উত্তরসূরি নেই দেশীয় ব্যান্ডদলগুলোতে: হাল ধরবে কে?

  এফ আই দীপু ও হাসান সাইদুল ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১২:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

নব্বই দশকের শুরু থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর কয়েক বছরও দেশীয় সঙ্গীতাঙ্গনে তাঁদের ব্যান্ডের রাজত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: যুগান্তর
নব্বই দশকের শুরু থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর কয়েক বছরও দেশীয় সঙ্গীতাঙ্গনে তাঁদের ব্যান্ডের রাজত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: যুগান্তর

বাংলা গানের জগতে ব্যান্ডদল ও ব্যান্ডের গান উল্লেখযোগ্য একটি স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে নব্বই দশকের শুরু থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর কয়েক বছরও দেশীয় সঙ্গীতাঙ্গনে ব্যান্ডের রাজত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ সময়কে ব্যান্ডের সোনালি সময়ও বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে অনেকটা ধীর গতিতে চলছে ব্যান্ডদলগুলো। অ্যালবাম নেই। নতুন গান নেই। প্রতিষ্ঠিত অনেক দলের চাক্ষুস কোনো কার্যক্রমও নেই। কালেভদ্রে টিভিতে লাইভ শো কিংবা কনসার্টে দেখা মেলে।

তবে কয়েকটি ব্যান্ডদল এখনও তাদের জৌলুশ ধরে রেখেছে। নিয়মিত কনসার্টে অংশ নিচ্ছে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবুও ব্যান্ডদল নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। দলগুলোর ভাঙন, নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল এবং ভবিষ্যৎ কাণ্ডারির অভাব- সবকিছু মিলে দু-একটি দল বাদ দিলে প্রায় সব দলেরই উত্তরসূরি কে হবেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বর্তমান ব্যান্ডদলের যারা দায়িত্বে আছেন তারা সব সময় থাকবেন না। সে ক্ষেত্রে দলগুলোর হাল কে ধরবেন? জনপ্রিয় ব্যান্ডদলগুলোর উত্তরসূরি কারা হবেন? কারা দলগুলোর জনপ্রিয় গানগুলো গাইবেন? এমন প্রশ্নও উঠেছে আজকাল। এই বিষয়ে ব্যান্ডদলগুলোর দলনেতার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন এফ আই দীপু ও হাসান সাইদুল

এল আর বি

১৯৯১ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা এলআরবিকে এখনও টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আইয়ুব বাচ্চু। রক, হার্ডরক, সফট রক, অল্টারনেটিভ রক, মেলোডি ধাঁচের গান দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করে চলছে এখনও।

দলের বর্তমান সদস্য আইয়ুব বাচ্চু (ভোকাল ও গিটার), স্বপন (বেজ গিটার), মাসুদ (গিটার), রোমেল (ড্রামস)। দলটিতে আগে কাজ করেছেন এসআই টুটুল, জয়, মিল্টন, রিয়াদ ও সুমন। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দলের স্টুডিও অ্যালবাম ১১টি। মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে ৯টি।

ব্যান্ড এবং আইয়ুব বাচ্চুর একক কণ্ঠে গাওয়া দলটির শ্রোতাপ্রিয় উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে এখন অনেক রাত, ফেরারি মন, তারা ভরা রাতে, ঘুম ভাঙা শহরে, ভুলে যাও, আমি প্রেমে পড়িনি, সেই তুমি, কষ্ট পেতে ভালোবাসি, মন চাইলে মন পাবে, হাসতে দেখ ইত্যাদি।

এ দলের নেতা হিসেবে এখনও কাজ করছেন আইয়ুব বাচ্চু। ভবিষ্যতে দলটির কাণ্ডারি কে হবেন কিংবা উত্তরসূরি আছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বেঁচে আছি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এলআরবি নিয়েই আছি। আগামীতে কী হবে সেটা এখনই বলতে পারছি না। উত্তরসূরি কে হবেন সেটাও জানি না। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই ভাবছি না। ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।’

নগরবাউল

১৯৮০ সাল থেকে ফিলিংস নামে ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করেন মাহফুজ আনাম জেমস। নব্বইয়ের দশকে এসে দলের নাম পরিবর্তন করে রাখেন নগর বাউল। রক, সাইকেডিলেক রক ধারার গান নিয়েই দলটির পথচলা।

দলের বর্তমান সদস্য জেমস (ভোকাল), ফান্টি (ড্রামস), সাব্বির (বেইজ গিটার) ও তমাল (কি-বোর্ড)। এ দলের সবকটি গানই জেমসের কণ্ঠে ধারণ করা।

দলের শ্রোতাপ্রিয় গানগুলোর উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জেল থেকে বলছি, আমি তারায় তারায়, বিবাগী, এক নদী যমুনা, যদি কখনও ভুল, বিজলী, পাগলা হাওয়া, লিখতে পারি না কোনো গান, কবিতা, লেইস ফিতা লেইস, তুমি যদি নদী হও, তুমি যাকে অশ্রু বল, দুষ্ট ছেলের দল, সুলতানা বিবিয়ানাসহ আরও অনেক।

দলটির স্টুডিও অ্যালবামের সংখ্যা ৮। শুরু থেকেই এ দলের কাণ্ডারি জেমস। তার অবর্তমানে দলের হাল ধরবে কে, উত্তরসূরি কে হবেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগরবাউল নামে ট্রাস্ট গঠন করা হবে।

জেমস না থাকলে অর্থাৎ মারা গেলে ওই ট্রাস্টে গানের রেভিনিউ যোগ হবে। এ ছাড়া নগরবাউলের গানগুলো যে কেউ গাইতে পারবে। তবে নগরবাউল ব্যান্ডের হাল কে ধরবেন এ বিষয় আমরা এখনই কোনো ঘোষণা দিতে চাই না। অবশ্যই উত্তরসূরি তৈরি করা হচ্ছে। সময় হলে নগরবাউল ও জেমস ভক্তরা জানবেন।’

মাইলস

১৯৭৯ থেকে কার্যক্রম শুরু করে মাইলস। পপ, সফট রক, অল্টারনেটিভ রক, জ্যাজ, ব্লুস ধারার গান নিয়ে পথচলা তাদের। দলটির বর্তমান সদস্য- শাফিন (ভোকাল ও বেইজ), হামিন (ভোকাল ও লিড গিটার), মানাম (কি-বোর্ড), তুর্জ (ড্রামস), জুয়েল (গিটার)।

এ দলে আগে কাজ করেছেন হ্যাপি আখন্দ, রবিন, ফরিদ রশিদ, ল্যারি বাম্বি, শেখ ইশতিয়াক, কামাল মাইনুদ্দিন, কাইয়ুম, মিল্টন, শহিদুল হুদা ও মাহাবুব রশিদ।

দলটির জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে চাঁদ তারা সূর্য, জ্বালা জ্বালা, ধিকি ধিকি, ফিরিয়ে দাও, আর কতকাল খুঁজব তোমায়, পাহাড়ি মেয়ে, হৃদয়হীনা, চাই না, ফিরে এলে না, ভুলব না তোমাকে, কী জাদু, তুমি নাই, হারানো সুরসহ আরও অনেক গান।

একটি ইংরেজিসহ দলের ৮টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে। মাইলসের নেতৃত্ব নিয়ে কিছুদিন আগেও বিবাদ হয়েছিল দুই ভাই শাফিন ও হামিন আহমেদের মধ্যে। আলাদা হয়ে যাওয়ার পর আবার এক হয়েছেন দুজন।

ভবিষ্যতে দলের হাল কে ধরবেন বা কাণ্ডারি কে হবেন এ প্রশ্নের জবাবে শাফিন আহমেদ বলেন, ‘মাইলসের বর্তমান কোনো দলনেতা নেই। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। আমাদের মালিক আমরাই অর্থাৎ মাইলস।

আমাদের অনুপস্থিতিতে ভক্তরা গান গাইতে পারবেন। ভবিষ্যতে আমরা না থাকলে আমাদের মধ্যে কেউ অর্থাৎ আমাদের সন্তানরাই মাইলসের উত্তরসূরি হিসেবে কাজ করবে। আমরা সেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। সময় সাপেক্ষে ভক্তরা তা জানবেন।’

সোলস

১৯৭০ থেকে সোলসের পথচলা। পপ, সফট রক, মেলোডি ধারার গান করে দলটি। বর্তমান সদস্য নাসিম আলি খান (ভোকাল), পার্থ বড়ুয়া (ভোকাল ও গিটার), আশিক (ড্রামস ও পারকেশন), মাসুম (কি-বোর্ড), রানা (বেইজ) ও তুষার (পারকিউশন)।

আগে সোলসে কাজ করেছেন তপন চৌধুরী, নকীব খান, পিলু খান, আইয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, রনি বড়ুয়া, সাজেদ, নওয়াজ, লুলু ও তাজুল।

দলের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মন শুধু মন ছুঁয়েছে, এ এমন পরিচয়, তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে, মুখরিত জীবনে চলার বাঁকে, কলেজের করিডরে, চলো না হারিয়ে যাই, আমি ভুলে যাই তুমি, হাজার বর্ষা রাত, খুঁজিস যাহারে, কেন এই নিঃসঙ্গতা, আজ তোমাকে প্রয়োজন, জ্যোতিন স্যারের ক্লাসে, তোমায় ভেবেসহ আরও অনেক।

১২টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে দলটির। পূর্বে অনেকে এ দল থেকে বেরিয়ে সলো ক্যারিয়ার গড়েছেন। বর্তমানে দলের হাল ধরে আছেন পার্থ বড়ুয়া।

তার অবর্তমানে কে দল টেনে নেবেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উত্তরসূরি কে হবেন এ নিয়ে ভাবছি না। গান নিয়েই তো ভাবছি না। মরার পর সোলসের কে হাল ধরবেন এই নিয়ে কি চিন্তা করব?

বেঁচে থেকেই তো গানের মালিক হয়ে গানের রেভিনিউ পাচ্ছি না। শুধু আমি নই কেউই তো পাচ্ছে না। উত্তরসূরির কথা তো পরে আসবে। তবে আমি এটা অনায়াসে বলতে চাই, সোলসের গান যে কেউ গাইতে পারবেন।

অনুরোধ থাকবে, যার গান তার নাম যেন বলা হয়। এ নিয়ে টেলিভিশন কিংবা কনসার্টে শিল্পীরাই কৃপণতা করে থাকেন। প্রকৃত শিল্পীর নাম উচ্চারণ করতে চান না।’

অবসকিউর

১৯৮৫ থেকে যাত্রা শুরু করা অবসকিউর বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসের অন্যতম একটি দল। এ পর্যন্ত ৯টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে দলটির। দলের বর্তমান সদস্য সাইদ হাসান টিপু (ভোকাল), শান্ত ও আবির (গিটার), প্রিন্স (বেইস গিটার), রিয়াদ (ড্রামস) ও বিণত (কিবোর্ড)।

দলের শ্রোতাপ্রিয় উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- মাঝ রাতে চাঁদ, তুমি ছিলে কাল রাতে, সূর্য তুমি নিও না, নিঝুম রাতের আঁধারে, কাল সারা রাত, ছাইড়া গেলাম মাটির পৃথিবী, স্বপ্নচারিণী, আমার প্রথম সেই কলেজ জীবনসহ আরও অনেক।

দলটির বর্তমান কাণ্ডারি সাইদ হাসান টিপু। ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন বিষয় নিয়ে কখনও ভাবিনি। আমাদের দেশে এখন সবাই শর্টকাটে আটকে গেছে। কষ্ট করে গান বানিয়েছি।

সে গান ভবিষ্যতে থাকবে কি থাকবে না তা জানি না। তবে গান করে গেছি এই তো। ধৈর্যশীল কাউকে পাইনি বা আমাদের কাছে আসে না যে শিখবে, ব্যান্ড দলের সঙ্গে ধৈর্যসহকারে কাজ করবে। এখন ভবিষ্যতের বিষয় বলতে পারছি না।

তবে অবসকিউরের ভক্তরা গানগুলো গাইতে পারবে। অবসকিউরের হাল ধরবে এমন কাউকে নির্বাচন করিনি। হয়তো কেউ আসবে, নয় তো না। আমি তো জানি না, আমার মৃত্যুর পর আমার এ ব্যান্ড থাকবে কিনা।’

ফিডব্যাক

১৯৭৬ থেকে কার্যক্রম শুরু করা ফিডব্যাকের গানের ধরন পপ, জ্যাজ, রক, মেলোডি, জীবনমুখী। দলটির বর্তমান সদস্য ফুয়াদ নাসের বাবু (কি-বোর্ড), পিয়ারু খান (পারকাশন/ভোকাল), লাবু রহমান (গিটার, ভোকাল), টন্টি (ড্রামস), লুমিন (ভোকাল), রায়হান (ভোকাল)।

দলটিতে আগে কাজ করেছেন মাকসুদ, জাকির, অমর খালেদ রুমি, মুসা, দস্তগীর, সান্দ্রা হফ, সেকান্দার খোকা, শহিদুল ও রোমেল।

দলের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে মৌসুমী, মেলায় যাই রে, দিন যায় দিন, জন্মেছি এই যুগে, পালকি-১, পালকি-২, ঝাউ বনে, মাঝি, মাঝি তোর রেডিও নাই রে, টেলিফোনে ফিস ফিস, সামাজিক কোষ্ঠকাঠিন্য, কেমন করে হায়, সুখী মানুষের ভিড়ে ইত্যাদি।

দলটির ৯টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে। দলটির বর্তমান নেতৃত্বে আছেন ফুয়াদ নাসের বাবু। ভবিষ্যতে উত্তরসূরি কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তরসূরি কে হবেন এ বিষয় নিয়ে কখনও ভাবিনি।

তবে আমি একটি বিষয় বলতে চাই, ফিডব্যাকের গান ভক্ত-শ্রোতারা গাইতে পারবেন। আমাদের চাওয়া একটি গান গাওয়ার সময় যেন কোনো ব্যান্ডের গান তা একবার হলেও উচ্চারণ করেন।

এটাই হবে আমাদের চাওয়া। ফিডব্যাকের গানের মালিকানা ফিডব্যাকেরই থাকবে। রেভিনিউ ফিডব্যাকের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়াই নিয়ম। তবে ফিডব্যাকের হাল কে ধরবেন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী আছেন যাদের আমি কিবোর্ড বাজান শিখাই তাদের মধ্যে কেউ হয়তো আসবেন।’

ডিফারেন্ট টাচ্

১৯৮৫ সাল থেকে ডিফারেন্ট টাচের পথচলা শুরু। ১৯৯৯ সালে এসে পথচলা থেমে যায়। দীর্ঘদিন পর ২০১৩ সাল থেকে আবারও দলটি কার্যক্রম শুরু করে। পপ, সফট রক, ব্লুস ধারার গান নিয়ে দলটির পথচলা।

দলের বর্তমান সদস্য মেজবাহ (ভোকাল), পিয়াল (বেইজ ও ভোকাল), পলাশ (গিটার), তানভীর (ড্রামস) ও নয়ন (কি বোর্ড)। এ দলে আগে কাজ করেছেন আশরাফ বাবু, আলী আহমেদ, টুটুল ও তাসনীম।

দলটির জনপ্রিয় গানের তালিকায় উল্লেখযোগ্য- বাবা বলত, শ্রাবণের মেঘগুলো, ভালোবাসার তানপুরা, কিছু কথা কিছু গান, রাজনীতি, দৃষ্টি প্রদীপ জ্বেলে, স্বর্ণলতা, পরানের বন্ধু রে, একাকি আজ, মনকি যে চায়, তুমি পৃথিবীতে মরে, জীবন মাঝি ইত্যাদি।

দলের ৪টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে। দলের বর্তমান কাণ্ডারি মেজবাহ রহমান। ভবিষ্যতে দলের হাল কে ধরবেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে সবাই মিলে একটি দল।

নিজেরাই এখন পর্যন্ত দলটিকে টেনে এনেছি। দলের সবাই জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অন্য পেশায় ব্যস্ত। ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের মধ্যে কেউ দলের হাল ধরবেন। নতুবা দল থাকবে না। তবে আমাদের গানগুলো ভক্তরা গাইতে পারবেন। ভক্তদের কণ্ঠে আমাদের গানগুলো বেঁচে থাকবে।’

আর্ক

১৯৯১ থেকে যাত্রা শুরু করে আর্ক। ২০০২ সালে এসে কার্যক্রম থেমে যায়। এরপর ২০১০ থেকে আবারও সোচ্চার হয় দলটি। রক, পপরক ধারার গান করে দলটি। দলের বর্তমান সদস্য আশিকুজ্জামান টুলু (ভোকাল ও কি বোর্ড), হাসান (ভোকাল), ফয়সাল (লিড গিটার), মোরশেদ (ড্রামস), টিংকু (কি বোর্ড), রুমি (ড্রামস)।

দলটিতে আগে কাজ করেছেন পঞ্চম, শামীম, পার্থ, ফেরদৌস, জাহাঙ্গীর, রাজা, শিশির, জয়, বালাম, জুয়েল, টন্টি, মন, জুয়েল ও রেজওয়ান। দলের জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সুইটি, পাহাড়ের চূড়ায়, একাকী, বিদায়, গুরু, এত সুখ, অন্তহীন বেদনা, এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়, প্রেম তুমি, যারে যা, প্রিয় কবিতা (টুলু), অযুত লক্ষ নিযুত কোটি (হাসান), লাল বন্ধু (হাসান), মেতে উঠি সবাই ইত্যাদি।

দলটির ৫টি স্টুডিও অ্যালবাম ও ৯টি মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে। দলের বর্তমান কাণ্ডারি হাসান। ভবিষ্যতে দলের হাল কে ধরবেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর্ক ব্যান্ডের যত গান আছে সব গানের স্বত্বাধিকার আর্ক।

আমার অনুপস্থিতে ভোকাল যে দেবেন তিনি শুধু ভোকালিস্ট থাকবেন, মালিক নন। আর আর্কের গান যে কেউ গাইতে পারবেন। আমি উত্তরসূরির বিষয়ে এখনও ভাবছি না। সময় বলে দেবে কে উত্তরসূরি হবেন। কিন্তু এখনও আমি আছি যতদিন বেঁচে থাকব আর্ক নিয়ে গান গেয়ে যাব।’

রেনেসাঁ

১৯৮৫ সালে সোলস থেকে বেরিয়ে এসে নকীব খান এবং ছোট ভাই পিলু খান মিলে তৈরি করেন জীবনমুখী গানের দল রেনেসাঁ। দলটির বর্তমান সদস্য নকীব খান (কি বোর্ড কম্পোজার ও ভোকাল), পিলু খান (ড্রামস ও কম্পোজার), ইমরান রহমান (রিদম ও ভোকাল), রেজাউর রহমান রেজা (লিড গিটার), কার্তিক (বেইজ গিটার), কাজী হাবলু (পারকিউশন)।

দীর্ঘদিন পর আবারও দলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ভবিষ্যতে দলটির হাল কে ধরবেন এ প্রশ্নের উত্তরে নকীব খান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে উত্তরসূরি নিয়ে কনসার্ট শুরু করে দিয়েছি।

চট্টগ্রামে কয়েকটি শোতে গান করেছি। তবে এখন নাম প্রকাশ করব না। আমাদেরই সন্তানরাই ভবিষ্যতে রেনেসাঁর হাল ধরবে। তবে কে হবে রেনেসাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি তা নিশ্চিত নয়।’

মাকসুদ ও ঢাকা

ফিডব্যাকের সদস্য ছিলেন মাকসুদুল হক। কিন্তু দলের সদস্যদের সঙ্গে মতের অমিল হওয়ায় নিজেই নতুন দল তৈরি করেন। নাম দেন ‘মাকসুদ ও ঢাকা’। প্রায় দুই দশক ধরে এই দল নিয়ে তার পথচলা।

দলের বর্তমান সদস্য মাকসুদুল হক (ভোকাল), মন্টু (ড্রামস), শাকিল (গিটার), সার্টন (বেইজ গিটার), সোহাগ (কি বোর্ড) ও মিমু (রিদম গিটার ও ভোকাল)। ফিডব্যাকে থাকাকালীন অনেক গানই গেয়েছেন মাকসুদ।

নিজের গাওয়া সেই গানগুলোর মধ্যে যেগুলোর কথা-সুর ও সঙ্গীত তার নিজের করা ছিল সেগুলো এখনও মঞ্চে কণ্ঠে ধারণ করেন তিনি। তার অবর্তমানে দলের হাল কে ধরবেন এ প্রশ্নের জবাবে মাকসুদ বলেন, ‘গান কিংবা শিল্পীদের কোনো সীমানা নেই।

গান যে কেউ গাইতে পারেন। আমি নির্দিষ্ট করে কোনো উত্তরসূরি ঠিক করিনি। কেউ না কেউ তো দলের হাল ধরবেই। ব্যান্ডটির সব গানের মালিক আমিই এবং আমার ব্যান্ড দলের নামেই।

কেউ যদি আমার গান করতে চায়, বিশেষ করে কভার করতে চায় তারা যেন অনুমতি নিয়ে করে। একদিন আমি থাকব না অথবা কোনো ব্যান্ড ভোকালিস্ট থাকবে না, কিন্তু গান থেকে যাবে। এই গানই আমাদের নাম বহন করবে। তাই যেই গান গাইবে প্রকৃত শিল্পীর নাম যেন বলেন।’

চাইম

১৯৮৩ সালে সালে গড়ে ওঠা দেশের আরেক জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চাইম। দলের বর্তমান সদস্য খালিদ (ভোকাল), নাদিম (বেইজ গিটার), বিপ্লব (কাহন), রিয়াজ (কি বোর্ড) ও বাহাদুর (গিটার)।

আগে দলটিতে কাজ করতেন হায়দার হোসেন, টিপু, মানাম আহমেদ ও টুলু। দলটির জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কোনো কারণে’, ‘কীর্তনখোলা’, ‘নাতিখাতি বেলা গেল’, ‘নদী রে আমার’, ‘পড়ালেখা শেষ করে’, ‘আজ তারা ভরা রাতে’, ‘এক ঘরে তে বসত কইরা’।

দলটির বর্তমান কাণ্ডারি খালিদ। তার অনুপস্থিতিতে কে চাইমের হাল ধরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনটি কখনও ভাবিনি। আমার অনুপস্থিতিতে বা আমি যদি মরে যাই অবশ্যই কেউ না কেউ ব্যান্ডটির হাল ধরবেন। তবে এখনও ঠিক করিনি কে হবেন চাইমের উত্তরসূরি।

এটি ঘোষণা দিচ্ছি যে, চাইমের সব গানের স্বত্বাধিকারী আমি এবং আমার দল। দলে হয়তো নতুন সদস্য বা ভোকালিস্ট আসবেন, কিন্তু তারা মালিক নন।

আমার ব্যক্তিগত কিংবা দলের সব গানের রেভিনিউ চাইম ব্যান্ড, আমি এবং আমার অনুপস্থিতিতে আমার পরিবার পাবেন। তবে চাইম ব্যান্ডের গান যে কেউ কভার করতে পারবে। শুধু কার গান সেই প্রকৃতি শিল্পীর নাম যেন ব্যবহার করেন এটা অনুরোধ থাকবে।’

দলছুট

দেশের আরেকটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট। প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে দলটি গড়েছেন বাপ্পা মজুমদার। দলের বর্তমান সদস্য বাপ্পা মজুমদার (গিটার ও ভোকাল), মাসুম (গিটার), বুলেট (কি বোর্ড ও ভোকাল), তানিম (বেইজ গিটার) ও রোজ (ড্রামস)।

দলের বর্তমান কাণ্ডারি বাপ্পা মজুমদার। ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলছুটের সব গানের স্বত্বাধিকারী আমি। তবে সঞ্জীব দা বেঁচে থাকলে বিষয়টি অন্যরকম হতো। এ মুহূর্তে দলছুটের কোনো উত্তরসূরি ঠিক করছি না।

ভবিষ্যতের বিষয়টি ভেবে দেখারও সময় হয়েছে। আমার মৃত্যুর পর অবশ্যই দলছুটের সব গানের স্বত্বাধিকার আমার বা আমার পরিবারের থাকবে। নতুন ভোকালিস্ট আসলে তারা হয়তো দলে সম্পৃক্ত থাকবেন কিন্তু গানের মালিক হবেন না।’

এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতের গুরু আজম খানের দলের নাম ছিল উচ্চারণ। বেঁচে থাকা অবধি তিনিই ছিলেন ব্যান্ডের কর্ণধার। যদিও তার জীবদ্দশাতেই দলের কোনো কার্যক্রম ছিল না।

মৃত্যুর পর দলটির কোনো উত্তরসূরি না থাকাতে একেবারেই বিলীন হয়ে গেল। এই ব্যান্ড থেকেই আজম খান গেয়েছেন ‘সালেকা মালেকা’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘আসি আসি বলে’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’র মতো জনপ্রিয় গান।

বিপ্লবের প্রমিথিউস ব্যান্ডের কার্যক্রমও এখন আর নেই। দলনেতা বিপ্লবও এখন আর দেশে থাকেন না। তাই দলটির অস্তিত্বও এখন অনেকটা বিলীন। সঙ্গীতশিল্পী চন্দনের উইনিং ব্যান্ডও থেমে গেছে অনেক আগে।

ঘটনাপ্রবাহ : আইয়ুব বাচ্চু আর নেই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×