সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন দিতে হবে

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সুরঞ্জনা ডেস্ক

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন আরও ২৫ বছর থাকার বিধান রেখে এ বছরের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল- ২০১৮’ বিভক্তি ভোটে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীতে ৫০টি নারী আসনের সংখা বাড়ানো হয়নি। নির্বাচন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শুধু ২৫ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে ৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৯৭৩ সালে ১৫টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান রাখা হয় সংবিধানে ৬৫(৩) ধারায়। এই আসনে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক. আসন সংখ্যা, ২. মেয়াদ ও ৩. নির্বাচনী পদ্ধতি। এই পর্যন্ত পরিবর্তন আনা হয়েছে আসন সংখ্যা এবং মেয়াদ বৃদ্ধিতে। কিন্তু নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে হয়নি। নারী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের দাবি হচ্ছে মেয়াদ ও আসন সংখ্যা বাড়লে এর সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনের বিধান রাখতে হবে। সম্প্রতি নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা আয়োজিত জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি মেনে নিয়ে সংশোধনী আনুন মতবিনিময় সভায় নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার একথা বলেন।

সীমু দাস সীমুর সঞ্চালনায় বেসরকারি সংস্থা অধিকার এর জেন্ডার বিশেষজ্ঞ তাসকীন ফাহমিনার মতে, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনে নারীরা আন্দোলন করেছিল। একও হয়েছিল। এখন আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। সংসদে ৩০০ এবং সংরক্ষিত ৫০ মোট ৩৫০ আসনে সরাসরি নির্বাচন দিলে নির্বাচনটি অনেক বেশি সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। লালমাটিয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক তাসিনিম ফেরদৌস এ প্রসঙ্গে জানান, সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ২৫ বছরের মেয়াদ বাড়ানো কিভাবে সম্ভব হল। কারণ প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও স্পিকার সবাই নারী।

শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালীর মতে, আওয়ামী লীগ সরকার অঙ্গীকার করেছিল সংসদ থেকে শুরু করে তিন দশকে নারী ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন হবে।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উইমেন ফর উইমেন এর ড. ফিরোজা বেগম, নারীপক্ষের মাকসুদা খাতুন প্রমুখ।