শখের কাজে নারীর সফলতার সাতকাহন
jugantor
শখের কাজে নারীর সফলতার সাতকাহন
ওরা তিনজন। পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বশে ছবি আঁকেন। ছবি বিক্রি করে ভালোই আয় হয় তাদের। একদিকে সংসারে সচ্ছলতা অন্যদিকে নিজেদের চাহিদা পূরণও করতে পারেন। তিন নারীর সফলতার কথা লিখেছেন-

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান  

২৫ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ছবিও আঁকেন : জান্নাতি জাহান অন্তরা

ছবি বিক্রির বেশিরভাগ টাকা গরিব দুঃখী মানুষদের জন্য ব্যয় করেন জান্নাতি জাহান অন্তরা। পড়ছেন যশোর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষে। বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়। চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ছবিও আঁকেন।

জান্নাতি জাহান অন্তরা বলেন, ছবি আঁকা মনের হতাশা দূর করে। এক্রেলিক রঙে ক্যানভাসে ছবি আকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এক্রেলিক রং পুরু করে টেক্সার পেইন্টিং করলে ছবি জীবন্ত মনে হয়। এ পর্যন্ত আমি প্রায় ১০০ ছবি এঁকেছি। ছবি বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা আয় হয়।

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তার ঝোঁক। তিনি তখন নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকে প্রথম হন। এরপর ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন দিবসে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হতেন। বাবা নাজমুল হুদা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার ফেসবুক পেজের নাম Antora's Art World। অন্তরা স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক এবং শিল্পী হওয়ার। ছবি আঁকার পাশাপাশি তিনি ক্রাফট-এর কাজ করেন। কাগজ দিয়ে তৈরি কার্ড, গিফট বক্স, স্ক্রাপবুক তার ভালোই বিক্রি হয়। দাম ২০০-৮০০ টাকা। উল আর সুতা দিয়ে তৈরি করেন ড্রিম ক্যাচার। এ ছাড়া হ্যান্ড পেইন্টেড পাঞ্জাবি ও ড্রেস-এর কাজ, কাঠের গহনা এগুলোও তৈরি করেন মাঝে মাঝে।

তিনি সন্ধানী যশোর মেডিকেল কলেজ ইউনিটের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

আঁকতে বসলে আলাদা একটা প্রশান্তিতে ডুব দিই : ফারহিন আহমেদ

সরকারি তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারহিন আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই তার ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। লেখার খাতা, দেওয়াল কোনো কিছুই তার আঁকাআঁকির বাইরে ছিল না। এ জন্য বাবার বকাও শুনতেন অনেক। ফারহিন আহমেদ বলেন, ছোটবেলায় খুব মিনা কার্টুন দেখতাম। কার্টুনে দেখানো গ্রাম, পাখি দেখে খাতায় আঁকার চেষ্টা করতাম। আমার প্রত্যেকটা লেখার খাতায় ছবি আঁকা থাকত। তা দেখে আব্বু খুব বকতেন। খাতা কিনেন আমার লেখার জন্য। আমি তা ছবি এঁকে নষ্ট করি। এটা আব্বু মেনে নিতে পারতেন না। বাবা মোঃ ফরিদউদ্দিন তালুকদার পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা। মা ফারহানা নাজনীন গৃহিণী। এক সময় ভালোই পোট্রেট আঁকতেন। এসব ছবি আঁকা ভালো নয়। দোজখে যেতে হবে এমন কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। প্রথম প্রথম যখন ক্যালিওগ্রাফি করেছেন। একটু ভুল হলেই মানুষের আজেবাজে মন্তব্য তাকে কাঁদাত। কিন্তু ফারহিন এসব কথাকে পাত্তা দেননি। ঘরসংসার, স্বামী, সন্তান, লেখাপড়া সামলিয়ে তিনি তার কাজে মনোনিবেশ করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্বামী। ছবি আঁকার অর্ডারও পান অনেক। ফারহিনের মতে, রং তুলি নিয়ে আঁকতে বসলে আলাদা একটা প্রশান্তিতে ডুব দিই। তার ফেসবুক পেজের নাম Ayat In Arabi (https://www.facebook.com/Drawingbd/) তার ছবির দাম সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ ৭০০-৫৫০০ টাকা পর্যন্ত। ইয়োথ অপারচুনিটিসের পক্ষ থেকে একটি ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সারা বাংলাদেশ থেকে ৭০০ ছবির মধ্যে সেরা একশতে তার একটি ক্যালিগ্রাফি ছিল। এটা তার জন্য বড় একটা অর্জন।

লাবনীর আত্মীয়স্বজনরা বলত, ছবি এঁকে কী হবে : লাবনী মহাজন

লাবনী মহাজন পেশায় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। লেখাপড়া করেছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। বাবা প্রিয়রঞ্জন মহাজন বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত রয়েছেন। মা কুমকুম মহাজন গৃহিণী। চাকরির পাশাপাশি সফল চিত্রশিল্পী লাবনীর আত্মীয়স্বজনরা বলত, ছবি এঁকে কী হবে। ছবি এঁকে অর্থ উপার্জন করা যায় না। ছোটবেলায় এ ধরনের নানা কথা শুনেছেন তিনি। তারপরও ছবি আঁকা চালিয়ে গেছেন। দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাকে সাহস জুগিয়েছেন তার বাবা-মা। লাবনী ক্যানভাসে প্রথম ছবি আঁকেন ২০১৬ সালে। ছবির বিষয় ছিল একজন মেয়ে মুক্তভাবে বাঁচতে চায়। ছবির নাম ছিল হোপ। তিনি এক্রেলিক কালার দিয়ে ক্যানভাস পেপারে আঁকেন। পাশপাশি তেল রং ও ব্যবহার করেন। ক্যানভাস, ক্যানভাস পেপার, হ্যান্ড মেড পেপার ইত্যাদি মিডিয়ায় তার ছবিগুলো প্রশংসিত হয়। Women's Strength তার খুব জনপ্রিয় একটি ছবি। যা EMK Center এর প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল। লাবনী জানান, ছবিটিতে প্যান্ডেমিকে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত একশটির মতো ছবি এঁকেছি। রাতে এবং বন্ধের দিন ছবি আঁকি। ছোটবেলা থেকেই সেলাই, বিতর্ক, সংগীত সব কিছুতে কমবেশি সফলতা পেয়েছি। বরাবরই ইচ্ছা ছিল চিত্রশিল্পী হব। তাই ছবি আঁকার চর্চাও চালিয়ে যাই। ইউটিউব, পিন্টারেস্ট-এর বিভিন্ন ভিডিও দেখে ছবি আঁকার কৌশল রপ্ত করি। এর মাধ্যমে তিনি কিছু অর্থও আয় হয়। ছবির দাম পাঁচশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাসে একটি-দুটি বিক্রি হয়। প্রথম ছবি বিক্রির টাকা দিয়ে মাকে শাড়ি, বাবাকে পাঞ্জাবি উপহার দিই। লাবনী আরও বলেন, নবীন চিত্রশিল্পীদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফরম তৈরি করা। যারা নিজ চেষ্টায় চিত্রকর্ম শিখেছেন তাদের সুযোগের অভাব রয়েছে। তাদের জন্য এক্সিবিশন এবং মূল্যায়নের প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে। লাবনী ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশে অনেক এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে নয়টি আন্তর্জাতিক এবং ১৫টি দেশীয় এক্সিবিশন রয়েছে। ইউনাইটেড ন্যাশনস অব বাংলাদেশ, এডওয়ার্ড কিংডম সার্টিফিকেট, রাশিয়া-ইন্ডিয়া কালচারাল এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। এ বছরের মার্চ মাসে ইএমকে সেন্টার, মে ও জুন মাসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুবার এবং সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে একবার তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। তার ফেসবুক পেজের নাম DREAMY HUES by LABONI.

শখের কাজে নারীর সফলতার সাতকাহন

ওরা তিনজন। পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বশে ছবি আঁকেন। ছবি বিক্রি করে ভালোই আয় হয় তাদের। একদিকে সংসারে সচ্ছলতা অন্যদিকে নিজেদের চাহিদা পূরণও করতে পারেন। তিন নারীর সফলতার কথা লিখেছেন-
 মুহাম্মদ শফিকুর রহমান 
২৫ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ছবিও আঁকেন : জান্নাতি জাহান অন্তরা

ছবি বিক্রির বেশিরভাগ টাকা গরিব দুঃখী মানুষদের জন্য ব্যয় করেন জান্নাতি জাহান অন্তরা। পড়ছেন যশোর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষে। বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়। চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ছবিও আঁকেন।

জান্নাতি জাহান অন্তরা বলেন, ছবি আঁকা মনের হতাশা দূর করে। এক্রেলিক রঙে ক্যানভাসে ছবি আকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এক্রেলিক রং পুরু করে টেক্সার পেইন্টিং করলে ছবি জীবন্ত মনে হয়। এ পর্যন্ত আমি প্রায় ১০০ ছবি এঁকেছি। ছবি বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা আয় হয়।

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তার ঝোঁক। তিনি তখন নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকে প্রথম হন। এরপর ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন দিবসে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হতেন। বাবা নাজমুল হুদা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার ফেসবুক পেজের নাম Antora's Art World। অন্তরা স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক এবং শিল্পী হওয়ার। ছবি আঁকার পাশাপাশি তিনি ক্রাফট-এর কাজ করেন। কাগজ দিয়ে তৈরি কার্ড, গিফট বক্স, স্ক্রাপবুক তার ভালোই বিক্রি হয়। দাম ২০০-৮০০ টাকা। উল আর সুতা দিয়ে তৈরি করেন ড্রিম ক্যাচার। এ ছাড়া হ্যান্ড পেইন্টেড পাঞ্জাবি ও ড্রেস-এর কাজ, কাঠের গহনা এগুলোও তৈরি করেন মাঝে মাঝে।

তিনি সন্ধানী যশোর মেডিকেল কলেজ ইউনিটের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

আঁকতে বসলে আলাদা একটা প্রশান্তিতে ডুব দিই : ফারহিন আহমেদ

সরকারি তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারহিন আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই তার ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। লেখার খাতা, দেওয়াল কোনো কিছুই তার আঁকাআঁকির বাইরে ছিল না। এ জন্য বাবার বকাও শুনতেন অনেক। ফারহিন আহমেদ বলেন, ছোটবেলায় খুব মিনা কার্টুন দেখতাম। কার্টুনে দেখানো গ্রাম, পাখি দেখে খাতায় আঁকার চেষ্টা করতাম। আমার প্রত্যেকটা লেখার খাতায় ছবি আঁকা থাকত। তা দেখে আব্বু খুব বকতেন। খাতা কিনেন আমার লেখার জন্য। আমি তা ছবি এঁকে নষ্ট করি। এটা আব্বু মেনে নিতে পারতেন না। বাবা মোঃ ফরিদউদ্দিন তালুকদার পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা। মা ফারহানা নাজনীন গৃহিণী। এক সময় ভালোই পোট্রেট আঁকতেন। এসব ছবি আঁকা ভালো নয়। দোজখে যেতে হবে এমন কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। প্রথম প্রথম যখন ক্যালিওগ্রাফি করেছেন। একটু ভুল হলেই মানুষের আজেবাজে মন্তব্য তাকে কাঁদাত। কিন্তু ফারহিন এসব কথাকে পাত্তা দেননি। ঘরসংসার, স্বামী, সন্তান, লেখাপড়া সামলিয়ে তিনি তার কাজে মনোনিবেশ করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার স্বামী। ছবি আঁকার অর্ডারও পান অনেক। ফারহিনের মতে, রং তুলি নিয়ে আঁকতে বসলে আলাদা একটা প্রশান্তিতে ডুব দিই। তার ফেসবুক পেজের নাম Ayat In Arabi (https://www.facebook.com/Drawingbd/) তার ছবির দাম সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ ৭০০-৫৫০০ টাকা পর্যন্ত। ইয়োথ অপারচুনিটিসের পক্ষ থেকে একটি ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সারা বাংলাদেশ থেকে ৭০০ ছবির মধ্যে সেরা একশতে তার একটি ক্যালিগ্রাফি ছিল। এটা তার জন্য বড় একটা অর্জন।

লাবনীর আত্মীয়স্বজনরা বলত, ছবি এঁকে কী হবে : লাবনী মহাজন

লাবনী মহাজন পেশায় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। লেখাপড়া করেছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। বাবা প্রিয়রঞ্জন মহাজন বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত রয়েছেন। মা কুমকুম মহাজন গৃহিণী। চাকরির পাশাপাশি সফল চিত্রশিল্পী লাবনীর আত্মীয়স্বজনরা বলত, ছবি এঁকে কী হবে। ছবি এঁকে অর্থ উপার্জন করা যায় না। ছোটবেলায় এ ধরনের নানা কথা শুনেছেন তিনি। তারপরও ছবি আঁকা চালিয়ে গেছেন। দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাকে সাহস জুগিয়েছেন তার বাবা-মা। লাবনী ক্যানভাসে প্রথম ছবি আঁকেন ২০১৬ সালে। ছবির বিষয় ছিল একজন মেয়ে মুক্তভাবে বাঁচতে চায়। ছবির নাম ছিল হোপ। তিনি এক্রেলিক কালার দিয়ে ক্যানভাস পেপারে আঁকেন। পাশপাশি তেল রং ও ব্যবহার করেন। ক্যানভাস, ক্যানভাস পেপার, হ্যান্ড মেড পেপার ইত্যাদি মিডিয়ায় তার ছবিগুলো প্রশংসিত হয়। Women's Strength তার খুব জনপ্রিয় একটি ছবি। যা EMK Center এর প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছিল। লাবনী জানান, ছবিটিতে প্যান্ডেমিকে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এ পর্যন্ত একশটির মতো ছবি এঁকেছি। রাতে এবং বন্ধের দিন ছবি আঁকি। ছোটবেলা থেকেই সেলাই, বিতর্ক, সংগীত সব কিছুতে কমবেশি সফলতা পেয়েছি। বরাবরই ইচ্ছা ছিল চিত্রশিল্পী হব। তাই ছবি আঁকার চর্চাও চালিয়ে যাই। ইউটিউব, পিন্টারেস্ট-এর বিভিন্ন ভিডিও দেখে ছবি আঁকার কৌশল রপ্ত করি। এর মাধ্যমে তিনি কিছু অর্থও আয় হয়। ছবির দাম পাঁচশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাসে একটি-দুটি বিক্রি হয়। প্রথম ছবি বিক্রির টাকা দিয়ে মাকে শাড়ি, বাবাকে পাঞ্জাবি উপহার দিই। লাবনী আরও বলেন, নবীন চিত্রশিল্পীদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফরম তৈরি করা। যারা নিজ চেষ্টায় চিত্রকর্ম শিখেছেন তাদের সুযোগের অভাব রয়েছে। তাদের জন্য এক্সিবিশন এবং মূল্যায়নের প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে। লাবনী ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশে অনেক এক্সিবিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে নয়টি আন্তর্জাতিক এবং ১৫টি দেশীয় এক্সিবিশন রয়েছে। ইউনাইটেড ন্যাশনস অব বাংলাদেশ, এডওয়ার্ড কিংডম সার্টিফিকেট, রাশিয়া-ইন্ডিয়া কালচারাল এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। এ বছরের মার্চ মাসে ইএমকে সেন্টার, মে ও জুন মাসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুবার এবং সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে একবার তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। তার ফেসবুক পেজের নাম DREAMY HUES by LABONI.

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন