কাছের মানুষদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করার জন্য অনেকেই গ্রামের বাড়ি যাবেন। এমনি তিন শিক্ষার্থী রূপকথা, লুবনা ও মল্লিকার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- মুশফিকুল হক মুকিত

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ঈদ এক সজীবতার ছোঁয়া : আনিকা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আনিকা লুবনা দৃষ্টি। দিনাজপুরের মেয়ে লুবনা এবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করবেন। গ্রামের মানুষের সরলতা আর আতিথেয়তা ওকে বেশ টানে। ওর বাড়ি ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন পরিবার-পরিজনরা।

এ প্রসঙ্গে আনিকা লুবনা দৃষ্টি বলেন, অনেকদিন পর স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। এটা ভেবেই উচ্ছ্বসিত আমি। ঈদের দু’দিন আগে বাড়ি যাব। যদিও বাড়ি যেতে পথে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হবে। তারপরেও বাবা-মা-ভাইবোনকে কাছে পাওয়ার আনন্দই অন্যরকম। তবে এই আনন্দ উদযাপনে পড়াশোনার একটু ছেদ পড়বে। ঈদের আগে পরে লাগাতার পরীক্ষা। মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জীবনে পরীক্ষার পর পরীক্ষা চলতেই থাকে। এরমধ্যে দিয়েই এবার ঈদ উদযাপন করব। ঈদের আনন্দ কোনো কিছুই ম্লান করে দিতে পারে না। আনন্দ সার্বজনীন। মায়ের হাতে মজার মজার খাবার খাব। ঈদে কেনাকাটার তেমন চাপ নেই। তবে ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু কেনাকাটা করব।

লুবনার কাছে বড়বেলার ঈদ বেশ উপভোগ্য। নিজের এলাকা থেকে দূরে থাকায় তার কাছে ঈদের গুরুত্বটাও বেড়েছে কয়েকগুণ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের দেখা পাওয়া যায় এই ঈদ উদযাপনের মধ্য দিয়ে।

অন্যরকম ঈদ আনন্দ : মল্লিকা হাসান

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মল্লিকা হাসান। পৈত্রিক বাড়ি বগুড়া জেলার নাটাইপাড়া, বউবাজারে। ঈদের দু’দিন আগে বাড়ি ফিরবেন তিনি। বাবা-মা বড় বোন তার অপেক্ষায় রয়েছেন কবে মল্লিকা বাড়ি ফিরবেন।

কোরবানি ঈদের আগের মুহূর্তটা তিনি বেশ উপভোগ করেন। ঈদের আগের রাতে হাতে মেহেদি পড়ার তেমন তোড়জোড় নেই। তবে, আগের রাতে মাকে রান্না-বান্নার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে মাকে সহযোগিতা করেন। ঈদের আগে পরে মল্লিকারও পরীক্ষা আছে। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি পড়াশোনাও করবেন। আগে ওর কাছে ঈদ মানে নতুন কাপড়ের সুগন্ধ নেয়া। আয়নার সামনে বারবার দাঁড়িয়ে নিজেকে আবিষ্কার করা। এখন ওর কাছে ঈদের আনন্দ হল বাড়ি ফেরা। কোরবানি ঈদ নিয়ে ওর একটা বাড়তি উচ্ছ্বাস রয়েছে। পশু কোরবানি দেখা থেকে শুরু করে গরিবদের মাঝে মাংস বণ্টন সবকিছুতেই অংশ নেন তিনি। ঈদের টুকিটাকি কেনাকাটাও সেরে ফেলবেন দ্রুত। মল্লিকা হাসানের মতে, পড়াশোনার বাড়তি চাপে ঈদ এতটুকু ম্লান হবে না। পরিবারে সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার আনন্দটাই অন্যরকম। মা-চাচিদের হাতের সুস্বাদু মুখরোচক রান্না খাব। আত্মীয়স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যাব। ঈদের দিন বিকালে চাচাতো-ফুফাতো ভাইবোনরা দলবেঁধে কোথাও বেড়াতে যাব ভাবতেই মনটা খুশিতে নেচে ওঠে।

সবাইকে নিয়ে ঈদ আনন্দ : রূপকথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সহজিয়া মরমী রূপকথা। গ্রামের বাড়ি বরগুনার চান্দখালী গ্রামে। কিন্তু বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই থাকেন বরিশালে। এই প্রথম ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন কোরবানি ঈদ করার জন্য।

এবারের ঈদ গ্রামের বাড়িতে কিভাবে উদযাপন করবেন জানতে চাইলে সহজিয়া মরমী রূপকথা বলেন, ঈদ উদযাপন নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে মনের ভেতর বাড়তি এক উদ্দীপনা কাজ করছে। ঈদের সকালে তেমন কোনো কাজ নেই। তবে দুপুরে মা’কে রান্না-বান্না ও আনুষাঙ্গিক কাজে সচরাচর সহায়তা করে থাকি। এবারও তাই করব। ঈদের দিন দল বেঁধে আত্মীয় স্বজনরা আসবেন। তাদের আপ্যায়ন করব। অনেকদিন পর ঈদ উপলক্ষে তাদের সঙ্গে দেখা হবে। আনন্দটাই অন্যরকম হবে এবারের ঈদে। ঈদের ঠিক পরপর মিডটার্ম পরীক্ষা। তা নিয়ে আমার তেমন চিন্তা নেই। ঈদের আগে পরীক্ষার পড়াটা পড়ে ফেলব। বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের দিন ছেলেবেলায় ঘুরে বেড়াতাম। এখন সেভাবে ঘোরা হয় না। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছি।