সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন নিগার সুলতানা
jugantor
সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন নিগার সুলতানা

  রায়হান রাশেদ  

০১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পলাশের চকপাড়ায় টিনশেডের দোচালা ঘর। ২০-২৫ জন নারী সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন। এরা সবাই শিক্ষার্থী। সবাই বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থী পারুলের মতে, নিগার সুলতানা আপা আমাদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আমাদের সেলাই শেখা প্রায় শেষের দিকে। পরীক্ষায় যারা ভালো করবেন তাদের সেলাই মেশিন উপহার হিসাবে দেবেন। একটি সেলাই মেশিন পেলে আমি আমার পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারব। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে পারব।

২০১০ সাল। নরসিংদীর পলাশের নিগার সুলতানা বিনামূল্যে দরিদ্র নারীদের সেলাই কাজ শেখানোর উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ’। তিনি নিজেই সেলাই প্রশিক্ষণ দেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার নারী সুলতানার সেলাই প্রশিক্ষণের অধীনে সেলাই কাজ শিখেছেন। অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। অনেকের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

এ প্রসঙ্গে নিগার সুলতানা বলেন, শিক্ষিত বেকার, ছাত্রী, হতদরিদ্র ও বিধবাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ’ নামে এ প্রতিষ্ঠানটি করি। কাউকে ৫০০ টাকা দিলে, সে হয়তো একদিন ভালো খাবে। দিন শেষে টাকাটা থাকবে না। কিন্তু কাউকে কোনো কাজ শেখাতে পারলে, সেটা আজীবন থাকবে। এ কাজের দ্বারা ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। স্বাবলম্বী হতে পারবে। পরিবারের বোঝা হবে না। বরং ও হবে পরিবারের রোজগারের একাংশ। এ চিন্তা থেকে সুলতানা সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ করেছি। এ কাজে আমার ছেলে তুষার আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করে।

সেলাই প্রশিক্ষণের শুরুটা করেছিলেন চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দাড়াগ্রামে। সেখানেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেলাই শেখায় নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিন মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স খোলেন। প্রথমে ২৫ থেকে ৩০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। ঘর ভাড়া থেকে শুরু করে মেশিন, কাঁচি, সুই, সুতা, কাগজ, শিক্ষা ভাতা বহন করেন তিনি। চরসিন্দুরে ৪টি ব্যাচে মোট ১২০ জন নারী সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন করেন। মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানের জন্য একটি সেলাই মেশিন পুরস্কার দেন। এ পর্যন্ত ৩০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন দিয়েছেন। একজন নারী সংসারের সব কাজ করেও প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা রোজগার করছেন।

সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন নিগার সুলতানা

 রায়হান রাশেদ 
০১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পলাশের চকপাড়ায় টিনশেডের দোচালা ঘর। ২০-২৫ জন নারী সেলাই মেশিন চালাচ্ছেন। এরা সবাই শিক্ষার্থী। সবাই বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থী পারুলের মতে, নিগার সুলতানা আপা আমাদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আমাদের সেলাই শেখা প্রায় শেষের দিকে। পরীক্ষায় যারা ভালো করবেন তাদের সেলাই মেশিন উপহার হিসাবে দেবেন। একটি সেলাই মেশিন পেলে আমি আমার পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারব। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে পারব।

২০১০ সাল। নরসিংদীর পলাশের নিগার সুলতানা বিনামূল্যে দরিদ্র নারীদের সেলাই কাজ শেখানোর উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ’। তিনি নিজেই সেলাই প্রশিক্ষণ দেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার নারী সুলতানার সেলাই প্রশিক্ষণের অধীনে সেলাই কাজ শিখেছেন। অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। অনেকের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

এ প্রসঙ্গে নিগার সুলতানা বলেন, শিক্ষিত বেকার, ছাত্রী, হতদরিদ্র ও বিধবাদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘সুলতানা সেলাই প্রশিক্ষণ’ নামে এ প্রতিষ্ঠানটি করি। কাউকে ৫০০ টাকা দিলে, সে হয়তো একদিন ভালো খাবে। দিন শেষে টাকাটা থাকবে না। কিন্তু কাউকে কোনো কাজ শেখাতে পারলে, সেটা আজীবন থাকবে। এ কাজের দ্বারা ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। স্বাবলম্বী হতে পারবে। পরিবারের বোঝা হবে না। বরং ও হবে পরিবারের রোজগারের একাংশ। এ চিন্তা থেকে সুলতানা সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ করেছি। এ কাজে আমার ছেলে তুষার আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করে।

সেলাই প্রশিক্ষণের শুরুটা করেছিলেন চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দাড়াগ্রামে। সেখানেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেলাই শেখায় নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিন মাসমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স খোলেন। প্রথমে ২৫ থেকে ৩০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। ঘর ভাড়া থেকে শুরু করে মেশিন, কাঁচি, সুই, সুতা, কাগজ, শিক্ষা ভাতা বহন করেন তিনি। চরসিন্দুরে ৪টি ব্যাচে মোট ১২০ জন নারী সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন করেন। মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানের জন্য একটি সেলাই মেশিন পুরস্কার দেন। এ পর্যন্ত ৩০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন দিয়েছেন। একজন নারী সংসারের সব কাজ করেও প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা রোজগার করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন