তিস্তার চরে নেই ঈদ আনন্দ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জাহেদুল ইসলাম জাহিদ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন। তিস্তার দুর্গম এলাকার একটি গ্রাম পূর্ব ছাতুনামা। চারপাশে পানির মাঝে জেগে ওঠা ছোট্ট চর। তিস্তার চরে বসবাসরত এই গ্রামের পরিবারগুলো ঈদের আনন্দ কি জানেন না। কোরবানি দেয়া তো দূরের কথা গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য নেই তাদের।

এই গ্রামেরই গৃহিণী জাহেদা বেগম। তার স্বামী বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করেন। আগে অনেক জমি ছিল। সংসারে অভাব ছিল না। তিস্তা নদীতে তাদের জমি, বাড়িঘর সব তলিয়ে যায়। এদিকে তার ঘর আলো করে আসে তিন সন্তান। জাকিরুল ইসলাম (১৩), জাহাঙ্গীর আলম (১০) ও খাদিজা বেগম (৬)। পাঁচজনের সংসারে তাদের নুন আনতেই পানতা ফুরানোর জো।

এবারের কোরবানি ঈদটা কীভাবে কাটবে এ সম্পর্কে জাহেদা বেগম (৩৫) বলেন, আমাগের ঈদ মানে তো বয়লার মুরগি জবাই করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়া। সেটা নিয়ে আমাগের কষ্ট নেই। এখানে কেহর কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। সবার আনন্দ করে চলে যায় ঈদের দিনগুলো। ঈদে ভালোমন্দ খেতে পাই না, এসব নিয়ে আক্ষেপ নেই। আমার পোলাগুলোকে লেখাপড়া করে মানুষ করতে হবে। লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করতে চাই। তাইলে আমার কষ্ট দূর হবে।

এই গ্রামের নুরজাহানেরও তিন সন্তান। স্বামী শ্রমিকের কাজ করেন বিভিন্ন স্থানে। মাঝে মাঝে বাড়ি আসে। একজনের আয়ে চলে পাঁচজনের সংসার। নুরজাহান (৩০) এর মতে, তিন বেলাই বাচ্চাগুলারে ঠিকমতো খাবার দিতে পারি না, আর কোরবানি ঈদ! সবাই মিলে সেমাই মুড়ি কিনে খাব। সারা দিন বাচ্চারা আনন্দ করবে এটাই তো আমাগের গরিবের ঈদ। ঈদে একটা মুরগি (বয়লার) কিনে তিন চার জনে মিলে ভাগ করে কেটে নেব। বিয়ের আট বছরে কোরবানি ঈদ মানে তো বয়লার মুরগি কিনে ভাগ বাটোয়ারা ছাড়া কিছুই দেখিনি।