লক্ষ্য জয়ে ধৈর্যই শক্তি : শেরিল
jugantor
লক্ষ্য জয়ে ধৈর্যই শক্তি : শেরিল

  সাব্বিন হাসান  

১৩ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে শেরিল স্যান্ডবার্গ এমনিতেই বিখ্যাত। নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ফেসবুকের (মেটা) প্রধান পরিচলন কর্মকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণার কারণে। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে কাজ করেছেন টানা ১৪ বছর। নিজের ফাউন্ডেশন ও জনকল্যাণমূলক কাজে সময় দিতে চান। তাই পদত্যাগ করছেন বলে জানান শেরিল। ইস্তফার ঘোষণায় শেরিল বলেন, ২০০৮ সালে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম পাঁচ বছর থাকব। কিন্তু ১৪ বছর পর জীবনের আরেক অধ্যায় লেখার সময় এখন।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবসার কারিগর হলেন শেরিল। তার ইস্তফা প্রসঙ্গে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, কর্মময় যুগের ইতি হবে। বিশ্বের লাখো মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন শেরিল। নতুন দুনিয়া ‘মেটা’র উদ্ভাবনের পেছনে শেরিলই প্রধান সঞ্চালক।

২০০৮ সাল থেকেই শেরিল দক্ষ জনবল তৈরি ও সাধারণ স্টার্টআপকে চূড়ান্ত সফল করতে অবিরাম পরিশ্রম করেছেন। ডিজিটাল কনটেন্ট দুনিয়ায় যে বিপ্লব তার ‘ক্রিয়েটর’ বলা হয় শেরিলকে। বিশ্বে শুধু ‘শেরিল’ নামেই জনপ্রিয়। পুরো নাম শেরিল স্যান্ডবার্গ। জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৮ আগস্ট। জন্মেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। কাজ করেছেন ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) পদে। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি নির্বাহীদের মধ্যে শেরিল অন্যতম। রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থক।

ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের মা। এক ছেলে এক মেয়ে। তাদের ঘিরে শেরিলের অন্তহীন স্বপ্নযাত্রা। তার ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই তাদের পরিবারে এবং বাইরে সমান দায়িত্ব পালন করবে-এমনটাই প্রত্যাশা। কাজ আর সংসারের ভারসাম্য করে কীভাবে তারা চলবে, তা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে শেরিল সব সময়ই সন্তানদের সময় দেন। জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কী বেছে নেওয়া যায়-প্রতিযোগিতা না অন্যের সফলতার পিছু। এসব এড়িয়ে চেষ্টা করে যাওয়া উচিত শেষ অবধি। যতক্ষণ না কেউ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছ ততক্ষণ অবধি চেষ্টা কর, যতক্ষণ না এমন একটা কাজ পাচ্ছ, যা তোমার ও সবার জন্য জরুরি ও কল্যাণকর।

কর্মযোগে সুদক্ষতাকে ঢেলে দিতে হবে। দিনশেষে সাফল্য নিশ্চিত হবেই। সবাই সফলতার দিকে মুখিয়ে থাকে। সফলতা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। শুধু ভয় কাটিয়ে নিজের কাছে থাকা দায়িত্বের প্রতি সুনজর দিলেই সাফল্য ধরা দেবেই।

সাতজন পুরুষ সদস্যের ফেসবুক পরিচালনা বোর্ডে প্রথম কোনো নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়ে শেরিল প্রথমেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। শেরিলকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন স্বয়ং ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ২০০৮ সালে গুগল ছেড়ে ফেসবুকে যুক্ত হন শেরিল। ওই বছর ‘ওম্যান ইন টেকনোলজি, ইন্টারন্যাশনাল’ বিশ্বপ্রযুক্তিতে শীর্ষ ১০ ক্ষমতাশালী নারীর তালিকায় উঠে আসেন তিনি। শেরিল ফেসবুকের বিপণন, বিকিকিনি, লোকসম্পদ, লোকনীতি এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সরাসরি দেখভাল করেছেন। ফেসবুকের আইপিও ছাড়ার বিষয়টিও তারই আইডিয়া।

বার্ষিক বেতনের হিসাবে শেরিল তিন কোটি ৯০ লাখ ডলার সম্মানী পেয়ে নারী খাতে নতুন ইতিহাস গড়েন। আর্থিক উন্নয়ন, উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে শেরিলের কর্মদক্ষতা এবং সুকৌশলী ভাবনায় ফেসবুক প্রতিদিনই এগিয়েছে। সামলে নিয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। সামাজিক বৈষম্য দূর করতে নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর তা করা গেলে প্রশাসন, সরকারব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি কর্মক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য আসবেই। এ জন্য প্রয়োজন শুধু সর্বোচ্চ থেকে ন্যূনতম এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বিশ্বের উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক গতিকে বদলে দিতে নারীদের কথোপকথনের ধরনও বদলাতে হবে।

নিজের এমন কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে শেরিল বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, শান্ত সমুদ্র কখনো চৌকস আর দক্ষ নাবিক তৈরি করতে পারে না। তাই যিনি যত বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সামলে চলতে পারবেন তার ভবিষ্যৎ ততটাই সুদৃঢ়। লক্ষ্য জয়ে ধৈর্য একটি বড় গুণ।

বিশ্বের তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম শেরিল। বিশেষ করে যারা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। তরুণদের জন্য বলেছেন, জীবনে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক চক্র। জীবনের প্রতিটি বাঁকই সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। আবার সে পথে ঝুঁকিও বেশি। অনিশ্চয়তা তো থাকে প্রতিটি পদক্ষেপে। আর অনিশ্চয়তা থেকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়।

লক্ষ্য জয়ে ধৈর্যই শক্তি : শেরিল

 সাব্বিন হাসান 
১৩ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে শেরিল স্যান্ডবার্গ এমনিতেই বিখ্যাত। নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ফেসবুকের (মেটা) প্রধান পরিচলন কর্মকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণার কারণে। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে কাজ করেছেন টানা ১৪ বছর। নিজের ফাউন্ডেশন ও জনকল্যাণমূলক কাজে সময় দিতে চান। তাই পদত্যাগ করছেন বলে জানান শেরিল। ইস্তফার ঘোষণায় শেরিল বলেন, ২০০৮ সালে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম পাঁচ বছর থাকব। কিন্তু ১৪ বছর পর জীবনের আরেক অধ্যায় লেখার সময় এখন।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবসার কারিগর হলেন শেরিল। তার ইস্তফা প্রসঙ্গে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, কর্মময় যুগের ইতি হবে। বিশ্বের লাখো মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন শেরিল। নতুন দুনিয়া ‘মেটা’র উদ্ভাবনের পেছনে শেরিলই প্রধান সঞ্চালক।

২০০৮ সাল থেকেই শেরিল দক্ষ জনবল তৈরি ও সাধারণ স্টার্টআপকে চূড়ান্ত সফল করতে অবিরাম পরিশ্রম করেছেন। ডিজিটাল কনটেন্ট দুনিয়ায় যে বিপ্লব তার ‘ক্রিয়েটর’ বলা হয় শেরিলকে। বিশ্বে শুধু ‘শেরিল’ নামেই জনপ্রিয়। পুরো নাম শেরিল স্যান্ডবার্গ। জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৮ আগস্ট। জন্মেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। কাজ করেছেন ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) পদে। সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি নির্বাহীদের মধ্যে শেরিল অন্যতম। রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থক।

ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের মা। এক ছেলে এক মেয়ে। তাদের ঘিরে শেরিলের অন্তহীন স্বপ্নযাত্রা। তার ছেলে এবং মেয়ে দুজনেই তাদের পরিবারে এবং বাইরে সমান দায়িত্ব পালন করবে-এমনটাই প্রত্যাশা। কাজ আর সংসারের ভারসাম্য করে কীভাবে তারা চলবে, তা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে শেরিল সব সময়ই সন্তানদের সময় দেন। জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কী বেছে নেওয়া যায়-প্রতিযোগিতা না অন্যের সফলতার পিছু। এসব এড়িয়ে চেষ্টা করে যাওয়া উচিত শেষ অবধি। যতক্ষণ না কেউ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছ ততক্ষণ অবধি চেষ্টা কর, যতক্ষণ না এমন একটা কাজ পাচ্ছ, যা তোমার ও সবার জন্য জরুরি ও কল্যাণকর।

কর্মযোগে সুদক্ষতাকে ঢেলে দিতে হবে। দিনশেষে সাফল্য নিশ্চিত হবেই। সবাই সফলতার দিকে মুখিয়ে থাকে। সফলতা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। শুধু ভয় কাটিয়ে নিজের কাছে থাকা দায়িত্বের প্রতি সুনজর দিলেই সাফল্য ধরা দেবেই।

সাতজন পুরুষ সদস্যের ফেসবুক পরিচালনা বোর্ডে প্রথম কোনো নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়ে শেরিল প্রথমেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। শেরিলকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন স্বয়ং ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ২০০৮ সালে গুগল ছেড়ে ফেসবুকে যুক্ত হন শেরিল। ওই বছর ‘ওম্যান ইন টেকনোলজি, ইন্টারন্যাশনাল’ বিশ্বপ্রযুক্তিতে শীর্ষ ১০ ক্ষমতাশালী নারীর তালিকায় উঠে আসেন তিনি। শেরিল ফেসবুকের বিপণন, বিকিকিনি, লোকসম্পদ, লোকনীতি এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সরাসরি দেখভাল করেছেন। ফেসবুকের আইপিও ছাড়ার বিষয়টিও তারই আইডিয়া।

বার্ষিক বেতনের হিসাবে শেরিল তিন কোটি ৯০ লাখ ডলার সম্মানী পেয়ে নারী খাতে নতুন ইতিহাস গড়েন। আর্থিক উন্নয়ন, উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে শেরিলের কর্মদক্ষতা এবং সুকৌশলী ভাবনায় ফেসবুক প্রতিদিনই এগিয়েছে। সামলে নিয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। সামাজিক বৈষম্য দূর করতে নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর তা করা গেলে প্রশাসন, সরকারব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি কর্মক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য আসবেই। এ জন্য প্রয়োজন শুধু সর্বোচ্চ থেকে ন্যূনতম এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বিশ্বের উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক গতিকে বদলে দিতে নারীদের কথোপকথনের ধরনও বদলাতে হবে।

নিজের এমন কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে শেরিল বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, শান্ত সমুদ্র কখনো চৌকস আর দক্ষ নাবিক তৈরি করতে পারে না। তাই যিনি যত বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সামলে চলতে পারবেন তার ভবিষ্যৎ ততটাই সুদৃঢ়। লক্ষ্য জয়ে ধৈর্য একটি বড় গুণ।

বিশ্বের তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার আরেক নাম শেরিল। বিশেষ করে যারা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। তরুণদের জন্য বলেছেন, জীবনে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক চক্র। জীবনের প্রতিটি বাঁকই সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। আবার সে পথে ঝুঁকিও বেশি। অনিশ্চয়তা তো থাকে প্রতিটি পদক্ষেপে। আর অনিশ্চয়তা থেকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন