নদীভাঙনে সুরক্ষা ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা
jugantor
নদীভাঙনে সুরক্ষা ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা

  রীতা ভৌমিক  

২০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীভাঙনের কারণে বাড়িঘর, সহায়সম্বল হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নারী ও শিশুরা। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, সুরক্ষা সবই হুমকির মুখে পড়েছে। এখনো তাদের জোটেনি কোনো সরকারি সহায়তা। লিখেছেন-রীতা ভৌমিক

শুক্রবার, ১০ জুন ভোররাতেই আনোয়ারা বেগমের গোয়ালঘর, শোবার ঘরের অর্ধেক যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেবাড়ি সহায়সম্বল সব হারিয়ে দুই ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে যমুনা নদীতে তাকিয়ে ছিলেন আনোয়ারা। বিয়ের পর চার-পাঁচবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন আনোয়ারা বেগম। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সন্তোসারচর গ্রাম থেকে তের-চৌদ্দ বছর আগে ব্রাহ্মণ গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। আবারও নদীভাঙনে বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ সব হারালেন তিনি।

আনোয়ারা বেগমের (৪০) মতে, শুক্রবার ভোররাতে আমাদের গোয়ালঘরের কোণা, শোবার ঘরের অর্ধেকটা যমুনায় চলে যায়। বড় বড় মাটির চাপ ভেঙে পড়তে থাকে। আমার স্বামী দৌড়ে চার-পাঁচটি গরু বের করে আনতে পারছিলেন। বড় ছেলেটা প্রতিবন্ধী। হাঁটতে পারে না। আমি চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে ঘর থেকে বের হইছি। জিনিসপত্র তেমন কিছুই সরাতে পারিনি। হাতের সামনে যা পাইছি দু-একটা জিনিস সরাইছি। সব নদীগর্ভে চলে গেছে। মাথায় ছাদ নাই। খোলা আকাশের নিচে ছেলেমেয়েদের নিয়ে দুদিন থাকি। এরপর পুকুরপাড়ে ঝুপড়ি তুলে আছি। ছেলেমেয়েদের মুখে কি তুলে দেব, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব কিছুই জানি না। শ্বশুরের ভিটেয় ছিলাম। আজ তাও হারালাম! কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

এ গ্রামেরই আরেক গৃহবধূ সোমা বেগম। সিরাজগঞ্জের বেতিলচরের বাবার বাড়ি থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন দশ বছর আগে। বড় মেয়ে মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়ে, ছোট মেয়ের বয়স চার বছর। শুক্রবার ফজরের সময় মানুষের হই-হুল্লোড়ে ঘুম ভেঙে যায়। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন শোবার ঘর ছাড়া সব নদীগর্ভে চলে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সোমা বেগম (২২) বলেন, গোয়ালঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। শোবার ঘরটাও না জানি কখন চলে যায়। জমিজমা তো আগেই নদীতে চলে গেছে। জানি না কোথায় মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় নেব। দুই মাস ধরে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। সরকার থেকে একদিন বাদে একদিন অল্প কয়েকটা জিও ব্যাগ ফেলে। অল্প জিও ব্যাগ ফেলায় ভাঙন রোধ হইতাছে না। কোনো জায়গায় দাঁড়াইতে পারতাছি না। বসতে পারতাছি না। মেয়েরা ছোট ওদের একা রাখতেও ভয় লাগে। রান্না করার পরিস্থিতিও নাই। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়েও আসে নাই। কুনে যামু ভাইবা সারা পারতাছি না। পুকুর পাড়ে ছাপড়া তোলা হইছে। গ্রামবাসীরা সেখানে কোনোরকমে থাকতাছি।

এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামের মানুষেরা এভাবেই যমুনা নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। সবচেয়ে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন নারী ও শিশুরা।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের খুকনী ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল এটি। এই অর্থ এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণ গ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে একটি নামকরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ কাজটি পেয়েছে। তাদের কাজের গাফিলতির কারণে খুকনী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামে নদীভাঙনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। একটি মসজিদসহ ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ কাজের ধীরগতি দেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা বললে তারা ধরেই নিতেন চাঁদাবাজির জন্য তাদের চাপ দিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের এখনো কোনো সহায়তা করা হয়নি। তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য ১৯ জুন রোববার সভায় ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. রেজাউল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জমিতে ঢুকে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে কৃষি জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বনভূমি উজাড়, বায়ুদূষণ, গাছ না কাটলে জলবায়ুর পরিবর্তন হতো না। প্লাস্টিক পণ্য-বোতল, পলিথিন যেসব দ্রব্য পচনশীল নয় তা মাটির ক্ষতি করছে। রোদের তাপে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য থেকে মিথেন নিঃসরণ হয়ে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে বাতাস দূষিত হয়। এর ফলে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদের এমএম এসের মাঠ সহায়ক অঞ্জনা বালা জানান, বন্যাকবলিত এবং নদীভাঙন এলাকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি, মেসরা, কাওয়াখোলা, এনায়েতপুর শাহজাদপুর ও সদর উপজেলা। এসব এলাকায় নদীভাঙনের প্রবণতা বেশি। প্রতি বছর নদীভাঙনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাওয়ার কারণে নারী-শিশুর জীবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এসব এলাকার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে রিকল প্রজেক্টের আওতায় সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে এ এলাকার নারী-পুরুষ উভয় নদীভাঙন, বন্যার সম্মুখীন হওয়ার আগেই নিজেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সহায়তা করেন।

অক্সফাম বাংলাদেশ এর রুরাল ম্যানেজার কাজী রাবেয়া এমির মতে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-নদীভাঙন, বন্যায় দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগণ সংরক্ষিত খাদ্যের পুনঃপ্রয়োগ করে নিজেদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারেন। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ধার হিসাবে তার প্রয়োজনে চাল নিয়ে সেটা আবার সময় অনুযায়ী ফেরত দেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ণ ১৩টি জেলায় তৈরি হয়েছে খাদ্য ব্যাংক। যাদের কাছ থেকে খাবার সংগ্রহ করা হয় রেজিস্টার বইয়ে সেই তথ্য লিখে রাখাও হয়। সেই সঙ্গে তারা সঞ্চিত খাবার বিক্রি করে বিকল্প আয়ের পথও তৈরি করতে পারেন।

নদীভাঙনে সুরক্ষা ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা

 রীতা ভৌমিক 
২০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীভাঙনের কারণে বাড়িঘর, সহায়সম্বল হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নারী ও শিশুরা। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, সুরক্ষা সবই হুমকির মুখে পড়েছে। এখনো তাদের জোটেনি কোনো সরকারি সহায়তা। লিখেছেন-রীতা ভৌমিক

শুক্রবার, ১০ জুন ভোররাতেই আনোয়ারা বেগমের গোয়ালঘর, শোবার ঘরের অর্ধেক যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেবাড়ি সহায়সম্বল সব হারিয়ে দুই ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে যমুনা নদীতে তাকিয়ে ছিলেন আনোয়ারা। বিয়ের পর চার-পাঁচবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন আনোয়ারা বেগম। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সন্তোসারচর গ্রাম থেকে তের-চৌদ্দ বছর আগে ব্রাহ্মণ গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। আবারও নদীভাঙনে বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ সব হারালেন তিনি।

আনোয়ারা বেগমের (৪০) মতে, শুক্রবার ভোররাতে আমাদের গোয়ালঘরের কোণা, শোবার ঘরের অর্ধেকটা যমুনায় চলে যায়। বড় বড় মাটির চাপ ভেঙে পড়তে থাকে। আমার স্বামী দৌড়ে চার-পাঁচটি গরু বের করে আনতে পারছিলেন। বড় ছেলেটা প্রতিবন্ধী। হাঁটতে পারে না। আমি চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে ঘর থেকে বের হইছি। জিনিসপত্র তেমন কিছুই সরাতে পারিনি। হাতের সামনে যা পাইছি দু-একটা জিনিস সরাইছি। সব নদীগর্ভে চলে গেছে। মাথায় ছাদ নাই। খোলা আকাশের নিচে ছেলেমেয়েদের নিয়ে দুদিন থাকি। এরপর পুকুরপাড়ে ঝুপড়ি তুলে আছি। ছেলেমেয়েদের মুখে কি তুলে দেব, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব কিছুই জানি না। শ্বশুরের ভিটেয় ছিলাম। আজ তাও হারালাম! কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

এ গ্রামেরই আরেক গৃহবধূ সোমা বেগম। সিরাজগঞ্জের বেতিলচরের বাবার বাড়ি থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন দশ বছর আগে। বড় মেয়ে মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়ে, ছোট মেয়ের বয়স চার বছর। শুক্রবার ফজরের সময় মানুষের হই-হুল্লোড়ে ঘুম ভেঙে যায়। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন শোবার ঘর ছাড়া সব নদীগর্ভে চলে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সোমা বেগম (২২) বলেন, গোয়ালঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। শোবার ঘরটাও না জানি কখন চলে যায়। জমিজমা তো আগেই নদীতে চলে গেছে। জানি না কোথায় মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় নেব। দুই মাস ধরে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। সরকার থেকে একদিন বাদে একদিন অল্প কয়েকটা জিও ব্যাগ ফেলে। অল্প জিও ব্যাগ ফেলায় ভাঙন রোধ হইতাছে না। কোনো জায়গায় দাঁড়াইতে পারতাছি না। বসতে পারতাছি না। মেয়েরা ছোট ওদের একা রাখতেও ভয় লাগে। রান্না করার পরিস্থিতিও নাই। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়েও আসে নাই। কুনে যামু ভাইবা সারা পারতাছি না। পুকুর পাড়ে ছাপড়া তোলা হইছে। গ্রামবাসীরা সেখানে কোনোরকমে থাকতাছি।

এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামের মানুষেরা এভাবেই যমুনা নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। সবচেয়ে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন নারী ও শিশুরা।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের খুকনী ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল এটি। এই অর্থ এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণ গ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে একটি নামকরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ কাজটি পেয়েছে। তাদের কাজের গাফিলতির কারণে খুকনী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামে নদীভাঙনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। একটি মসজিদসহ ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ কাজের ধীরগতি দেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা বললে তারা ধরেই নিতেন চাঁদাবাজির জন্য তাদের চাপ দিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্তদের এখনো কোনো সহায়তা করা হয়নি। তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য ১৯ জুন রোববার সভায় ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. রেজাউল হকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জমিতে ঢুকে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে কৃষি জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বনভূমি উজাড়, বায়ুদূষণ, গাছ না কাটলে জলবায়ুর পরিবর্তন হতো না। প্লাস্টিক পণ্য-বোতল, পলিথিন যেসব দ্রব্য পচনশীল নয় তা মাটির ক্ষতি করছে। রোদের তাপে প্লাস্টিকজাত দ্রব্য থেকে মিথেন নিঃসরণ হয়ে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে বাতাস দূষিত হয়। এর ফলে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদের এমএম এসের মাঠ সহায়ক অঞ্জনা বালা জানান, বন্যাকবলিত এবং নদীভাঙন এলাকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি, মেসরা, কাওয়াখোলা, এনায়েতপুর শাহজাদপুর ও সদর উপজেলা। এসব এলাকায় নদীভাঙনের প্রবণতা বেশি। প্রতি বছর নদীভাঙনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাওয়ার কারণে নারী-শিশুর জীবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এসব এলাকার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে রিকল প্রজেক্টের আওতায় সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে এ এলাকার নারী-পুরুষ উভয় নদীভাঙন, বন্যার সম্মুখীন হওয়ার আগেই নিজেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সহায়তা করেন।

অক্সফাম বাংলাদেশ এর রুরাল ম্যানেজার কাজী রাবেয়া এমির মতে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-নদীভাঙন, বন্যায় দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগণ সংরক্ষিত খাদ্যের পুনঃপ্রয়োগ করে নিজেদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারেন। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ধার হিসাবে তার প্রয়োজনে চাল নিয়ে সেটা আবার সময় অনুযায়ী ফেরত দেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ণ ১৩টি জেলায় তৈরি হয়েছে খাদ্য ব্যাংক। যাদের কাছ থেকে খাবার সংগ্রহ করা হয় রেজিস্টার বইয়ে সেই তথ্য লিখে রাখাও হয়। সেই সঙ্গে তারা সঞ্চিত খাবার বিক্রি করে বিকল্প আয়ের পথও তৈরি করতে পারেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন