নারী-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নিরাপদ গোসলখানা
jugantor
নারী-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নিরাপদ গোসলখানা
ঢাকার নিম্ন আয়ের পরিবারের স্ত্রী-কন্যারা বস্তি বা সিটি পল্লির খোলা জায়গায় গোসলের কারণে সহিংসতার শিকার হন। এখানকার নারী-কিশোরীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ গোসলখানা তৈরির পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে অস্বস্তি বা লজ্জায় পড়তে না হয়। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক  

২৩ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ১৪নং আউটফল ছিয়ানব্বই ঘর স্টাফ কোয়ার্টার। এ সুইপার কলোনিতে ৪০ পরিবারের ৭০ সদস্যের জন্য দুটি গোসলখানা বরাদ্দ। ৪ থেকে ৫টি পরিবারের ৪০ থেকে ৫০ নারী-পুরুষ-শিশুর জন্য একটি পায়খানা বরাদ্দ। ভোর হতে না হতেই পায়খানার সামনে লাইন লেগে যায়।

আর কে চৌধুরী কলেজের আইএ’র ছাত্রী রাহিমা আক্তার। বাবা একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ঘর বলতে একটি শোবার ঘর। শোবার ঘরের পাশে মাটির উনুন। সরু গলির বাম পাশে রান্নাঘরে থাকে রাহিমা আর তার স্বামী।

রাহিমা আক্তারের (২৩) মতে, দুটো গোসলখানা থাকলেও তা ব্যবহারোপযোগী ছিল না। খোলা জায়গায় গোসল করতে হতো। আশপাশের ভবন থেকে লোকজন তাকিয়ে দেখত। বেশি সমস্যা হতো মাসিকের দিনগুলোতে। এসময় কাপড় ব্যবহার করি। তা পরিষ্কার করার জন্য রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। ঘরে এসে পালটাতে হতো। পায়খানায় পুরুষদের সামনে দিয়ে যেতেও লজ্জা লাগত। ‘ইমপাওয়ারিং গার্লস ফর ইকোনমিক অপারচুনিটি অ্যান্ড সেভ স্পেস’-এর আওতায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র আর্থিক সহযোগিতায় আমাদের গোসলখানা উন্নীতকরণ কার্যক্রমের কারণে এখন আমরা আধুনিক গোসলখানা ব্যবহার করতে পারছি। এখন মাসিক হলে আর রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না পালটানোর জন্য। গোসলখানায় বেসিন, কাপড় রাখার হ্যাঙার, সাবান রাখার কেস, পর্যাপ্ত পানি এবং আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।

ধলপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রহিজা খাতুন। আট মাস ধরে তার মাসিক হচ্ছে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে একবার এক প্যাকেট প্যাড পেয়েছিল। সে কাপড় ব্যবহার না করে প্যাড ব্যবহার করে। রহিজা (১৪) জানায়, সাজেদা ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি মাসিককালীন সময়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকার কথা। হাইজিনমুক্ত থাকার জন্য তারা প্যাড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। গোসলখানা ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ায় এখন গোসলখানায় প্যাড পরিবর্তন করতে পারি। কয়েক মাস আগেও গোসলখানা ব্যবহারের উপযোগী না থাকায় নোংরা পায়খানায় গিয়ে প্যাড পালটাতে হতো। পায়খানাও সব সময় খালি পাওয়া যায় না। লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। এভাবে থাকতে অস্বস্তি লাগত।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের সুইপার কলোনি এবং বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪২ ভাগ নারী-কিশোরী বসবাস করেন। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা বেশিরভাগ পুরুষ বা ছেলেদের আশপাশে স্নান করতে লাজুক এবং অস্বস্তিবোধ করেন। অনেক কিশোরী তাদের মাসিকের সময় তিন বা তার বেশি দিন স্নান করেননি। কারণ তারা এমন কোনো সময় খুঁজে পায়নি যখন পুরুষ বা ছেলেরা স্নানের জায়গায় থাকে না। এমনকি স্নানের জায়গায় কোনো ছাদ নেই। নারী-কিশোরীরা যখন স্নান করেন, তখন কাছাকাছি উচ্চ ভবনের পুরুষরা ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেয়ার করে তাদের গোপনীয়তাও লঙ্ঘন করে। নলকূপের কাছাকাছি অন্ধকার থাকায় যৌন হয়রানির শিকার হন তারা।

জুলেখার স্বামী সিটি করপোরেশনের সুইপার। এখানেই জুলেখার বেড়ে ওঠা, বিয়ে। ছোটবেলা থেকে খোলা জায়গায় গোসল করেই ও বড় হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জুলেখা (৩২) বলেন, কলপাড়ের জায়গাটাও উঁচু করে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই আগে হাঁটু সমান পানি জমত। পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত কলপাড়ে যাওয়া যেত না। পানিতে জোঁক ছিল। এর মধ্যে নোংরা পানি পারিয়ে পায়খানায় যেতাম। কলপাড়ে পায়খানার ময়লা চলে আসত। নারী-পুরুষ একসঙ্গে গোসল করতাম। মাসিকের দিনগুলোতে বেশি সমস্যা হতো। এখন টাইলস বসানো গোসলখানা হওয়ায় সমস্যা কিছুটা কমেছে। এরপরও গোসলখানা অনুযায়ী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, নিম্ন আয়ের এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৪ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ২২ শতাংশই কিশোর-কিশোরী। গোসলখানা না থাকায় তাদের উন্মুক্ত স্থানে গোসল করতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হয় নানারকম সহিংসতার, হয়রানির। সহিংসতার ভয়ে তাদের জীবন নানাভাবে প্রভাবিত হয়।

পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) কমিউনিটি ফেসিলেটর কুলসুম আখতার লিপি বলেন, এখানে নারী-কিশোরীর নিরাপত্তার কথা ভেবে গোসলখানা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মাসিকের সময় যারা কাপড় ব্যবহার করেন তা পরিষ্কার করার জন্য বেসিন লাগানো হয়েছে। বয়স্ক এবং অসুস্থদের বসে গোসল করার জন্য বেঞ্চ, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাপ্লাইয়ের পানির ব্যবস্থা, সেসঙ্গে পানির ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। আয়না, কাপড় রাখার স্ট্যান্ড এবং সাবান কেস লাগানো হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় নারী-কিশোরীর সংখ্যা অনুযায়ী তিনটি গোসলখানা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে জানান, বাংলাদেশে ৫ হাজারেরও বেশি নিম্ন আয়ের এলাকায় মেয়েদের জন্য গোসলের স্থান নেই। কিশোরী ও যুব নারীদের জন্য এটি একটি কঠিন বাস্তবতা। মাসিকের সময় তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সমস্যা নিরসনে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ঢাকার দক্ষিণের কয়েকটি নিম্ন আয়ের এলাকা-সিটি পল্লি, ম্যাচ কলোনি, ধলপুর, খিলগাঁওয়ে স্থানীয় পার্টনার সংস্থা পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) ই-গ্লস প্রকল্পের আওতায় এ বছরের জুনের মধ্যে ১৫টি গোসলখানা নির্মাণ করেছে। যাতে মেয়েরা নির্ভয়ে গোসল করতে পারেন।

নারী-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নিরাপদ গোসলখানা

ঢাকার নিম্ন আয়ের পরিবারের স্ত্রী-কন্যারা বস্তি বা সিটি পল্লির খোলা জায়গায় গোসলের কারণে সহিংসতার শিকার হন। এখানকার নারী-কিশোরীদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ গোসলখানা তৈরির পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে অস্বস্তি বা লজ্জায় পড়তে না হয়। লিখেছেন-
 রীতা ভৌমিক 
২৩ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ১৪নং আউটফল ছিয়ানব্বই ঘর স্টাফ কোয়ার্টার। এ সুইপার কলোনিতে ৪০ পরিবারের ৭০ সদস্যের জন্য দুটি গোসলখানা বরাদ্দ। ৪ থেকে ৫টি পরিবারের ৪০ থেকে ৫০ নারী-পুরুষ-শিশুর জন্য একটি পায়খানা বরাদ্দ। ভোর হতে না হতেই পায়খানার সামনে লাইন লেগে যায়।

আর কে চৌধুরী কলেজের আইএ’র ছাত্রী রাহিমা আক্তার। বাবা একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ঘর বলতে একটি শোবার ঘর। শোবার ঘরের পাশে মাটির উনুন। সরু গলির বাম পাশে রান্নাঘরে থাকে রাহিমা আর তার স্বামী।

রাহিমা আক্তারের (২৩) মতে, দুটো গোসলখানা থাকলেও তা ব্যবহারোপযোগী ছিল না। খোলা জায়গায় গোসল করতে হতো। আশপাশের ভবন থেকে লোকজন তাকিয়ে দেখত। বেশি সমস্যা হতো মাসিকের দিনগুলোতে। এসময় কাপড় ব্যবহার করি। তা পরিষ্কার করার জন্য রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। ঘরে এসে পালটাতে হতো। পায়খানায় পুরুষদের সামনে দিয়ে যেতেও লজ্জা লাগত। ‘ইমপাওয়ারিং গার্লস ফর ইকোনমিক অপারচুনিটি অ্যান্ড সেভ স্পেস’-এর আওতায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র আর্থিক সহযোগিতায় আমাদের গোসলখানা উন্নীতকরণ কার্যক্রমের কারণে এখন আমরা আধুনিক গোসলখানা ব্যবহার করতে পারছি। এখন মাসিক হলে আর রাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না পালটানোর জন্য। গোসলখানায় বেসিন, কাপড় রাখার হ্যাঙার, সাবান রাখার কেস, পর্যাপ্ত পানি এবং আলোর ব্যবস্থা রয়েছে।

ধলপুর কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রহিজা খাতুন। আট মাস ধরে তার মাসিক হচ্ছে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে একবার এক প্যাকেট প্যাড পেয়েছিল। সে কাপড় ব্যবহার না করে প্যাড ব্যবহার করে। রহিজা (১৪) জানায়, সাজেদা ফাউন্ডেশনের স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি মাসিককালীন সময়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকার কথা। হাইজিনমুক্ত থাকার জন্য তারা প্যাড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। গোসলখানা ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ায় এখন গোসলখানায় প্যাড পরিবর্তন করতে পারি। কয়েক মাস আগেও গোসলখানা ব্যবহারের উপযোগী না থাকায় নোংরা পায়খানায় গিয়ে প্যাড পালটাতে হতো। পায়খানাও সব সময় খালি পাওয়া যায় না। লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। এভাবে থাকতে অস্বস্তি লাগত।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের সুইপার কলোনি এবং বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪২ ভাগ নারী-কিশোরী বসবাস করেন। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা বেশিরভাগ পুরুষ বা ছেলেদের আশপাশে স্নান করতে লাজুক এবং অস্বস্তিবোধ করেন। অনেক কিশোরী তাদের মাসিকের সময় তিন বা তার বেশি দিন স্নান করেননি। কারণ তারা এমন কোনো সময় খুঁজে পায়নি যখন পুরুষ বা ছেলেরা স্নানের জায়গায় থাকে না। এমনকি স্নানের জায়গায় কোনো ছাদ নেই। নারী-কিশোরীরা যখন স্নান করেন, তখন কাছাকাছি উচ্চ ভবনের পুরুষরা ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে শেয়ার করে তাদের গোপনীয়তাও লঙ্ঘন করে। নলকূপের কাছাকাছি অন্ধকার থাকায় যৌন হয়রানির শিকার হন তারা।

জুলেখার স্বামী সিটি করপোরেশনের সুইপার। এখানেই জুলেখার বেড়ে ওঠা, বিয়ে। ছোটবেলা থেকে খোলা জায়গায় গোসল করেই ও বড় হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জুলেখা (৩২) বলেন, কলপাড়ের জায়গাটাও উঁচু করে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে দিয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই আগে হাঁটু সমান পানি জমত। পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত কলপাড়ে যাওয়া যেত না। পানিতে জোঁক ছিল। এর মধ্যে নোংরা পানি পারিয়ে পায়খানায় যেতাম। কলপাড়ে পায়খানার ময়লা চলে আসত। নারী-পুরুষ একসঙ্গে গোসল করতাম। মাসিকের দিনগুলোতে বেশি সমস্যা হতো। এখন টাইলস বসানো গোসলখানা হওয়ায় সমস্যা কিছুটা কমেছে। এরপরও গোসলখানা অনুযায়ী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, নিম্ন আয়ের এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৪ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ২২ শতাংশই কিশোর-কিশোরী। গোসলখানা না থাকায় তাদের উন্মুক্ত স্থানে গোসল করতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হয় নানারকম সহিংসতার, হয়রানির। সহিংসতার ভয়ে তাদের জীবন নানাভাবে প্রভাবিত হয়।

পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) কমিউনিটি ফেসিলেটর কুলসুম আখতার লিপি বলেন, এখানে নারী-কিশোরীর নিরাপত্তার কথা ভেবে গোসলখানা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মাসিকের সময় যারা কাপড় ব্যবহার করেন তা পরিষ্কার করার জন্য বেসিন লাগানো হয়েছে। বয়স্ক এবং অসুস্থদের বসে গোসল করার জন্য বেঞ্চ, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাপ্লাইয়ের পানির ব্যবস্থা, সেসঙ্গে পানির ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। আয়না, কাপড় রাখার স্ট্যান্ড এবং সাবান কেস লাগানো হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় নারী-কিশোরীর সংখ্যা অনুযায়ী তিনটি গোসলখানা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে জানান, বাংলাদেশে ৫ হাজারেরও বেশি নিম্ন আয়ের এলাকায় মেয়েদের জন্য গোসলের স্থান নেই। কিশোরী ও যুব নারীদের জন্য এটি একটি কঠিন বাস্তবতা। মাসিকের সময় তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সমস্যা নিরসনে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ঢাকার দক্ষিণের কয়েকটি নিম্ন আয়ের এলাকা-সিটি পল্লি, ম্যাচ কলোনি, ধলপুর, খিলগাঁওয়ে স্থানীয় পার্টনার সংস্থা পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) ই-গ্লস প্রকল্পের আওতায় এ বছরের জুনের মধ্যে ১৫টি গোসলখানা নির্মাণ করেছে। যাতে মেয়েরা নির্ভয়ে গোসল করতে পারেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন