কোমলে কঠিনে নারীশক্তি এলিজাবেথ
jugantor
কোমলে কঠিনে নারীশক্তি এলিজাবেথ
‘নারীরা পরিবর্তনের ধারক’ আমাদের সমাজের সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়-এলিজাবেথ

  সাইফ আহমেদ  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন নারী শক্তির অতুলনীয় প্রতীক। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৭০ বছরের শাসনের যবনিকাপাত ঘটল। যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের রানি এবং ৫৪ সদস্যের জোট কমনওয়েলথের প্রধান ছিলেন মহীয়সী এ নারী। ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শাসনকারী এ নারী বিশ্বের অন্য নারীদের আদর্শ। তার কাজ এবং নানা রকম উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের জন্য রাজনীতিতে অনেক নারীকে উৎসাহিত করেছে। অবদান রেখেছেন দেশের এবং বিশ্বে নারীদের উন্নয়নে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যেমন বিশ্বে ব্রিটিশ প্রভাব ব্যাপকভাবে কমতে দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন সমাজের দ্রুত পরিবর্তন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতেও দেখেছেন। তবে অনেক ঝড়ঝঞ্ঝাতেও রাজতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন সফলতার সঙ্গে। তার জীবনে নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব শুরু হয় মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার রাজত্ব শুরু হওয়ার মাধ্যমে।

১৯৪৭ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ গ্রিক ও ডেনমার্কের প্রিন্স ফিলিপকে (ডিউক অব এডিনবরা) বিয়ে করেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাবা রাজা জর্জ মারা গেলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে বসেন এবং কমনওয়েলথের প্রধান হন। তবে এ পথে তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার বয়স এবং লিঙ্গ। উভয়ই তাকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া থেকে বাধা দেয়। তবুও রানি নিজেকে একজন অবিচল রানি এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে প্রমাণ করেছিলেন।

উইনস্টন চার্চিল প্রথমে তাকে খুব অনভিজ্ঞ ভেবেছিলেন পরে সে নিজেই রানির সবচেয়ে বড় ভক্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জানতেন যে অনেক আধুনিক ব্যক্তিত্ব এখনো কিসের সঙ্গে লড়াই করছে-সেই শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য আপনার জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং সেটি ধরে রাখতে হবে। এ নীতি তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন। রানির প্রতিশ্রুতি এবং তার নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ অন্যান্য নারী তাদের কর্মজীবনে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করতে উৎসাহিত করে। ক্লাব ডি মাদ্রিদের কর্মী ক্যাম্পাবেল বলেন, ‘তিনি খুব, খুব পরিশ্রমী ছিলেন এবং একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন মা। তিনি এমন অনেক কঠিন কাজ করে দেখিয়েছেন যা একজন সামর্থ্যবান পুরুষও করতে পারেনি।’

জনপ্রিয় সিরিজ দ্য ক্রাউনে রানির চরিত্রে অভিনয় করা অলিভিয়া কোলম্যানের মতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন ‘সম্পূর্ণ নারীবাদী’ এবং এটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। যদিও রানি আসলে একজন নারীবাদী কিনা এ নিয়ে কোলম্যানের এ বক্তব্য যুক্তরাজ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

২০১১ সালে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সভায় এক বক্তৃতায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেছিলেন, ইভেন্টের থিম ‘নারীরা পরিবর্তনের ধারক’ আমাদের সমাজের সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি আমাদের উৎসাহিত করে মেয়ে এবং মহিলাদের তাদের সম্পূর্ণ ভূমিকা পালন করার অনুমতি দেওয়ার।

নারীদের পথ আরও প্রশস্ত করার প্রত্যয়ে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে রানির শাসনামলে মার্গারেট থ্যাচারকে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে। আয়রন লেডি নামে পরিচিত থ্যাচার ২০ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন-যা দুই নারীকে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

একবার ব্রিটেনের পার্লামেন্টে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছিলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ ব্যক্তি। আমরা একজন পরাক্রমশালী শাসকের দেখা পাইনি বরং একজন অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং অপরিমেয় প্রজ্ঞাবান একজন নারীকে পেয়েছি।’

কোমলে কঠিনে নারীশক্তি এলিজাবেথ

‘নারীরা পরিবর্তনের ধারক’ আমাদের সমাজের সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়-এলিজাবেথ
 সাইফ আহমেদ 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন নারী শক্তির অতুলনীয় প্রতীক। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৭০ বছরের শাসনের যবনিকাপাত ঘটল। যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি দেশ ও অঞ্চলের রানি এবং ৫৪ সদস্যের জোট কমনওয়েলথের প্রধান ছিলেন মহীয়সী এ নারী। ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শাসনকারী এ নারী বিশ্বের অন্য নারীদের আদর্শ। তার কাজ এবং নানা রকম উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের জন্য রাজনীতিতে অনেক নারীকে উৎসাহিত করেছে। অবদান রেখেছেন দেশের এবং বিশ্বে নারীদের উন্নয়নে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যেমন বিশ্বে ব্রিটিশ প্রভাব ব্যাপকভাবে কমতে দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন সমাজের দ্রুত পরিবর্তন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতেও দেখেছেন। তবে অনেক ঝড়ঝঞ্ঝাতেও রাজতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন সফলতার সঙ্গে। তার জীবনে নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব শুরু হয় মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার রাজত্ব শুরু হওয়ার মাধ্যমে।

১৯৪৭ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ গ্রিক ও ডেনমার্কের প্রিন্স ফিলিপকে (ডিউক অব এডিনবরা) বিয়ে করেন। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাবা রাজা জর্জ মারা গেলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে বসেন এবং কমনওয়েলথের প্রধান হন। তবে এ পথে তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার বয়স এবং লিঙ্গ। উভয়ই তাকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া থেকে বাধা দেয়। তবুও রানি নিজেকে একজন অবিচল রানি এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে প্রমাণ করেছিলেন।

উইনস্টন চার্চিল প্রথমে তাকে খুব অনভিজ্ঞ ভেবেছিলেন পরে সে নিজেই রানির সবচেয়ে বড় ভক্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জানতেন যে অনেক আধুনিক ব্যক্তিত্ব এখনো কিসের সঙ্গে লড়াই করছে-সেই শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য আপনার জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং সেটি ধরে রাখতে হবে। এ নীতি তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন। রানির প্রতিশ্রুতি এবং তার নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ অন্যান্য নারী তাদের কর্মজীবনে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করতে উৎসাহিত করে। ক্লাব ডি মাদ্রিদের কর্মী ক্যাম্পাবেল বলেন, ‘তিনি খুব, খুব পরিশ্রমী ছিলেন এবং একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন মা। তিনি এমন অনেক কঠিন কাজ করে দেখিয়েছেন যা একজন সামর্থ্যবান পুরুষও করতে পারেনি।’

জনপ্রিয় সিরিজ দ্য ক্রাউনে রানির চরিত্রে অভিনয় করা অলিভিয়া কোলম্যানের মতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ছিলেন ‘সম্পূর্ণ নারীবাদী’ এবং এটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। যদিও রানি আসলে একজন নারীবাদী কিনা এ নিয়ে কোলম্যানের এ বক্তব্য যুক্তরাজ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

২০১১ সালে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সভায় এক বক্তৃতায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেছিলেন, ইভেন্টের থিম ‘নারীরা পরিবর্তনের ধারক’ আমাদের সমাজের সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি আমাদের উৎসাহিত করে মেয়ে এবং মহিলাদের তাদের সম্পূর্ণ ভূমিকা পালন করার অনুমতি দেওয়ার।

নারীদের পথ আরও প্রশস্ত করার প্রত্যয়ে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে রানির শাসনামলে মার্গারেট থ্যাচারকে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে। আয়রন লেডি নামে পরিচিত থ্যাচার ২০ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন-যা দুই নারীকে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

একবার ব্রিটেনের পার্লামেন্টে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছিলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ ব্যক্তি। আমরা একজন পরাক্রমশালী শাসকের দেখা পাইনি বরং একজন অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং অপরিমেয় প্রজ্ঞাবান একজন নারীকে পেয়েছি।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন