শক্তি অর্জনে নিজেকে ভাঙতে হয় : কোলিন্দা গ্রাবার

  সাব্বিন হাসান ০৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সদ্য সমাপ্ত রাশিয়া বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন কোলিন্দা। পুরো নাম কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। জন্ম ২৯ এপ্রিল ১৯৬৮। ক্রোয়েশিয়ার রিজিকা এলাকায় তার জন্ম। ওই সময় ক্রোয়েশিয়া যুগোশ্লাভিয়ার অধীনে ছিল। তিনি ক্রোয়েশিয়ার বহুল আলোচিত রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিক। বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের তালিকায় তিনি বিশ্বের ৩৯তম ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রশাসনে এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব, কানাডায় ক্রোয়েশীয় দূতাবাসে ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলর এবং মিনিস্টার-কাউন্সিলর, পররাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং ন্যাটোর সহকারী মহাসচিব। ১৯৯৩ সালে রাজনৈতিক দল ক্রোয়েশিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে (এইচডিজেড) তিনি যুক্ত হন। ২০০৩ সালে তিনি তার রাজনৈতিক দল ক্রোয়েশিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে তাকে ক্রোয়েশিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কারণ নিয়মানুযায়ী ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন না। বাবা ব্রংকো গ্রাবার এবং মা দুব্রভকা গ্রাবার সঙ্গে রিজিকার দক্ষিণে লাপাসা গ্রামে বাস করতেন। তাদের পরিবারের কসাইয়ের দোকান এবং খামার ছিল। ১৭ বছর বয়সে স্কুল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস শহরে চলে আসেন। লস আলামোস স্কুল থেকে তিনি হাইস্কুল পাস করেন। আবার ফিরে আসেন ক্রোয়েশিয়ায়। ভর্তি হন দেশের সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ জাগরেবে। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৯৯৩ সালে ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষা এবং সাহিত্যে গ্রাজুয়েশন করেন। ২০০০ সালে রাজনৈতিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

১৯৯২ সালে কোলিন্দা তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগে চাকরি নেন। ১৯৯৩ সালে তিনি দেশটির রাজনৈতিক দল ক্রোয়েশিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে (এইচডিজেড) যোগ দেন। একই বছরই তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা করা হয়। ব্যক্তি জীবনে ১৯৯৬ সালে তিনি জ্যাকব কিতারোভিচকে বিয়ে করেন। রাজনৈতিক এ নেত্রী দুই সন্তানের মা। তার মেয়ে ক্যাটরিনা। আর ছেলে লোকা। নিজে রোমান ক্যাথলিক চর্চা করেন। খ্রিস্টান ধর্মে আনুগত্য প্রকাশ করেন। ইংরেজি, স্প্যানিশ ও পর্তুগীজ ভাষায় পারদর্শী তিনি। এছাড়া জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান ভাষাও তিনি ভালোই বোঝেন।

একজন নারী হিসেবে তার কূটনৈতিক জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাকে বিশ্ব রাজনৈতিক আবহে পরিচিত করে তোলে। অটোয়া চুক্তিতে তাঁর ভূমিকা সবার নজরে আসে। নির্বাচিত ক্রোয়েশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেবিনেটে সুযোগ পান কোলিন্দা। কিন্তু ২০০৮ সালে অজানা কারণে তাকে কেবিনেট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তবে ওই বছরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেন।

কিন্তু ২০১১ সালে তিনি রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ন্যাটোর সহকারী মহাসচিব হন। প্রধানমন্ত্রীকে না জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদ থেকে ইস্তফা দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তার এমন সিদ্ধান্তের জন্য নয় মাস ফাঁকা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদ। আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর সুনাম বাড়ানো এবং সৈনিকদের মনোবল বাড়ানোই ছিল তার মূল দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কোলিন্দা বলেছিলেন, তিনি এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এ নির্বাচন হচ্ছে পরিবর্তনের নির্বাচন। ২০১৩ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হয় ক্রোয়েশিয়া। এ দেশটির ২০ শতাংশ মানুষ এখনও বেকার। এটি বিশ্বের অন্যতম বেকারত্বের দেশ। তাই কোলিন্দা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর বেশি নজর দেবেন। এমন ঘোষণা তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সহায়তা করে।

রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে দারুণ উত্তাপ ছড়িয়েছেন কোলিন্দা। রাশিয়াতে ফুটবল বিশ্বকাপ সরাসরি উপভোগ করতে ক্রোয়েশিয়া থেকে সাধারণ নাগরিকের মতোই তিনি ইকোনমি ক্লাসে যাত্রা করেন। সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গেই উড়ে আসেন রাশিয়ায় নিজের দল ক্রোয়েশিয়াকে সমর্থন আর উৎসাহ জানাতে। সবার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছেন। নিজ দেশের জয়ে দারুণ উচ্ছ্বাসিত ছিলেন তিনি। ঘটা করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেসব ছবি পোস্ট করেছেন কোলিন্দা নিজেই। কোলিন্দা ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রধান, সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবার ফুটবল খেলার দারুণ ভক্ত।

রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও ভিভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখতে তার ভালো লাগে না। রাশিয়া গিয়েও কূটনীতি চালিয়েছেন তিনি, তবে তা ফুটবল ঘিরে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উপহার দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার জার্সি। বিশ্বকাপের সময়ে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও দিয়েছেন জার্সি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.