‘ছেলেমেয়ে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দরকার জীবনমুখী কারিকুলাম’
jugantor
‘ছেলেমেয়ে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দরকার জীবনমুখী কারিকুলাম’
বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে শিক্ষা, মিডিয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছেলেমেয়ে উভয় শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে দরকার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, জীবনমুখী কারিকুলাম নির্ধারণ, অনুদান, প্রণোদনা, গঠনমূলক ব্যবস্থাপনা, সুস্পষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক  

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুকাল পেরিয়ে যখন সে কৈশোরে পা দেয়, তার জীবনচক্রে আমূল পরিবর্তন হয়। যা প্রাকৃতিক। মানবজীবনের এই স্পর্শকাতর সময়টিতে একজন শিশুর ভেতর পূর্ণ মানবিক ও জৈবিক পরিবর্তনের প্রারম্ভিক প্রক্রিয়াগুলো অবধারিতভাবে শুরু হয়। তার শরীরে তৈরি হয় নতুন নতুন হরমোন। প্রাকৃতিক এই রূপান্তরই তাকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত করার প্রাথমিক সোপান হিসাবে কাজ করে। শিক্ষা তাকে তার শরীর সম্পর্কে জানতে সহযোগিতা করবে।

মহিমা রায় মুন এবার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। নবম-দশম শ্রেণিতে তার পাঠ্য ছিল শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে শিক্ষক বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে তাকে বাড়ির কাজ দিতেন। বয়ঃসন্ধিকাল শ্রেণিতে না পড়িয়ে শারীরিক শিক্ষার অন্য বিষয়গুলো পড়াতেন।

এ প্রসঙ্গে মহিমা রায় মুন বলেন, শ্রেণিতে না পড়ালেও ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছি। আমার যখন প্রথম পিরিয়ড হয়, আমার মধ্যে একটা ভীতি কাজ করে। কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। যদি শ্রেণিতে আমাদের বয়ঃসন্ধিকাল পড়ানো হতো তাহলে মনের এই ভীতিটা ভেঙে যেত। এ ছাড়া কোভিডের সময় স্কুল বন্ধ থাকায় দশম শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজননস্বাস্থ্য আর পড়া হয়নি।

সোনারগাঁয়ের পঞ্চমী ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রুবাইয়া ইসলাম তাসরিন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় রুবাইয়ার গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের ৪, ৬ ও ৭ নম্বর অধ্যায়টি পড়াই হয়নি। এ সম্পর্কে রুবাইয়া ইসলাম তাসরিন বলে, কোভিডের কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনলাইনে ক্লাস করেছি। তখন স্যার এ বিষয় নিয়ে পড়াননি। সপ্তম শ্রেণিতে উঠে সব বই পেলেও শারীরিক শিক্ষা বই হাতে পাইনি।

এ প্রসঙ্গে সোনারগাঁয়ের পঞ্চমী ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক এসএম নুরুল হক জানান, সপ্তম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। অষ্টম এবং এসএসসিতে তা ব্যবহারিক। শারীরিক শিক্ষার ক্লাস করা হলেও ছাত্রছাত্রীদের পড়ার জন্য জোর দেওয়া হতো না। কোভিডের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আওতায় অনলাইনে বাংলা, ইংরেজি আর গণিত বিষয়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বিষয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আওতায় না থাকায় ক্লাস নেওয়া হয়নি।

মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যশিক্ষা পাঠদানের মাধ্যমে তাদের শরীর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়াই শিক্ষা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ষষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের ৪, ৬ ও ৭ নম্বর অধ্যায়, সপ্তম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষায় ৪ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকালে নিরাপত্তা, অষ্টম শ্রেণিতে ৪ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা, নবম-দশম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, ৬ অধ্যায়ে মাদকাসক্তি ও এইডস, ৭ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজননস্বাস্থ্য রয়েছে।

সারা বিশ্ব করোনার কারণে থমকে গেলেও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ (১.২ বিলিয়ন) শিশু বয়ঃসন্ধির বিভিন্ন ধাপে পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমরা বয়ঃসন্ধিকাল কী, এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক বা নিরাপত্তাজনিত কী কী সমস্যা হয়, তা অনেকেই জানেন না।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ম্যানেজার মর্জিনা খাতুনের মতে, শিক্ষা কার্যক্রমের পাঠসূচিতে শারীরিক স্বাস্থ্যশিক্ষা থাকলেও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমেও যৌন প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষার ইস্যুগুলো-শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, প্রজননস্বাস্থ্য, বাল্যবিয়ের কারণে শারীরিক সমস্যা ইত্যাদি আপন কোর্সের আওতায় পড়ানো হতো। এর ফলে ছেলেমেয়ে উভয় শিক্ষার্থী তাদের শরীর সম্পর্কে জানতে পারে। সাতটা গল্প বইয়ে এই ইস্যুগুলো নিয়ে ছোট ছোট গল্প রয়েছে। এ গল্পের মাধ্যমে তাদের সচেতনতামূলক তথ্যগুলো দেওয়া হতো। তারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে জানতে পারে। বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কিশোরীদের মধ্যে যে ভয়ভীতি থাকে তা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের স্নাতকের ছাত্রী ও নেত্রকোনা সদর কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নেত্রী রুমা আক্তার বলেন, ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আমি নিজেকে দক্ষ করে তুলি। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য সপ্তাহে দু’দিন রবি-সোম কিশোর-কিশোরী ক্লাবে মিলিত হই। একদিন খেলাধুলা, আরেকদিন ‘আপন’-এর বিষয় যেমন-প্রজননস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, মানসিক পরিবর্তন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ইত্যাদি ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে পড়িয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বইতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শরীরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকালে আমাদের শরীরের পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বইতে খেলাধুলা আর বয়ঃসন্ধিকালবিষয়ক তথ্য ছিল। শিক্ষকরা বয়ঃসন্ধিকাল অধ্যায়টি শ্রেণিতে পাঠদান না করে বাড়ির কাজ হিসাবে দিতেন। এর ফলে বুঝতে সমস্যা হতো। নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে মনের মধ্যে সবসময় ভয়-ভীতি কাজ করত। বান্ধবীদের সঙ্গে শেয়ার করতে লজ্জাবোধ হতো। কিন্তু এখন ‘আপন’-এর বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ায় নিজেদের শরীর নিয়ে যে ভয়ভীতি ছিল তা দূর হয়েছে। একে-অপরের সঙ্গে নিজের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে আর দ্বিধাবোধ কাজ করে না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কোর শিশু অধিকার কনভেনশনের আওতায় বয়ঃসন্ধিক্ষণকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করা হলেও আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রকৃত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে কিশোর-কিশোরীর চাহিদা, প্রয়োজন বা দুর্বলতাগুলো এখনো নানাভাবে উপেক্ষিত।

‘ছেলেমেয়ে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দরকার জীবনমুখী কারিকুলাম’

বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে শিক্ষা, মিডিয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছেলেমেয়ে উভয় শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে দরকার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, জীবনমুখী কারিকুলাম নির্ধারণ, অনুদান, প্রণোদনা, গঠনমূলক ব্যবস্থাপনা, সুস্পষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা। লিখেছেন-
 রীতা ভৌমিক 
২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুকাল পেরিয়ে যখন সে কৈশোরে পা দেয়, তার জীবনচক্রে আমূল পরিবর্তন হয়। যা প্রাকৃতিক। মানবজীবনের এই স্পর্শকাতর সময়টিতে একজন শিশুর ভেতর পূর্ণ মানবিক ও জৈবিক পরিবর্তনের প্রারম্ভিক প্রক্রিয়াগুলো অবধারিতভাবে শুরু হয়। তার শরীরে তৈরি হয় নতুন নতুন হরমোন। প্রাকৃতিক এই রূপান্তরই তাকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত করার প্রাথমিক সোপান হিসাবে কাজ করে। শিক্ষা তাকে তার শরীর সম্পর্কে জানতে সহযোগিতা করবে।

মহিমা রায় মুন এবার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। নবম-দশম শ্রেণিতে তার পাঠ্য ছিল শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে শিক্ষক বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে তাকে বাড়ির কাজ দিতেন। বয়ঃসন্ধিকাল শ্রেণিতে না পড়িয়ে শারীরিক শিক্ষার অন্য বিষয়গুলো পড়াতেন।

এ প্রসঙ্গে মহিমা রায় মুন বলেন, শ্রেণিতে না পড়ালেও ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছি। আমার যখন প্রথম পিরিয়ড হয়, আমার মধ্যে একটা ভীতি কাজ করে। কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। যদি শ্রেণিতে আমাদের বয়ঃসন্ধিকাল পড়ানো হতো তাহলে মনের এই ভীতিটা ভেঙে যেত। এ ছাড়া কোভিডের সময় স্কুল বন্ধ থাকায় দশম শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজননস্বাস্থ্য আর পড়া হয়নি।

সোনারগাঁয়ের পঞ্চমী ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রুবাইয়া ইসলাম তাসরিন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় রুবাইয়ার গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের ৪, ৬ ও ৭ নম্বর অধ্যায়টি পড়াই হয়নি। এ সম্পর্কে রুবাইয়া ইসলাম তাসরিন বলে, কোভিডের কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অনলাইনে ক্লাস করেছি। তখন স্যার এ বিষয় নিয়ে পড়াননি। সপ্তম শ্রেণিতে উঠে সব বই পেলেও শারীরিক শিক্ষা বই হাতে পাইনি।

এ প্রসঙ্গে সোনারগাঁয়ের পঞ্চমী ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক এসএম নুরুল হক জানান, সপ্তম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়। অষ্টম এবং এসএসসিতে তা ব্যবহারিক। শারীরিক শিক্ষার ক্লাস করা হলেও ছাত্রছাত্রীদের পড়ার জন্য জোর দেওয়া হতো না। কোভিডের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আওতায় অনলাইনে বাংলা, ইংরেজি আর গণিত বিষয়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ বিষয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আওতায় না থাকায় ক্লাস নেওয়া হয়নি।

মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যশিক্ষা পাঠদানের মাধ্যমে তাদের শরীর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়াই শিক্ষা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ষষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের ৪, ৬ ও ৭ নম্বর অধ্যায়, সপ্তম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষায় ৪ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকালে নিরাপত্তা, অষ্টম শ্রেণিতে ৪ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা, নবম-দশম শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, ৬ অধ্যায়ে মাদকাসক্তি ও এইডস, ৭ অধ্যায়ে বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজননস্বাস্থ্য রয়েছে।

সারা বিশ্ব করোনার কারণে থমকে গেলেও পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ (১.২ বিলিয়ন) শিশু বয়ঃসন্ধির বিভিন্ন ধাপে পর্যায়ক্রমিকভাবে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমরা বয়ঃসন্ধিকাল কী, এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক বা নিরাপত্তাজনিত কী কী সমস্যা হয়, তা অনেকেই জানেন না।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ম্যানেজার মর্জিনা খাতুনের মতে, শিক্ষা কার্যক্রমের পাঠসূচিতে শারীরিক স্বাস্থ্যশিক্ষা থাকলেও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমেও যৌন প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষার ইস্যুগুলো-শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, প্রজননস্বাস্থ্য, বাল্যবিয়ের কারণে শারীরিক সমস্যা ইত্যাদি আপন কোর্সের আওতায় পড়ানো হতো। এর ফলে ছেলেমেয়ে উভয় শিক্ষার্থী তাদের শরীর সম্পর্কে জানতে পারে। সাতটা গল্প বইয়ে এই ইস্যুগুলো নিয়ে ছোট ছোট গল্প রয়েছে। এ গল্পের মাধ্যমে তাদের সচেতনতামূলক তথ্যগুলো দেওয়া হতো। তারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে জানতে পারে। বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কিশোরীদের মধ্যে যে ভয়ভীতি থাকে তা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের স্নাতকের ছাত্রী ও নেত্রকোনা সদর কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নেত্রী রুমা আক্তার বলেন, ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আমি নিজেকে দক্ষ করে তুলি। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য সপ্তাহে দু’দিন রবি-সোম কিশোর-কিশোরী ক্লাবে মিলিত হই। একদিন খেলাধুলা, আরেকদিন ‘আপন’-এর বিষয় যেমন-প্রজননস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, মানসিক পরিবর্তন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ইত্যাদি ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে পড়িয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বইতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শরীরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে বয়ঃসন্ধিকালে আমাদের শরীরের পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বইতে খেলাধুলা আর বয়ঃসন্ধিকালবিষয়ক তথ্য ছিল। শিক্ষকরা বয়ঃসন্ধিকাল অধ্যায়টি শ্রেণিতে পাঠদান না করে বাড়ির কাজ হিসাবে দিতেন। এর ফলে বুঝতে সমস্যা হতো। নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে মনের মধ্যে সবসময় ভয়-ভীতি কাজ করত। বান্ধবীদের সঙ্গে শেয়ার করতে লজ্জাবোধ হতো। কিন্তু এখন ‘আপন’-এর বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ায় নিজেদের শরীর নিয়ে যে ভয়ভীতি ছিল তা দূর হয়েছে। একে-অপরের সঙ্গে নিজের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে আর দ্বিধাবোধ কাজ করে না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কোর শিশু অধিকার কনভেনশনের আওতায় বয়ঃসন্ধিক্ষণকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করা হলেও আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রকৃত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে কিশোর-কিশোরীর চাহিদা, প্রয়োজন বা দুর্বলতাগুলো এখনো নানাভাবে উপেক্ষিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন