সব সময় নিজের যোগ্যতা বাড়াতে হয়
jugantor
সব সময় নিজের যোগ্যতা বাড়াতে হয়
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা লিয়েন। সব দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে রাশিয়ার এমন ঘোষণায় তিনি জুতসই জবাব দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন। লিখেছেন-

  সাব্বিন হাসান  

০৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বের যে কজন নেতা সর্বোচ্চ আলোচনায় আসছেন তার মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য নাম উরসুলা লিয়েন। শর্ত না মানলে ইউরোপের সব দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে রাশিয়ার এমন ঘোষণায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা লিয়েন দিয়েছেন সাফ জবাব। বলেছেন, মস্কোর এমন ঘোষণায় এটাই বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি বিক্রেতা হিসাবে রাশিয়া এখন আর নির্ভরযোগ্য নয়। তাই ইউরোপে রাশিয়ায় জ্বালানি তেলের সুবর্ণ যুগ এখন শেষের পথে।

বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ডে গ্যাস বিতরণ বন্ধ করেছে রাশিয়া। রুবলে দাম পরিশোধ না করা হলে ভবিষ্যতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোর একই পরিণতি হবে বলেও হুমকি এসেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনাদের প্রতিরোধে ইউক্রেনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। এবার সেই দলে যোগ দিচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৭ দেশ নিয়ে জোট গঠনের পর এবারই প্রথম কোনো দেশে অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।

রাশিয়া ও বেলারুশের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও ঘোষণা দিয়েছেন উরসুলা। তা ছাড়া রাশিয়ার জন্য ইউরোপের আকাশসীমা বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন উরসুলা।

শুধু ‘উরসুলা’ নামেই বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আবহে এখন আলোচনার শীর্ষে। পুরো নাম উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জন্ম ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ইতিহাসে উরসুলাই প্রথম নারী হিসাবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সর্বোচ্চ পদ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উরসুলাকে নিয়ে জার্মানি-ফ্রান্সের মধ্যে তুমুল দর-কষাকষি হয়। চূড়ান্ত পর্বে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে একেবারে নব্য প্রার্থী হিসাবে উরসুলা ভন ডার লিয়েনের নাম উঠে আসে। রচিত হয় ইইউর নতুন ইতিহাস।

তার বাবা ছিলেন জার্মানির সরকারি কর্মকর্তা। তাই বাবা ছিলেন সক্রিয় রাজনীতিবিদ। বলতে গেলে রাজনৈতিক আবহেই বেড়ে উঠেছেন উরসুলা। নিজেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার রক্তেই কাজ করত রাজনীতি। রাজনৈতিক কারণে প্রাণনাশের ভয়ে লন্ডনে তাকে দীর্ঘদিন ছদ্মনামেও আত্মগোপনে থাকতে হয়। তবুও রাজনীতি থেকে পিছপা হননি কখনো।

তিনি নিদারসাক্সেন রাজ্যের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মূল পেশায় চিকিৎসক। সাত সন্তানের মা। চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষা ছাড়াও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সভায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে উরসুলাকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী উরসুলা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে উরসুলাকে ৫৭১ সদস্যের ইইউ পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন আদায় করতে হয়।

জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা জার্মান চ্যান্সেলর আঞ্জেলা ম্যার্কেলের খুব কাছের মানুষ বলেই সবার কাছে পরিচিত। ৬০ বছর বয়সি এ রাজনীতিক ২০১০ সাল থেকে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোকক্র্যাট দলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে আছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা পার্লামেন্টের সদস্যরা মূলত জোটের দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তা ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জোটের বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রণেতা হিসাবে কাজ করে। জোটের বাজেটের বিষয়েও ইইউ পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হয়।

ইউরোপীয় কমিশন জোটের প্রশাসনিক বিষয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি। ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাই তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টসহ অন্য মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে থাকেন।

বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবান নারী অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সুনজরে পড়েন। একমাত্র উরসুলাই একজন মন্ত্রী যিনি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সব মেয়াদেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী একজন নেতা তিনি। সাধারণ মানুষের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়। তিনি হলেন জনবান্ধব নেত্রী।

ব্যক্তি দর্শনের কারণে নিজের দলের মুখোমুখি দাঁড়াতেও ব্যত্যয় করেন না। দৃঢ়চিত্তে সামলে নেন যে কোনো কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতি। নিজের দেশকে বিভিন্ন যুদ্ধের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। বলতে গেলে সম্মুখ অবস্থানে থেকে নিজের দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা করে থাকেন।

হাসিমুখেই উপস্থিত হন সব সময়। জীবনকে ভাবেন একটা লড়াইয়ের মঞ্চ। বুঝে-জেনে ভালো কাজ করলে তার মূল্যায়ন হয় বলেই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। ব্যক্তি জীবনে উচ্চাভিলাষী নন। তবে নিজের যোগ্যতা বাড়াতে সব সময়ই মনোযোগী হতে বলেন। নিজের মেধাকে যোগ্য জায়গায় উপস্থাপন করতে হবে। তাহলেই সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বের কাছেও পরিচিত আসে। কাজের মধ্য দিয়েই সবকিছুর মূল্যায়ন হয়।

ভালো কাজ করলে ইতিহাসের পাতায় তা থেকে যাবে আজীবন। নারী নেতৃত্বকে দারুণ উৎসাহ দেন। সারা বিশ্বে নারীদের আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন। নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই বলে মনে করেন। আজীবন মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাবেন। নিজেকে এসব ভাবনার মধ্যে ব্যস্ত রাখেন বিশ্ব নারী নেতৃত্বের অদম্য প্রতীক উরসুলা লিয়েন।

সব সময় নিজের যোগ্যতা বাড়াতে হয়

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা লিয়েন। সব দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে রাশিয়ার এমন ঘোষণায় তিনি জুতসই জবাব দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন। লিখেছেন-
 সাব্বিন হাসান 
০৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বের যে কজন নেতা সর্বোচ্চ আলোচনায় আসছেন তার মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য নাম উরসুলা লিয়েন। শর্ত না মানলে ইউরোপের সব দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে রাশিয়ার এমন ঘোষণায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা লিয়েন দিয়েছেন সাফ জবাব। বলেছেন, মস্কোর এমন ঘোষণায় এটাই বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি বিক্রেতা হিসাবে রাশিয়া এখন আর নির্ভরযোগ্য নয়। তাই ইউরোপে রাশিয়ায় জ্বালানি তেলের সুবর্ণ যুগ এখন শেষের পথে।

বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ডে গ্যাস বিতরণ বন্ধ করেছে রাশিয়া। রুবলে দাম পরিশোধ না করা হলে ভবিষ্যতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোর একই পরিণতি হবে বলেও হুমকি এসেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনাদের প্রতিরোধে ইউক্রেনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। এবার সেই দলে যোগ দিচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপের ২৭ দেশ নিয়ে জোট গঠনের পর এবারই প্রথম কোনো দেশে অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ।

রাশিয়া ও বেলারুশের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও ঘোষণা দিয়েছেন উরসুলা। তা ছাড়া রাশিয়ার জন্য ইউরোপের আকাশসীমা বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছেন উরসুলা।

শুধু ‘উরসুলা’ নামেই বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আবহে এখন আলোচনার শীর্ষে। পুরো নাম উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জন্ম ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ইতিহাসে উরসুলাই প্রথম নারী হিসাবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সর্বোচ্চ পদ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উরসুলাকে নিয়ে জার্মানি-ফ্রান্সের মধ্যে তুমুল দর-কষাকষি হয়। চূড়ান্ত পর্বে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে একেবারে নব্য প্রার্থী হিসাবে উরসুলা ভন ডার লিয়েনের নাম উঠে আসে। রচিত হয় ইইউর নতুন ইতিহাস।

তার বাবা ছিলেন জার্মানির সরকারি কর্মকর্তা। তাই বাবা ছিলেন সক্রিয় রাজনীতিবিদ। বলতে গেলে রাজনৈতিক আবহেই বেড়ে উঠেছেন উরসুলা। নিজেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তার রক্তেই কাজ করত রাজনীতি। রাজনৈতিক কারণে প্রাণনাশের ভয়ে লন্ডনে তাকে দীর্ঘদিন ছদ্মনামেও আত্মগোপনে থাকতে হয়। তবুও রাজনীতি থেকে পিছপা হননি কখনো।

তিনি নিদারসাক্সেন রাজ্যের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মূল পেশায় চিকিৎসক। সাত সন্তানের মা। চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষা ছাড়াও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সভায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে উরসুলাকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী উরসুলা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে উরসুলাকে ৫৭১ সদস্যের ইইউ পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন আদায় করতে হয়।

জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা জার্মান চ্যান্সেলর আঞ্জেলা ম্যার্কেলের খুব কাছের মানুষ বলেই সবার কাছে পরিচিত। ৬০ বছর বয়সি এ রাজনীতিক ২০১০ সাল থেকে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোকক্র্যাট দলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে আছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা পার্লামেন্টের সদস্যরা মূলত জোটের দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তা ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জোটের বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রণেতা হিসাবে কাজ করে। জোটের বাজেটের বিষয়েও ইইউ পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হয়।

ইউরোপীয় কমিশন জোটের প্রশাসনিক বিষয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি। ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাই তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টসহ অন্য মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে থাকেন।

বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবান নারী অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সুনজরে পড়েন। একমাত্র উরসুলাই একজন মন্ত্রী যিনি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সব মেয়াদেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী একজন নেতা তিনি। সাধারণ মানুষের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়। তিনি হলেন জনবান্ধব নেত্রী।

ব্যক্তি দর্শনের কারণে নিজের দলের মুখোমুখি দাঁড়াতেও ব্যত্যয় করেন না। দৃঢ়চিত্তে সামলে নেন যে কোনো কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতি। নিজের দেশকে বিভিন্ন যুদ্ধের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। বলতে গেলে সম্মুখ অবস্থানে থেকে নিজের দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা করে থাকেন।

হাসিমুখেই উপস্থিত হন সব সময়। জীবনকে ভাবেন একটা লড়াইয়ের মঞ্চ। বুঝে-জেনে ভালো কাজ করলে তার মূল্যায়ন হয় বলেই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। ব্যক্তি জীবনে উচ্চাভিলাষী নন। তবে নিজের যোগ্যতা বাড়াতে সব সময়ই মনোযোগী হতে বলেন। নিজের মেধাকে যোগ্য জায়গায় উপস্থাপন করতে হবে। তাহলেই সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বের কাছেও পরিচিত আসে। কাজের মধ্য দিয়েই সবকিছুর মূল্যায়ন হয়।

ভালো কাজ করলে ইতিহাসের পাতায় তা থেকে যাবে আজীবন। নারী নেতৃত্বকে দারুণ উৎসাহ দেন। সারা বিশ্বে নারীদের আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন। নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই বলে মনে করেন। আজীবন মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাবেন। নিজেকে এসব ভাবনার মধ্যে ব্যস্ত রাখেন বিশ্ব নারী নেতৃত্বের অদম্য প্রতীক উরসুলা লিয়েন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন