নিজেরাই করি সমস্যার সমাধান : নূরজাহান
jugantor
নিজেরাই করি সমস্যার সমাধান : নূরজাহান
প্রমত্তা আগুনমুখার মেয়ে নূরজাহান বোস। প্রতিকূলতা, অসমতা, অন্যায্যতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তিনি কাজ করছেন আগুনমুখার নারী শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের জন্য। লিখেছেন-

  কামরুল হাসান  

০৮ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নূরজাহান বোস, প্রমত্তা আগুনমুখা নদীর তীরের সংগ্রামী এক নারী। যার বেড়ে ওঠা আগুনমুখার কোলঘেঁষে জেগে ওঠা অবহেলিত একটি এলাকায়। প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম, পিছিয়ে পড়া তখনকার সমাজব্যবস্থা-কিছুতেই হার মানেননি তিনি। প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সুনাম কুড়িয়েছেন। সেই আলো ছড়াতে নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন নিজ গ্রামে। নূরজাহান বোসের জন্ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে।

‘সারা পৃথিবী ঘুরে ক্লান্ত হয়ে জীবনসায়াহ্নে আজ আমি আমার আগুনমুখার পাড়েই ফিরে এলাম। অনেকটা স্যামন সাহের মতোই মৃত্যুর আগে যেন নিজের মাটিতে প্রত্যাবর্তন। আমরা শুধু তার দুর্গম পথরেখাটি মনে রাখতে চাই, যে পথ শেষ পর্যন্ত বহু দেশ ঘুরে নিজের দেশেই ফিরে এসেছে।’ নূরজাহান বোস তার আত্মজীবনী ‘আগুনমুখার মেয়ে’ বইটিতে এভাবে বর্ণনা করেছেন।

নূরজাহান বোস ও তার মেয়ে মণিকা জাহান বোস ২০০০ সালে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘সংহতি’ নামক জনকল্যাণমূলক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ গ্রাম কাটাখালীতে অসহায় বঞ্চিত নিপীড়িত নির্যাতিত নারীদের কল্যাণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এ অঞ্চলের অবহেলিত বেকার নারীদের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি। এমনকি বিনা সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন অনেককে। ‘সংহতি’ ছাড়াও নির্যাতিত নারীদের মানসিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য সাপোর্ট গ্রুপ হিসাবে ‘আশা’ নামেরও একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন নূরজাহান বোস। শুধু নিজ গ্রামেই নয়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার দুটি গ্রামেও একই ধরনের কর্মসূচির আওতায় এনেছেন। চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য নিজ গ্রাম কাটাখালীতে ২০০৭ সালের ১২ মার্চ তার মায়ের নামে ‘জোহরা বেগম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন।

এ প্রসঙ্গে নূরজাহান বোসের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও মহিলা সমিতির পরিচালক মাতোয়ারা বেগম জানান, প্রথমে আমরা এখানকার ৫০ জন বেকার এবং দরিদ্র নারীদের নিয়ে একটি নারী সংগঠন তৈরি করেছি। তাদের ব্লক-বাটিক, মোমবাতি তৈরির কাজ শেখাই। এরপর আস্তে আস্তে আমাদের সংগঠনকে দুটি সমিতিতে ভাগ করি। একটি কাটাখালী মোহনা মহিলা সমিতি আরেকটি মধুখালী চাঁদনী মহিলা সমিতি। দুই সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭২ জন। তাদের স্বাবলম্বী করতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার ঋণ প্রদান করা হয়। কিন্তু সদস্যদের এ টাকার কোনো লভ্যাংশ দিতে হয় না। আমরা স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান করছি।

নূরজাহান বোস বলেন, আমার ছোটবেলার দেখা নারীদের চেয়ে এখনকার নারীরা অনেক এগিয়েছেন। তাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। নারী ও শিশুদের ওপর এখনো চলছে নারী নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ। এর অবসান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যদিও এ দেশের নারী আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু এখনো নারী বৈষম্য রয়েছে। নারীদের অধিকার এখনো সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমার এলাকার একটা বাচ্চা মেয়েকে যখন তার বাবা ধর্ষণ করেছে। আমি সেই বাবাকে গ্রেফতার করিয়েছিলাম। তারপর বিচারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মেয়েটাকেও তার বাবার কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে নারীরা কোথায় নিরাপদ?

নূরজাহান বোস আরও বলেন, এখনো ঘরে ঘরে নারী শিশু নির্যাতিত হয়। আর এগুলো যতদিন বন্ধ না হবে, বাল্যবিবাহ বন্ধ না হবে, নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমার বয়স ৮৫ বছর হবে। বেশি দিন হয়তো আমি থাকব না। আমি আশা করি প্রত্যেক নারী আমার এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমার মা অর্থাৎ জোহরা বেগম বলেছিলেন, তোমরা এখন নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছ এখানকার অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু কর। সেখান থেকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমাদের এখানে দুটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে একটি খেলাঘর। তা ছাড়া আমাদের সংগঠনের নারীদের যে কোনো সমস্যা আমরা নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করি।

নূরজাহান বোসের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ মার্চ। পটুয়াখালী উপজেলার রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। বাবা আবদুর রাজ্জাক, মা জোহরা বেগম। গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে জেলা শহরে পটুয়াখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে পটুয়াখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এমাদুল্লাহর সঙ্গে ১৯৫৫ সালে তার বিয়ে হয়। এক বছরের মাথায় বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে এমাদুল্লাহ মারা যান। তখন নূরজাহান সন্তানসম্ভাবা। প্রথম সন্তান জসিমের জন্মের পর তিনি একটি স্কুলে হোস্টেল সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে বিএ পাশ করে এমএ ভর্তি হন। স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বদেশ বোসের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্ম জীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে স্বদেশ বোসকে বিয়ে করেন। স্বদেশ বোস স্কলারশিপ নিয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। স্বামীর সঙ্গে তিনিও ক্যামব্রিজে যান। ১৯৬৭ সালে স্বামীর চাকরির সুবাদে সপরিবারে করাচিতে বসবাস করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সপরিবারে ঢাকায় আসেন। স্বামীর বিশ্বব্যাংকের চাকরির সুবাদে তারা অক্সফোর্ড এবং ওয়াশিংটনে যান। তাদের দুই মেয়ে মনিকা ও অনিতা। তিনি দেশ এবং বিদেশে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আগুনমুখা নদীর পাড়ে বেড়ে ওঠার লড়াকু জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘আগুনমুখার মেয়ে’। ২০১৬ সালে ‘আগুনমুখার মেয়ে’ বইয়ের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

নিজেরাই করি সমস্যার সমাধান : নূরজাহান

প্রমত্তা আগুনমুখার মেয়ে নূরজাহান বোস। প্রতিকূলতা, অসমতা, অন্যায্যতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তিনি কাজ করছেন আগুনমুখার নারী শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের জন্য। লিখেছেন-
 কামরুল হাসান 
০৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নূরজাহান বোস, প্রমত্তা আগুনমুখা নদীর তীরের সংগ্রামী এক নারী। যার বেড়ে ওঠা আগুনমুখার কোলঘেঁষে জেগে ওঠা অবহেলিত একটি এলাকায়। প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম, পিছিয়ে পড়া তখনকার সমাজব্যবস্থা-কিছুতেই হার মানেননি তিনি। প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সুনাম কুড়িয়েছেন। সেই আলো ছড়াতে নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন নিজ গ্রামে। নূরজাহান বোসের জন্ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে।

‘সারা পৃথিবী ঘুরে ক্লান্ত হয়ে জীবনসায়াহ্নে আজ আমি আমার আগুনমুখার পাড়েই ফিরে এলাম। অনেকটা স্যামন সাহের মতোই মৃত্যুর আগে যেন নিজের মাটিতে প্রত্যাবর্তন। আমরা শুধু তার দুর্গম পথরেখাটি মনে রাখতে চাই, যে পথ শেষ পর্যন্ত বহু দেশ ঘুরে নিজের দেশেই ফিরে এসেছে।’ নূরজাহান বোস তার আত্মজীবনী ‘আগুনমুখার মেয়ে’ বইটিতে এভাবে বর্ণনা করেছেন।

নূরজাহান বোস ও তার মেয়ে মণিকা জাহান বোস ২০০০ সালে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘সংহতি’ নামক জনকল্যাণমূলক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ গ্রাম কাটাখালীতে অসহায় বঞ্চিত নিপীড়িত নির্যাতিত নারীদের কল্যাণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এ অঞ্চলের অবহেলিত বেকার নারীদের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি। এমনকি বিনা সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন অনেককে। ‘সংহতি’ ছাড়াও নির্যাতিত নারীদের মানসিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য সাপোর্ট গ্রুপ হিসাবে ‘আশা’ নামেরও একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন নূরজাহান বোস। শুধু নিজ গ্রামেই নয়, রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার দুটি গ্রামেও একই ধরনের কর্মসূচির আওতায় এনেছেন। চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য নিজ গ্রাম কাটাখালীতে ২০০৭ সালের ১২ মার্চ তার মায়ের নামে ‘জোহরা বেগম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন।

