নিজেকে সময়ের করে তুলতে হয়
jugantor
নিজেকে সময়ের করে তুলতে হয়

  সাব্বিন হাসান  

১৫ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ‘ফ্রেজার’ নামেই ক্রীড়া দুনিয়ার বিশ্বকে বিস্মিত করেছেন। পুরো নাম শেলি অ্যান ফ্রেজার প্রাইস। জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর। জন্মস্থান জ্যামাইকার কিংস্টোন শহরে। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড গড়ে পঞ্চমবারের মতো সোনা জিতেছেন ফ্রেজার প্রাইস। একটি ইভেন্টে তিনটি পদকই জিতে ইতিহাস গড়েছে ফ্রেজারের দেশ জ্যামাইকা।

১০০ মিটার দৌড়ে নারী বিভাগে জ্যামাইকা অনবদ্য দেখিয়েছে। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়-তিন পদকই ঘরে তুলেছে জ্যামাইকার। স্বদেশি শেরিকা জ্যাকসন আর এলেইন থম্পসন-হেরাকে টপকে ৩৫ বর্ষী কিংবদন্তি স্প্রিন্টার ফ্রেজার-প্রাইস আবারও সোনা জিতেছেন।

মূল পর্বে (১০.৬৭) সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছেন ফ্রেজার-প্রাইস। ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং (১০.৭৩ সেকেন্ড) করেও সোনা হাত ছাড়া হয়েছে শেরিকা জ্যাকসনের। হয়েছেন দ্বিতীয়। অন্যদিকে (১০.৮১) সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন অলিম্পিকে দুবারের ডাবল বিজয়ী থম্পসন-হেরা। একে একে পাঁচবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এই ইভেন্টে সোনা জিতলেন ফ্রেজার-প্রাইস।

ইতিহাস বলছে, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার ইভেন্টের তিন-তিনটা পদক একসঙ্গে জেতেনি। অলিম্পিকে যদিও এমন কীর্তি বিশ্ব দেখেছে মাত্র দুবার। আর দুবারই তা ঘটিয়েছে জ্যামাইকা। সবশেষ টোকিও অলিম্পিক আর ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে এমন কীর্তি গড়েছিলেন জ্যামাইকার নারীরা।

ক্যারিয়ারে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পাশাপাশি দুবার অলিম্পিকেও সোনা জিতেছেন ফ্রেজার-প্রাইস।

ট্র্যাকে খুব বেশি পরিচিত অ্যাথলেট না হওয়া সত্ত্বেও ২১ বছর বয়সেই ২০০৮ সালে চীনে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রমিলাদের ১০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জয় করেন। ফলে তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসাবে ১০০ মিটারে প্রথম স্বর্ণজয়ী নারী ক্রীড়াবিদের বিরল সম্মান অর্জন করেন। তা ছাড়া ২০১২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে একই ক্রীড়া বিভাগে সোনা জয় করেন। বিশ্বের তৃতীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম নারী হিসাবে ধারাবাহিকভাবে দুটি সোনা জয়ের ইতিহাস গড়েছেন ফ্রেজার। ২০১০ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত মনোনীত হন ফ্রেজার। ২০০৯ বার্লিন, ২০১৩ মস্কো, ২০১৫ বেইজিং ও ২০১৯ দোহা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার বিভাগে সোনা জিতে অনবদ্য রেকর্ড গড়েছেন ফ্রেজার। ২০০৯ ও ২০১৩ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয় করেন ফ্রেজার। তা ছাড়াও গেইল ডেভার্সের পর তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় নারী স্প্রিন্টার হিসাবে বিশ্ব ও অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ে শিরোপা জয় করেন।

তার ডাক নাম ‘পকেট রকেট’। মাত্র ৫ ফুট লম্বাটে গড়ন আর দ্রুততার সঙ্গে দৌড় শুরু করার সামর্থ্য থাকায় এমন নামকরণ করা হয়। ১০০ মিটারে বিশ্বের সর্বকালের দ্রুতগামী শীর্ষ ২৫ নারী দৌড়বিদের তালিকায় তার অবস্থান চতুর্থ। ২০১২ সালে জামাইকার কিংসটনে (১০.৭০) সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের সেরা ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছিলেন। লন্ডন ও বেইজিং-টানা দুই অলিম্পিকেই হয়েছেন দ্রুততম মানবী। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের নারী বিভাগে ১০০ মিটারে সেই শ্রেষ্ঠত্ব আবারও ধরে রাখলেন ফ্রেজার প্রাইস। জানান দিলেন মা হলেও তিনি এখনো পিছিয়ে পড়েননি। বরং আরও উদ্যোমে নিজের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হয়েছেন সময়ের কালজয়ী ক্রীড়াবিদ। বিশ্ব দরবারে জ্যামাইকাকে তুলে ধরেছেন সসম্মানে আর মর্যাদায়। শুধু তাই নয়, জ্যামাইকার পিছিয়ে যাওয়া নারী সমাজে ফ্রেজার যেন দূত হিসাবেই প্রেরণা জুগিয়ে আসছে। যার ফল দেখল পুরো বিশ্ব। একই বিভাগে একই ইভেন্টে সোনা, রুপা আ ব্রোঞ্জ-সবই জিতেছে জ্যামাইকা।

নিজের জয়ের রথ দেখে নিজেই আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন ফ্রেজার-প্রাইস, আমার অর্জিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দের। কারণ ৩৫ বছর বয়সে এসে এমন কীর্তি গড়েছি। হ্যাঁ, আমি ৩৫-ই বলেছি। ভুল শোনেননি! আমি যখনই সুস্থ থাকব, তখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ক্ষুধার্ত আমি সব সময় উন্নতির জন্য মুখিয়ে আছি। সব সময় বিশ্বাস করি আরও জোরে দৌড়াতে পারি। নিজ থেকে যেদিন এটা বিশ্বাস করব না, সেদিন আমি ট্র্যাকেই নামব না। ৩৫ বছর বয়সে এসেও এমন পারফরম করে যাচ্ছি। বাচ্চার মা হয়েছি। আশা করি বিশ্বের অন্য সব নারীরা আমার এমন জয়ে নতুন করে অনুপ্রাণিত হবে।

নিজেকে নিজেই অনবদ্য করতে হয়। সবই সহজ হয়, সম্ভব হয়-যখন নিজের ভেতরের লক্ষ্যটা নিশ্চিত যায়। সময় নয়, নিজেকে সময়ের করে তুলতে হয়। অধরা সাফল্যও তখন আর লুকিয়ে থাকে না। সামনে এসে হাজির হয়। নিজের কথাগুলো এভাবেই বললেন অদম্য ক্রীড়াবিদ ফ্রেজার প্রাইস।

নিজেকে সময়ের করে তুলতে হয়

 সাব্বিন হাসান 
১৫ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ‘ফ্রেজার’ নামেই ক্রীড়া দুনিয়ার বিশ্বকে বিস্মিত করেছেন। পুরো নাম শেলি অ্যান ফ্রেজার প্রাইস। জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর। জন্মস্থান জ্যামাইকার কিংস্টোন শহরে। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড গড়ে পঞ্চমবারের মতো সোনা জিতেছেন ফ্রেজার প্রাইস। একটি ইভেন্টে তিনটি পদকই জিতে ইতিহাস গড়েছে ফ্রেজারের দেশ জ্যামাইকা।

১০০ মিটার দৌড়ে নারী বিভাগে জ্যামাইকা অনবদ্য দেখিয়েছে। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়-তিন পদকই ঘরে তুলেছে জ্যামাইকার। স্বদেশি শেরিকা জ্যাকসন আর এলেইন থম্পসন-হেরাকে টপকে ৩৫ বর্ষী কিংবদন্তি স্প্রিন্টার ফ্রেজার-প্রাইস আবারও সোনা জিতেছেন।

মূল পর্বে (১০.৬৭) সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছেন ফ্রেজার-প্রাইস। ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং (১০.৭৩ সেকেন্ড) করেও সোনা হাত ছাড়া হয়েছে শেরিকা জ্যাকসনের। হয়েছেন দ্বিতীয়। অন্যদিকে (১০.৮১) সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন অলিম্পিকে দুবারের ডাবল বিজয়ী থম্পসন-হেরা। একে একে পাঁচবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এই ইভেন্টে সোনা জিতলেন ফ্রেজার-প্রাইস।

ইতিহাস বলছে, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নারীদের ১০০ মিটার ইভেন্টের তিন-তিনটা পদক একসঙ্গে জেতেনি। অলিম্পিকে যদিও এমন কীর্তি বিশ্ব দেখেছে মাত্র দুবার। আর দুবারই তা ঘটিয়েছে জ্যামাইকা। সবশেষ টোকিও অলিম্পিক আর ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে এমন কীর্তি গড়েছিলেন জ্যামাইকার নারীরা।

ক্যারিয়ারে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পাশাপাশি দুবার অলিম্পিকেও সোনা জিতেছেন ফ্রেজার-প্রাইস।

ট্র্যাকে খুব বেশি পরিচিত অ্যাথলেট না হওয়া সত্ত্বেও ২১ বছর বয়সেই ২০০৮ সালে চীনে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রমিলাদের ১০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জয় করেন। ফলে তিনি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসাবে ১০০ মিটারে প্রথম স্বর্ণজয়ী নারী ক্রীড়াবিদের বিরল সম্মান অর্জন করেন। তা ছাড়া ২০১২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে একই ক্রীড়া বিভাগে সোনা জয় করেন। বিশ্বের তৃতীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম নারী হিসাবে ধারাবাহিকভাবে দুটি সোনা জয়ের ইতিহাস গড়েছেন ফ্রেজার। ২০১০ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত মনোনীত হন ফ্রেজার। ২০০৯ বার্লিন, ২০১৩ মস্কো, ২০১৫ বেইজিং ও ২০১৯ দোহা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার বিভাগে সোনা জিতে অনবদ্য রেকর্ড গড়েছেন ফ্রেজার। ২০০৯ ও ২০১৩ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয় করেন ফ্রেজার। তা ছাড়াও গেইল ডেভার্সের পর তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় নারী স্প্রিন্টার হিসাবে বিশ্ব ও অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ে শিরোপা জয় করেন।

তার ডাক নাম ‘পকেট রকেট’। মাত্র ৫ ফুট লম্বাটে গড়ন আর দ্রুততার সঙ্গে দৌড় শুরু করার সামর্থ্য থাকায় এমন নামকরণ করা হয়। ১০০ মিটারে বিশ্বের সর্বকালের দ্রুতগামী শীর্ষ ২৫ নারী দৌড়বিদের তালিকায় তার অবস্থান চতুর্থ। ২০১২ সালে জামাইকার কিংসটনে (১০.৭০) সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের সেরা ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছিলেন। লন্ডন ও বেইজিং-টানা দুই অলিম্পিকেই হয়েছেন দ্রুততম মানবী। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের নারী বিভাগে ১০০ মিটারে সেই শ্রেষ্ঠত্ব আবারও ধরে রাখলেন ফ্রেজার প্রাইস। জানান দিলেন মা হলেও তিনি এখনো পিছিয়ে পড়েননি। বরং আরও উদ্যোমে নিজের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হয়েছেন সময়ের কালজয়ী ক্রীড়াবিদ। বিশ্ব দরবারে জ্যামাইকাকে তুলে ধরেছেন সসম্মানে আর মর্যাদায়। শুধু তাই নয়, জ্যামাইকার পিছিয়ে যাওয়া নারী সমাজে ফ্রেজার যেন দূত হিসাবেই প্রেরণা জুগিয়ে আসছে। যার ফল দেখল পুরো বিশ্ব। একই বিভাগে একই ইভেন্টে সোনা, রুপা আ ব্রোঞ্জ-সবই জিতেছে জ্যামাইকা।

নিজের জয়ের রথ দেখে নিজেই আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন ফ্রেজার-প্রাইস, আমার অর্জিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দের। কারণ ৩৫ বছর বয়সে এসে এমন কীর্তি গড়েছি। হ্যাঁ, আমি ৩৫-ই বলেছি। ভুল শোনেননি! আমি যখনই সুস্থ থাকব, তখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ক্ষুধার্ত আমি সব সময় উন্নতির জন্য মুখিয়ে আছি। সব সময় বিশ্বাস করি আরও জোরে দৌড়াতে পারি। নিজ থেকে যেদিন এটা বিশ্বাস করব না, সেদিন আমি ট্র্যাকেই নামব না। ৩৫ বছর বয়সে এসেও এমন পারফরম করে যাচ্ছি। বাচ্চার মা হয়েছি। আশা করি বিশ্বের অন্য সব নারীরা আমার এমন জয়ে নতুন করে অনুপ্রাণিত হবে।

নিজেকে নিজেই অনবদ্য করতে হয়। সবই সহজ হয়, সম্ভব হয়-যখন নিজের ভেতরের লক্ষ্যটা নিশ্চিত যায়। সময় নয়, নিজেকে সময়ের করে তুলতে হয়। অধরা সাফল্যও তখন আর লুকিয়ে থাকে না। সামনে এসে হাজির হয়। নিজের কথাগুলো এভাবেই বললেন অদম্য ক্রীড়াবিদ ফ্রেজার প্রাইস।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন