হার না মানা যশোরের মেঘনা ইমদাদ
jugantor
হার না মানা যশোরের মেঘনা ইমদাদ

  ইন্দ্রজিৎ রায়  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনা খাতুন। তবে মেঘনা ইমদাদ নামেই বেশি পরিচিত। ১৪ বছর বয়সে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। তবুও হাল ছাড়েননি। স্বামীর সহযোগিতায় স্বপ্নপূরণের পথেই হেঁটেছেন। সেই পথচলা মসৃণ ছিল না। অনেক চড়াই-উতরায় পেরিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। চাকরি না করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছেন। বর্তমানে পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, কপোতাক্ষ ও রূপান্তর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক, উইমেন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড চাউল্ড রাইটস অর্গানাইজেশনের সভানেত্রী, রূপান্তর হস্তশিল্প অ্যান্ড ফ্যাশন পার্কের পরিচালক, সেন্টার ফর রিচার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরই) ইয়াং বাংলা, জাগ্রত নাগরিক কমিটি, জাতীয় যুব কাউন্সিল ও যশোর কম্পিউটার সমিতির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি তার কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২০ সালে জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যশোরের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠন হিসাবে পুরস্কার পেয়েছেন।

তার জন্ম ১৯৮৭ সালের ৯ জুন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাটশিয়া গ্রামে। বাবা লুৎফর রহমান ও মা জোহরা খাতুন। তিন বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ মেঘনা খাতুন। বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল তিন মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। বড় দুই মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করা সম্ভব হলেও মেঘনা খাতুনের জন্য ছিল ভিন্ন পরিস্থিতি। তাকে পারিপার্শ্বিক কারণে ১৪ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। বাল্যবিয়ের শিকার হলেও লেখাপড়া বন্ধ করেননি তিনি। বরং স্বামীর সহায়তায় আত্মবিশ্বাসী মেঘনা সংসার ও লেখাপড়া একসঙ্গে চালিয়ে যান। দিনগুলো খুব কষ্টের হলেও হাল ছাড়েননি। ২০০৫ সালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ২০০৭ সালের ঝিকরগাছার সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ থেকে ২০১১ সালে ভূগোল বিষয়ে বিএসসি অনার্স ও ২০১২ সালে মাস্টার্স পাশ করেন। লেখাপড়াকে কাজে লাগাতে স্বামী ইমদাদুল হক ইমদাদের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন উন্নয়নমূলক কাজ। গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

এ প্রসঙ্গে মেঘনা ইমদাদ বলেন, ২০১৭ সালে যশোরের ঝিকরগাছা পৌর সদরে কৃষ্ণনগর মাঠপাড়া যখন পারিবারিক কাজে যেতাম, তখন দেখতাম বেশ কিছু ছেলেমেয়ে এলোমেলোভাবে খেলাধুলা করছে। অথচ তাদের তখন স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করার কথা। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম কেন তারা স্কুলে না গিয়ে খেলাধুলা করছে? তারা জানাল, তাদের অনেকেরই মা-বাবা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছেন, কারোর মা নেই, কারোর বাবা নেই। অনেকের অভিভাবক অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। কারও বাবা শ্রমজীবী। এই পরিবারের শিশুরা পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেনি। তারা একটু বড় হলেই শিকার হয় শিশুশ্রমের। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পারলে হয়তো ওরা স্কুলমুখী হবে। লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে পারবে। পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে পারবে। সেই চিন্তা থেকেই শুরু করলাম সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ২০১৭ সালেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নলোকের পাঠশালা’। এ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবক মা, দাদি/নানি যারা অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ বা স্থানীয় কোনো ছোট ফার্মে নিশ্চিন্তে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ঝিকরগাছায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্নলোকের পাঠশালার দুটি ক্যাম্পাসে ১৭০ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে। এ পর্যন্ত ৬১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে নানা রকম সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যশোর অঞ্চলের অনগ্রসর, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অভিভাবক ও বেকার মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরের সহযোগিতায় মোট ১ হাজার ৫৭০ জন বেকার, হতদরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও হতদরিদ্র যুব নারীকে দর্জি বিজ্ঞান, আম্ব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও হস্তশিল্পবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষিতদের সেলাই মেশিন, ব্লক-বাটিক উপকরণ, হস্তশিল্প তৈরির উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬৫০ জন মহিলাকর্মী নিজেরাই হাতের কাজের থ্রি-পিস, নকশিকাঁথা, শাড়ি, বেডশিট, পাঞ্জাবিসহ নানা রকম হস্তশিল্প পণ্য তৈরি করছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করার জন্য এবং স্বপ্নলোকের পাঠশালার হতদরিদ্র অভিভাবকদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তাদের তৈরি হস্তশিল্পপণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। বিক্রয়লব্ধ অর্থের লভ্যাংশ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করি। এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বপ্নলোকের পাঠশালার অভিভাবকরা স্বাবলম্বী হয়েছে।

ঝিকরগাছাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর বেকার, অদক্ষ যুব ও যুব নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ করে বেকার, অসহায়, অদক্ষ ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনক্রমে ২০০৫ সাল থেকে ৬ মাস মেয়াদি অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডাটাবেস প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল ভূমি জরিপ, ফ্রি-ল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বমোট ৩ হাজার ৮৫০ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অভূতপূর্ব সাফল্য।

তার স্বামী ইমদাদুল হক ইমদাদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদে সিএ পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই ছেলে সাফওয়ান ইবনে ইমদাদ ও সাদিন মোহাম্মদ আইহান।

হার না মানা যশোরের মেঘনা ইমদাদ

 ইন্দ্রজিৎ রায় 
১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনা খাতুন। তবে মেঘনা ইমদাদ নামেই বেশি পরিচিত। ১৪ বছর বয়সে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিঁড়িতে। তবুও হাল ছাড়েননি। স্বামীর সহযোগিতায় স্বপ্নপূরণের পথেই হেঁটেছেন। সেই পথচলা মসৃণ ছিল না। অনেক চড়াই-উতরায় পেরিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। চাকরি না করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেছেন। বর্তমানে পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, কপোতাক্ষ ও রূপান্তর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক, উইমেন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড চাউল্ড রাইটস অর্গানাইজেশনের সভানেত্রী, রূপান্তর হস্তশিল্প অ্যান্ড ফ্যাশন পার্কের পরিচালক, সেন্টার ফর রিচার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরই) ইয়াং বাংলা, জাগ্রত নাগরিক কমিটি, জাতীয় যুব কাউন্সিল ও যশোর কম্পিউটার সমিতির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি তার কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে ঝিকরগাছা উপজেলার জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২০ সালে জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ও ২০২১-২২ অর্থবছরে যশোরের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠন হিসাবে পুরস্কার পেয়েছেন।

তার জন্ম ১৯৮৭ সালের ৯ জুন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের মাটশিয়া গ্রামে। বাবা লুৎফর রহমান ও মা জোহরা খাতুন। তিন বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ মেঘনা খাতুন। বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল তিন মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। বড় দুই মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করা সম্ভব হলেও মেঘনা খাতুনের জন্য ছিল ভিন্ন পরিস্থিতি। তাকে পারিপার্শ্বিক কারণে ১৪ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। বাল্যবিয়ের শিকার হলেও লেখাপড়া বন্ধ করেননি তিনি। বরং স্বামীর সহায়তায় আত্মবিশ্বাসী মেঘনা সংসার ও লেখাপড়া একসঙ্গে চালিয়ে যান। দিনগুলো খুব কষ্টের হলেও হাল ছাড়েননি। ২০০৫ সালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ২০০৭ সালের ঝিকরগাছার সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ থেকে ২০১১ সালে ভূগোল বিষয়ে বিএসসি অনার্স ও ২০১২ সালে মাস্টার্স পাশ করেন। লেখাপড়াকে কাজে লাগাতে স্বামী ইমদাদুল হক ইমদাদের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন উন্নয়নমূলক কাজ। গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

এ প্রসঙ্গে মেঘনা ইমদাদ বলেন, ২০১৭ সালে যশোরের ঝিকরগাছা পৌর সদরে কৃষ্ণনগর মাঠপাড়া যখন পারিবারিক কাজে যেতাম, তখন দেখতাম বেশ কিছু ছেলেমেয়ে এলোমেলোভাবে খেলাধুলা করছে। অথচ তাদের তখন স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করার কথা। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম কেন তারা স্কুলে না গিয়ে খেলাধুলা করছে? তারা জানাল, তাদের অনেকেরই মা-বাবা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছেন, কারোর মা নেই, কারোর বাবা নেই। অনেকের অভিভাবক অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। কারও বাবা শ্রমজীবী। এই পরিবারের শিশুরা পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেনি। তারা একটু বড় হলেই শিকার হয় শিশুশ্রমের। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পারলে হয়তো ওরা স্কুলমুখী হবে। লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে পারবে। পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে পারবে। সেই চিন্তা থেকেই শুরু করলাম সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ২০১৭ সালেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নলোকের পাঠশালা’। এ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবক মা, দাদি/নানি যারা অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ বা স্থানীয় কোনো ছোট ফার্মে নিশ্চিন্তে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ঝিকরগাছায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্নলোকের পাঠশালার দুটি ক্যাম্পাসে ১৭০ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে। এ পর্যন্ত ৬১০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে নানা রকম সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যশোর অঞ্চলের অনগ্রসর, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অভিভাবক ও বেকার মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরের সহযোগিতায় মোট ১ হাজার ৫৭০ জন বেকার, হতদরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও হতদরিদ্র যুব নারীকে দর্জি বিজ্ঞান, আম্ব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও হস্তশিল্পবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষিতদের সেলাই মেশিন, ব্লক-বাটিক উপকরণ, হস্তশিল্প তৈরির উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬৫০ জন মহিলাকর্মী নিজেরাই হাতের কাজের থ্রি-পিস, নকশিকাঁথা, শাড়ি, বেডশিট, পাঞ্জাবিসহ নানা রকম হস্তশিল্প পণ্য তৈরি করছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করার জন্য এবং স্বপ্নলোকের পাঠশালার হতদরিদ্র অভিভাবকদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তাদের তৈরি হস্তশিল্পপণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। বিক্রয়লব্ধ অর্থের লভ্যাংশ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করি। এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বপ্নলোকের পাঠশালার অভিভাবকরা স্বাবলম্বী হয়েছে।

ঝিকরগাছাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর বেকার, অদক্ষ যুব ও যুব নারীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ করে বেকার, অসহায়, অদক্ষ ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনক্রমে ২০০৫ সাল থেকে ৬ মাস মেয়াদি অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডাটাবেস প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল ভূমি জরিপ, ফ্রি-ল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বমোট ৩ হাজার ৮৫০ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অভূতপূর্ব সাফল্য।

তার স্বামী ইমদাদুল হক ইমদাদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদে সিএ পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের দুই ছেলে সাফওয়ান ইবনে ইমদাদ ও সাদিন মোহাম্মদ আইহান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন