কোমর ব্যথায় করণীয়
jugantor
কোমর ব্যথায় করণীয়

  ডা. শায়লা রহমান  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন)

এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

৩০-এর পর কোমর ব্যথা নেই এমন বাংলাদেশি নারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এখন স্কুলগামী কিশোরীরাও কোমর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। নানা কারণে হতে পারে এ ব্যথা। মাসিকের কিছুদিন আগে থেকে সাধারণভাবে হতে পারে। ব্যথা যদি তীব্র না হয় বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব না হয় তবে ভয়ের কিছু নেই। প্রস্রাবে ইনফেকশন বা কিডনি-মূত্রনালিতে পাথর হওয়াও কোমর ব্যথার কারণ। গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষের দিকে কোমর ব্যথা বাড়ে। বিশেষ ধরনের বাতব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, এমনকি ক্যানসারেও শিরদাঁড়া বরাবর কোমর ব্যথা হতে পারে। সাধারণত হাড় ক্ষয়জনিত কোমর ব্যথা নিয়ে নারীরা বেশি ভোগেন। এর কারণ হতে পারে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা-নিচু টুলে বসা এবং অতিরিক্ত ওজন বহন করা। এসব ক্ষেত্রে বেশি হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, ঝুঁকে বসা ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ব্যথা বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে হাড়ক্ষয়। এ ছাড়া সুষম খাদ্যাভ্যাস না মেনে ওজন কমানোর চেষ্টায় হয় পুষ্টি ঘাটতি। ফলে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব হয়। ফলাফল দ্রুত হাড়ক্ষয় ও শরীর ব্যথা। আবার বাড়তি ওজনও কোমর ব্যথা বাড়ায়। মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে যা দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। হাড় ক্ষয়জনিত ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ সেবনে কিডনি বিকল হতে পারে। বাড়তে পারে পেটে আলসারের ঝুঁকি। দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন হতে পারে হাড় ভাঙার কারণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস, কায়িক পরিশ্রম, সঠিক ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পারে এ সমস্যার সমাধান। যে কাজগুলো ব্যথা বাড়ায় তা এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে পিঁড়ি-টুল ব্যবহার না করে ছুরি দিয়ে বসে-দাঁড়িয়ে রান্নার জন্য কাটাকাটি করা। ঝুঁকিতে কাজ করা নিষেধ। কোমরে গরম সেঁক ও প্যারাসিটামল দিতে পারে আরাম।

ঘরের কাজে পরিবারের সবার অংশগ্রহণ নারীর কাজের চাপ অনেকাংশে কমায়। দুধ, মাছ-মাংস ও বাদাম গ্রহণ করুন। নিজের যত্ন নিন। ব্যথা বেশি হলে, কোমর-কোমর থেকে পায়ে তীব্র ব্যথা ও ঝিমঝিম ভাব থাকলে, কিংবা দ্রুত ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কোমর ব্যথায় করণীয়

 ডা. শায়লা রহমান 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন)

এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

৩০-এর পর কোমর ব্যথা নেই এমন বাংলাদেশি নারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এখন স্কুলগামী কিশোরীরাও কোমর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। নানা কারণে হতে পারে এ ব্যথা। মাসিকের কিছুদিন আগে থেকে সাধারণভাবে হতে পারে। ব্যথা যদি তীব্র না হয় বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব না হয় তবে ভয়ের কিছু নেই। প্রস্রাবে ইনফেকশন বা কিডনি-মূত্রনালিতে পাথর হওয়াও কোমর ব্যথার কারণ। গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষের দিকে কোমর ব্যথা বাড়ে। বিশেষ ধরনের বাতব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, এমনকি ক্যানসারেও শিরদাঁড়া বরাবর কোমর ব্যথা হতে পারে। সাধারণত হাড় ক্ষয়জনিত কোমর ব্যথা নিয়ে নারীরা বেশি ভোগেন। এর কারণ হতে পারে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা-নিচু টুলে বসা এবং অতিরিক্ত ওজন বহন করা। এসব ক্ষেত্রে বেশি হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, ঝুঁকে বসা ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ব্যথা বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে হাড়ক্ষয়। এ ছাড়া সুষম খাদ্যাভ্যাস না মেনে ওজন কমানোর চেষ্টায় হয় পুষ্টি ঘাটতি। ফলে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব হয়। ফলাফল দ্রুত হাড়ক্ষয় ও শরীর ব্যথা। আবার বাড়তি ওজনও কোমর ব্যথা বাড়ায়। মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে যা দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। হাড় ক্ষয়জনিত ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ সেবনে কিডনি বিকল হতে পারে। বাড়তে পারে পেটে আলসারের ঝুঁকি। দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন হতে পারে হাড় ভাঙার কারণ। সুষম খাদ্যাভ্যাস, কায়িক পরিশ্রম, সঠিক ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ পারে এ সমস্যার সমাধান। যে কাজগুলো ব্যথা বাড়ায় তা এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে পিঁড়ি-টুল ব্যবহার না করে ছুরি দিয়ে বসে-দাঁড়িয়ে রান্নার জন্য কাটাকাটি করা। ঝুঁকিতে কাজ করা নিষেধ। কোমরে গরম সেঁক ও প্যারাসিটামল দিতে পারে আরাম।

ঘরের কাজে পরিবারের সবার অংশগ্রহণ নারীর কাজের চাপ অনেকাংশে কমায়। দুধ, মাছ-মাংস ও বাদাম গ্রহণ করুন। নিজের যত্ন নিন। ব্যথা বেশি হলে, কোমর-কোমর থেকে পায়ে তীব্র ব্যথা ও ঝিমঝিম ভাব থাকলে, কিংবা দ্রুত ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন