খাসজমি উদ্ধার আইন

  সুরঞ্জনা প্রতিবেদক ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইনি পরামর্ষ নিচ্ছেন একজন নারী
আইনি পরামর্ষ নিচ্ছেন একজন নারী

কৃষি প্রচলনের ধারায় যুক্ত নারীরা খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের কাজে সম্পৃক্ত রয়েছে। তার অধিকার সুরক্ষায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বেহাত হওয়া খাসজমি নারী, কৃষক ও ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। উৎপাদনের জন্য যে ভূমি দরকার সেখানে নারীর মালিকানা থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করার জন্য খাসজমি পুনরুদ্ধারের জন্য আইন করতে হবে। সম্প্রতি এএলআরডি ও নিজেরা করি’র যৌথ উদ্যোগে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও গ্রামীণ নারীর ভূমি অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা একথা বলেন।

এএলআরডি-র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, খাদ্য সার্বভৌমত্বের স্থিতিশীলতা বজায় থাকা না থাকার পেছনে যে বিষয়টি কাজ করে তা হল কৃষি থেকে অ-কৃষিতে রূপান্তর। নারীর খাদ্য নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আরও প্রান্তিকতায় চলে যায়।

রংপুরের পীরগঞ্জ এবং গাইবান্ধার সাঘাটা’র ভূমিহীন সংগঠনের নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার ও শিউলি বেগমের মতে, তৃণমূলে ভূমি মালিকানায় নারীরা বঞ্চিত থাকার কারণে তারা কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।

নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সভাপতিত্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, চাষাবাদের ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে ফসল উৎপাদনে বর্গাচাষী এবং জমির মালিক দুজনেরই অংশগ্রহণ ছিল। বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক জমি বর্গা দেয়া হচ্ছে। ফলে এখন কৃষকের ঘাড়েই সব কিছুর দায় বর্তায়। মালিককে কোনো দায় নিতে হচ্ছে না। বাজার ব্যবস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানি উৎপাদন ও বিপণনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। হাওর, জলমহাল ইজারা দেয়ার নীতিমালা আরও নারীবান্ধব, প্রকৃতিবান্ধব ও জনবান্ধব করার জন্য সংস্কারের প্রয়োজন। নারীর ভূমিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনামাফিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্ছিতা চাকমা আদিবাসী নারীদের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রথাগত আইনের সংস্কার করা অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পাহাড়ি সমাজে কঠোর পিতৃতান্ত্রিকতা বিরাজমান। বান্দরবানের পাহাড়ে যত্রতত্র পাথর উত্তোলনের ফলে ছড়া ও ঝিরির পানি শুকিয়ে গেছে। নারীরা প্রচণ্ড কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে। ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা আরও ক্ষমতায়িত হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহারের মতে, প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার, ভূমি মালিকানা প্রতিষ্ঠায় ন্যায় বিচার অনুপস্থিত। ধনী ব্যক্তিরা হাওর, জলাশয় লিজ নিচ্ছে। যাদের সামর্থ্য একটু কম তারা সাব-লিজ নিচ্ছে। আর যেসব প্রকৃত মৎস্যজীবী তারা অর্থের অভাবে লিজই নিতে পারছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×