এ প্রসঙ্গে নূরজাহান বোসের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও মহিলা সমিতির পরিচালক মাতোয়ারা বেগম জানান, প্রথমে আমরা এখানকার ৫০ জন বেকার এবং দরিদ্র নারীদের নিয়ে একটি নারী সংগঠন তৈরি করেছি। তাদের ব্লক-বাটিক, মোমবাতি তৈরির কাজ শেখাই। এরপর আস্তে আস্তে আমাদের সংগঠনকে দুটি সমিতিতে ভাগ করি। একটি কাটাখালী মোহনা মহিলা সমিতি আরেকটি মধুখালী চাঁদনী মহিলা সমিতি। দুই সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭২ জন। তাদের স্বাবলম্বী করতে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার ঋণ প্রদান করা হয়। কিন্তু সদস্যদের এ টাকার কোনো লভ্যাংশ দিতে হয় না। আমরা স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান করছি।

নূরজাহান বোস বলেন, আমার ছোটবেলার দেখা নারীদের চেয়ে এখনকার নারীরা অনেক এগিয়েছেন। তাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। নারী ও শিশুদের ওপর এখনো চলছে নারী নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ। এর অবসান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যদিও এ দেশের নারী আন্দোলন এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু এখনো নারী বৈষম্য রয়েছে। নারীদের অধিকার এখনো সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমার এলাকার একটা বাচ্চা মেয়েকে যখন তার বাবা ধর্ষণ করেছে। আমি সেই বাবাকে গ্রেফতার করিয়েছিলাম। তারপর বিচারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মেয়েটাকেও তার বাবার কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে নারীরা কোথায় নিরাপদ?

নূরজাহান বোস আরও বলেন, এখনো ঘরে ঘরে নারী শিশু নির্যাতিত হয়। আর এগুলো যতদিন বন্ধ না হবে, বাল্যবিবাহ বন্ধ না হবে, নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমার বয়স ৮৫ বছর হবে। বেশি দিন হয়তো আমি থাকব না। আমি আশা করি প্রত্যেক নারী আমার এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আমার মা অর্থাৎ জোহরা বেগম বলেছিলেন, তোমরা এখন নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছ এখানকার অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু কর। সেখান থেকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমাদের এখানে দুটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে একটি খেলাঘর। তা ছাড়া আমাদের সংগঠনের নারীদের যে কোনো সমস্যা আমরা নিজেরাই সমাধানের চেষ্টা করি।

নূরজাহান বোসের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ মার্চ। পটুয়াখালী উপজেলার রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। বাবা আবদুর রাজ্জাক, মা জোহরা বেগম। গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে জেলা শহরে পটুয়াখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে পটুয়াখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৬ বছর বয়সে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এমাদুল্লাহর সঙ্গে ১৯৫৫ সালে তার বিয়ে হয়। এক বছরের মাথায় বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে এমাদুল্লাহ মারা যান। তখন নূরজাহান সন্তানসম্ভাবা। প্রথম সন্তান জসিমের জন্মের পর তিনি একটি স্কুলে হোস্টেল সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস নিয়ে বিএ পাশ করে এমএ ভর্তি হন। স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্বদেশ বোসের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্ম জীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে স্বদেশ বোসকে বিয়ে করেন। স্বদেশ বোস স্কলারশিপ নিয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। স্বামীর সঙ্গে তিনিও ক্যামব্রিজে যান। ১৯৬৭ সালে স্বামীর চাকরির সুবাদে সপরিবারে করাচিতে বসবাস করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সপরিবারে ঢাকায় আসেন। স্বামীর বিশ্বব্যাংকের চাকরির সুবাদে তারা অক্সফোর্ড এবং ওয়াশিংটনে যান। তাদের দুই মেয়ে মনিকা ও অনিতা। তিনি দেশ এবং বিদেশে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আগুনমুখা নদীর পাড়ে বেড়ে ওঠার লড়াকু জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘আগুনমুখার মেয়ে’। ২০১৬ সালে ‘আগুনমুখার মেয়ে’ বইয়ের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন