলে সাফল্যের মাপকাঠি নির্ধারণ করে। সুতরাং চেষ্টা করে যেতে হবে অবিরাম। নিজের কথাগুলো এভাবেই ভক্তদের উদ্দেশে বলেছেন ইয়োহানি ডি সিলভা।

অবিরত চেষ্টা ব্যর্থ হয় না

ইয়োহানি দিলোকা ডি সিলভা শ্রীলংকান গায়িকা, গীতিকার, র‌্যাপার আর সংগীত প্রযোজক। লিখেছেন-
 সাব্বিন হাসান 
২২ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ‘ইয়োহানি’ নামেই ছড়িয়েছেন বিশ্ব খ্যাতি। পুরো নাম ইয়োহানি দিলোকা ডি সিলভা। সিংহলি বংশোদ্ভূত। জন্ম ১৯৯৩ সালের ৩০ জুলাই। জন্মস্থান শ্রীলংকার কলম্বো শহরে। ইয়োহানি একজন শ্রীলংকান গায়িকা, গীতিকার, র‌্যাপার আর সংগীত প্রযোজক। আরেকটা নতুন পরিচয় তিনি ব্যবসাও করছেন। সংগীত জীবনের সুখ্যাতি ছড়িয়েছেন ইউটিউবার হয়ে। নিজের ‘দেবিয়াঙ্গে বারে’ গানের জন্য র‌্যাপার হিসাবে স্বীকৃতি পান। ইয়োহানির গাওয়া ‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটি শ্রীলংকা, ভারত ও বাংলাদেশে দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসে।

বাবা প্রসন্ন ডি সিলভা। শ্রীলংকার সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল। মা দিনীথি ডি সিলভা। যিনি শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের সাবেক এয়ার হোস্টেস। বিশাখা বিদ্যালয়ের নামকরা সাঁতারু। তা ছাড়া ওয়াটার পোলো খেলোয়াড় হিসাবে খেলাধুলায়ও বেশ পারদর্শী। সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠায় এসবে তিসি সহজাত ছিলেন। শিল্পী হিসাবে সংগীত জীবন শুরুর আগে লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট ও প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে ইয়োহানি তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। মাত্র ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলংকায় আগে কোনো গানের ভিউ এতটা রেকর্ড স্পর্শ করেনি। শ্রীলংকার কোনো একক গান নিয়ে আগে দেশটির বাইরে এত হইচই পড়েনি। বিশ্বের গানের দরবারে শ্রীলংকার কোনো গানকে কখনো সেভাবে টেক্কা দিতে দেখা যায়নি।

‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটি ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, থাই, নেপালি, বাংলাসহ বিশ্বের বহু ভাষায় গাওয়া হয়েছে। সব ভাষাতেই গানটির ভিউ ১০ লাখের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গানের মূল উপজীব্য কথা প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো।

শ্রীলংকান গায়িকার মিউজিক ভিডিও যেখানে মিলিয়ন ভিউ ছুঁতে ব্যর্থ হয়, ইয়োহানির গান সেখানে সব রেকর্ড ভেঙেছে। টানা তিন দিন গানটি প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মানুষ শুনেছেন। ইতোমধ্যে গানটি নিয়ে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইট করে লিখেছেন, শ্রীলংকার ‘মানিকে মাগে হিতে’ গানটি এক কথায় দুর্দান্ত। আমার জিনিয়াস নাতনি কালিয়া ছবির গানের সঙ্গে গানটি এডিট করেছেন। উত্তরে ইয়োহানি ফেসবুকে শুধুই লিখেছেন, ওএমজি। তা ছাড়া গানটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রিয়েলিটি শোতে জায়গা করে নিচ্ছে। তাবৎ বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মন জয় করা গানটির গায়িকা ইয়োহানি সংগীত বিশ্বের এখন আর কারও কাছেই অচেনা নয়।

শ্রীলংকান সেনা পরিবারে জন্ম নেওয়া গায়িকা ইয়োহানি ডি সিলভা। শৈশব থেকেই গানের প্রতি দুর্বল। বাবা সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ মেজর জেনারেল। আর ঠিক সেই সুবাদে শ্রীলংকার বিভিন্ন অঞ্চল, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশেও তার সময় কেটেছে। শৈশব থেকেই বহু ভাষায় সঙ্গে পরিচিত ঘটে তার। তবে পরিবারে মায়ের উৎসাহেই গানের চর্চা শুরু। কিন্তু পুরোপুরি পেশাদার গায়িকা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না কখনোই। লজিস্টিক ম্যানেজমেন্টে পড়ার সময়ই গানের প্রতি অদম্য ভালোবাসার সৃষ্টি। অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স করতে চলে যান অস্ট্রেলিয়া। বিদেশে নিয়মিত গান কাভার করতে থাকেন। সেগুলো নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করতেন। আর হঠাৎ করেই তার গাওয়া ‘ডেভিয়াঙ্গে বারে’ শিরোনামের গানটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ‘মানিকে মাগে হিথে’ গানটা শুনলে কেউই সঠিক অর্থ বুঝতে পারবেন না। সিংহলি ভাষা তো জানার কথা নয়। আর তামিল বা মালয়ালামের মতো সিংহলি ভাষাও বাঙালিদের কাছে খুব চেনা নয়। তারপরও কী এক বিশুদ্ধ জাদুতে যেন পুরো গান শুনতে চায় মন। গানটি মূলত প্রেমকেন্দ্রিক। গানের মধ্যে প্রেমিকার রূপের গুণকীর্তন করে তার মান ভাঙানোর অব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রেমিক। সব মিলিয়ে ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের গানটি যেন ঘুরেফিরে বারবার শুনতেই ইচ্ছা করবে। সংগীতের কোনো ভাষা নেই, সীমানা নেই, দেশ নেই। তা যেন তাবৎ বিশ্বকে আরও একবার প্রমাণ করলেন ২৮ বছরের ইয়োহানি।

তিনি এখন তরুণ প্রজন্মের স্টার। শ্রীলংকান ইউটিউব স্টার। আগে অবশ্য র‌্যাপার হিসাবে জনপ্রিয় হন। বর্তমানে দেশে-বিদেশে নিয়মিত স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তিনি এখন শ্রীলংকার ‘র‌্যাপ প্রিন্সেস’ হিসাবে সুপরিচিত।

ইতোমধ্যে ‘মানিকে মাগে হিতে’ গানটি দিয়ে দেশের বাইরে থেকেও গানের প্রস্তাব পেয়েছেন। ইয়োহানির সঙ্গে ‘মানিকে’ গানে ছিলেন শ্রীলংকার আরেক জনপ্রিয় র‌্যাপার সতীসন রত্নায়ক। গানের কথা লিখেছেন দুলান এআরএক্স। গানটি ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনার সময় রেকর্ড হলেও আপলোড হয় ২০২১ সালের ২২ মে।

ইতোমধ্যে ‘মানিকে’ গানটি ভারতের ৫০ ভাইরাল গানের তালিকায় ৬ নম্বরে। ইয়োহানি ফেসবুকে লিখেছেন, ভারতে ‘মানিকে’ ভাইরাল জেনে আমি অভিভূত। সমর্থন আর ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।

জনপ্রিয়তার পেছনে নয়, নতুন কিছু সৃষ্টি যা নিজেকে আনন্দ দেবে, মনের প্রশান্তি এনে দেবে এমন কাজে নিবেদিত থাকলে সাফল্য নিয়তির কাছে এসে ধরা দেবেই। কতটা গভীর চেষ্টা নিয়ে স্বপ্নের পেছনে ছুটছি সেটাই আসলে সাফল্যের মাপকাঠি নির্ধারণ করে। সুতরাং চেষ্টা করে যেতে হবে অবিরাম। নিজের কথাগুলো এভাবেই ভক্তদের উদ্দেশে বলেছেন ইয়োহানি ডি সিলভা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন