নিজের যোগ্যতায় সুস্পষ্ট থাকা জরুরি
jugantor
নিজের যোগ্যতায় সুস্পষ্ট থাকা জরুরি
কারিন জ্যঁ-পিয়েরে। মার্কিন ইতিহাসে হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেস সচিব। লিখেছেন-

  সাব্বিন হাসান  

১৬ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে এখন শুধু ‘কারিন’ নামেই বহুল আলোচিত। পুরো নাম কারিন জ্যঁ-পিয়েরে। জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৩ আগস্ট। গড়েছেন ইতিহাস। হয়েছেন মার্কিন ইতিহাসে হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেস সচিব। তিনি হোয়াইট হাউজের ৩৫তম প্রেস সচিব হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কঠিন পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা কারিনের আছে বলেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বর্তমান পরিস্থিতিতে কারিনকেই যোগ্য মনে করেছেন।

কারিনের জন্ম ফ্রান্সের সামুদ্রিক দ্বীপ মার্তিনিতে। কিন্তু বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। ফরাসিভাষী কারিনের মা-বাবা হাইতিয়ান। তবে জীবনের প্রয়োজনে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। তা ছাড়া নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন। তার জীবনসঙ্গী সিএনএনের সাংবাদিক সুজান ম্যালভেক্স। কারিন এক কন্যাসন্তানের মা। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে যার নাম ঘোষণা করেন তিনিই ‘কারিন’। কারিন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, যিনি হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্বে বসছেন। বর্তমানে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন জেন সাকি। তার ডেপুটি হিসাবে কাজ করে আসছিলেন কারিন। ১৩ মে বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি সাকির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কারিন।

যিনি এলজিবিটিকিউ প্লাসের একজন ঘোষিত সদস্য।

কারিন প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, কারিনের অভিজ্ঞতা, প্রতিভা ও সততা প্রশংসাযোগ্য। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে কারিনকে নির্বাচিত করতে পেরে আমি গর্বিত।

সদ্য বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি সাকি টুইটারে কারিন প্রসঙ্গে বলেছেন, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে কারিনের নিয়োগ সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। তা ছাড়া কারিন হবেন হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম প্রকাশ্য এলজিবিটিকিউ প্লাস ব্যক্তি। প্রতিনিধিত্বের ওপর অনেক কিছু নির্ভরশীল। তিনি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হবেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তিনি একজন আদর্শ নারীও।

বর্তমানে ৪৪ বছর বয়সি কারিন ২০০৮ ও ২০১২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। তা ছাড়া হোয়াইট হাউজে প্রেস সচিব পদে যোগ দেওয়ার আগে ২০২০ সালে বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারেও পাশে থেকে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।

বাইডেন যখন ওবামা প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনো তার অধীন কারিন সরাসরি কাজ করেছেন।

কারিন বহুল আলোচিত মুভঅন ডট ওআরজি-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জাতীয় মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেছেন। তা ছাড়া এনবিসি নিউজ ও এমএসএনবিসি চ্যানেলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ২০১৪ সালে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টিতে যোগদান করেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের একজন প্রভাষক।

স্নাতক করার পর কারিন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর জেমস এফ. গেনারোর আইনসভা এবং বাজেটবিষয়ক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ালমার্ট ওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর হিসাবেও কাজ করেন। ২০০৪ সালে জন এডওয়ার্ডসের রাষ্ট্রপতি প্রচারের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিচালক ছিলেন। কারিন কমিউনিটি এবং করপোরেট নীতিশাস্ত্র কেন্দ্রে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে হাইতিয়ান টাইমস ছয়জন সেরা ‘বছরের হাইতিয়ান নিউজমেকারস’ তালিকাভুক্ত করে। ২০২২ সালে ফোর্বস তাকে একজন ‘বিশিষ্ট গণতান্ত্রিক কর্মী’ হিসাবে সম্মানিত করেন।

ব্যক্তি জীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন কিংবা সামাজিক আন্দোলেন সাধারণ মানুষের পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন। নিজেকে দায়িত্বের বহুমাত্রিকতায় নিয়ে হয়েছেন সফল। তারই ফলস্বরূপ আজ তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্চপদে স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোটেও সহজ কোনো পথ নয়। নিজেকে বিতর্কেও ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে সাফল্য অর্জন করা কঠিনতম চ্যালেঞ্জ যা তিনি সফলভাবেই সেরেছেন। ফলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেস সচিব হিসাবে বিশ্বের কাছে নিজের যোগ্যতার জানান দিলেন।

বিরল কিছু অর্জনের পথ মসৃণ নয়। তাই সমালোচনা আর কূটকৌশলে বিচলিত হলে জীবনে সফলতা দূরে সরে যাবে। নিজেকের অন্যের জন্য উদাহরণযোগ্য করে তোলার কাজটা করতে হয় নিখুঁতভাবে। হয়তো কেউ কেউ সে পথে বাদ সাধবে। কিন্তু নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে তা সময়ের সঙ্গেই দূর হয়ে দৃশ্যমান হবে প্রত্যাশিত সাফল্য। নিজের কথাগুলো এভাবেই বলেছেন হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষাঙ্গ নারী প্রেস সচিব কারিন পিয়েরে।

নিজের যোগ্যতায় সুস্পষ্ট থাকা জরুরি

কারিন জ্যঁ-পিয়েরে। মার্কিন ইতিহাসে হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেস সচিব। লিখেছেন-
 সাব্বিন হাসান 
১৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে এখন শুধু ‘কারিন’ নামেই বহুল আলোচিত। পুরো নাম কারিন জ্যঁ-পিয়েরে। জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৩ আগস্ট। গড়েছেন ইতিহাস। হয়েছেন মার্কিন ইতিহাসে হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেস সচিব। তিনি হোয়াইট হাউজের ৩৫তম প্রেস সচিব হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কঠিন পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা কারিনের আছে বলেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বর্তমান পরিস্থিতিতে কারিনকেই যোগ্য মনে করেছেন।

কারিনের জন্ম ফ্রান্সের সামুদ্রিক দ্বীপ মার্তিনিতে। কিন্তু বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। ফরাসিভাষী কারিনের মা-বাবা হাইতিয়ান। তবে জীবনের প্রয়োজনে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন। তা ছাড়া নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন। তার জীবনসঙ্গী সিএনএনের সাংবাদিক সুজান ম্যালভেক্স। কারিন এক কন্যাসন্তানের মা। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউজের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে যার নাম ঘোষণা করেন তিনিই ‘কারিন’। কারিন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, যিনি হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্বে বসছেন। বর্তমানে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন জেন সাকি। তার ডেপুটি হিসাবে কাজ করে আসছিলেন কারিন। ১৩ মে বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি সাকির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কারিন।

যিনি এলজিবিটিকিউ প্লাসের একজন ঘোষিত সদস্য।

কারিন প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, কারিনের অভিজ্ঞতা, প্রতিভা ও সততা প্রশংসাযোগ্য। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে কারিনকে নির্বাচিত করতে পেরে আমি গর্বিত।

সদ্য বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি সাকি টুইটারে কারিন প্রসঙ্গে বলেছেন, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে কারিনের নিয়োগ সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। তা ছাড়া কারিন হবেন হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম প্রকাশ্য এলজিবিটিকিউ প্লাস ব্যক্তি। প্রতিনিধিত্বের ওপর অনেক কিছু নির্ভরশীল। তিনি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হবেন তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তিনি একজন আদর্শ নারীও।

বর্তমানে ৪৪ বছর বয়সি কারিন ২০০৮ ও ২০১২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। তা ছাড়া হোয়াইট হাউজে প্রেস সচিব পদে যোগ দেওয়ার আগে ২০২০ সালে বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারেও পাশে থেকে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।

বাইডেন যখন ওবামা প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনো তার অধীন কারিন সরাসরি কাজ করেছেন।

কারিন বহুল আলোচিত মুভঅন ডট ওআরজি-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জাতীয় মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেছেন। তা ছাড়া এনবিসি নিউজ ও এমএসএনবিসি চ্যানেলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ২০১৪ সালে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টিতে যোগদান করেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক এবং পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের একজন প্রভাষক।

স্নাতক করার পর কারিন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর জেমস এফ. গেনারোর আইনসভা এবং বাজেটবিষয়ক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওয়ালমার্ট ওয়াচের আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর হিসাবেও কাজ করেন। ২০০৪ সালে জন এডওয়ার্ডসের রাষ্ট্রপতি প্রচারের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিচালক ছিলেন। কারিন কমিউনিটি এবং করপোরেট নীতিশাস্ত্র কেন্দ্রে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে হাইতিয়ান টাইমস ছয়জন সেরা ‘বছরের হাইতিয়ান নিউজমেকারস’ তালিকাভুক্ত করে। ২০২২ সালে ফোর্বস তাকে একজন ‘বিশিষ্ট গণতান্ত্রিক কর্মী’ হিসাবে সম্মানিত করেন।

ব্যক্তি জীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন কিংবা সামাজিক আন্দোলেন সাধারণ মানুষের পক্ষে সোচ্চার থেকেছেন। নিজেকে দায়িত্বের বহুমাত্রিকতায় নিয়ে হয়েছেন সফল। তারই ফলস্বরূপ আজ তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্চপদে স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোটেও সহজ কোনো পথ নয়। নিজেকে বিতর্কেও ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে সাফল্য অর্জন করা কঠিনতম চ্যালেঞ্জ যা তিনি সফলভাবেই সেরেছেন। ফলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেস সচিব হিসাবে বিশ্বের কাছে নিজের যোগ্যতার জানান দিলেন।

বিরল কিছু অর্জনের পথ মসৃণ নয়। তাই সমালোচনা আর কূটকৌশলে বিচলিত হলে জীবনে সফলতা দূরে সরে যাবে। নিজেকের অন্যের জন্য উদাহরণযোগ্য করে তোলার কাজটা করতে হয় নিখুঁতভাবে। হয়তো কেউ কেউ সে পথে বাদ সাধবে। কিন্তু নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে তা সময়ের সঙ্গেই দূর হয়ে দৃশ্যমান হবে প্রত্যাশিত সাফল্য। নিজের কথাগুলো এভাবেই বলেছেন হোয়াইট হাউজের প্রথম কৃষাঙ্গ নারী প্রেস সচিব কারিন পিয়েরে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন