জীবন চড়াই-উতরাই ছাড়া অসম্পূর্ণ
jugantor
জীবন চড়াই-উতরাই ছাড়া অসম্পূর্ণ

  সাব্বিন হাসান  

০১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে শুধু ‘শারাপোভা’ নামটাই যথেষ্ট। বলতে গেলে তরুণ প্রজন্মের ক্রেজ। পুরো নাম মারিয়া ইয়ুরেভনা শারাপোভা। ডাক নাম মাশা। জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। জন্মস্থান রাশিয়ার ন্যাগান শহরে। তাবৎ বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে জনপ্রিয়তা, আয় আর ইতিহাস-এসব সমীকরণেই শারাপোভা যেন অনন্য দৃষ্টান্ত। বাবা ইউরি শারাপোভা। মা ইয়েলিনা শারাপোভা।

বিখ্যাত ক্রীড়া তারকা টেনিস ছাড়লেও ভক্তদের নজরে আজও তারকা বনে আছেন। মা হয়েছেন শারাপোভা। আর সেই খবরেই আরও একবার আলোচনার তুঙ্গে নিয়ে এসেছে শারাপোভাকে। নতুন অতিথির কথাটা আগেই জানিয়েছিলেন মারিয়া শারাপোভা। সবশেষ ১৯ এপ্রিল নিজের ৩৫তম জন্মদিনে নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে তার সত্যতার জানান দেন কোটি কোটি ভক্তদের। ছবিই বলে দিয়েছিল, মা হতে চলছেন টেনিস সুপারস্টার মাশা। তারপর অপেক্ষা পেরিয়ে ইনস্টাগ্রামে আরেকটি ছবি প্রকাশ করে রাশিয়ার সাবেক টেনিস তারকা নিশ্চিত করেন, নতুন অতিথি ঘরে এসেছে। যার নাম দিয়েছেন থিওদর।

ব্রিটিশ ব্যবসায়ী আলেক্সান্দার গিল্কস এবং থিওদরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন শারাপোভা। থিওদরের জন্ম ১ জুলাই উল্লেখ করে শারাপোভা লিখেছেন, পরিবার এর চেয়ে সুন্দর, চ্যালেঞ্জিং আর পুরস্কারসূচক উপহার আশা করতে পারত না।

অতীত ভুলে ২০১৮ সালে আলেক্সান্দার গিল্কসের সঙ্গে পরিণয়ে জড়ান মাশা। ৪২ বছরের গিল্কস ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শারাপোভার সঙ্গে তার বাগদানের কথা জানান। ৩ লাখ পাউন্ড দামের আংটি দিয়ে বাগদান করেন গিল্কস। মাশা ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের জানিয়েছিলেন, প্রথম সাক্ষাতেই আমি হ্যাঁ বলেছি।

ক্যারিয়ারে চারটি গ্র্যান্ড স্লামের সব কটিই জিতেছেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালে উইম্বলডন জিতে সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দেন। ২০০৬ সালে ইউএস ওপেন, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ২০১২ ও ২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন শারাপোভা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক।

২০২০ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর সে বছরই ২৬ ফেব্রুয়ারি টেনিস থেকে অবসর নেন শারাপোভা।

বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস জরিপে বহুবার শীর্ষ ধনী নারী ক্রীড়াবিদ হয়েছেন শারাপোভা। টানা নয় বছর এক নম্বরে থেকে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। তা ছাড়া সর্বোচ্চ আয়ের হিসাবে নারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় শীর্ষস্থানেই থেকেছেন টেনিস সেনশেসন শারাপোভা। বছরে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এ স্বর্ণকেশী তারকা। কিছু ফ্যাশন পণ্য এবং ক্যান্ডি নিয়ে ব্যবসা করছেন শারাপোভা।

মাত্র ৬ বছর বয়সে শারাপোভা মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার পরিচালিত মস্কোর টেনিস ক্লিনিকে হাজির হন। এখান থেকেই শারাপোভাকে নিক বালেত্তেইরি টেনিস একাডেমিতে পাঠানো হয়। মাশার জীবনের শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিকভাবে শারাপোভার বাবা সচ্ছল ছিলেন না। ধার-কর্জ করে ১৯৯৪ সালে ইউরি তার প্রতিভাবান মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডার পথে পা বাড়ান। যখন ফ্লোরিডায় পৌঁছেন তখন তার কাছে ছিল মাত্র ৭০০ ডলার। মেয়ে শারাপোভার প্রশিক্ষণের জন্য থালা-বাসন ধোয়ার মতো অতি সাধারণ বেতনের কাজ করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে নভেম্বর ২০০০-এ ‘ইডি হার’ ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন শিপ জিতে শারাপোভা তার প্রতিভার জানান দেন। এ সাফল্যে ওই বছর সেরা উঠতি তারকা হিসাবে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড জিতেন শারাপোভা। ২০০১ সালে তার জন্মদিনে তিনি প্রথম ডব্লিউটিএ আসরে অংশ নেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম সিঙ্গেল জিতেন। এরপর ২০০৫ সালে প্রথম ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসেন। ২০০৬ সালে জিতেন ইউএস ওপেন। দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফিরে ২০০৮ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতার পর আবার শোল্ডার ইনজুরিতে পড়েন। ২০০৮ সালে শোল্ডার সার্জারি হয়। তারপর পুরো এক বছর টেনিস থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন তিনি। ২০১০ সালে আবার টেনিসে ফিরেন। কিন্তু তার পুরোনো ফরমে আর ফেরা হয় না। নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে স্বগৌরবে ফিরতে থাকেন শারাপোভা। ২০১১ সালে আবার সেরা ১০-এ জায়গা করে নেন। ২০১২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও অলিম্পিকে রুপা জিতে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসেন। ব্যক্তি জীবনে ফ্যাশন ডিজাইন এবং স্ট্যাম সংগ্রহ তার প্রিয় শখ।

নিরলস চেষ্টা দিয়েই জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ক্রীড়াবিদের একজন। ঈর্ষণীয় সাফল্যের রহস্য প্রসঙ্গে মাশা বলেন, নিজের আত্মবিশ্বাস দিয়েই ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি চেষ্টা করি। কঠোর সাধনা করি। ভাগ্যে সহায় হয়। সবকিছু মিলিয়েই আমি শারাপোভা।

শুধু ইনজুরি নয়, সমালোচনাও ভুগিয়েছে শারাপোভাকে। সবকিছুর পরও নিজের সাফল্যকে ধরে রাখার অনবদ্য উদাহরণ গড়েছেন। কঠিন সময়কে পাশ কাটিয়ে হয়েছেন বিশ্বসেরা। শারাপোভা শুধু তারুণ্যের প্রতীক নন, বরং হার না মানা গল্পের মহাকাব্য। যিনি বিশ্বাস করেন, জীবন চড়াই-উতরাই ছাড়া অসম্পূর্ণ।

জীবন চড়াই-উতরাই ছাড়া অসম্পূর্ণ

 সাব্বিন হাসান 
০১ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বে শুধু ‘শারাপোভা’ নামটাই যথেষ্ট। বলতে গেলে তরুণ প্রজন্মের ক্রেজ। পুরো নাম মারিয়া ইয়ুরেভনা শারাপোভা। ডাক নাম মাশা। জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। জন্মস্থান রাশিয়ার ন্যাগান শহরে। তাবৎ বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে জনপ্রিয়তা, আয় আর ইতিহাস-এসব সমীকরণেই শারাপোভা যেন অনন্য দৃষ্টান্ত। বাবা ইউরি শারাপোভা। মা ইয়েলিনা শারাপোভা।

বিখ্যাত ক্রীড়া তারকা টেনিস ছাড়লেও ভক্তদের নজরে আজও তারকা বনে আছেন। মা হয়েছেন শারাপোভা। আর সেই খবরেই আরও একবার আলোচনার তুঙ্গে নিয়ে এসেছে শারাপোভাকে। নতুন অতিথির কথাটা আগেই জানিয়েছিলেন মারিয়া শারাপোভা। সবশেষ ১৯ এপ্রিল নিজের ৩৫তম জন্মদিনে নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে তার সত্যতার জানান দেন কোটি কোটি ভক্তদের। ছবিই বলে দিয়েছিল, মা হতে চলছেন টেনিস সুপারস্টার মাশা। তারপর অপেক্ষা পেরিয়ে ইনস্টাগ্রামে আরেকটি ছবি প্রকাশ করে রাশিয়ার সাবেক টেনিস তারকা নিশ্চিত করেন, নতুন অতিথি ঘরে এসেছে। যার নাম দিয়েছেন থিওদর।

ব্রিটিশ ব্যবসায়ী আলেক্সান্দার গিল্কস এবং থিওদরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন শারাপোভা। থিওদরের জন্ম ১ জুলাই উল্লেখ করে শারাপোভা লিখেছেন, পরিবার এর চেয়ে সুন্দর, চ্যালেঞ্জিং আর পুরস্কারসূচক উপহার আশা করতে পারত না।

অতীত ভুলে ২০১৮ সালে আলেক্সান্দার গিল্কসের সঙ্গে পরিণয়ে জড়ান মাশা। ৪২ বছরের গিল্কস ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শারাপোভার সঙ্গে তার বাগদানের কথা জানান। ৩ লাখ পাউন্ড দামের আংটি দিয়ে বাগদান করেন গিল্কস। মাশা ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের জানিয়েছিলেন, প্রথম সাক্ষাতেই আমি হ্যাঁ বলেছি।

ক্যারিয়ারে চারটি গ্র্যান্ড স্লামের সব কটিই জিতেছেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালে উইম্বলডন জিতে সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দেন। ২০০৬ সালে ইউএস ওপেন, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ২০১২ ও ২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন শারাপোভা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন রৌপ্যপদক।

২০২০ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর সে বছরই ২৬ ফেব্রুয়ারি টেনিস থেকে অবসর নেন শারাপোভা।

বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস জরিপে বহুবার শীর্ষ ধনী নারী ক্রীড়াবিদ হয়েছেন শারাপোভা। টানা নয় বছর এক নম্বরে থেকে গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। তা ছাড়া সর্বোচ্চ আয়ের হিসাবে নারী ক্রীড়াবিদের তালিকায় শীর্ষস্থানেই থেকেছেন টেনিস সেনশেসন শারাপোভা। বছরে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এ স্বর্ণকেশী তারকা। কিছু ফ্যাশন পণ্য এবং ক্যান্ডি নিয়ে ব্যবসা করছেন শারাপোভা।

মাত্র ৬ বছর বয়সে শারাপোভা মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার পরিচালিত মস্কোর টেনিস ক্লিনিকে হাজির হন। এখান থেকেই শারাপোভাকে নিক বালেত্তেইরি টেনিস একাডেমিতে পাঠানো হয়। মাশার জীবনের শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিকভাবে শারাপোভার বাবা সচ্ছল ছিলেন না। ধার-কর্জ করে ১৯৯৪ সালে ইউরি তার প্রতিভাবান মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডার পথে পা বাড়ান। যখন ফ্লোরিডায় পৌঁছেন তখন তার কাছে ছিল মাত্র ৭০০ ডলার। মেয়ে শারাপোভার প্রশিক্ষণের জন্য থালা-বাসন ধোয়ার মতো অতি সাধারণ বেতনের কাজ করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে নভেম্বর ২০০০-এ ‘ইডি হার’ ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন শিপ জিতে শারাপোভা তার প্রতিভার জানান দেন। এ সাফল্যে ওই বছর সেরা উঠতি তারকা হিসাবে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড জিতেন শারাপোভা। ২০০১ সালে তার জন্মদিনে তিনি প্রথম ডব্লিউটিএ আসরে অংশ নেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম সিঙ্গেল জিতেন। এরপর ২০০৫ সালে প্রথম ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসেন। ২০০৬ সালে জিতেন ইউএস ওপেন। দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফিরে ২০০৮ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতার পর আবার শোল্ডার ইনজুরিতে পড়েন। ২০০৮ সালে শোল্ডার সার্জারি হয়। তারপর পুরো এক বছর টেনিস থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন তিনি। ২০১০ সালে আবার টেনিসে ফিরেন। কিন্তু তার পুরোনো ফরমে আর ফেরা হয় না। নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে স্বগৌরবে ফিরতে থাকেন শারাপোভা। ২০১১ সালে আবার সেরা ১০-এ জায়গা করে নেন। ২০১২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও অলিম্পিকে রুপা জিতে নিজেকে আলোচনায় নিয়ে আসেন। ব্যক্তি জীবনে ফ্যাশন ডিজাইন এবং স্ট্যাম সংগ্রহ তার প্রিয় শখ।

নিরলস চেষ্টা দিয়েই জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ক্রীড়াবিদের একজন। ঈর্ষণীয় সাফল্যের রহস্য প্রসঙ্গে মাশা বলেন, নিজের আত্মবিশ্বাস দিয়েই ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি চেষ্টা করি। কঠোর সাধনা করি। ভাগ্যে সহায় হয়। সবকিছু মিলিয়েই আমি শারাপোভা।

শুধু ইনজুরি নয়, সমালোচনাও ভুগিয়েছে শারাপোভাকে। সবকিছুর পরও নিজের সাফল্যকে ধরে রাখার অনবদ্য উদাহরণ গড়েছেন। কঠিন সময়কে পাশ কাটিয়ে হয়েছেন বিশ্বসেরা। শারাপোভা শুধু তারুণ্যের প্রতীক নন, বরং হার না মানা গল্পের মহাকাব্য। যিনি বিশ্বাস করেন, জীবন চড়াই-উতরাই ছাড়া অসম্পূর্ণ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন