মাল্টা ও ড্রাগন চাষে নারীরা এগিয়ে
jugantor
মাল্টা ও ড্রাগন চাষে নারীরা এগিয়ে

  আব্বাস আলী  

২০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাছে গাছে থোকায় থোকায় ড্রাগন, মাল্টা ধরে রয়েছে। এই ফল বাগানের মালিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রিনা আক্তার। এই ফল চাষ করে এখন তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকট। গাছ প্রিয় রিনার কোনো গাছের চারা পছন্দ হলেই তিনি তা কিনে নিতেন। সেসঙ্গে বন্ধুবান্ধব এবং পাড়া প্রতিবেশীকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতেন। সংসার জীবনে এসেও তার সেই স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়াননি। স্বামী, সংসার, সন্তানদের দেখাশোনা করেও ফল বাগানের পরিচর্যা করেন। গাছের প্রতি নিবিড় ভালোলাগা বা ভালোবাসা থেকেই তিনি ফল চাষে উৎসাহী হন।

ধামইরহাট উপজেলার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বদিকে পিড়লডাঙ্গা মোড় হয়ে দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার পেরিয়ে গেলেই ধামইরহাট ইউনিয়নে আংগরত কলনি। রাস্তার পাশেই বাড়ি সংলগ্ন চার বিঘা জমির ফলের বাগান মায়াকানন।

এ প্রসঙ্গে রিনা আক্তার বলেন, ভালোলাগা থেকেই ২০১৫ সালে প্রায় চার বিঘা জমিতে মায়াকানন নামে একটি ফল বাগান করি। এখানে দুই বিঘা জমিতে মাল্টা এবং দুই বিঘায় ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়েছি। গাছগুলোতে ফল আসা শুরু করেছে। আর প্রাচীর ঘেঁষে লাগিয়েছি খাটো জাতের ভিয়েতনামি ৩৬টি নারিকেল গাছ। খামারে রয়েছে ছোট-বড় দেশি বিদেশি ১০টি গরু ও নানা জাতের ৩০টি ছাগল। বাগান ও খামারে এলাকার দুস্থ অসহায় বঞ্চিত প্রায় ১৫০ জন নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে ১২ ফুট অন্তর লাগানো হয়েছে ১৩৬টি বারি ওয়ান জাতের মাল্টা গাছ। প্রতিটি গাছে এখন মাল্টা ঝুলছে। এ বছর প্রতিটি গাছে গড়ে বছরে ১০ কেজি করে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মন মাল্টা পাওয়া যাবে। প্রতিমন ৪ হাজার টাকা দরে যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে দুই বিঘা জমিতে ৯ ফুট দূরত্বে লাগানো হয়েছে ৪০০টি পুষ্টি গুণে ভরপুর ড্রাগন ফলের গাছ। এর মধ্যে ১৮০টি গাছে ফল ধরেছে। গড়ে প্রতিটি গাছে ৫ কেজি হারে প্রায় ৯০০ কেজি ফল পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারে ড্রাগন ফলের প্রতি কেজি পাইকারি মূল্য ৩৫০ টাকা হারে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পুষ্টি ও সু-স্বাদু গুণে ভরপুর মাল্টা ও ড্রাগন ফল বছরে একবারই পাওয়া যায়।

উদ্যোক্তা রিনা আক্তার আরও বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা আমাকে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের চারাগাছ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ বাগানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সেখান থেকেই আমার এই পথচলা। আমি মনে করি পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের পাশাপাশি আমরা নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছি। একটি বাগানে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি যত্ন নিতে পারেন। তাই সব কাজে পুরুষের পাশাপাশি শিক্ষিত নারীকে এগিয়ে এসে নিজেকে স্বাবলম্বী করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, রিনা আক্তার একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। যিনি কৃষি অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজেকে একজন কৃষিবান্ধব নারী উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলেছেন। অবহেলিত নারী সমাজের জন্য রিনা আক্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মাল্টা ও ড্রাগন চাষে নারীরা এগিয়ে

 আব্বাস আলী 
২০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাছে গাছে থোকায় থোকায় ড্রাগন, মাল্টা ধরে রয়েছে। এই ফল বাগানের মালিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রিনা আক্তার। এই ফল চাষ করে এখন তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকট। গাছ প্রিয় রিনার কোনো গাছের চারা পছন্দ হলেই তিনি তা কিনে নিতেন। সেসঙ্গে বন্ধুবান্ধব এবং পাড়া প্রতিবেশীকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতেন। সংসার জীবনে এসেও তার সেই স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়াননি। স্বামী, সংসার, সন্তানদের দেখাশোনা করেও ফল বাগানের পরিচর্যা করেন। গাছের প্রতি নিবিড় ভালোলাগা বা ভালোবাসা থেকেই তিনি ফল চাষে উৎসাহী হন।

ধামইরহাট উপজেলার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বদিকে পিড়লডাঙ্গা মোড় হয়ে দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার পেরিয়ে গেলেই ধামইরহাট ইউনিয়নে আংগরত কলনি। রাস্তার পাশেই বাড়ি সংলগ্ন চার বিঘা জমির ফলের বাগান মায়াকানন।

এ প্রসঙ্গে রিনা আক্তার বলেন, ভালোলাগা থেকেই ২০১৫ সালে প্রায় চার বিঘা জমিতে মায়াকানন নামে একটি ফল বাগান করি। এখানে দুই বিঘা জমিতে মাল্টা এবং দুই বিঘায় ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়েছি। গাছগুলোতে ফল আসা শুরু করেছে। আর প্রাচীর ঘেঁষে লাগিয়েছি খাটো জাতের ভিয়েতনামি ৩৬টি নারিকেল গাছ। খামারে রয়েছে ছোট-বড় দেশি বিদেশি ১০টি গরু ও নানা জাতের ৩০টি ছাগল। বাগান ও খামারে এলাকার দুস্থ অসহায় বঞ্চিত প্রায় ১৫০ জন নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে ১২ ফুট অন্তর লাগানো হয়েছে ১৩৬টি বারি ওয়ান জাতের মাল্টা গাছ। প্রতিটি গাছে এখন মাল্টা ঝুলছে। এ বছর প্রতিটি গাছে গড়ে বছরে ১০ কেজি করে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মন মাল্টা পাওয়া যাবে। প্রতিমন ৪ হাজার টাকা দরে যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে দুই বিঘা জমিতে ৯ ফুট দূরত্বে লাগানো হয়েছে ৪০০টি পুষ্টি গুণে ভরপুর ড্রাগন ফলের গাছ। এর মধ্যে ১৮০টি গাছে ফল ধরেছে। গড়ে প্রতিটি গাছে ৫ কেজি হারে প্রায় ৯০০ কেজি ফল পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারে ড্রাগন ফলের প্রতি কেজি পাইকারি মূল্য ৩৫০ টাকা হারে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পুষ্টি ও সু-স্বাদু গুণে ভরপুর মাল্টা ও ড্রাগন ফল বছরে একবারই পাওয়া যায়।

উদ্যোক্তা রিনা আক্তার আরও বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা আমাকে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের চারাগাছ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ বাগানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সেখান থেকেই আমার এই পথচলা। আমি মনে করি পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের পাশাপাশি আমরা নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছি। একটি বাগানে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি যত্ন নিতে পারেন। তাই সব কাজে পুরুষের পাশাপাশি শিক্ষিত নারীকে এগিয়ে এসে নিজেকে স্বাবলম্বী করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, রিনা আক্তার একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। যিনি কৃষি অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজেকে একজন কৃষিবান্ধব নারী উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলেছেন। অবহেলিত নারী সমাজের জন্য রিনা আক্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন