প্রতিভাবান ত্রিকন্যার গল্প
jugantor
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিভাবান ত্রিকন্যার গল্প

  সাইদুর রহমান পান্থ  

০৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিকন্যা। লেখাপড়ায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন পেয়েছেন ‘লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প’ উপাধি। খেলাধুলায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রীতি বালা ঘোষ ও

সাহিত্য-সংস্কৃতিতে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নওরিন নুর তিষা। লিখেছেন-সাইদুর রহমান পান্থ

লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প হতে চান-ফারহানা ইয়াসমিন

করোনা মহামারিতে গৃহবন্দি ফারহানা নিজেকে ভালো রাখার পথ খোঁজেন। এ সময় একজন শিক্ষকের কাছ থেকে গাইড নিয়ে গৃহবন্দি সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। তিনি পত্র-পত্রিকাতে লেখালেখি শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার ১০০-এর বেশি লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, দেশীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘আমার মুজিব’ রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটাগরিতে সারা দেশের মধ্যে ২২তম হন। এরই মধ্যে তার কয়েকটি গবেষণাপত্রও বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক মাস আগে নিজের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে পেয়েছেন ‘লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প’ উপাধি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন পড়াশোনাকেও খুব গুরুত্বসহকারে দেখে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম বর্ষে বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন রেজাল্ট প্রথম দশজনের মধ্যে থাকবে কিনা। ১ম সেমিস্টারেই ভালো রেজাল্ট করি। সম্প্রতি অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আশা করি অনার্সেও রেজাল্ট ভালো হবে। নিয়মিত পড়াশোনা এবং অবসরে লেখালেখি এ দুটোই রুটিন মেনে করি। স্বপ্ন দেখি বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। ‘দীর্ঘ চেষ্টা এবং সফলতা যেন এক সুতোয় বাঁধা’ কথাটি বিশ্বাস করে স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ক্লাস রুম থেকে খেলার মাঠে বিচরণ-প্রীতি বালা ঘোষ

খেলাধুলা যেমন শরীরচর্চার একটি অংশ। যা শরীরকে সুস্থ রাখে। একইভাবে এটি মনন চিন্তা শক্তির বিকাশ। সর্বোপরি মন উৎফুল্ল রাখার একটি মাধ্যম। যা হয়তো অনেক মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু সার্বিকভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছেলেদের খেলাধুলার পরিবেশ থাকলেও মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত মাঠ ব্যবস্থা, আলাদা ইনডোর সেকশন অথবা শারীরিক শিক্ষিকার অভাব প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। নেই মেয়েদের শরীরচর্চার জন্য কোনো আলাদা ব্যায়ামাগার। তুলনামূলকভাবে দেখা যায় ছেলেরা যারা খেলাধুলায় আগ্রহী তারা ক্যাম্পাসের মাঠে নিজেদের মতো করে দল নিয়ে খেলাধুলা বা অনুশীলন করে। যার কারণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় তাদের শতভাগ অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু মেয়েদের খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় কয়েকদিন আগে থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরিবেশের অভাবে সেটিও হয়ে ওঠে না। এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণেও মেয়েরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে চায় না। আর তার ওপর শরীরচর্চার অভ্যাস না থাকার কারণে আত্মবিশ্বাসের অভাবও থাকে-বললেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রীতি বালা ঘোষ।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হই। জড়তা, আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেকটাই খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী থাকে। সারা বছর কোনো ধরনের অনুশীলন বা শরীরচর্চা না করেও যখন দু-একদিনের নামমাত্র অনুশীলন করে মাঠে নামতে হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক জড়তা কাজ করে। এ ছাড়া পারিবারিকভাবেও অনেক নিষেধাজ্ঞা তাদের খেলাধুলার চর্চার ক্ষেত্রে বাধা প্রয়োগ করে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজে মেয়েদের শরীরচর্চা, খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। এ ব্যাপারে আরও যত্নশীল হওয়া। যাতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, জাতীয় পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে।

মার্কেটিং বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

মফস্বল থেকে অস্কারের স্বপ্ন দেখা-নওরিন নুর তিষা

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। কিছু করে দেখানোর। সহপাঠীরা যখন পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির ভেতরে স্বপ্ন দেখত চিকিৎসক অথবা প্রকৌশলী হওয়ার। আমার ইচ্ছা জাগত এর বাইরে কিছু করার। ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করতে শিখি এবং বুঝতে পারি, গল্প বলতে আমার দারুণ লাগে। কল্পনাশক্তিও প্রবল হতে শুরু করে এবং নিজের মনে সাজানো গল্পগুলোকে জীবন্ত করার ইচ্ছা জাগে। মফস্বলে বেড়ে ওঠার কারণে তেমন কোনো সুযোগ না পেলেও স্কুল ও কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে নিজের লেখা গল্প দিয়ে নাটক বানাতাম। এ নাটকে আমিও অভিনয় করতাম। আমার শিক্ষক, সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্র্থীরা প্রশংসা করতেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নাট্যদল ও কীর্তনখোলা চলচ্চিত্র সংসদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এ দুটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হই। চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, কারিগরি বিষয়সহ চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয়, কীর্তনখোলা চলচ্চিত্র সংসদ-এর সাহায্যে জানার ও শেখার চেষ্টা করছি। অভিনয় চর্চা অব্যাহত রেখেছি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদলের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদলের নাট্যকর্মী হিসাবে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নাটকে ও বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনী মঞ্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেল জীবনের নির্মিত ২টি নাটকে অংশগ্রহণ করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব-এর চরিত্রে অভিনয় ও ব্যাখ্যাকারী হিসাবে কাজ করেছি। এ কাজগুলো আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তি ও উদ্দীপনা জোগাচ্ছে বললেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নওরিন নুর তিষা।

মফস্বলের একজন মেয়ে বাংলাদেশি নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করছেন। এ পথটা তার জন্য মোটেও মসৃণ নয়। প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় মানুষের কটুকথা, অবজ্ঞা ও উপহাসের। সত্যিকার অর্থে এগুলো তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহাকে আরও দৃঢ় করে তুলছে।

দর্শন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিভাবান ত্রিকন্যার গল্প

 সাইদুর রহমান পান্থ 
০৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিকন্যা। লেখাপড়ায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন পেয়েছেন ‘লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প’ উপাধি। খেলাধুলায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রীতি বালা ঘোষ ও

সাহিত্য-সংস্কৃতিতে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নওরিন নুর তিষা। লিখেছেন-সাইদুর রহমান পান্থ

লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প হতে চান-ফারহানা ইয়াসমিন

করোনা মহামারিতে গৃহবন্দি ফারহানা নিজেকে ভালো রাখার পথ খোঁজেন। এ সময় একজন শিক্ষকের কাছ থেকে গাইড নিয়ে গৃহবন্দি সময়টাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। তিনি পত্র-পত্রিকাতে লেখালেখি শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার ১০০-এর বেশি লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক, দেশীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘আমার মুজিব’ রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটাগরিতে সারা দেশের মধ্যে ২২তম হন। এরই মধ্যে তার কয়েকটি গবেষণাপত্রও বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক মাস আগে নিজের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে পেয়েছেন ‘লেডি উইথ দ্যা ল্যাম্প’ উপাধি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন পড়াশোনাকেও খুব গুরুত্বসহকারে দেখে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম বর্ষে বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন রেজাল্ট প্রথম দশজনের মধ্যে থাকবে কিনা। ১ম সেমিস্টারেই ভালো রেজাল্ট করি। সম্প্রতি অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আশা করি অনার্সেও রেজাল্ট ভালো হবে। নিয়মিত পড়াশোনা এবং অবসরে লেখালেখি এ দুটোই রুটিন মেনে করি। স্বপ্ন দেখি বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। ‘দীর্ঘ চেষ্টা এবং সফলতা যেন এক সুতোয় বাঁধা’ কথাটি বিশ্বাস করে স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ক্লাস রুম থেকে খেলার মাঠে বিচরণ-প্রীতি বালা ঘোষ

খেলাধুলা যেমন শরীরচর্চার একটি অংশ। যা শরীরকে সুস্থ রাখে। একইভাবে এটি মনন চিন্তা শক্তির বিকাশ। সর্বোপরি মন উৎফুল্ল রাখার একটি মাধ্যম। যা হয়তো অনেক মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু সার্বিকভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছেলেদের খেলাধুলার পরিবেশ থাকলেও মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত মাঠ ব্যবস্থা, আলাদা ইনডোর সেকশন অথবা শারীরিক শিক্ষিকার অভাব প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। নেই মেয়েদের শরীরচর্চার জন্য কোনো আলাদা ব্যায়ামাগার। তুলনামূলকভাবে দেখা যায় ছেলেরা যারা খেলাধুলায় আগ্রহী তারা ক্যাম্পাসের মাঠে নিজেদের মতো করে দল নিয়ে খেলাধুলা বা অনুশীলন করে। যার কারণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় তাদের শতভাগ অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু মেয়েদের খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় কয়েকদিন আগে থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরিবেশের অভাবে সেটিও হয়ে ওঠে না। এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণেও মেয়েরা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে চায় না। আর তার ওপর শরীরচর্চার অভ্যাস না থাকার কারণে আত্মবিশ্বাসের অভাবও থাকে-বললেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রীতি বালা ঘোষ।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হই। জড়তা, আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেকটাই খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী থাকে। সারা বছর কোনো ধরনের অনুশীলন বা শরীরচর্চা না করেও যখন দু-একদিনের নামমাত্র অনুশীলন করে মাঠে নামতে হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক জড়তা কাজ করে। এ ছাড়া পারিবারিকভাবেও অনেক নিষেধাজ্ঞা তাদের খেলাধুলার চর্চার ক্ষেত্রে বাধা প্রয়োগ করে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজে মেয়েদের শরীরচর্চা, খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। এ ব্যাপারে আরও যত্নশীল হওয়া। যাতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, জাতীয় পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে।

মার্কেটিং বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

মফস্বল থেকে অস্কারের স্বপ্ন দেখা-নওরিন নুর তিষা

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। কিছু করে দেখানোর। সহপাঠীরা যখন পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির ভেতরে স্বপ্ন দেখত চিকিৎসক অথবা প্রকৌশলী হওয়ার। আমার ইচ্ছা জাগত এর বাইরে কিছু করার। ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করতে শিখি এবং বুঝতে পারি, গল্প বলতে আমার দারুণ লাগে। কল্পনাশক্তিও প্রবল হতে শুরু করে এবং নিজের মনে সাজানো গল্পগুলোকে জীবন্ত করার ইচ্ছা জাগে। মফস্বলে বেড়ে ওঠার কারণে তেমন কোনো সুযোগ না পেলেও স্কুল ও কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে নিজের লেখা গল্প দিয়ে নাটক বানাতাম। এ নাটকে আমিও অভিনয় করতাম। আমার শিক্ষক, সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্র্থীরা প্রশংসা করতেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নাট্যদল ও কীর্তনখোলা চলচ্চিত্র সংসদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এ দুটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হই। চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, কারিগরি বিষয়সহ চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয়, কীর্তনখোলা চলচ্চিত্র সংসদ-এর সাহায্যে জানার ও শেখার চেষ্টা করছি। অভিনয় চর্চা অব্যাহত রেখেছি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদলের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদলের নাট্যকর্মী হিসাবে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নাটকে ও বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনী মঞ্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেল জীবনের নির্মিত ২টি নাটকে অংশগ্রহণ করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব-এর চরিত্রে অভিনয় ও ব্যাখ্যাকারী হিসাবে কাজ করেছি। এ কাজগুলো আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তি ও উদ্দীপনা জোগাচ্ছে বললেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নওরিন নুর তিষা।

মফস্বলের একজন মেয়ে বাংলাদেশি নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করছেন। এ পথটা তার জন্য মোটেও মসৃণ নয়। প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় মানুষের কটুকথা, অবজ্ঞা ও উপহাসের। সত্যিকার অর্থে এগুলো তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহাকে আরও দৃঢ় করে তুলছে।

দর্শন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন