ঈদ গরিব মানুষদের জন্য নয়

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নূর ইসলাম রকি

রেবেকা বেগম অন্যের জমিতে গোলপাতার ছাউনি দেয়া ঘরে সংসার করছেন প্রায় আঠারো বছর। খুলনা নগর প্রান্তে আড়ংঘাটা থানার উত্তরপাড়া এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের আনিস সড়কে তাদের বাস। স্থানীয় নীলু সরদারের জমিতে গত ১৭ বছর বিনা টাকায় ঘর বেঁধে রয়েছেন। কিন্তু গত বছর থেকে নীলু সরদারের জমিতে থাকার কারণে ভাড়া চেয়েছেন রেবেকার। বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। স্বামী, তিন সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়েই তার সংসার। টানাপোড়েনের সংসারে তার নুন আনতে পানতা ফুরোয়। তাই ঘর ভাড়া দিয়ে থাকার সাধ্যি নেই। আর্থিক সংকটের কারণে বড় দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। একমাত্র মেয়েটিও প্রতিবন্ধী। আশপাশে সব বাড়িতে আলো বিদ্যুৎ থাকলেও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।

রেবেকার স্বামী মো. আসাদুল শেখের বয়স ষাটের কাছাকাছি। আগে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু দুই বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ায় চলাচল করতে পারেন না। একমাত্র ছোট মেয়ে মিমের (১৪) চোখে সমস্যা। লেখাপড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিম সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। বড় ছেলে আলমগীর (২৫) ও মেজ ছেলে আমিনকে (১৯) পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়ে টাকার অভাবে আর পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারে অভাবের কারণে আলমগীর ভ্যান চালায়। আমিন রাজমিস্ত্রির কাজ করে। তাও নিয়মিত কাজ পায় না।

স্বামী, সন্তান, পুত্রবধূকে নিয়ে কোরবানির ঈদ কিভাবে কাটাবেন জিজ্ঞেস করতেই রেবেকা বেগম বলেন, গরিবের আবার ঈদ। খুব কষ্ট করে চলছে সংসার। অসুস্থ স্বামী। একমাত্র মেয়েটিও প্রতিবন্ধী। সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য চেষ্টা করেও কপালে সেটি জোটেনি। তবে স্থানীয় মেম্বর ও চেয়ারম্যানের সহায়তায় একটি ভিজিএফ কার্ড রয়েছে। তাতে করে মাসে ১৫ কেজি চাল পাই। ছেলেরা যা রোজগার করে তা দিয়ে কোনোরকমে দিন পার করি। কোরবানি ঈদ বড়লোকদের জন্য। আমাদের গরিব মানুষদের জন্য নয়। ঈদের দিন ছেলেমেয়েদের জন্য একটু সেমাই জোটাতেই হিমশিম খেতে হয়। ভিজিএফের মোটা চাল দিয়ে একটু খিচুড়ি রান্না করে দেব। তাই ওরা খাবে।