স্বপ্নের বিশ্বকাপ খেলবে নারী ক্রিকেট দল
jugantor
স্বপ্নের বিশ্বকাপ খেলবে নারী ক্রিকেট দল
প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা দেশের সম্মান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। লিখেছেন-

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রনে’র প্রকোপ শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়েতে। বাতিল হয়েছে সেখানে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। সেটাই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। শনিবার আইসিসি জিম্বাবুয়েতে চলমান বাছাইয়ের টুর্নামেন্টটি বাতিলের ঘোষণা করে। করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে এদিন শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ বাতিল হওয়ার পরই আইসিসি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতেই আগে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সুযোগ মিলেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার। স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দে নাওয়া-খাওয়া ভুলে মেতে ছিলেন নারী ক্রিকেটাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা শুরু হয়েছে একযুগ আগে থেকে। বাছাইপর্বের আগেই এবার দল নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দাপুটে জয় নিয়ে বাছাই পর্ব শুরু করে সালমা-জাহানারা। শুরুটাও হয় দুর্দান্ত। যুক্তরাষ্ট্রকে একেবারে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। এরপর পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সম্ভাবনা আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাদের কাছে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা হেরে যায় ১৬ রানে। তবুও সঠিক পথেই ছিল। তবে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলোর করোনা পরিস্থিতি খুই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সেসব দিক বিবেচনা করেই বাছাই পর্ব আইসিসি বাতিল করেছে। বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন নারী খেলোয়াড়রা।

নিগার সুলতানা জ্যোতি

অধিনায়ক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচের সিরিজটি বাংলাদেশ জিতে নেয় ৩-০ ব্যবধানে। এ সিরিজ দিয়েই নেতৃত্বের পথচলা শুরু হয় নিগার সুলতানার। বাছাই পেরিয়েও মূল পর্বে যাওয়ার বিশ্বাস তার ছিল। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সফরে এত বড় সুখবর পেয়ে নিগারের আনন্দে বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। উইকেটকিপার এবং টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেন নিগার। একবার উইকেটে থিতু হতে পারলে বড় ইনিংস খেলতে পারেন। ওয়ানডেতে ২৩ ম্যাচে তার রান ৩৭৬টি ২০ ক্রিকেটে ৫২ ম্যাচ খেলে ৮৫৮ রান করেছেন ২৪ বছর বছর বয়সি নিগার।

তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এখানে (জিম্বাবুয়ে) এসেছিলাম, তা পূরণ হয়েছে। হয়তো এটা কিছুদিন পরে হতো, কিন্তু আগেই হয়ে গেছে, যার জন্য আমরা বেশি আনন্দিত। আমি বলব, এটা আমাদের সবার কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমরা যদি র‌্যাংকিংয়ে পাঁচে থেকে কোয়ালিফাই করি, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমরা প্রত্যেকে যে কাজগুলো করেছি, তার ফল হিসাবে এটা পেয়েছি। আমি আরও বেশি খুশি যে প্রথমবার অধিনায়ক হিসাবে এসে আমি এত বড় একটা আনন্দ পেয়েছি। এটা আমাদের দলের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপে গিয়ে যেন আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।

সালমা খাতুন

সাবেক অধিনায়ক ও স্পিনিং অলরাউন্ডার

আরেক সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সালমা খাতুনের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মূল পর্বেও ভালো করবেন তারা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের শুরুটা হয়েছে এ সালমাদের হাত ধরে। খুলনার মেয়ে সালমা ক্যারিয়ারে এতো লম্বা সময় খেলার পরও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আফসোস ছিল।

বাছাইপর্ব খেলতে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে সেটা আমার ক্যারিয়ারে বড় আফসোস হয়ে থাকবে।

জিম্বাবুয়ের যাওয়ার পর থেকেই দারুণ বোলিং করেছেন। দীর্ঘদিন ব্যাটিংয়ে তার আগের মতো ধার ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে রুমানাকে ভালোভাবে সহযোগিতা করেছেন। ভূমিকা রেখেছেন জয়ে। ওয়ানডে ও টি ২০ ক্রিকেটে তার উইকেট ৪১ ও ৬৬টি।

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর সালমা বলেন, বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে আমরা অনেক আনন্দিত। এটা বলে বোঝানো যাবে না, আমরা কতটা আনন্দিত। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমরা এখানে এসেছিলাম বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে, সেটায় আমরা সফল হয়েছি। আশা করি, বিশ্বকাপে গিয়ে আমরা ভালো করব।

রুমানা আহমেদ

অলরাউন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক

সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ। মাঝে ইনজুরির কারণে বেশ কিছুদিন দলকে সার্ভিস দিতে পারেননি। ৩০ বছর বয়সি রুমানা লেগ-স্পিনের সঙ্গে মিডল অর্ডারে দলের ভরসা। খেলেছেন ৪২টি ওয়ানডে ও ৬৫টি টি ২০ ম্যাচে। ওয়ানডেতে তার পাঁচ হাফ সেঞ্চুরিতে রান ৮৯৩, উইকেট ৪৫টি। টি ২০ ক্রিকেটে এক ফিফটিতে করেছেন ৭৪৬ রান, উইকেট ৫৭টি। বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনেকটা পেছনে থাকার পরও বাংলাদেশকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যায় রুমানার সাহসী ৫০* রানের ইনিংসটি।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার আনন্দে রুমানা বলেন, দিনটা আমাদের জন্য অনেক স্মরণীয়, এ দিনেই আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছি। আমরা অনেক ভালোভাবে র‌্যাংকিংয়ে পাঁচে এসেছি, এটা আমার কাছে আনন্দের। দেশবাসীর, সবার দোয়া ছিল বলে আজ এরকম একটা অনুভূতি আমাদের। পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বকাপে গিয়ে যেন আমরা ভালো কিছু করতে পারি। আশা করি আমরা ভালো কিছুই হবে।

জাহানারা আলম

সাবেক অধিনায়ক ও পেসার

বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর পথচলার সঙ্গে সঙ্গী হয়ে আছেন জাহানারা আলম। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় জড়িয়ে বোলিং করা তার ট্রেডমার্ক অ্যাকশন। মহিলা ক্রিকেটারদের গ্লামারেও শীর্ষ কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন জাহানারা। অধ্যবসায়, পরিশ্রমী ও ক্রিকেটের প্রতি জাহানারার নিবেদন সবার আগে থাকে। পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি শেষদিকে ব্যাটিংয়েও দলকে বেশ টানেন খুলনার এ মেয়ে। বাংলাদেশ দলের পাশপাশি ভারতের মেয়েদের আইপিএলে ভেলোসিটির হয়েও খেলেছেন। ৪০ ওয়ানডে এবং ৭১টি ২০ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন।

জাহানারা বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আমি খুবই খুশি। অবশেষে আমাদের স্বপ্ন সফল হয়েছে।

ফারজানা হক

মিডল অর্ডার ব্যাটার

স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসছেন ব্যাটার ফারজানা হকও। তিনি যেন অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, যে স্বপ্নটা আজ পূরণ হয়েছে আমাদের, এটা শুধু আমাদের নয়, ক্রিকেট বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সবার। যে স্বপ্ন আমাদের ছিল, সেটা আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন হয়েছে। বুঝিয়ে অনুভূতিতে বলা যাবে না আসলে কী অনুভব করছি। আমাদের যে স্বপ্নটা পূরণ হলো এটা আমাদের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নতুন বার্তা বয়ে এনেছে। আমরা যখন নিউজিল্যান্ডে যাব, দৃশ্যগুলো অনেক পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমরা সবাই অনেক ভালো খেলব। নারী ক্রিকেট দল আগামীতেও যেন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বড় অর্জন নিয়ে আসতে পারে। এটাই দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা।

শারমিন আক্তার সুপ্তি

টপঅর্ডার ব্যাটার

গাইবান্ধার মেয়ে শারমিন আক্তার সুপ্তি। পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওপেনিং ব্যাটার হিসাবে তার অর্জন তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। ২৫ বছর বয়সি সুপ্তির প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু ভালো শুরুর পরও বড় স্কোর করতে পারছিলেন না। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পেয়ে গেলেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপরাজিত থাকেন ১৩০ রানে। ২৫ ওয়ানডেতে তার রান ৩৬৮ এবং ১৪ টি ২০-তে করেছেন ১২৬ রান। এই ধারাবাহিকতায় আরও এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শারমিন আক্তার সুপ্তি বলেন, আমার দল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। খুবই ভালো লাগছে। এটা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

মুর্শিদা খাতুন

ওপেনার

বাংলাদেশ দলের বাঁ-হাতি ওপেনার মুর্শিদা খাতুন। ২২ বছর বয়সি এই ব্যাটার দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী। অনেক চেষ্টা করেও যেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছিলেন না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে অবশেষে দারুণ পারফর্ম করলেন। হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আগামী দিনে তাকে নিয়ে অনেক বেশি প্রত্যাশাও করছে বিসিবি। এখন পর্যন্ত তিনি নয়টি ওয়ানডে ও ১০টি টি ২০ খেলেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার আনন্দে মুর্শিদা খাতুন বলেন, আমরা ২০২২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছি, খুব ভালো লাগছে।

রিতু মনি

অলরাউন্ডার

ডানহাতি ব্যাটার রিতু মনি। একই সঙ্গে মিডিয়াম বোলিংও করেন। মিডল অর্ডারে ঋতু মনি দলের অন্যতম ভরসা।

বগুড়ার মেয়ে রিতু মনি এই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন। ২৮ বছর বয়সি রিতু খেলেছেন ১৯টি ওয়ানডে ও ৩০টি টি ২০ ম্যাচ। ওয়ানডেতে ২১.০০ গড়ে করেছেন ১৮৯ রান। টি ২০তে ১৪৪। এছাড়া ওয়ানডেতে পাঁচটি ও টি ২০ ক্রিকেটে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন। তার মতে, ‘আমাদের স্বপ্ন সফল হলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়ায়।’

লতা মন্ডল

ব্যাটিং অলরাউন্ডার

দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে লতা মন্ডলের। শেষদিকে তার ব্যাটিং দলের জন্য অনেক কার্যকর। বোলার হিসাবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঝে বেশ কিছুদিন বাজে ফর্মের কারণে ছিলেন দলের বাইরে। তবে প্রস্তুতিতে ভালো করায় আবারও দলে ফিরেছেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ রানের ভালো একটি ইনিংস খেলেছেন ঢাকার মেয়ে ২৮ বছর বয়সি লতা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর দিকে তিনিও ছিলেন একজন সৈনিক। ২৪টি ওয়ানডে ও ৩৮টি টি ২০ ম্যাচে তার রান ৩৩৩ এবং ২৯৯। এছাড়া উইকেট নিয়েছেন যথাক্রমে ১৩ ও পাঁচটি। লতা মন্ডলের মতে, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

ফাহিমা খাতুন

লেগ-স্পিনার

২৯ বছর বয়সি লেগ-স্পিনার ফাহিমা নারী ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নারী ক্রিকেটে তিনি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলেছেন। ওয়ানডেতে ১৮ ম্যাচে তার উইকেট আটটি। ৫৯ টি ২০ ম্যাচে উইকেট ৩০টি। টি ২০ ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে তিনি করেছেন ৩০০ রানও। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিন ম্যাচে তিনি নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ফাহিমা খাতুনের মতে, এই জয় আমাদের সবার। ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমরা সেরাটাই দেব।

নাহিদা আক্তার

বাঁ-হাতি স্পিনার

নাহিদা আক্তার। বয়স মাত্র ২১ বছর। সম্প্রতি দেশের সেরা বোলারও তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১১ উইকেট। শেষ ম্যাচের ম্যাচসেরা হয়েছেন। একই সঙ্গে সিরিজসেরাও তিনি। বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৫ রানে তিনি নেন দুটি উইকেট। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে পাননি কোনো উইকেট। ওয়ানডেতে ১৯ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২৬ উইকেট। টি ২০ ক্রিকেটে ৪১ ম্যাচে ৫০ উইকেট। বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ায় দারুণ খুশি তিনি।

খাদিজা-তুল-কুবরা

স্পিনার

বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞদের একজন খাদিজা-তুল-কুবরা। ২৬ বছর বয়সি এই স্পিনার বগুড়ার মেয়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরু থেকেই রয়েছেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলেছেন ৩১ ম্যাচ। নিয়েছেন ৪২ উইকেট। টি ২০ ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে পেয়েছেন ৪৩ উইকেট। একসময়ের নিয়মিত একাদশে জায়গা পেতেন। এখন ঘুরেফিরে সুযোগ পান দলে। তবুও দলের অন্যতম ভরসার নাম খাদিজা। খাদিজা-তুল-কুবরার মতে, যে কোনো জয়ই আনন্দের।

সানজিদা আক্তার মেঘলা

বাঁ-হাতি স্পিনার

যশোরের মেয়ে সানজিদা আক্তার মেঘলা। বাঁ-হাতি স্পিনার তিনি। বয়স মাত্র ২০ বছর। কিন্তু দারুণ প্রতিভাবান। তাকে নিয়ে বড় আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র একটি টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন। সানজিদা আক্তার মেঘলা বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সত্যিই আনন্দের।

সোবহানা মোস্তারি

ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার

তরুণ ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার সোবহানা মোস্তারি। বয়স মাত্র ১৯ বছর। রংপুরের এই মেয়ে এখনো নিজের প্রতিভার ছাপ রাখতে পারেননি সেভাবে। সব মিলে খেলেছেন চারটি ওয়ানডে ও তিনটি টি ২০। সোবহানা মোস্তারি বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের হয়ে অংশ নেবো এটা সত্যিই আনন্দের একটি খবর। আমি খুবই গর্বিত।

নুজহাত তাসনিয়া

উইকেটকিপার-ব্যাটার

গাইবান্ধার মেয়ে নুজহাত তাসনিয়া। দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল। এখনো জাতীয় দলের হয়ে নিজের ছাপ ফেলতে পারেননি। তবে তাকে নিয়ে খুবই আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। নুজহাত তাসনিয়া বলেন, এবারের টুর্নামেন্টে পারদর্শীতা তেমন দেখাতে না পারলেও বিশ্বকাপের জন্য অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করবো।

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেড় বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরতি ছিল দুই বছরের। এই মাসের মাঝামাঝি জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরে তারা। এবার জিম্বাবুয়েতে দুই গ্রুপে ভাগ করে নয় দল নিয়ে শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব। দুই গ্রুপ থেকে সেরা তিনটি করে দল নিয়ে আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল সুপার সিক্স। চূড়ান্ত পর্বের জন্য সেরা তিন দল নির্বাচিত করা হতো সেখান থেকে।

মাহমুদ ইমন

প্রধান কোচ

দলের স্থানীয় প্রধান কোচ মাহমুদ ইমন বলেন, ‘এটার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমার কোচিং জীবনের সেরা অর্জন হচ্ছে এই দিনটা। আমার জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন, বাংলাদেশ নারী দলের জন্যও।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা নিয়ে গত এক বছর ধরে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, দলের সঙ্গে সংশিষ্ট সবার একটা আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল যে আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করব। যাতে বাংলাদেশ নারী দল একটা ভালো অবস্থানে যায়, বিশ্ব দরবারে অন্যতম উচ্চতায় জায়গা করে নিতে পারে। আল্লাহর রহমতে আমরা এটা অর্জন করতে পেরেছি।’

স্বপ্নের বিশ্বকাপ খেলবে নারী ক্রিকেট দল

প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা দেশের সম্মান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। লিখেছেন-
 জ্যোতির্ময় মণ্ডল 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রনে’র প্রকোপ শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়েতে। বাতিল হয়েছে সেখানে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। সেটাই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। শনিবার আইসিসি জিম্বাবুয়েতে চলমান বাছাইয়ের টুর্নামেন্টটি বাতিলের ঘোষণা করে। করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে এদিন শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ বাতিল হওয়ার পরই আইসিসি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতেই আগে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সুযোগ মিলেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার। স্বপ্ন ছোঁয়ার আনন্দে নাওয়া-খাওয়া ভুলে মেতে ছিলেন নারী ক্রিকেটাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা শুরু হয়েছে একযুগ আগে থেকে। বাছাইপর্বের আগেই এবার দল নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দাপুটে জয় নিয়ে বাছাই পর্ব শুরু করে সালমা-জাহানারা। শুরুটাও হয় দুর্দান্ত। যুক্তরাষ্ট্রকে একেবারে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। এরপর পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সম্ভাবনা আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাদের কাছে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা হেরে যায় ১৬ রানে। তবুও সঠিক পথেই ছিল। তবে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশের দেশগুলোর করোনা পরিস্থিতি খুই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সেসব দিক বিবেচনা করেই বাছাই পর্ব আইসিসি বাতিল করেছে। বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন নারী খেলোয়াড়রা।

নিগার সুলতানা জ্যোতি

অধিনায়ক

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে তিন ম্যাচের সিরিজটি বাংলাদেশ জিতে নেয় ৩-০ ব্যবধানে। এ সিরিজ দিয়েই নেতৃত্বের পথচলা শুরু হয় নিগার সুলতানার। বাছাই পেরিয়েও মূল পর্বে যাওয়ার বিশ্বাস তার ছিল। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সফরে এত বড় সুখবর পেয়ে নিগারের আনন্দে বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। উইকেটকিপার এবং টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেন নিগার। একবার উইকেটে থিতু হতে পারলে বড় ইনিংস খেলতে পারেন। ওয়ানডেতে ২৩ ম্যাচে তার রান ৩৭৬টি ২০ ক্রিকেটে ৫২ ম্যাচ খেলে ৮৫৮ রান করেছেন ২৪ বছর বছর বয়সি নিগার।

তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এখানে (জিম্বাবুয়ে) এসেছিলাম, তা পূরণ হয়েছে। হয়তো এটা কিছুদিন পরে হতো, কিন্তু আগেই হয়ে গেছে, যার জন্য আমরা বেশি আনন্দিত। আমি বলব, এটা আমাদের সবার কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমরা যদি র‌্যাংকিংয়ে পাঁচে থেকে কোয়ালিফাই করি, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমরা প্রত্যেকে যে কাজগুলো করেছি, তার ফল হিসাবে এটা পেয়েছি। আমি আরও বেশি খুশি যে প্রথমবার অধিনায়ক হিসাবে এসে আমি এত বড় একটা আনন্দ পেয়েছি। এটা আমাদের দলের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপে গিয়ে যেন আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি।

সালমা খাতুন

সাবেক অধিনায়ক ও স্পিনিং অলরাউন্ডার

আরেক সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সালমা খাতুনের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মূল পর্বেও ভালো করবেন তারা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের শুরুটা হয়েছে এ সালমাদের হাত ধরে। খুলনার মেয়ে সালমা ক্যারিয়ারে এতো লম্বা সময় খেলার পরও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আফসোস ছিল।

বাছাইপর্ব খেলতে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে সেটা আমার ক্যারিয়ারে বড় আফসোস হয়ে থাকবে।

জিম্বাবুয়ের যাওয়ার পর থেকেই দারুণ বোলিং করেছেন। দীর্ঘদিন ব্যাটিংয়ে তার আগের মতো ধার ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে রুমানাকে ভালোভাবে সহযোগিতা করেছেন। ভূমিকা রেখেছেন জয়ে। ওয়ানডে ও টি ২০ ক্রিকেটে তার উইকেট ৪১ ও ৬৬টি।

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর সালমা বলেন, বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে আমরা অনেক আনন্দিত। এটা বলে বোঝানো যাবে না, আমরা কতটা আনন্দিত। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমরা এখানে এসেছিলাম বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে, সেটায় আমরা সফল হয়েছি। আশা করি, বিশ্বকাপে গিয়ে আমরা ভালো করব।

রুমানা আহমেদ

অলরাউন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক

সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ। মাঝে ইনজুরির কারণে বেশ কিছুদিন দলকে সার্ভিস দিতে পারেননি। ৩০ বছর বয়সি রুমানা লেগ-স্পিনের সঙ্গে মিডল অর্ডারে দলের ভরসা। খেলেছেন ৪২টি ওয়ানডে ও ৬৫টি টি ২০ ম্যাচে। ওয়ানডেতে তার পাঁচ হাফ সেঞ্চুরিতে রান ৮৯৩, উইকেট ৪৫টি। টি ২০ ক্রিকেটে এক ফিফটিতে করেছেন ৭৪৬ রান, উইকেট ৫৭টি। বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনেকটা পেছনে থাকার পরও বাংলাদেশকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যায় রুমানার সাহসী ৫০* রানের ইনিংসটি।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার আনন্দে রুমানা বলেন, দিনটা আমাদের জন্য অনেক স্মরণীয়, এ দিনেই আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছি। আমরা অনেক ভালোভাবে র‌্যাংকিংয়ে পাঁচে এসেছি, এটা আমার কাছে আনন্দের। দেশবাসীর, সবার দোয়া ছিল বলে আজ এরকম একটা অনুভূতি আমাদের। পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বকাপে গিয়ে যেন আমরা ভালো কিছু করতে পারি। আশা করি আমরা ভালো কিছুই হবে।

জাহানারা আলম

সাবেক অধিনায়ক ও পেসার

বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর পথচলার সঙ্গে সঙ্গী হয়ে আছেন জাহানারা আলম। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় জড়িয়ে বোলিং করা তার ট্রেডমার্ক অ্যাকশন। মহিলা ক্রিকেটারদের গ্লামারেও শীর্ষ কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন জাহানারা। অধ্যবসায়, পরিশ্রমী ও ক্রিকেটের প্রতি জাহানারার নিবেদন সবার আগে থাকে। পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি শেষদিকে ব্যাটিংয়েও দলকে বেশ টানেন খুলনার এ মেয়ে। বাংলাদেশ দলের পাশপাশি ভারতের মেয়েদের আইপিএলে ভেলোসিটির হয়েও খেলেছেন। ৪০ ওয়ানডে এবং ৭১টি ২০ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন।

জাহানারা বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আমি খুবই খুশি। অবশেষে আমাদের স্বপ্ন সফল হয়েছে।

ফারজানা হক

মিডল অর্ডার ব্যাটার

স্বপ্নপূরণের আনন্দে ভাসছেন ব্যাটার ফারজানা হকও। তিনি যেন অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, যে স্বপ্নটা আজ পূরণ হয়েছে আমাদের, এটা শুধু আমাদের নয়, ক্রিকেট বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সবার। যে স্বপ্ন আমাদের ছিল, সেটা আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন হয়েছে। বুঝিয়ে অনুভূতিতে বলা যাবে না আসলে কী অনুভব করছি। আমাদের যে স্বপ্নটা পূরণ হলো এটা আমাদের নারী ক্রিকেটারদের জন্য নতুন বার্তা বয়ে এনেছে। আমরা যখন নিউজিল্যান্ডে যাব, দৃশ্যগুলো অনেক পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমরা সবাই অনেক ভালো খেলব। নারী ক্রিকেট দল আগামীতেও যেন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বড় অর্জন নিয়ে আসতে পারে। এটাই দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা।

শারমিন আক্তার সুপ্তি

টপঅর্ডার ব্যাটার

গাইবান্ধার মেয়ে শারমিন আক্তার সুপ্তি। পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওপেনিং ব্যাটার হিসাবে তার অর্জন তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। ২৫ বছর বয়সি সুপ্তির প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু ভালো শুরুর পরও বড় স্কোর করতে পারছিলেন না। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পেয়ে গেলেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপরাজিত থাকেন ১৩০ রানে। ২৫ ওয়ানডেতে তার রান ৩৬৮ এবং ১৪ টি ২০-তে করেছেন ১২৬ রান। এই ধারাবাহিকতায় আরও এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শারমিন আক্তার সুপ্তি বলেন, আমার দল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। খুবই ভালো লাগছে। এটা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।

মুর্শিদা খাতুন

ওপেনার

বাংলাদেশ দলের বাঁ-হাতি ওপেনার মুর্শিদা খাতুন। ২২ বছর বয়সি এই ব্যাটার দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী। অনেক চেষ্টা করেও যেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছিলেন না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে অবশেষে দারুণ পারফর্ম করলেন। হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আগামী দিনে তাকে নিয়ে অনেক বেশি প্রত্যাশাও করছে বিসিবি। এখন পর্যন্ত তিনি নয়টি ওয়ানডে ও ১০টি টি ২০ খেলেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার আনন্দে মুর্শিদা খাতুন বলেন, আমরা ২০২২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছি, খুব ভালো লাগছে।

রিতু মনি

অলরাউন্ডার

ডানহাতি ব্যাটার রিতু মনি। একই সঙ্গে মিডিয়াম বোলিংও করেন। মিডল অর্ডারে ঋতু মনি দলের অন্যতম ভরসা।

বগুড়ার মেয়ে রিতু মনি এই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন। ২৮ বছর বয়সি রিতু খেলেছেন ১৯টি ওয়ানডে ও ৩০টি টি ২০ ম্যাচ। ওয়ানডেতে ২১.০০ গড়ে করেছেন ১৮৯ রান। টি ২০তে ১৪৪। এছাড়া ওয়ানডেতে পাঁচটি ও টি ২০ ক্রিকেটে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন। তার মতে, ‘আমাদের স্বপ্ন সফল হলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়ায়।’

লতা মন্ডল

ব্যাটিং অলরাউন্ডার

দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে লতা মন্ডলের। শেষদিকে তার ব্যাটিং দলের জন্য অনেক কার্যকর। বোলার হিসাবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঝে বেশ কিছুদিন বাজে ফর্মের কারণে ছিলেন দলের বাইরে। তবে প্রস্তুতিতে ভালো করায় আবারও দলে ফিরেছেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ রানের ভালো একটি ইনিংস খেলেছেন ঢাকার মেয়ে ২৮ বছর বয়সি লতা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর দিকে তিনিও ছিলেন একজন সৈনিক। ২৪টি ওয়ানডে ও ৩৮টি টি ২০ ম্যাচে তার রান ৩৩৩ এবং ২৯৯। এছাড়া উইকেট নিয়েছেন যথাক্রমে ১৩ ও পাঁচটি। লতা মন্ডলের মতে, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

ফাহিমা খাতুন

লেগ-স্পিনার

২৯ বছর বয়সি লেগ-স্পিনার ফাহিমা নারী ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। নারী ক্রিকেটে তিনি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের হয়ে খেলেছেন। ওয়ানডেতে ১৮ ম্যাচে তার উইকেট আটটি। ৫৯ টি ২০ ম্যাচে উইকেট ৩০টি। টি ২০ ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে তিনি করেছেন ৩০০ রানও। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিন ম্যাচে তিনি নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ফাহিমা খাতুনের মতে, এই জয় আমাদের সবার। ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমরা সেরাটাই দেব।

নাহিদা আক্তার

বাঁ-হাতি স্পিনার

নাহিদা আক্তার। বয়স মাত্র ২১ বছর। সম্প্রতি দেশের সেরা বোলারও তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১১ উইকেট। শেষ ম্যাচের ম্যাচসেরা হয়েছেন। একই সঙ্গে সিরিজসেরাও তিনি। বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৫ রানে তিনি নেন দুটি উইকেট। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে পাননি কোনো উইকেট। ওয়ানডেতে ১৯ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২৬ উইকেট। টি ২০ ক্রিকেটে ৪১ ম্যাচে ৫০ উইকেট। বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ায় দারুণ খুশি তিনি।

খাদিজা-তুল-কুবরা

স্পিনার

বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞদের একজন খাদিজা-তুল-কুবরা। ২৬ বছর বয়সি এই স্পিনার বগুড়ার মেয়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরু থেকেই রয়েছেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলেছেন ৩১ ম্যাচ। নিয়েছেন ৪২ উইকেট। টি ২০ ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে পেয়েছেন ৪৩ উইকেট। একসময়ের নিয়মিত একাদশে জায়গা পেতেন। এখন ঘুরেফিরে সুযোগ পান দলে। তবুও দলের অন্যতম ভরসার নাম খাদিজা। খাদিজা-তুল-কুবরার মতে, যে কোনো জয়ই আনন্দের।

সানজিদা আক্তার মেঘলা

বাঁ-হাতি স্পিনার

যশোরের মেয়ে সানজিদা আক্তার মেঘলা। বাঁ-হাতি স্পিনার তিনি। বয়স মাত্র ২০ বছর। কিন্তু দারুণ প্রতিভাবান। তাকে নিয়ে বড় আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র একটি টি ২০ ম্যাচ খেলেছেন। সানজিদা আক্তার মেঘলা বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সত্যিই আনন্দের।

সোবহানা মোস্তারি

ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার

তরুণ ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার সোবহানা মোস্তারি। বয়স মাত্র ১৯ বছর। রংপুরের এই মেয়ে এখনো নিজের প্রতিভার ছাপ রাখতে পারেননি সেভাবে। সব মিলে খেলেছেন চারটি ওয়ানডে ও তিনটি টি ২০। সোবহানা মোস্তারি বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের হয়ে অংশ নেবো এটা সত্যিই আনন্দের একটি খবর। আমি খুবই গর্বিত।

নুজহাত তাসনিয়া

উইকেটকিপার-ব্যাটার

গাইবান্ধার মেয়ে নুজহাত তাসনিয়া। দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল। এখনো জাতীয় দলের হয়ে নিজের ছাপ ফেলতে পারেননি। তবে তাকে নিয়ে খুবই আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। নুজহাত তাসনিয়া বলেন, এবারের টুর্নামেন্টে পারদর্শীতা তেমন দেখাতে না পারলেও বিশ্বকাপের জন্য অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করবো।

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেড় বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরতি ছিল দুই বছরের। এই মাসের মাঝামাঝি জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরে তারা। এবার জিম্বাবুয়েতে দুই গ্রুপে ভাগ করে নয় দল নিয়ে শুরু হয়েছিল বাছাইপর্ব। দুই গ্রুপ থেকে সেরা তিনটি করে দল নিয়ে আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল সুপার সিক্স। চূড়ান্ত পর্বের জন্য সেরা তিন দল নির্বাচিত করা হতো সেখান থেকে।

মাহমুদ ইমন

প্রধান কোচ

দলের স্থানীয় প্রধান কোচ মাহমুদ ইমন বলেন, ‘এটার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমার কোচিং জীবনের সেরা অর্জন হচ্ছে এই দিনটা। আমার জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন, বাংলাদেশ নারী দলের জন্যও।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা নিয়ে গত এক বছর ধরে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, দলের সঙ্গে সংশিষ্ট সবার একটা আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল যে আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করব। যাতে বাংলাদেশ নারী দল একটা ভালো অবস্থানে যায়, বিশ্ব দরবারে অন্যতম উচ্চতায় জায়গা করে নিতে পারে। আল্লাহর রহমতে আমরা এটা অর্জন করতে পেরেছি।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন