সামাজিকতা সাফল্যের অন্যতম শর্ত : কাইলি ক্রিস্টেন জেনার

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাব্বিন হাসান

কাইলি ক্রিস্টেন জেনার

কাইলি নামেই বিশ্বখ্যাতি। তবে পুরো নাম কাইলি ক্রিস্টেন জেনার। জন্ম ১০ আগস্ট ১৯৯৭। বহুমাত্রিক পেশাজীবী। একজন মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, মডেল, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

মাত্র নয় বছর বয়স থেকেই টিভি চ্যানেলের রিয়্যালিটি সিরিজের অভিনয় শিল্পী হিসেবে সবার কাছে সুনাম কুড়িয়েছেন। নিজস্ব ব্রান্ডের প্রসাধনী পণ্য এবং সামাজিক গণমাধ্যমে সরব উপস্থিতির জন্য বিশ্বব্যাপী কাইলি দারুণ জনপ্রিয়।

মডেল কাইলির অর্থ আর সম্পত্তি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে আলোচনা। বর্তমানে তার নাম এসেছে ‘ভ্যারাইটি’ সাময়িকীর প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তির তালিকায়। কাইলির নাম এবার এল ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়ের বিবেচনায় ধনী ব্যক্তিদের তালিকায়। ছবি শেয়ারের সাইট ইনস্টাগ্রামে কাইলি প্রতিটি পোস্ট থেকে আয় করেন ১ লাখ মার্কিন ডলার।

বাবা চেটলিন জেনার। মা ক্রিস জেনার। বড় বোন কেনদ্রাল। মা ক্রিস জেনার একজন টিভি ব্যক্তিত্ব। বাবা অলিম্পিক খেলোয়াড় হিসেবে সুপরিচিত। কাইলি এক সন্তানের মা।

২০১২ সালে পোশাকের ব্র্যান্ড পেকসান এবং তার বোন কেনদ্রালকে সঙ্গে নিয়ে ভিন্ন মাত্রার পোশাকের ব্র্যান্ড তৈরি করেন। ব্র্যান্ডের নাম দেয়া হয় কেনদ্রাল অ্যান্ড কাইলি। এরপর ২০১৫ সালে কাইলি তার নিজের ব্র্যান্ড পণ্য কাইলি কসমেটিক্স শুরু করেন।

এ ব্র্যান্ড নিয়ে তৈরি অ্যাপটি আইটিউন্স অ্যাপ স্টোরের প্রথম তালিকায় চলে আসে। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন, সামাজিক গণমাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে তাদের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল।

এর কারণে ২০১৪ সালের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিশোর-কিশোরীর তালিকায় কাইলি আর তার বোনদের নাম স্থান পায়। ২০১৭ সালে ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটিরও বেশি অনুসরণকারী নিয়ে তিনি ইনস্টাগ্রামে সেরা ১০ জন ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নির্বাচিত হন। এ বছরই কাইলির নাম ফোর্বস সেলিব্রেটি শীর্ষ ১০০ জনের তালিকায় জায়গা করে নেয়। তালিকায় তিনি সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তি বিবেচিত হন।

কাইলি সিয়েরা কেনিয়ন স্কুল পড়াশোনা শুরু করেন। স্কুলে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজের উৎসাহদাতা হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। সামাজিক উদ্যোগে আয়োজিত নাটকগুলোর পাশাপাশি স্কুল জীবনের নাটকগুলোতেও অভিনয় করেছেন।

২০১২ সালে কাইলি নিজেকে গৃহশিক্ষা কর্মসূচির মধ্যে নিয়োজিত করেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ওজাই শহরের লওরেল স্প্রিংস স্কুল থেকে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন।

মাত্র ২০ বছর বয়সেই সর্বকনিষ্ঠ ধনীর খেতাব পান কাইলি। বর্তমানে ফোর্বসের শীর্ষ ৬০ ধনী স্বাবলম্বী নারীর তালিকায় ২৭তম স্থানে আছেন কাইলি। মার্কিন গায়িকা টেলর সুইফট আছেন ৬০তম স্থানে। এছাড়া কাইলির বোন কিম কারদাশিয়ান আছেন ৫৭ নম্বরে। তার সম্পদের পরিমাণ এখন ৯০ কোটি ডলার। অচিরেই তা ১০০ কোটি ডলার ছুঁয়ে ফেলবে।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে কাইলির প্রতিষ্ঠান কাইলি কসমেটিকস। লিপলাইনার ও লিপস্টিক বিক্রি থেকে মাত্র দুই বছরে তার আয় হয় ৬৩ কোটি ডলার। বর্তমানে চীনে এ প্রতিষ্ঠানের কারখানা। জার্মান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান পুমা ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে। এছাড়া রিয়েলিটি টিভি তারকা হিসেবেও তার পারিশ্রমিক ঈর্ষণীয়।

উল্লেখ্য, মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১০০ কোটি ডলারের মালিক হন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। আর্থিক বিচারে কাইলি দ্রুতই তাকে পেছনে ফেলবেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান হপার এইচকিউ ‘ইনস্টাগ্রাম রিচ লিস্ট’ নামের একটি তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় উঠে আসে ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করা ব্যক্তিদের নাম। ইনস্টাগ্রাম প্রচারণার মধ্য দিয়ে আজকাল হলিউড ও বলিউডের অনেক তারকাই আয় করছেন। এ আয়ের দিক থেকে সবার উপরে ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যাম। প্রতি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে তিনি আয় করেন ৩ লাখ মার্কিন ডলার। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন কাইলি জেনার।

কাজকে দারুণ উপভোগ করেন। ভালোবাসেন তরুণদের জন্য কিছু করতে। নিজেকে সামাজিকভাবে হাজির করেন যখনই প্রয়োজন হয়। ভাগ্যকে বিশ্বাস করেন। তবে চেষ্টাকে রাখেন সবার আগে এগিয়ে।

খুব অল্প বয়সেই সাফল্যের এমন নজির খুব কম জনের ভাগ্যাকাশেই ধরা দেয়। কাইলি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে বিশ্বে কোটি কোটি ভক্ত আর অনুসারী তৈরি করতে পেরেছেন।

তবে নিজের ভেতরের ইচ্ছা শক্তির প্রতি মানুষের সম্মান রাখা উচিত। নিজের পরিবেশ আর সামাজিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বুঝতে হবে আপনার নিজের মানুষগুলো আপনার কাছে কী প্রত্যাশা করে। আর তাদের কাছে আপনার স্থান নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু সাফল্য অর্জনই শেষ কথা নয়, তা যেন সবাইকে উৎসাহিত করে এমন কাজে তরুণদের মনোযোগী হতে বলেন কাইলি।