শিপ্রার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী
jugantor
শিপ্রার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

  রতন কুমার দাস  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৪ সেপ্টেম্বর সকালে বেকুটিয়া গ্রামে তার চায়ের দোকানের পাশে কচা নদীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর যখন অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য কাউখালী প্রান্তে বেকুটিয়া সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে চান ঠিক সে সময় কাউখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খালেদা খাতুন রেখা চায়ের দোকানি শিপ্রা কুণ্ডুর কাছে মাইক্রোফোন তুলে দেন। শিপ্রা কুণ্ডু তখন আবেগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে শোনান। প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টির জে, পি চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি শিপ্রা কুণ্ডুর চায়ের দোকানটি ভালো করে দিতে পারেন। কাউখালীর বেকুটিয়া গ্রামের দিনমজুর নয়ন কুণ্ডুর সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় শিপ্রার। বিয়ের পর থেকে সংসারে চরম অভাব অনটন লেগে ছিল। এ কষ্টের টানাপোড়েনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবে।

২০২০ সালের দিকে বেকুটিয়ায় কচা নদীর ওপর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব সেতুর কাছে তার ছোট্ট একখণ্ড চিলি জমি রয়েছে। ভাবলেন অনেক লোক কাজ করে, তাই এখানে একটি চায়ের দোকান দিলে মোটামুটিভাবে দিন কেটে যাবে। সেই থেকে তার নতুন জীবন শুরু।

শিপ্রা জানান, প্রথমদিকে চায়ের দোকানে যেতে লজ্জা করত কদিন যাওয়ার পর আস্তে আস্তে লজ্জা কেটে যায়। এখন আর কোনো সমস্যা হয় না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে যত সময় ক্রেতারা থাকেন তত সময় তিনি চা বিক্রি করেন। এর মধ্যে তার কোলে রয়েছে একটি দুবছরের কন্যাসন্তান। চায়ের দোকানে বেচাকেনার ফাঁকে সন্তানকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরের দিনই স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখার কাছে শিপ্রা কুণ্ডুর জন্য ১ লাখ টাকা দেন। শিপ্রা জানান, টাকা পেয়ে বকেয়া এনজিওসহ বিভিন্ন ধারদেনা পরিশোধ করে বাকি টাকা দিয়ে চায়ের দোকানে মালামাল উঠিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, শিপ্রা কুণ্ডুর মতো কাউখালীর যত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে, যাতে করে তারা বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।

শিপ্রার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

 রতন কুমার দাস 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৪ সেপ্টেম্বর সকালে বেকুটিয়া গ্রামে তার চায়ের দোকানের পাশে কচা নদীতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর যখন অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য কাউখালী প্রান্তে বেকুটিয়া সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে চান ঠিক সে সময় কাউখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খালেদা খাতুন রেখা চায়ের দোকানি শিপ্রা কুণ্ডুর কাছে মাইক্রোফোন তুলে দেন। শিপ্রা কুণ্ডু তখন আবেগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে শোনান। প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টির জে, পি চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি শিপ্রা কুণ্ডুর চায়ের দোকানটি ভালো করে দিতে পারেন। কাউখালীর বেকুটিয়া গ্রামের দিনমজুর নয়ন কুণ্ডুর সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় শিপ্রার। বিয়ের পর থেকে সংসারে চরম অভাব অনটন লেগে ছিল। এ কষ্টের টানাপোড়েনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবে।

২০২০ সালের দিকে বেকুটিয়ায় কচা নদীর ওপর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব সেতুর কাছে তার ছোট্ট একখণ্ড চিলি জমি রয়েছে। ভাবলেন অনেক লোক কাজ করে, তাই এখানে একটি চায়ের দোকান দিলে মোটামুটিভাবে দিন কেটে যাবে। সেই থেকে তার নতুন জীবন শুরু।

শিপ্রা জানান, প্রথমদিকে চায়ের দোকানে যেতে লজ্জা করত কদিন যাওয়ার পর আস্তে আস্তে লজ্জা কেটে যায়। এখন আর কোনো সমস্যা হয় না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে যত সময় ক্রেতারা থাকেন তত সময় তিনি চা বিক্রি করেন। এর মধ্যে তার কোলে রয়েছে একটি দুবছরের কন্যাসন্তান। চায়ের দোকানে বেচাকেনার ফাঁকে সন্তানকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করছেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরের দিনই স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখার কাছে শিপ্রা কুণ্ডুর জন্য ১ লাখ টাকা দেন। শিপ্রা জানান, টাকা পেয়ে বকেয়া এনজিওসহ বিভিন্ন ধারদেনা পরিশোধ করে বাকি টাকা দিয়ে চায়ের দোকানে মালামাল উঠিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, শিপ্রা কুণ্ডুর মতো কাউখালীর যত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে, যাতে করে তারা বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন