নারীর স্বপ্ন শিক্ষার সঙ্গে জড়িত : লীনা নায়ার

  সাব্বিন হাসান ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লীনা নায়ার। বিখ্যাত বহুজাতিক ব্র্যান্ড ইউনিলিভারে প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনিই ইউনিলিভারের এ পদে প্রথম এশীয় এবং কনিষ্ঠতম নারী। কিছুদিন আগে এসেছিলেন ঢাকা সফরে। বর্তমানে এশীয় করপোরেট নারী জগতে তিনি বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। ভারতের ৫০ জন ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে তিনি একজন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সারা বিশ্বে তিনি বেশ আলোচিত এবং সফল একজন নারী।

মানুষ মাত্রই বড় স্বপ্ন দেখার সঙ্গে উচ্চাভিলাষী হতে হবে। যদিও এশিয়ার পরিবেশটা এখনও নারীদের অনুকূলে নেই। তবুও নারীদের স্বপ্ন দেখতেই হবে। শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। তা না হলে সামাজিক পরিবর্তন আসবে না।

লীনা নায়ারের জন্ম ভারতের খুবই ছোট শহর কোলহাপুরে। ২৮ অক্টোবর, ১৯৬৯। এ শহরে মেয়েদের জন্য স্কুলই ছিল না। শহরে মেয়েদের প্রথম স্কুল হলে সেখানে প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন তিনি। চ্যালেঞ্জ আর মেয়েদের যোগসূত্রটা অবিচ্ছেদ্য। শিক্ষা নিয়ে জীবনের শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সাহসিকতা আর যৌক্তিকতার সঙ্গেই লীনা একে একে সেসব বাধা অতিক্রম করেছেন। পড়াশোনা শুরু করলেও বাল্যবিয়ের দারুণ চাপ ছিল। এ প্রসঙ্গে লীনা নায়ার বলেন, মা বলতেন, এত পড়াশোনা করে কী হবে? এত পড়লে তোমাকে বিয়ে করবে কে? এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আমাকে। আমি পরিবারের সঙ্গে নিজের শিক্ষা নিয়ে প্রতিনিয়তই লড়াই করেছি। তাই নারীদের আগে শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। নারীদের বড় কাজ করার জন্য আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী হতে হবে। আমার চাকরি জীবনের প্রথম দায়িত্ব পড়ে ভিন্ন ভিন্ন কারখানায়। আমি একাধারে উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এবং বিক্রয়ের কাজ করে নিজের দক্ষতা আর সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছি। জীবনের শুরুতে এটা বেশ কঠিন ছিল আমার জন্য। কাজ রপ্ত করতে হলে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে গিয়ে শিখতে হয়। আমি যেদিন প্রথম নাইট ডিউটি করতে গেলাম কারখানায়, সেদিন আমার সহকর্মীরা এ পরিবর্তনকে খুব সহজ করে দেখেননি। নারীদের দিকে হাজারো প্রতিকূল প্রশ্ন ধেয়ে আসবে। তাই এসবকে ভেবে জটিল হওয়া সমুচিত নয়। সফল হলে সবাই তখন সব কিছু মেনে নেয়। এখন আমার মা আমাকে নিয়ে দারুণ গর্বিত। তিনি এখন নারী শিক্ষার গুরুত্ব বোঝেন। আর তা আমার মা উদাহরণ দিয়ে বলেন। বর্তমানে ইউনিলিভারে ৪৬ শতাংশ নারী কাজ করেন। একে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য আছে। নিয়োগের তালিকায় দু’জন মেধাবী পুরুষের সঙ্গে দু’জন মেধাবী নারীকে নেয়ার নির্দেশ আছে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীদের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কাজ করি। সবাই যেন গৎবাঁধা হয়ে না যায় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। কর্মজীবনে নেতৃত্ব গুণ বাড়ানো আর সফল অভিজ্ঞদের কথা বলে নারীদের উৎসাহিত করতে হবে। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবসায় নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসা জগতে বোঝাতে হবে নারীদেরও নেতৃত্ব গুণ আছে।

তিনি আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক যোগ্য ও মেধাবী নারী আছেন। তাদের খুঁজতে হবে। আমরা কাজ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ দিয়ে থাকি। নারীদের সহায়তা করার লক্ষ্যেই এসব সুযোগ। এমনকি মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে তাদের কাজে ফিরে আসতে উৎসাহিত করা এবং ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনতে সব ধরনের সহায়তা করা হয়।

ইউনিলিভার কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের দুটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট আছে। একটি লন্ডনে। অন্যটি সিঙ্গাপুরে। আধুনিক শিল্পোন্নয়নে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। মানুষকে এ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষ করে তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ই-কমার্স, অনলাইনকেন্দ্রিক বিকিকিনি দারুণ জনপ্রিয়। বাংলাদেশকে এ খাতে পরিকল্পনা নেয়া দরকার। কর্মীদের শিক্ষা এবং বিপণন দুটোরই জনপ্রিয় মাধ্যম এখন ইন্টারনেট।

লীনা নায়ার মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের নতুনভাবে দক্ষ করতে কর্মসূচি নিতে হবে। বর্তমানে কোন ধরনের কাজের দক্ষতা প্রয়োজন সে অনুযায়ী মানুষকে দক্ষ করতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি মানবিক আচরণ করতে হবে। ইউনিলিভার সব সময়ই মানবাধিকার নিশ্চিতে কাজ করে। শত বছরের পুরনো কারখানাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নতমানের। ইউনিলিভার ব্যবসায় ভালো। ইউনিলিভার সবখানেই ব্র্যান্ড শক্তি নিয়ে কাজ করে। ইউনিলিভার সব সময়ই দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে। পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই করপোরেট দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে মানবিক হতেই হবে।

জীবনে কঠিন পরিস্থিতি এলে নিরুৎসাহিত না হয়ে তা সুকৌশলে সামলে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নারীদের জন্য কর্মোন্নয়নে পরামর্শক খোঁজা এবং যোগাযোগ রক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। সফল নারী ও পুরুষদের কথা জানতে হবে। ক্যারিয়ার উন্নয়নে এটি দারুণ কাজ করে। বাংলাদেশে নিয়োগদাতা হিসেবে ইউনিলিভার বহুল প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান। এটা আমার জন্য গর্বের। বাংলাদেশের মেধাবীরা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমার কাজের উৎসাহের বড় একটা জায়গা জুড়ে আছে বাংলাদেশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter